সোমবার ৪ মার্চ ২০২৪ ২০ ফাল্গুন ১৪৩০

দুবাইয়ে শুরু হচ্ছে কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলন
অভিযোজন অর্থায়ন ইস্যুতে সোচ্চার থাকবে বাংলাদেশ
মো. শফিকুল ইসলাম
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৩, ৬:১৭ পিএম আপডেট: ২৯.১১.২০২৩ ৬:২০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

অভিযোজন অর্থায়ন ইস্যুতে সোচ্চার থাকবে বাংলাদেশ

অভিযোজন অর্থায়ন ইস্যুতে সোচ্চার থাকবে বাংলাদেশ

২৮ তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ–২৮ বা কনফারেন্স অব পার্টিজ-২৮) শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর)। সংযুক্ত আরব আমিরতের দুবাইয়ের এক্সপো সিটিতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে যা শহরের দক্ষিণে অবস্থিত। ২০২০ সালে  ওয়ার্ল্ড ফেয়ার এক্সপো-এর জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্বের ব্যবস্থা নেওয়ার ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই সম্মেলনের পর্দা উঠছে। ৩০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে এ সম্মেলন চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব পাবে ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ এবং অভিযোজনে অর্থায়নের ইস্যুটি। এই আয়োজনে যোগ দিয়ে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ও অভিযোজনে তহবিলের দাবির পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা সোচ্চার হবেন উন্নত দেশগুলোর উদাসীনতার বিরুদ্ধেও। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর ধনী দেশগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলকে ১০০ বিলিয়ন দেয়ার কথা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

গত সম্মেলনের মতো এবারও দুবাইয়ের এক্সপো সিটিতে বাংলাদেশের ১৫২ বর্গমিটার আয়তনের একটি প্যাভিলিয়ন স্থাপন এবং এখানে বিভিন্ন সাইড ইভেন্ট আয়োজন করবে বাংলাদেশ। দুবাইয়ের এক্সপো সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে যা শহরের দক্ষিণে অবস্থিত। ২০২০ সালে  ওয়ার্ল্ড ফেয়ার এক্সপো-এর জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।

সম্মেলনে যোগ দিতে সংযুক্ত আরব আমিরতের দুবাইয়ের এক্সপো সিটিতে ১৯৮টি দেশের শীর্ষ নেতারা একত্র হয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবগুলোকে মোকাবেলা করতে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেয়ার উদ্দেশ্যে কথা বলবেন।  জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই কনভেনশনের অংশ হিসেবে বরাবরই এই সম্মেলনে মিলিত হয়ে থাকে। সম্মেলনে রেকর্ড ব্রেকিং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘটনা ও বার্ষিক কার্বন নিঃসারণ কমানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে যথারীতি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে লড়াই চলছে, তার পটভুমিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবারের মতো এবারের সম্মেলনেও বেশ কিছু প্রত্যাশা থাকবে বিশ্ববাসীর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কপ-২৮ জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আমরা ভালো সংবাদ শুনব বলেই আশা রাখি। প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় বৈশ্বিক লড়াইয়ের প্রশ্নে কার্যকর ও জুতসই উদ্যোগের অবতারণা ঘটবে বলেও প্রত্যাশা থাকবে। চাওয়া থাকবে, জলবায়ু অর্থায়ন (ক্লাইমেট ফান্ডিং) বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি স্থানান্তরের (জীবাষ্ম জ্বালানি থেকে বের হয়ে নবায়নযোগ্য উেসর সন্ধান) বিষয়ও গুরুত্ব পাবে সব মহলে।

দুবাইয়ে কপ-২৮ শীর্ষ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির সিইও সুলতান আহমেদ আল জাবের। আমিরাতের লক্ষ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় ধরনের নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করা। যদিও এ নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে আবুধাবিকে। এর কারণ, জীবাশ্ম জ্বালানিকে ‘পর্যায়ক্রমে আউট’ করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়েছে দেশটি, এমন আলোচনা নতুন নয়।  

এবারের কপ-২৮ সম্মেলনে জলবায়ু তহবিল ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব দেশ বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকারে পরিণত হচ্ছে, সেই সব দেশের জন্য এটা খুশির সংবাদ স্বাভাবিকভাবেই। এই সম্মেলনে চারটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেতে পারে। এক, জ্বালানি ব্যবহার স্থানান্তর। দুই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বে ৬০টিরও বেশি দেশের সমন্বয়ে একটি জোট গঠন করে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত রুখতে কাজ করা। তিন, জলবায়ু অর্থায়ন (তহবিল) বাড়ানো। চার, জলবায়ু অভিযোজন ও স্থিতিস্থাপকতা এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বরাবরের মতো এবারের কপ-২৮ সম্মেলনেও বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড অপারেশনালাইজ’ করা এবং এর ‘ডিটেইল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ ঠিক করার বিষয়ে বাংলাদেশ জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, অভিযোজন সংক্রান্ত বৈশ্বিক লক্ষ্য ‘গ্লোবাল গোল অন অ্যাডাপটেশন’র কাঠামো তৈরি বা প্রণয়ণ, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা নিশ্চিত করা, জলবায়ু অর্থায়নের সংজ্ঞা চূড়ান্ত করা ও অভিযোজন অর্থায়ন দ্বিগুণ করার বিষয়েও বাংলাদেশ জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

শাহাব উদ্দিন বলেন, এ সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান যথাযথভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামত নিয়ে একটি অবস্থান পত্র প্রণীত হয়েছে।

জাতিসংঘের অফিসিয়াল নথিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য সারা পৃথিবী থেকে হাজার হাজার প্রতিনিধিসহ বিশ্বনেতারা যোগ দেবেন। সম্মেলনে ৭০ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি উপস্থিতি থাকবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, আমরা একটি মারাত্মক চক্রের (জলবায়ু পরিবর্তন) মধ্যে আটকা পড়েছি।

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত করতে, জলবায়ু বিশৃঙ্খলা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানি যুগের অবসান ঘটাতে নেতাদের অবশ্যই কাজ করতে হবে। তবে শীর্ষ সম্মেলনের কেন্দ্রীয় ফোকাস হবে জলবায়ু সংকটের জ্বালানি দূষণকারী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন রোধে প্রতিশ্রুতবদ্ধ হওয়া।

ধনী দেশগুলোর সাহায্যের মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোকে অগ্রগতিতে সহায়তা করাও এ সম্মেলনের উদ্দেশ্য। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ কবলে পড়েছে বাংলাদেশও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি চরম আবহাওয়ার সম্মুখীন হয়েছে। তবুও দেশটির প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অর্থায়ন করতে চায়।


ডেল্টা টাইমস্/সিআর/এমই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com