শনিবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২০ মাঘ ১৪২৯

ঔপনিবেশিক মডেলের চীনা ঋণের ফাঁদ
রায়হান আহমেদ তপাদার:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২, ৪:০৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

.

.

বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ দিয়ে চীনা সরকার সেসব দেশে প্রকৃত উন্নয়নের পরিবর্তে দেশগুলোকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে বলে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে চীন সে অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে। চীন এখন বিশ্বের একমাত্র একক বৃহৎ ঋণদাতা দেশ। প্রকাশ্য ঋণের অঙ্গীকার সত্ত্বেও চীনের অপ্রকাশিত বিপুল ঋণ রয়েছে বিভিন্ন দেশে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এইডড্যাটা বলছে,চীনা ঋণের একটি বড় অংশই প্রকাশ করা হয় না কিংবা পরিসংখ্যানে আসে না। যুক্ত রাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া কলেজ অব উইলিয়াম অ্যান্ড মেরির একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা এইডড্যাটা’র বিশ্লেষণ অনুসারে, পৃথিবীর ১৬৫ দেশের মধ্যে চীনাদের ৮৪৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৩ হাজার ৪২৭টি চীনা উন্নয়ন প্রকল্প কাজ করছে। কিছু বৈদেশিক ঋণ প্রায়ই চীনা সরকারি ব্যালান্সশিটে বরাবরই উহ্য থাকে। বিদেশী সরকারের সাথে চীনা সরকারের ঋণ দেয়া-নেয়ার পরিবর্তে চীন ঋণগুলো দেয় সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি, ব্যাংক, যৌথ অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। এইডড্যাটার তথ্যানুসারে, পৃথিবীতে ৪০টি নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশ রয়েছে যেগুলোকে তাদের জিডিপির ১০ শতাংশ ঋণ দেয়া হয়েছে ‘হিডেন ডেট’ হিসেবে। জিবুতি, জাম্বিয়া, রিপাবলিক অব কঙ্গো, নাইজার, লাওস, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, কিরগিজিস্তানের মতো দেশগুলোকে তাদের জিডিপির ২৫ শতাংশের সমপরিমাণ ঋণ দিয়েছে চীন। ঋণের বেশির ভাগই প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) তহবিল থেকে রোড, রেলওয়ে, বন্দর, খনিজসম্পদ উত্তোলন শিল্পে দেয়া হয়েছে। ব্রিটেনের বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা এমআইয়ের প্রধান রিচার্ড ম্যুর বলেছিলেন, চীন অন্যান্য দেশের উপর নিজের উদ্দেশ্য সাধনে বা অন্যান্য দেশের উপর প্রাধান্য বিস্তার করার জন্য ঋণের ফাঁদ ব্যবহার করে থাকে।

চীন এমন শর্তে ঋণ দিয়ে থাকে যে, সময় শেষে ঋণের অর্থ শোধ করতে না পারলে সে দেশের সম্পদের নিয়ন্ত্রণ চীনাদের হাতে ছেড়ে দিতে হয়। সমালোচকরা শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের উদাহরণ দিয়ে থাকে। হাম্বানটোটায় চীনা বিনিয়োগে বিশাল বন্দর প্রকল্প শুরু হয়েছিল। কিন্তু চীনা ঠিকাদাররা ঋণ নিয়ে প্রকল্পটিকে বিতর্কের মধ্যে ফেলে দেন এবং শ্রীলঙ্কা পড়ে ঋণের ফাঁদে। শেষতক ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে শ্রীলঙ্কা হাম্বানটোটা বন্দরের ৭০ শতাংশ ৯৯ বছরের জন্য চীনাদের হাতে তুলে দিয়েছে বন্ধক হিসেবে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউজ দাবি করেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় শ্রীলঙ্কার সাথে চুক্তিটি করা হয়েছিল এবং চীন আনুষ্ঠানিকভাবে কখনোই এই বন্দরের মালিকানা গ্রহণ করেনি। এই বন্দরের জন্য দেয়া ঋণের একটি বিশাল অংশ চীনাদের নয়। চ্যাথাম হাউজ বলছে, ‘চীন সরকার এই বন্দরকে ব্যবহার করে কৌশলগত সামরিক সুবিধা নিয়েছে এমন প্রমাণ এখনো মেলেনি। এটা ছাড়া অনেকেই বলছেন, বিগত বছরগুলোতে চীনা অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শ্রীলঙ্কায় বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এই অঞ্চলে চীনের রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষাকে এগিয়ে নিতে ব্যবহার করা হতে পারে। এইডড্যাটার গবেষণা অনুসারে, বিদেশে চীন বছরে ৮৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে যা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের দ্বিগুণ। বিআরআই শুরুর পর থেকে প্রতি একটি মঞ্জুরির বিপরীতে চীন ৩১টি ঋণ দিয়েছে।এইডড্যাটা বলছে, চীনা অর্থ বিনিয়োগের এই প্রক্রিয়াটি খুবই অস্বচ্ছ। যেখানে বিনিয়োগ করা হোক না কেন, সে বিনিয়োগের যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। জাম্বিয়ায় এ ধরনের বিনিয়োগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে চীনারা এই অভিযোগটিকে কখনোই স্বীকার করে না, প্রত্যাখ্যান করে আসছে। প্রত্যাখ্যান করলেও ঋণগ্রহীতা দেশগুলো সময়মতো ঋণ শোধ করতে না পারলে জামানত হিসেবে চীন যে, সেসব দেশের সম্পদ জব্দ করে থাকে তার উদাহরণ অনেক।

