মঙ্গলবার ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩ মাঘ ১৪২৯

শেরপুরে গারোদের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব অনুষ্ঠিত
শেরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশ: রোববার, ২০ নভেম্বর, ২০২২, ৩:১২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

শেরপুরে গারোদের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব অনুষ্ঠিত

শেরপুরে গারোদের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব অনুষ্ঠিত

শেরপুর নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে গারো সম্প্রদায়ের ওয়ানগালা উৎসব। ‘মিসি সালজং’ বা শস্য দেবতার ওপর নির্ভর করে ফসলের ভালো ফলন হয়। সেই জন্য শস্য দেবতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতির জন্য এই আয়োজন করে আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের মানুষ।

এ আয়োজনে তাদের ফসল দেবতার কাছে  কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও মনোবাসনার নানা নিবেদন হয় এ উৎসবে।শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মরিয়মনগর খ্রীষ্টান ধর্মপল্লীতে রোববার দিন ব্যাপী উদযাপিত হলো গারো সম্প্রদায়ের এ ওয়ানগালা উৎসব। গারোরা খ্রীষ্টান ধর্মে ধিক্ষিত হওয়ার পর থেকে খ্রীষ্টান রীতিতে পালন করে আসলেও গত কয়েক বছর ধরে যৌথ ভাবে খ্রীষ্টান ও গারো রীতিতে এ উৎসব পালন করে আসছে। 

রোববার (২০ নভেম্বর ) সকালে থক্কা বা চালের গুড়ার তিলক প্রদান এবং তাদের গোত্রের জনগণকে থক্কা দেয়া হয়। নুতন ধানসহ অন্যান্য ফসলকে উৎসর্গ করে উৎসবের শুভ সুচনা করা হয়। তাদের ফসল দেবতা মিসি সালজংকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। এরপর স্থানীয় গীর্জাঘরে শুরু হয় খ্রীষ্ট জাগ। এসময় তারা তাদের ফসল দেবতা ও প্রভুর কাছে প্রার্থনার মধ্যদিয়ে ধর্মীয় রীতির কাজ শেষ করা হয়। এরপর স্থানীয় মরিয়মনগর গীর্জার মাঠে গারো কৃষ্টি-কালচারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সব শেষে বিকেল থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কীর্ত্তনের মধ্য দিয়ে ওয়ানগালায় সার্বিক কাজ শেষ করা হয়। ওয়ানগালায় আগত গারোরা জানায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা ও শস্য দেবতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতির জন্যই এই আয়োজন। এসব অনুষ্ঠানের সকল কার্যাদি সম্পন্ন করেন ওই ধর্মপল্লীর  পাল পুরোহিত ফাদার ডিভিড বিপুল দাস।

গারোদের বিশ্বাস, ‘মিসি সালজং’ বা শস্য দেবতার ওপর নির্ভর করে ফসলের ভালো ফলন। এই শস্য দেবতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ও নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতির পাশাপাশি ‘পরিবারে ভালোবাসা, আনন্দ, সব পরিবারের মঙ্গল কামনা করে’। এছাড়া দূর-দূরান্তের অনেক আত্মিয়-স্বজন এই ওয়ানগালা উপলক্ষে বেড়াতে আসে। তাদের সাথে অনেকের দেখা-সাক্ষাতও হয় এই উৎসবকে ঘিরে। তবে এ উৎসবে প্রতি বছর নিজেদের কৃষ্টি ও কালকেই বেশী প্রাধান্য দেয়া হয় বলে জানায় স্থানীয়রা।

বিগত দুই বছর করোনার জন্য সীমিত আকারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও এবার একটু বড় পরিসরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। গারোরা খ্রীষ্টান ধর্মে ধিক্ষিত হলেও তাদের কৃষ্টিকে ধরে রাখতে প্রতি বছর এ উৎসব পালন করে আসছে বলে জানায় আয়োজকরা।

১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর ঝিনাইগাতী উপজেলার মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর উদ্যোগে খ্রীষ্টান রীতিতে ওয়ানগালা বা নবান্ন উৎসব পালন করা হয় নভেম্বর মাসে। এতে তাদের কৃষ্টিকে ধরে রাখার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে সম্প্রতি রক্ষাতেও এ উৎবের মূল কারণ বলে মনে করেন স্থানীয় গারো খ্রীষ্টানরা। 

এদিকে মিশনের বাইরে ছোট্ট পরিসরে গারোদের নানা পেষাক ও শিশুদের খেলনার পসড়া নিয়ে বসেন স্থানীয় দোকানিরা।




ডেল্টা টাইমস্/রফিক মজিদ/সিআর/এমই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]