প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫০ পিএম (ভিজিট : ৭)

ফাইল ছবি
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। তবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার রাস্তা এখনও বন্ধ হয়ে যায়নি। তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুইয়ে থাকলেই পরের রাউন্ডে যেতে পারবে লাল-সবুজের মেয়েরা। তবে এই সমীকরণ মেলাতে হলে হারাতে হবে ভিয়েতনামকে।
থাইল্যান্ডের নন্থাবুরিতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এই গ্রুপ থেকে ইতোমধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে চীন ও থাইল্যান্ড। স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ ও ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন দল চীনের ২-০ গোলে হেরে এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি বাংলাদেশ।
তারপরও বাংলাদেশের জন্য আশার আলো জ্বলছে। বর্তমানে তিনটি গ্রুপে থাকা ছয়টি দল এখনো কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি। এই দলগুলোর মধ্যে গোল ব্যবধানে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে উজবেকিস্তান (-৮) ও চাইনিজ তাইপের (-৭) এবং বাংলাদেশের গোল পার্থক্য (-৩)। সেদিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
চীনের বিপক্ষে ম্যাচের পর একদিন বিশ্রাম শেষে অনুশীলনে ফিরেছে খেলোয়াড়রা। বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার মূল পর্বে প্রথমবার অংশ বাংলাদেশ দল সোমবার (৬ এপ্রিল) আট ঘাঁট বেঁধে প্রস্তুতি সেরেছে। দলের এই প্রস্তুতি ও মানসিক অবস্থান নিয়ে আশাবাদী সহকারী কোচ আবুল হোসেন, যিনি অনুশীলনে দলকে আত্মবিশ্বাসী হিসেবেই দেখেছেন।
‘আগামীকাল মেয়েরা কীভাবে খেলবে, সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি। খেলোয়াড়দের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, আগামী ম্যাচে আমাদের সেরাটা দিতে হবে; সবাই চেষ্টা করব নিজেদের সেরাটা দেওয়ার। মেয়েদের নিয়ে আমরা কোচেরা সবসময় আত্মবিশ্বাসী এবং তারাও আত্মবিশ্বাসী। কারণ, ম্যাচ বাই ম্যাচ তারা ভালো করেছে। আমরা দুইটা ম্যাচ হেরেছি; কিন্তু তারা চেষ্টা করেছে সেরাটা দেওয়ার। আগামীকাল জিতে পরের ধাপে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা আমাদের আছে। মেয়েরা উদ্বুদ্ধ যে, তারা ম্যাচটা জিতবেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি কোনো চাপ নেই। আমরা বলেছি, তাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য। জিততেই হবে, এমন কোনো বাড়তি চাপ দিচ্ছি না। বলেছি, তোমরা যদি স্বাভাবিক খেলা খেলো, সেরাটা দিয়ে খেলতে পারো, তাহলে ম্যাচে আমরা জিতবো ইনশাল্লাহ।’
জিততে হলে গোলের বিকল্প নেই। এ পর্যন্ত পাঁচ গোল হজম করে মাত্র দুটি গোল করেছে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি গোলই করেছেন সাগরিকা। বাফুফের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় আরেক ফরোয়ার্ড সুরভি আকন্দ প্রীতি বলেছেন, প্রস্তুতিতে ফিনিশিং নিয়েও কাজ হয়েছে নিবিড়ভাবে।
‘কাল আমাদের পুরো বিশ্রাম ছিল, রিকভারি করেছি। আজ ভালো একটা ট্রেনিং সেশন করেছি। কোচ আমাদের ফিনিশিং ড্রিল করিয়েছেন। আগের ম্যাচে চীনের বিপক্ষে যে ভুল-ত্রুটি হয়েছে, আজ সেগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন।’
‘আলহামদুলিল্লাহ, দলের সবাই সুস্থ আছে। কালকে ম্যাচ আছে ভিয়েতনামের বিপক্ষে। এই ম্যাচে আমরা জেতার চেষ্টা করবো। কোচ যেভাবে বলবেন, সেভাবেই খেলবো। তো আমাদের সবার প্রত্যাশা, দেশবাসী আমাদেরকে সমর্থন করবে আমরা যেন কালকে ভালো খেলতে পারি।’
ডেল্টা টাইমস্/আইইউ