রোববার ১৯ মে ২০২৪ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

আন্তর্জাতিক বিশ্বে চীন-জাপানের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৭:৩৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

.

.

বিশ্বরাজনীতিতে এশিয়া বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে শুরু করেছে এবং আগামীতেও আরো তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে, চীনের অপ্রতিরোধ্য বিকাশ, ভারতের শক্তি বৃদ্ধি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং এ অঞ্চলে বেশ কিছু সিরিয়াস টেনশন ও কনফ্লিক্ট জোন থাকাতে এই এশীয় অঞ্চলের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে বৈ কমবে না। বৈশ্বিক সম্পর্ক বিষয়ে বাস্তববাদী বিশ্লেষকেরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, শীতল যুদ্ধের পর জাপান আবার বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে।

১৯৯৩ সালে কেনেথ ওয়াল্টজ তাঁর নিবন্ধে লিখেছিলেন, ‘জাপান আবার বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে। জাপানের সামরিক সংস্থা ও সেগুলোর আচরণ থেকে এর ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্বে সভ্য শক্তি হিসেবে জাপানের ভাবমূর্তি রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র-এর প্রতি দেশটির বিরূপ মনোভাবও রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে পারমাণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। এর যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, সেই ঘটনাপ্রবাহ থেকেই জাপান শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখে আসছে। জাপানের নিরাপত্তানীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ খ্রিস্টোফার হিউস তাঁর নতুন বইয়ে জাপানকে বিশ্বের একটি সামরিক শক্তিধর দেশ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তাঁর দাবি হলো, আরও শক্তিধর দেশ হয়ে ওঠার সব চিহ্নই জাপান প্রদর্শন করছে। শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্তরেও সামরিক শক্তি হতে চলেছে জাপান। কয়েক দশক আগে বাস্তববাদী বিশ্লেষকেরা যে পূর্বধারণা করেছিলেন, তার থেকেও সামরিক শক্তির দিক থেকে জাপান অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রথাগত পরাশক্তির যে ধরনের সামরিক সক্ষমতা প্রয়োজন, তার অনেকগুলোই এখন জাপানের হাতে রয়েছে। জাপান তাদের নিরাপত্তানীতি কেন্দ্রীভূত করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ করেছে।এ ধরনের সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রক্রিয়া থেকে এটা স্পষ্ট যে জাপান অন্য পরাশক্তির পথ অনুসরণ করছে।

এমনকি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে নানা কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেছে জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা জোট গড়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বে বেশ কিছু কৌশলগত জোটের অংশীদার হয়েছে তারা। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন; ইউরোপে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এখন জাপানের কৌশলগত মিত্র। ন্যাটোর সঙ্গেও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে জাপানের।
জাপানের নৌবাহিনীর কার্যক্রম এখন শুধু ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, হর্ন অব আফ্রিকাতে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে তারা। এর আগে জাপান বেশ কিছু শান্তি রক্ষা মিশন ও জলদস্যুবিরোধী অভিযানে তাদের বাহিনী পাঠিয়েছিল। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী অভিযানের সময়েও জাপানের সেনাবাহিনী সহায়তা করেছিল। অনেক পর্যবেক্ষক এখন পর্যন্ত জাপানকে যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের সমকক্ষ বৈশ্বিক সামরিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। তবে যুক্ত রাষ্ট্রকে ছাড়াই জাপান বিশ্বে তার সামরিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলতে গেল, বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন, উভয়েই চাইবে বাংলা দেশকে তার সাথে পেতে। পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল হয়েছে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে। বঙ্গোপসাগর বর্তমান প্রেক্ষাপটে নানা কারণে ও নানা দিক দিয়ে অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায়, চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগকারী ও সাহায্যদাতা দেশ। তদুপরি, চীনের সাথে রয়েছে আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক। এখনও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রায় সবটা হার্ডওয়্যারই আসে চীন থেকে। আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যের বিবেচনাতেও চীন বাংলাদেশের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। একটা কথা কেউ সচরাচর প্রকাশ্যে না বললেও এটা সবাই অনুভব করেন যে, চীনের সাথে সুসম্পর্ক বাংলাদেশীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তাবোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সত্যি বলতে কী,সকল কিছুরই দুটো দিকই থাকে। একদিকে যেমন অনেক সংকট থাকতে পারে, চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে। আবার তেমনি সম্ভাবনাও থাকতে পারে। সম্ভাবনাগুলোকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর দক্ষতা অর্জণ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার ও সংকট সমাধানের দক্ষতা অর্জন আমাদেরকে অবশ্যই করতে হবে। চ্যালেঞ্জ ও সংকট, আপেক্ষিক। আমরা চ্যালেঞ্জ ও সংকট মোকা বিলায় কতটা দক্ষতার বা অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছি, তার উপরই নির্ভর করবে চ্যালেঞ্জ ও সংকটের ক্ষেত্র, তীব্রতা, মেয়াদ। সকল চ্যালেঞ্জ ও সংকটই মোকাবিলা যোগ্য। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন অভিযানের পর একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে।রাশিয়ার এই যুদ্ধের ডামাডোল চীন তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর আশঙ্কাকে তীব্র করেছে; আর তাইওয়ান হলো কার্যত জাপানি দ্বীপপুঞ্জের একটি সম্প্রসারিত দ্বীপ রাষ্ট্র। গত আগস্টে তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমায় সামরিক অনুশীলনের সময় চীন যে নয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল তার মধ্যে পাঁচটি জাপানের সংরক্ষিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসে পড়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই জাপান তাইওয়ানের নিরাপত্তাকে তার নিজের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। ভারতীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের পেশিশক্তি প্রদর্শনের বিরোধিতায় শুধুমাত্র জাপান সক্রিয় হয়েছে, তা নয়; বরং অস্ট্রেলিয়া ও ভারত একই পথে নেমেছে। গত জুলাইয়ে আততায়ীর গুলিতে নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের আমলে এ পরিবর্তনের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। আবের তত্ত্বাবধানেই জাপান প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো জাপান সামরিক বাহিনীকে দেশের বাইরে মোতায়েন করার জন্য তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শান্তি সংবিধান-এর পুনঃ পর্যালোচনা করেছে। জাপানের সংবিধানের যে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ জাপানকে হুমকি দেওয়া ও বলপ্রয়োগ থেকে বিরত রাখে, শিনজো আবে সেই অনুচ্ছেদটি সংশোধন করারও চেষ্টা করেছিলেন।

