মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪ ৩ বৈশাখ ১৪৩১

উন্নয়নে গ্রামীন অর্থনীতি ও বাস্তবতা প্রসঙ্গে
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জুন, ২০২৩, ৩:১২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

.

.

শহরের ভোগ-বিলাসী জীবন যাপনের প্রধান উপাদান- গুলোই আসে গ্রাম থেকে। গ্রামের মাছ, মুরগি, ডিম, হাস, কবুতর, গবাদিপশু, শাক-সব্জি, ধান, চাল থেকে শুরু করে আমাদের জীবনধারণের অন্যতম উপাদানগুলো গ্রাম থেকেই আসে। সেই গ্রামকে অবহেলা করে, গ্রামের উন্নয়নকে উপেক্ষা করে সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। আমাদের আধুনিক শহুরে সভ্যতায় পালিত পিঠা মেলা, বৈশাখি উৎসব, লোকজ উৎসব ও মেলাগুলো কিন্তু আমাদের প্রাচীন ও চিরায়ত গ্রামীণ ঐতিহ্য। গ্রামীণ সভ্যতা আর ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে এই শহরে যখন বাণিজ্য হয়। এই বাণিজ্যের ছিটেফোটাও আমাদের গ্রামবাংলার ঘরে পৌঁছায় না। আমরা কথায় কথায় গ্রামকে ভালবাসার কথা বললেও-সত্যিকার অর্থে কতখানি ভালোবাসি গ্রামকে। মুখে মুখে গ্রামীণ বা কৃষকের উন্নয়নের কথা বলা হলেও-প্রকৃত অর্থে কতখানি উন্নয়ন চাই কৃষকের। তার প্রমাণ মিলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী আর আচরণে। বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, ডিস বিল, ইন্টারনেট বিল, মোবাইল বিল, নিত্য ব্যবহার্য পণ্য, চায়নিজ খাবার, বিলাস সামগ্রী, শিক্ষা আর চিকিৎসা খরচ বাড়লে সবই যেন আমাদের সয়ে যায়। শুধু কৃষকের উৎপাদিত পণ্য-ধান, চাল, সবজি, মাছ, মাংস, ফলমূলের দাম বাড়লে বাজারে, ঘরে আর আমাদের বিলাসি শহুরে মানসিকতায় আগুন জ্বলে! তাহলে কি আমরা সত্যিকার অর্থে কৃষকের উন্নয়ন চাই, গ্রামের উন্নয়ন চাই-এসব প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। গ্রীষ্মকালে ঘরের চাতালে বসে দক্ষিণা বাতাসে কাঁচা আম মাখা খাওয়ার মজাই ছিল আলাদা। চারদিকে ধু ধু করে ফাঁকা মাঠ। বছরে একবার আবার কোথাও বা দুবার ধান চাষ হতো। বাকি সময়ে অন্যান্য সবজির চাষ হতো। গ্রীষ্মকালে শেষে যখন প্রথম বর্ষা হতো, তখন মেঘের ডাকে পুরোনো পুকুর থেকে কই ও শিং মাছ বের হওয়া যেন প্রাকৃতিক নিয়ম ছিল। নতুন পানির সঙ্গে বের হয়ে আসত শত শত প্রজাতির মাছ। কই, শিং, টাকি, শোল, গজার, পুঁটি, বাইন, ফাইশ্যা, রয়না, ফলই, চিতল, বোয়াল, খলিশা, ট্যাংরা ছিল এদের মধ্যে অন্যতম।

