শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০ আশ্বিন ১৪২৭

চুয়াডাঙ্গায় গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে
মফিজ জোয়ার্দ্দার,চুয়াডাঙ্গা :
প্রকাশ: বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৭:০৩ পিএম আপডেট: ১২.০২.২০২০ ৭:৩৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গায় গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে

চুয়াডাঙ্গায় গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে

আবহাওয়া অনুকুল থাকায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গমে ব্লাষ্টের কারণে গত  তিন বছর  কৃষি বিভাগ  থেকে গম চাষ নিষিদ্ধ ছিল । চলতি মৌসুমে এই এলাকার  কৃষকদের গম চাষে অনুমতি দেয়  । গত মৌসুমে গম চাষে কৃষি বিভাগের নিষেধ সত্বেও কৃষকরা  ৫২১ হেক্টর জমিতে গম চাষ করেছিলেন। জেলায়  চলতি মৌসুমে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৭৪ হেক্টর জমিতে। সে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গম চাষ হয়েছে ৭৭১ হেক্টর জমিতে ।  লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে  প্রায় ২শ হেক্টর জমিতে বেশি গমের চাষ হয়েছে । তার মধ্যে  চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায়  ৩৫ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৪৯২ হেক্টর ,দামুড়হুদা উপজেলায় ১৩৭ হেক্টর ও জীবননগর উপজেলায় ১০৭ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে ।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের  নগর বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক আসাদুজ্জামান জানান, তিনি এ বছর  ২বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছেন ।  গত বছরও  তিনি একই পরিমান গমের আবাদ করেছিলেন । গত বছর তিনি বিঘা প্রতি ১৮ মন হারে গম পেয়েছিলেন  । চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুল থাকায় গমের বম্পার ফলন হবে । সেই সঙ্গে বাজারমুল্য ভাল পেলে গমে লাভবান হবেন  বলে আশা করছেন। একই ইউনিয়নের মনিরুদ্দিন মেম্বার জানান,গত বছর আমি ধানের আবাদ করেছিলাম । ধানের দাম না পওয়ায় আমি এ বছর  আমার প্রতিবেশির কাছ  থেকে বীজ নিয়ে ২বিঘা ৫ কাঠা জমিতে গমের আবাদ করেছি । আমার বীজ ,সার ,সেচ লেবার সহ ঘরে উঠা পর্যন্ত খরচ হবে ১১/১২ হাজার টাকা খরচ হবে ।  এ বছর আবহাওয়া গম চাষের উপযোগী থাকায় গাছ ভাল হয়েছে । ব্লাষ্ট এখনও পর্যন্ত লাগেনি । ব্লাষ্ট না লাগলে  প্রায়  ৩৫  থেকে ৩৬ মন গম উপন্ন হবে  বলে আশা করছি। গমের বাজার ভাল পেলে ৪৩ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকায় গম বিক্রয় করতে পারব ।
 দামুড়হুদা উপজেলার জুড়োনপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের কৃষক কামরুজ্জামান মিলন মিয়া জানান,  কয়েক বছর ধরে ধান চাষ করে ধানের দাম না পাওয়ায় চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে বারি-৩৩জাতের  আড়াই বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছি । গমের ক্ষেত ভাল হয়েছে। আশা করি ফলন ভাল ভাল হবে ।
একই  ইউনিয়নের  দলিয়ারপুর গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান জানান, ২০১৬ সালে গমের আবাদ করেছিলাম । সে বছর গমে ব্লাষ্টের কারণে কৃষি বিভাগের নির্দ্দেশে গমে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলাম । ৩ বছর পর চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ নিয়ে  গোপালপুর-লক্ষিপুর -দলিয়ারপুর ব্লকে  সরকারী ১২ বিঘার প্লটে আমি আড়াই বিঘা  জমিতে বারি -৩৩ জাতের গমের আবাদ করেছি । আমাদের এই প্লটে কোন গমের মাথা সাদা হয়নি । আমরা ২বার স্প্রে করেছি । আমাদের গমের ক্ষেত ভাল হয়েছে । আশা করি ফলন ভাল হবে ।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমীন আক্তার জানান,ব্লাষ্টের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই উপজেলায় ১০৭ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে । কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে বেশির ভাগ কৃষক  বারি-৩৩ জাতের গমের  আবাদ করেছেন। এই জাতটি মোটামোটি ব্লাষ্ট প্রতিরোধক।সাধারনত গমের যখন শীষ বের হয় তখনই গমে ব্লাষ্ট দেখা যায় সে সময় এখনও আসে নি ।

দামড়হুদা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান  বলেন, গমের বীজ বোপনের সময় ছত্রাক নাশক  করে বোপন করলে  মোটামোটি ব্লাষ্ট মুক্ত থাকে । তিনি আরো জানান,উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে অনেক কৃষক বারি -৩৩ জাতের গমের আবাদ করার কারণে ব্লাষ্টের কোনো রিপোর্ট আমাদের কানে আসেনি । তাছাড়া এই উপজেলার অনেক কৃষক ক্যাশক্রপ বা  বাণিজ্যিক শস্য হিসেবে গমের আবাদ করে থাকে ।  দর্শনা ,কার্পাসডাঙ্গা ,কোষাঘাটা সহ এই উপজেলার গমের বয়স ২৫ থেকে ৩০ দিন হলে কৃষকরা  গরুর খাদ্য হিসেবে বিক্রয় করে বিঘা প্রতি ১০- থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করে থকে । গম কেটে ওই জমিতে তারা  আবার বোরো ধানের আবাদ করে থাকে ।

আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, যারা কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে গমের আবাদ করেছেন তাদের গমে ব্লাষ্ট লাগেনি । কৃষি বিভাগের আওতার বাইরে যারা   পুরাতন দেশি বীজ  আগাম বপন করেছেন  উপজেলা ব্যাপি এমন ২ বিঘা জমিতে ব্লাষ্ট লাগার খবর পাওয়া গেছে । তিনি জানান, রাতে শীত দিনে গরম ,হঠাৎ বৃষ্টি,মেঘলা আবহাওয়া,গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির এমন আবহাওয়ায় গমে ব্লাষ্ট লাগতে পারে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত  উপ-পরিচালক সুফি রফিকুজ্জামান বলেন, চুয়াডাঙ্গা,মেহেরপুর,কুষ্টিয়াও ঝিনাইদহসহ এই এলাকায় ব্লাষ্টের কারণে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গমের আবাদ করা নিষিদ্ধ ছিল ।  চলতি বছর থেকে  বারি ৩০ থেতে ৩৩ জাতের   গমের আবাদ  করার নির্দ্দেশনা দিচ্ছি ।

তিনি বলেন , বীজ বোপনের পুর্বে  বীজ ছত্রাক নাশক  করে বোপন করতে পারলে  মোটামোটি ব্লাষ্ট মুক্ত রাখা যায় । তাছাড়া গম বোপনের পর  স্প্রে করতে পারলে ব্লাষ্ট না লাগার সম্ভাবনা থাকে ।  তার পরেও আবহাওয়া জনিত কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের  শেষে গমে ব্লাষ্ট লাগার সম্ভাবনা থাকে । আলমডাঙ্গা উপজেলায় অল্প পরিমাণ   জমিতে ব্লাষ্ট লাগার খবর পাওয়া গেছে । ওই সব জমিতে ক্ষতির পরিমাণ খুবই কম। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সেটা নিয়ন্ত্রনের মধ্যে আছে।



ডেল্টা টাইমস/মফিজ জোয়ার্দ্দার/ এস আই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]