তবে জনপ্রিয় বিক্ষোভ তাঁর সেই চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা কিন্তু আবের মতো কোনো প্রতিরোধের মুখে পড়েননি। বরং জনমত জরিপ দেখা গেছে, বেশির ভাগ জাপানি নাগরিক সামরিক শক্তি গঠনকে সমর্থন করছেন। কিশিদা যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁকে শান্তির পারাবত মনে করা হতো। কিন্তু এখন তিনি ঠিক উল্টো পথে হাঁটছেন। এ পরিবর্তনের কারণ খুবই স্পষ্ট। এই পরিবর্তনের কারণ খুবই স্পষ্ট। ২০১৩ সালে, অর্থাৎ যে বছর সি চিন পিং চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, সেই বছর জাপানের জাতীয়-নিরাপত্তা কৌশল চীনকে একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আর জাপানের এখনকার হালনাগাদ কৌশল ঠিক তার বিপরীত। এখনকার কৌশলে চীন জাপানের শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি অভূতপূর্ব এবং সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। সি চিন পিংয়ের অধীনস্থ চীনের ক্রমবর্ধমান ও নিরবচ্ছিন্ন সম্প্রসারণবাদ জাপানের শান্তিবাদী অবস্থানকে অগ্রহণীয় করে তুলেছে। জাপান কয়েক দশক ধরে তার আন্তর্জাতিক প্রভাবের ভিত্তি হিসেবে সামরিক শক্তিকে নয় বরং অর্থনৈতিক শক্তিকে ধরে রেখেছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে চীনের প্রলম্বিত কালো ছায়া জাপানের দোরগোড়ায় অন্ধকার বিছিয়ে দিতে থাকায় টোকিও এখন তার শান্তিবাদী নিরাপত্তা নীতি থেকে সরে আসছে বলে মনে হচ্ছে। ভারতীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই জাপান তাঁর নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন আনছে। গত মাসে জাপান একটি সাহসী নতুন জাতীয়-নিরাপত্তা কৌশল উন্মোচন করেছে। এই কৌশল অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে তারা প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্বিগুণ করবে বলে পরিকল্পনা করেছে। এতে মোট খরচ হবে ৩২ হাজার কোটি ডলার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এ পর্যন্ত জাপান বৃহত্তম সামরিক শক্তি গঠনে একসঙ্গে এত খরচ করেনি।এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশ হতে যাচ্ছে জাপান।