গত দুই দশকে চীন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ দিয়েছে। ২০১৩ সালে ‘বিআরআই’ নামক প্রকল্পটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। চীনের সাথে বাকি বিশ্বকে যোগ করে নেয়ার জন্যই এই বড় প্রকল্পটি নিলেও বিশ্বে চীনাদের প্রভাব বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন।
চীন গত এক দশকে বিশ্বের বৃহত্তম একক ঋণদাতা দেশ হয়ে উঠেছে। এ সময়ের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ঋণ তিন গুণ বেড়ে ২০২০ সালের শেষ নাগাদ ১৭ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রদেয় বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এখন বৈশ্বিক জিডিপির ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা চীনকে বৈশ্বিক ঋণদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিদ্বন্দ্বীর ভূমিকায় এনে ফেলেছে। এ ছাড়া চীন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অধীনে বিভিন্ন দেশকে অবকাঠামো গড়তে ৮৩ হাজার ৮০০ ডলার ঋণ দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি অবকাঠামো প্রকল্পে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থায়নকারী হিসেবে বিশ্বব্যাংককে ছাড়িয়ে গেছে। অনেকের মতে, চীনের ঋণপ্রবাহের এ নিম্নমুখী প্রবণতা ঔপনিবেশিক মডেলের চীনা ঋণের ফাঁদ থেকে দরিদ্র দেশগুলোকে মুক্তি দেবে। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তা নয়। যেসব দেশ আগে থেকেই চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সংকটে ছিল এবং এখন মহামারির কারণে নতুন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে, তাদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে চীন নতুন করে ঋণ দেবে। এর বেশির ভাগই পাবে বিআরআই অংশীদার দেশগুলো, যেগুলো কেনিয়ার মতো ইতিমধ্যে চীনের ঋণের ভারে নুয়ে পড়েছে। এ বেল আউট ঋণের পরিমাণ বিশাল। চীনের কাছ থেকে বেল আউট হিসেবে ঋণ নেওয়া শীর্ষ তিন দেশ হলো আর্জেন্টিনা, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা। ২০১৭ সাল থেকে এ তিন দেশ বেল আউট হিসেবে চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে ৩ হাজার ২৮০ কোটি ডলার।

পাকিস্তান এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঋণগ্রহীতা। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারা জরুরি ঋণ হিসেবে চীনের কাছ থেকে নিয়েছে ২১৯০ কোটি ডলার। কেনিয়ার একটি রেলওয়ে প্রকল্পে অর্থায়ন করার বিষয়ে চীন ২০১৪ সালে কেনিয়ার সঙ্গে একটি বিতর্কিত ঋণ চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির বিস্তারিত বিষয় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। ওই চুক্তির যে বিবরণ পাওয়া গেছে, তা আবারও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চীনা ঋণের শিকারি চরিত্রকে তুলে ধরেছে। চুক্তিটি কেবল ঋণগ্রহীতার ওপর কার্যত সব ঝুঁকি চাপিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ সুদের হার নির্ধারণসহ চুক্তির শর্তগুলো এমনভাবে সন্নিবেশ করা হয়েছে, যা সেই ঝুঁকিগুলোকে নিয়ন্ত্রণের অযোগ্য স্তরে নিয়ে যেতে বাধ্য। এখন আর এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, এ ধরনের শর্ত যুক্ত করার পরও বিশ্বের অনেক দেশ সার্বভৌমত্বকে হুমকিতে ফেলা চীনা ঋণের ফাঁদে আটকে পড়েছে। মেড ইন চায়না কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্য দেশের অবকাঠামো প্রকল্পে চীন ঋণ দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে অবকাঠামো খাতে অংশীদারি দেশগুলোর ঋণ নেওয়া কমার আংশিকভাবে কারণ হলো মহামারি ওই দেশগুলোকে মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপে ফেলেছে; অবশ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন সমালোচনাও আছে যে এ চাপের পেছনে চীনের শিকারি ঋণের দায় আছে। যেহেতু চীন আইএমএফের মতো ঋণের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতি সংস্কারে কঠোর শর্ত দেয় না, সেহেতু দেশগুলো আরও বেশি ঋণ নিতে থাকে এবং একপর্যায়ে ঋণের সাগরে ডুবে যায়। চীনের ঋণ চুক্তি গুলো সাধারণত গোপনীয়তায় ঢাকা থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই করদাতাদের কাছে ঋণের খবর গোপন রাখা হয়, যা সরকারের জবাবদিহিকে ক্ষুণ্ন করে। চীনের কাছ থেকে যে পরিমাণ গোপন ঋণ নিয়েছিল লাওস,তা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষিত ঋণের পরিমাণকে ছাপিয়ে গেছে।মহামারির ধাক্কার পর ছোট্ট এই দেশটি দেনার দায়ে তার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের বেশির ভাগের নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছে।

