সোমবার ৪ মার্চ ২০২৪ ২০ ফাল্গুন ১৪৩০

যুবসমাজের অবস্থান, সমসাময়িক ভাবনা ও প্রত্যাশা
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৩, ১১:০৫ এএম আপডেট: ৩০.১১.২০২৩ ১১:০৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ

যুবসমাজের অবস্থান, সমসাময়িক ভাবনা ও প্রত্যাশা

যুবসমাজের অবস্থান, সমসাময়িক ভাবনা ও প্রত্যাশা

একটি উন্নয়নশীল মানসিকতাসম্পন্ন তরুণদের সাধারণত একটি বিষয়ে চিন্তা করতে বিলম্ব হয় না। তারা পরিবার বা মানুষের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করতে বদ্ধপরিকর। তারা নতুন বিষয়গুলো শিখতে এবং সমস্যার সমাধানে সৃজনশীল। এ ছাড়াও তারা সহজে কথা বলতে পারে এবং সমাজে সামাজিক মানসিকতার উন্নয়নে সক্ষম হয়। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং এটি বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার। দেশের মোট শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ তরুণ-তরুণী। তাদের মধ্যে শিক্ষিত তরুণদের ৪২ শতাংশ বিদেশে পাড়ি জমাতে চায়। অনিশ্চিত আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান না হওয়া, গুণগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের স্বল্পতা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগের অভাব এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই তাদের এ আগ্রহ। তবে বিদেশে যাওয়ার পর সংকটের সমাধান হলে ৮৫ শতাংশই আবার দেশে ফিরে আসার কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড জাস্টিস সেন্টারের ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভে ২০২৩ শীর্ষক যৌথ সমীক্ষায় বিষয়টি উঠে এসেছে।বাংলাদেশের যুবসমাজের অবস্থান, সমসাময়িক ভাবনা ও প্রত্যাশা জানতে বিওয়াইএলসি পাঁচ বছর পরপর জাতীয় নির্বাচনের আগে এ সমীক্ষা পরিচালনা করে।জীবিকা,জলবায়ু পরিবর্তন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও সুশাসন, তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিপ্রায় বিষয়ক এ জরিপের ফলাফলে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ দুটিই উঠে এসেছে। দেশের আট বিভাগের ৫ হাজার ৬০৯ তরুণ-তরুণীর মাঝে পরিচালিত জরিপটিতে দেখা যায়, ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশই দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেছেন। এর মধ্যে ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ মনে করেন, তাদের যে দক্ষতা রয়েছে দেশে সে অনুযায়ী কর্মসংস্থান নেই।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই মনে করেন ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ তরুণ এবং ৪০ দশমিক ৮ শতাংশের ধারণা, দেশে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ কম। তাছাড়াও যুবদের সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতায়নের অভাব রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক যুবদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করতে পারলে তারা দেশের উন্নয়ন তথা গণতান্ত্রিক রাজনীতির উৎকর্ষ সাধনে ভূমিকা রাখতে পারবে না, তাই যুবদের সহযোগিতা নিয়ে দেশ তথা বিশ্ব এগিয়ে যাবে,রাষ্ট্রায়ত্ব, স্বায়ত্বশাসিত, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানেই যুবদের কাজ করার সুযোগ করতে তৈরি করতে হবে, যেন তারা তাদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশের সহায়ক পরিবেশ পায়।  যুবদের সক্ষমতার প্রয়োগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ও তাদের কর্মোদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাদের প্রতিনিধিত্বকে নিশ্চিত করতে হবে। তবে আজ সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যুব সমাজের অংশগ্রহণ কখনো কখনো আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করে, কারণ আমরা সমাজের কল্যাণকর কাজের পাশাপাশি আমরা দেখতে পাই যুবসমাজ নানা ধরণের ঘৃণ্য অপকর্মের সাথে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় যুবসমাজ নেশায় আসক্ত হয়ে পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে তৈরি হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য কখনোই কাম্য নয়, কাম্য ছিলও না। কারণ আমাদের অতীত ইতিহাস কখনোই আমাদেরকে এই শিক্ষা দেয় না। এ দেশের যুবসমাজ প্রগতিশীল ভাবনা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে যে অতীত স্বর্ণালী ইতিহাস তৈরি করেছে তা আজও ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। তবে বর্তমানে কেন, যুব সমাজের মধ্যে কুলুষিত রাজনৈতিক দীক্ষা আর রাজনৈতিক ক্ষমতাকে অপব্যবহারের মাধ্যমে বিত্ত-বৈভব কুক্ষিগত করার নগ্ন মানসিকতা তাদের মগজে ঠাঁই পেয়েছে? তবে একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে আমি বলতে চাই। আমি এখনো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ দেশের যুবসমাজ এখনো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় নি।

