বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

মোংলায় নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ৩:৪০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মোংলায় নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত

মোংলায় নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত

১০ দফা দাবি আদায়ে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি। শনিবার (২৬ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে শুরু হয় তাদের এ কর্মবিরতি। এদিকে কর্মবিরতির কারণে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলায় বিদেশি জাহাজে আসা আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য নদী পথে পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

ফলে বন্দরে হাড়বাড়ীয়ার নোঙ্গরে ও ফেয়ারওয়ের বহি নোঙ্গরে অবস্থান করা সব বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

নৌযান শ্রমিকদের আটটি সংগঠনের জোট বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। এ নিয়ে গত এক বছরে তিনবার ধর্মঘটের ডাক দিল ফেডারেশন।

নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতী চলমান থাকলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মোংলা বন্দরের আমদানী-রপ্তানিকারক ব্যাবসায়ীরা। আর উৎপাদন ব্যাহত হবে এ অঞ্চলের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বলে দাবি ব্যাবসায়ীদের।

নৌ শ্রমিকদের নেতারা বলছেন, নৌ মন্ত্রণালয় থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও দাবি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। যেকারণে বাধ্য হয়ে আবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। এবার দাবিগুলো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন না। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ১০ দফা উপস্থাপন করা হলেও তাদের মূল দাবি ২০১৬ সালে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ বলেন, নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বন্দরে অবস্থান করা বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামা, পরিবহনের কাজ বন্ধ থাকলেও বন্দর জেটি, কন্টেইনার ও কার ইয়ার্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ মোংলা শাখার যুগ্ন আহবায়ক মামুন হাওলাদার বলেন, দেশে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু শুধু নৌযান শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা বাড়েনি। নৌযানে পণ্য পরিবহনের ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু নৌ শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। বারবার মালিক পক্ষ ও সরকারের কাছে আবেদন করেও আমাদের কোনো লাভ হয়নি। গত ১৯ নভেম্বর সরকার ও মালিক পক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যার ফলে আমরা এই কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। ১০ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত এ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের ঘোষিত ১০ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক দেওয়াসহ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, খাদ্য ভাতা ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা, দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা, চট্টগ্রাম থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী অপরিণামদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা, বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের রাত্রিকালীন চলাচলের ওপরে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিল, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেওয়াসহ ভারতীয় সীমানায় সব প্রকার হয়রানি বন্ধ, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা ১০০ শতাংশ কার্যকর করে সব লাইটারিং জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা, চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌ-পরিবহন অধিদফতরের সব ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা।




ডেল্টা টাইমস্/আলী আজীম/সিআর/এমই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com