এ ছাড়া এ দেনা থেকে বাঁচতে তার সামনে চীনের হাতে তার ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ তুলে দেওয়া ছাড়া খুব সামান্যই বিকল্প থাকবে। দেনার কারণে তাজিকিস্তান পামির পর্বতমালার ১ হাজার ১১৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা চীনের কাছে সমর্পণ করেছে এবং চীনা কোম্পানিগুলোকে তার ভূখণ্ডে সোনা, রৌপ্য এবং অন্যান্য খনিজ আকরিকের খনির অধিকার দিয়েছে। চীনের ঋণের অর্থ শোধ করতে না পেরে শ্রীলঙ্কা তার মহাসাগর অঞ্চলের সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হামবানটোটা এবং তার আশপাশের ৬ হেক্টরের বেশি জমি চীনকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিতে বাধ্য হয়েছে। এ বলিদানের পরও শ্রীলঙ্কা এ বছরের শুরুতে চীনের ঋণ খেলাপি হয়েছে। একইভাবে পাকিস্তান চার দশক ধরে তার গোয়াদর বন্দর চালানোর জন্য চীনকে একচেটিয়া অধিকার দিয়েছে। সেই সময়ে, চীন বন্দরের রাজস্বের ৯১ শতাংশ নিজের পকেটে পুরেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে চীনের ঋণচুক্তির বিশদ বিবরণ এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। কিন্তু এটা ইতিমধ্যে স্পষ্ট যে চীনের এ ঋণদান সাম্রাজ্যবাদের সুদূরপ্রসারী ঝুঁকি বহন করে। এটি সবার জন্য বিপদের বিষয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা রোডিয়াম গ্রুপ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের নামে চীন ২০১৬ সালে পঁচাত্তর বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিভিন্ন দেশকে ঋণ দিয়েছে। ২০১৮ সালে ঋণের অংক কমে গেলেও তা এখনো ভয়াবহতার পর্যায়ে রয়েছে। জি-২০ সম্মেলনে চীনা ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে শর্ত শিথিল করার জন্য পারস্পরিক ভিত্তিতে আলোচনার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে, চীন তা নাকচ করে দিয়ে দাবি করে চীনের ঋণদাতা অনেকগুলো ব্যাংকই চীন সরকারের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত, যদিও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট চীনের এই দাবির সমালোচনা করেছেন। আটলান্টিক কাউন্সিলের জিও ইকোনোমিক সেন্টারে’র সিনিয়র ফেলো জেরেমি মার্ক উল্লেখ করেছেন চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্প এখন অবক্ষয়ের পর্যায়ে রয়েছে, যার কারণে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে এই প্রকল্পের ব্যাপারে কোনওকিছু উল্লেখ করা হয়নি।

পাকিস্তানে চীনের ঋণে নির্মিত কারাকোরাম মহাসড়কের উল্লেখ করে সিএনএ মন্তব্য করেছে, এই সড়কের সুবিধা নিয়ে চীন পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে গোয়াদর বন্দরে তার আধিপত্য বিস্তার করবে, আর সেটিই হচ্ছে এই সড়ক নির্মাণের পেছনে চীনের মূল উদ্দেশ্য।সাম্প্রতিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়ে চীন বলছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মুদ্রা বিনিময় এবং চীন বা অন্য কোথাও বাংলাদেশের রপ্তানি ক্রমবর্ধমান উপায় হতে পারে। চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন,বাংলাদেশে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চায় চীন। চীন ও বাংলাদেশ একে অন্যের ভালো প্রতিবেশী। দুই দেশই একে অপরের বিশ্বস্ত বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার। বাংলাদেশ ও চীন সব সময় নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার মৌলিক স্বার্থের বিষয়ে একে অপরকে বুঝেছে এবং সমর্থন করেছে। তাছাড়া আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় চীন ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে। রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যদিও বিদেশি ঋণের মাত্র ৬ শতাংশ চীনের ঋণ। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলংকার চেয়ে অনেক ভালো। বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের মাত্রাও অনেক কম। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিশ্রুতিশীল হলেও বাংলাদেশ সরকারকে আরও সতর্কতার সাথে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞ মহলের। ইউক্রেন যুদ্ধের জের ধরে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরতা কমাতে ইউরোপ যে উচ্চাভিলাষী চেষ্টা চালাচ্ছে, তা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহকে সংকুচিত করেছে। এটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে প্রকট করে তুলছে। এ কারণেই জ্বালানি শক্তির বিকল্প উৎসগুলো দিন দিন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এবং সেটি হওয়াই উচিত। কিন্তু জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে জলবিদ্যুৎকে বিশেষভাবে আলিঙ্গন করা সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থার ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।




লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট ।

ডেল্টা টাইমস্/সিআর/এমই 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]