এই নতুন কৌশল অনুযায়ী, জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অস্ত্র নেবে এবং নিজস্ব হাইপারসনিক অস্ত্রের বিকাশ বিকাশ ঘটাবে।জাপানের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও জাপানের মতো সামরিকীকরণের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। যেমন, শান্তিবাদী দেশ জার্মানি তার প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ইউরোপে সামরিক নেতৃত্বে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যেই সামরিক ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশ স্তর অতিক্রম করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তার প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিমধ্যেই বিশাল সামরিক ব্যয় ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগদান করছে। যদিও জাপানের পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত হওয়া সংগত কারণেই আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বীকৃত হয়েছে, তথাপি এটি চীনের সম্প্রসারণবাদী গতিকে আটকানোর জন্য যথেষ্ট হবে এমন সম্ভাবনা কম।

সর্বোপরি, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রতিরক্ষা বাজেট থাকা সত্ত্বেও ভারত ২০২০ সাল থেকে বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে চীনের সঙ্গে একটি সামরিক অচলাবস্থায় আটকে আছে। ওই বছর পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) জোর করে বিস্ময়করভাবে ভারতের সীমানায় ঢুকে পড়ে। সেখানে মাঝে মাঝেই ছোটখাটো সংঘর্ষ হচ্ছে।এমনকি গত বছরেও একটি সংঘাত হয়েছে। রাশিয়া যেমন সরাসরি ইউক্রেনের ওপর আক্রমণ শুরু করেছে, চীন সে ধরনের কৌশলে এগোয় না। চীন চোরা কৌশল পছন্দ করে। তারা চুরি, প্রতারণা এবং অতর্কিত হামলার মাধ্যমে অন্যান্য দেশের অঞ্চলগুলোতে ঢুকে পড়ে এবং একটু একটু ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন করে নিজের দখলে নিয়ে নেয়। পিএলএর তথাকথিত তিন যুদ্ধ চীনকে দক্ষিণ চীন সাগরে জনসন সাউথ রিফ দখল এবং স্কারবরো শোল দখল করার মতো কৌশলগত বিজয় নিশ্চিত করতে সক্ষম করেছে। এমনকি এটি সেনকাকুর জলসীমায় পুলিশি নজরদারি করার চেষ্টা করছে।

উন্নত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় জাপান সজ্জিত হলে দেশটি আরও আত্মবিশ্বাসী ও সুরক্ষিত দেশে রূপান্তরিত হবে। চীনের উসকানিতে জাপানের প্রতিক্রিয়া এখনো পর্যন্ত সংযত অবস্থায় আছে। অন্তত এখন পর্যন্ত কোনো জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনকাকু দ্বীপ পরিদর্শন করেননি, পাছে এটি চীনকে ক্ষুব্ধ করে। তবে জাপানের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক অস্ত্রে নিজেকে সজ্জিত করা চীনের হাইব্রিড যুদ্ধকে প্রতিরোধ করার কার্যকর উপায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না। এই অবস্থায় জাপানকে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঝুঁকি এড়িয়ে অচলাবস্থা কাটাতে চীনের নিরঙ্কুশ চেষ্টাকে হতাশ করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে চ্যালেঞ্জ গুলোর মধ্যে আছে: চীন-ভারত রেষারেষি, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে জটিলতা, তাইওয়ান ইস্যু, ইত্যাদি। এছাড়াও, চীনের উত্থানের ফলে সৃষ্ট চীনের প্রভাবের বিস্তৃতি।আর সম্ভাবনার কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয়, এশিয়া হলো পৃথিবীর গ্রোথ সেন্টার। ফলে, এশিয়ার বিকাশ ঘটতেই থাকবে। আর এর বেনিফিট সবাই পেতে থাকবে। আর এ অঞ্চলের কেউই হয়তোবা চাইবেনা, কোন সংকট সেই বিকাশের সম্ভাবনাকে স্তব্ধ করে দিক। তদুপরি, চীন আজ গ্লোবাল ইকনোমির সাথে এতটাই লিঙ্কড হয়ে গিয়েছে যে, চীন গ্লোবাল ইকনোমির ইন্টিগ্রাল পার্ট। সেই চীনকে এর থেকে ডি-লিঙ্ক করার চিন্তা ও চেষ্টা করাটা নিদেনপক্ষে মধ্যমেয়াদে হবে চরম হঠকারী ও ভয়ংকর। সম্পূর্ণ গ্লোবাল প্রোডাকশন ও সাপ্লাই চেইনে এত বড় অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে যে, সেই ঝুঁকি কেউই হয়তোবা নিতে চাইবেনা। কারণ, সেটা কারোরই স্বার্থানুকুল নয়। তাই, অন্যান্য চ্যালেঞ্জের বেশীরভাগেরই হয়তোবা শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব।


লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট, যুক্তরাজ্য।


ডেল্টা টাইমস্/সিআর/এমই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com