বর্ষাকালে মাঠ যখন পানিতে ডুবে থাকত, তখন রাতের বেলা মাছ ধরা তো নিত্যকার ব্যাপার ছিল। বর্ষাকালে দিনের বেলা কলাগাছের ভেলা বা তালগাছের ডোঙায় করে মাঠের পানির মধ্যে ঘুরে ঘুরে শাপলা তোলার ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। কিন্তু এ সবকিছু এখন শুধু স্মৃতি হয়ে আছে। সেই দিন আর নেই। আর সেই ফাঁকা মাঠও আর নেই। সময়ের সঙ্গে সবকিছুর পরিবর্তিত হবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই সব এলাকায় এসব বিষয় কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। তিন ফসলি জমি কেটে বেষ্টিত স্থান তৈরি করেছে। যদিও এতে লাভ কম নয়। কারণ চিংড়িকে সাদা সোনা বলা হয়। কিন্তু চিংড়ি চাষের কারণে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চিংড়ি চাষ করতে লোনাপানি দরকার। আগে খালে বাঁধ দিয়ে লোনাপানি আসা বন্ধ করা হতো। কারণ লোনাপানি ফসলের চরম ক্ষতি করে। কিন্তু এখন চিংড়ি চাষের জন্য লোনাপানি আনতে হচ্ছে। এতে ফসলের প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে। গলদা চিংড়ি মিঠাপানিতে চাষ করা গেলেও বাগদা চাষ করতে লোনাপানির দরকার হয়। লোনাপানির কারণে দেশের দক্ষিণবঙ্গের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একসময়ের ফসলি জমি কেটে চিংড়ি চাষ করার কারণে ধান চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। লোনাপানির প্রভাবে গোটা দক্ষিণ উপকূল থেকেই ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে অন্তত ৬০ হাজার প্রজাতির মাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি। প্রথম দিকে কিছু কৃষক চিংড়ি চাষের দিকে ঝুঁকলেও কয়েকবার চিংড়ি চাষ করে লোকসান হওয়ার পর তাঁদের সেই ইচ্ছে উঠে গেছে। এখন অধিকাংশ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চিংড়ি চাষ করেন। এখানেই আসল সমস্যা। লোনাপানিতে কৃষকের ক্ষতি হলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষমতার দাপটে কৃষকদের কথা কেউ শোনে না। সাধারণ কৃষকেরা এখন অনেকটা বাধ্য হয়েই চিংড়ি চাষ করেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে লোনাপানির কারণে অনেক গাছপালা মরে গেছে। নারকেল ও সুপারির ফলন খুব ভালো ছিল একসময় এই অঞ্চলে।

কিন্তু লোনাপানি ঢোকার কারণে নারকেল ও সুপারির ফলন অনেক কমে গেছে। দেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগর সাগরের লোনাপানির প্রভাব এলাকার প্রকৃতির ওপর পড়ছে। এটা তো প্রাকৃতিকভাবে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের গবেষণায় জানা গেছে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দক্ষিণ বঙ্গের জেলাগুলোতে কৃষিজমি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। চিংড়ি চাষের জন্য লোনাপানি আনতে স্লুইসগেট ছিদ্র করে বাঁধ দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। যার কারণে এসব এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার। এসব এলাকার যেসব মানুষ আগে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাঁদের অধিকাংশই বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকে অন্য কাজ করছেন। কিন্তু তাঁরা আগে যেমন অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ছিলেন,এখন তেমন নেই। অর্থনৈতিকভাবে অনেক অসচ্ছল হয়ে গেছেন তাঁরা কৃষিশ্রমিকেরা কাজ হারিয়েছে, শিশু-কিশোরেরা খেলার মাঠে হারিয়েছে। পানির অবাধ প্রবাহ নষ্ট হয়ে গেছে। লবণাক্ততার কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া জমির উর্বরতা ফিরিয়ে আনা সহজ কাজ নয়। এ-সম্পর্কিত প্রতিটি গবেষণায় দেখা গেছে, লোনাপানিতে চিংড়ি চাষের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে এসব অঞ্চলের চাষের জমি প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। ৪০ শতাংশ কৃষিজমি মারাত্মক হুমকির মুখে। গবেষকেরা বলছেন ঘন ঘন লোনাপানির প্লাবনে ইতিমধ্যে অনেক কৃষক ধান চাষ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। কৃষকেরা ধানের জমিতে চিংড়ি বা অন্য সামুদ্রিক মাছের চাষ করছেন এখন। লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে বর্গা চাষিদের আয় বছরে ২১ শতাংশ কমেছে। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, আইসিডিডিআরবির গবেষণায় জানা গেছে, লোনাপানির কারণে দক্ষিণ অঞ্চলের নারীদের গর্ভপাতের হার অন্য জায়গা তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। এটা খুবই চিন্তার একটা বিষয়। এসব এলাকায় লোনাপানি ঢোকার কারণে স্বাদু পানির খুব অভাব দেখা দিয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের মানুষ সাধারণত গভীর নলকূপ বা নির্দিষ্ট কোনো পুকুরের পানি পান করে। কিন্তু এই নলকূপ ও পুকুরের পানিতেও লোনাপানির প্রভাব পড়েছে। এ কারণে এই অঞ্চলের মানুষের স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। এমনিতেই বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বাড়ছে এবং সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে। দক্ষিণাঞ্চলের একটা বড় অংশ সমুদ্রের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তার ওপর কৃত্রিমভাবে তৈরি এই সংকটের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।চিংড়ি চাষে লাভ আছে, এটা ঠিক। কিন্তু এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার দায় কে নেবে? এ জন্য দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার। চিংড়ি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চিংড়ি রপ্তানি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত। প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দেয় এই শিল্প। তাই চিংড়ি চাষ বন্ধ করলে দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়বে। এ কারণে চিংড়ি চাষ বন্ধ না করে চিংড়ি চাষের নতুন কোনো উপায় বের করতে হবে, যাতে লোনাপানি এলাকায় ঢোকানোর প্রয়োজন হবে না। স্বাদু পানিতে চাষযোগ্য চিংড়ির প্রজাতি যদি আনা সম্ভব হয়, তাহলে এটা হতে পারে সবচেয়ে বড় সমাধান। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের এই সমস্যার প্রভাব সমগ্র দেশের ওপর পড়ছে। লোনাপানির কারণে কাজ হারানো মানুষ কাজের খোঁজে শহরে আসছে। এতে শহরের জনসংখ্যা বাড়ছে। আবার অনেক বড়সংখ্যক মানুষের আয় কমে যাওয়ার ফলে এর প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ছে। এদিক বিবেচনা করে বলা যায়, এ সমস্যা শুধু দক্ষিণবঙ্গের মানুষের নয়, বরং সমগ্র দেশের। এ কারণে যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে আশার কথা হচ্ছে গ্রামেও এখন অর্থপ্রবাহ বেড়েছে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট প্রভৃতি সুবিধা ক্রমশ বদলে দিচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির চেহারা।

বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছন। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের অধিকাংশই গ্রাম এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে- উৎপাদন, রফতানি আয় এবং বহুমুখী কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। আর এই সুযোগের সুবাদে গ্রামের উন্নয়নেও প্রভাব পড়বে। বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ১০ বছরের ব্যবধানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গ্রামের জনবলও বেড়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় রূপান্তর ঘটেছে অর্থ সরবরাহের ক্ষেত্রে। আগে গ্রাম থেকে অর্থ শহরে চলে যাওয়ার যে রীতি প্রচলিত ছিল এখন হচ্ছে তার উল্টো। এখন বিত্তবানরা শহর থেকে নানা প্রকল্পে অর্থ পাঠাচ্ছে গ্রামে। শহরের মানুষেরা আরও সুখে থাকার জন্যে নিজ গ্রামে মাছ চাষ, সবজি চাষ, ফল বাগান, গবাদিপশুর খামার এমন কি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পও স্থাপন করছেন। গ্রামমুখী এসব কর্মকাণ্ডের ফলে গ্রামেও স্থানীয় অনেক পণ্য তৈরি হচ্ছে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন গ্রামীণ অর্থনীতিতে পেশা বাছাইয়ে বহুমুখিতা তৈরি হয়েছে। কৃষিভিত্তিক শিক্ষা বা উচ্চশিক্ষাকে খাটো করে দেখার দিন শেষ হয়েছে আরও আগেই। এখন সময়ের প্রয়োজনে উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা কৃষিভিত্তিক প্রকল্পে নিজের জীবিকার ব্যবস্থা করছে। তরুণদের মানসিকতার এই পরিবর্তন ও তাদের মেধা, মনন ও গণজারণের মাধ্যমে পাল্টে দিচ্ছে আমাদের কৃষি ব্যবস্থার অবকাঠামো। এখন কৃষি বলতে আর শুধু ধান বা ফসল ফলানোকে বোঝায় না। কৃষি এখন বহুমাত্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্র। এখনই সময় গ্রামীণ উন্নয়নকে জোরদার করে কৃষি ও কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল স্রোতে নিয়ে আসা।গ্রামের উন্নতির মধ্যেই সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভরশীল। কেননা, আমাদের শহুরে জীবনের উপভোগ্য অধিকাংশই গ্রাম থেকে আসে। তাহলে গ্রামের কৃষকদের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারলেই সার্বিকভাবে দেশের উন্নয়ন ঘটবে।


লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট, যুক্তরাজ্য।



ডেল্টা টাইমস্/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর/এমই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com