তবে কিছু যুবক বা যুবতী রয়েছে যারা কিছুটা পথভ্রষ্ট, যে মূল্যবোধের ইতিবাচক শিক্ষায় তাদের মেধা ও মনন বিকশিত হওয়ার কথা ছিল, সেটি পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়নি, ফলে তারা আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব কে অগ্রাধিকার দিয়ে জীবনকে পরিচালিত করছে। যেটা সামগ্রিকভাবে একটি হতাশার জন্ম দিচ্ছে। তবুও আমি বিশ্বাস করি, এ প্রজন্মের মাঝেও অনেক সৃজনশীল প্রতিভাবান যুবক ও যুবতী রয়েছে। যাদের কর্মতৎপরতায় শুধু তারা নিজেরাই বিকশিত হচ্ছে না বরং তাদের ব্যক্তিক সাফল্যের দ্বারা তারা পুরো দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। দেশের অর্জন এবং সুনামকে তারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই ইতিবাচক দিকগুলো আমাদের যুব সমাজের মাঝে বেশি করে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাদেরকে ছাত্রাবস্থায় জীবন গঠনে ইতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে জানানোর সঠিক উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ একটা পর্যায় থাকে, যখন মানুষের মস্তিষ্ককে যেভাবে পরিচালিত করা হয়, মস্তিষ্ক ঠিক সেভাবেই তার প্রতিফলন ঘটায়। সুতরাং আমাদেরকে চলমান সঙ্কট দূর করার ক্ষেত্রে আশাবাদী হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং আমাদের দেশের সম্ভাবনাময় যুবসমাজকে কেউ যেন ভুল পথে ধাবিত করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কারণ আজকের এই যুবসমাজই আগামী দিনে এদেশের কর্ণধার হবেন। রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। সুতরাং এখন থেকে তাদের মাঝে যদি মূল্যবোধের ইতিবাচক চর্চা এবং জীবন সম্পর্কে সঠিক ধারণা তৈরি করা যায়, তাহলে এটি যেমন ঐ যুবকদের ব্যক্তিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তেমনি এ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের চাকাকে গতিশীল রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি। যার ফলে এ দেশের উন্নয়নে ছেলে মেয়ে, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মিলে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন রয়েছে, সেটাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করা সম্ভবপর হবে। এছাড়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী। জরিপে অংশ নেয়া ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ তরুণ বিশ্বাস করেন, বর্তমানে দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা অনুপস্থিত।

অন্যদিকে ৬৩ শতাংশ তরুণের ধারণা, গত পাঁচ বছরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দুর্নীতিকে চিহ্নিত করেছেন ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ। এছাড়া ২৯ শতাংশ তরুণ মনে করেন, দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার হ্রাস পাচ্ছে, যা সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিওয়াইএলসির জরিপে আরো দেখা যায়, জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশী তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ তরুণ ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হতে চেয়েছেন। শিক্ষার মানোন্নয়নেও তরুণরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। জরিপে অংশ নেয়া ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ তরুণ মনে করে, এক্ষেত্রে শিক্ষকদের মান বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ তরুণদের বিশ্বাস, পাঠ্যক্রমে নেতৃত্বচর্চা ও সফট স্কিল উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ যুক্ত করে শিক্ষার মান বাড়ানো সম্ভব। উন্নত দেশ গড়ার জন্য তরুণদের নিয়ে এ জরিপকে অবহেলার সুযোগ নেই। তরুণদের মেধা ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এ দুইয়ের সমন্বয়ে যাবতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পনার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নেও যথাযথ মনোযোগ প্রয়োজন। তরুণদের সুপথে পরিচালনা না করতে পারলে তাদের বিপথে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। যে কারণে তরুণদের বিকাশে দেশের সামগ্রিক উন্নতির রূপরেখা ঢেলে সাজাতে হবে। তরুণরা কেন বিদেশে যেতে চাচ্ছেন এ বিষয়ে প্রয়োজনে আরো গবেষণা হওয়া উচিত। যেহেতু তরুণদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ নিহিত রয়েছে, সে হিসেবে তরুণরা যেন দেশ গড়ায় আগ্রহী হন, সে স্বপ্নের বীজ তরুণদের মধ্যে বুনে দেয়া দরকার। আর সে স্বপ্ন যেন ডালপালা গজায়, সম্ভাবনার অসীম আকাশে বিরামহীন বিস্তৃত ডানায় ভর করে তরুণদের নেতৃত্বের জয়গান গায়, সেটিই এখন নিশ্চিত করা উচিত।

পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের এ উন্নয়নশীল দেশে রয়েছে এক বিরাট যুব সমাজ-এদের হাতকে দেশ গড়ার কাজের উপযোগী করে তুলতে পারলে, মনে দেশপ্রেম এবং কর্মের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে নিঃসন্দেহে বলা যায় আমাদের এ দেশ আর গরিব থাকবে না। আর তরুণরাইতো বিশ্বব্যাপী পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের সকলের শপথ হোক যুব সমাজকে দেশের-দশের জাতির উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা। এ দেশের যুবসমাজ প্রগতিশীল ভাবনা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে যে অতীত স্বর্ণালী ইতিহাস তৈরি করেছে তা আজও অব্যাহত থাকবে। পরিবার ও দেশের মুখ উজ্জল করবে-এটাই প্রত্যাশা। তরুণ সমাজ একটি দেশের সম্পদ। যে দেশের তরুণরা স্বপ্ন দেখতে পারে, শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার দুর্বার সাহস বোনে, সে দেশ উন্নতির সোপানে দ্রুত অগ্রসর হতে সক্ষম। কিন্তু তরুণদের স্বপ্ন ও উদ্যমকে অবহেলা করে যদি সামনে এগোনোর চিন্তা করা হয়,তাহলে সে অগ্রযাত্রা একসময় ভেস্তে যায়। তাই তরুণ জনসম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য তরুণরা যেন দেশের উন্নতিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে পারে, সে রকম পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের তরুণরা অনেক সম্ভাবনাময়। দেশের তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ ধাপে ধাপে আরো উন্নতির পথে অগ্রসর হবে। এজন্য তরুণদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন। আগামীতে জ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক সমাজ গড়তে তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে এগানোর উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে কর্মসংস্থানের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করুক, তরুণরা অর্জিত জ্ঞান সমাজে প্রয়োগের অনুপ্রেরণা পাক, সমৃদ্ধি ও উন্নতির পথে তরুণরা আরো ভূমিকা রাখুক, সেটিই আমাদের কাম্য। বস্তুত রাষ্ট্র তরুণদের সঠিক মূল্যায়ন করছে না বলে ক্ষোভ রয়েছে তরুণদের।

যার ফলে তারা উচ্চ শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের জন্য দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন আর দেশে না ফিরে সেখানেই উন্নত জীবনের জন্য থেকে যাচ্ছেন। আর এ রকম পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ তরুণদের মেধা প্রকৃত অর্থে কাজে লাগাতে সক্ষম হবে না এটিই অনুমেয়। তাই তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সহায়ক পরিবেশ এবং দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের সম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা নিতে হবে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিই এমন যে,ভুল স্বীকার দূরের কথা, রাজনীতিকরা বিশেষ করে ক্ষমতায় যারা থাকে তারা যেন সকল ভুলের ঊর্ধ্বে। তারা যা খুশি তা করতে পারে। এর ফলে যা হচ্ছে, রাজনীতি জনসেবার পরিবর্তে আত্মসেবায় পরিণত হয়েছে। নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ অতল গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের রাজনীতির প্রতি মেধাবী তরুণদের আগ্রহ থাকবে কেন? শুধু তরুণ মেধাবী শ্রেণীই নয়, অতি সাধারণ মানুষও এ ধরনের রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তারা ভাল করেই জানে, দেশের রাজনীতি স্বার্থবাদিতার মধ্য দিয়ে চলছে। এখানে ক্ষমতায় থাকার জন্য শক্তি প্রয়োগ করা হয়, জনগণের মতামতের তোয়াক্কা করা হয় না। জনসাধারণের ভাল-মন্দ বা মতামতের উপর নির্ভর করছে না। বরং তাদের ভাল-মন্দ ও মতামত জনসাধারণের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। গণতন্ত্র নয়, দলতন্ত্র, গোষ্ঠীতন্ত্র প্রাধান্য পাচ্ছে। যে রাজনীতিতে জনসাধারণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে না, সে রাজনীতি দেশকে এগিয়ে নিতে পারে না। রাজনীতিতে শেষ বলে কথা নেই এ ধরনের ধোঁকাবাজি, নীতিহীন ও স্বার্থবাদীতার কথা যারা বলে, মূলত তারাই সুস্থ্য রাজনীতি ধ্বংস করে দিচ্ছে। তরুণ মেধাবী শ্রেণী তাদের এই কূটকথা বোঝে বলেই, তারা রাজনীতি বিমুখ এবং অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে। এটা কোনভাবেই দেশের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।


লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট, যুক্তরাজ্য।

ডেল্টা টাইমস্/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com