মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ২০২০ ২৪ চৈত্র ১৪২৬

সরকারি কলেজের দুই শিক্ষককে বরখাস্তের প্রতিবাদে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ১:০১ পিএম আপডেট: ২৬.০৩.২০২০ ২:৪৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সরকারি কলেজের দুই শিক্ষককে বরখাস্তের প্রতিবাদে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়

সরকারি কলেজের দুই শিক্ষককে বরখাস্তের প্রতিবাদে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়

করোনাভাইরাস নিয়ে ডাক্তারদের সমর্থনে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ায় বুধবার (২৫ মার্চ) সরকারি কলেজের দুইজন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষক সমাজ। তারা ফেসবুকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। 

দুই শিক্ষককে বরখাস্তের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুল  হাসান মামুন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এই পোস্টের সমর্থনে অনেকেই কমেন্ট করেছেন। 


তপু ভৌমিক নামে একজন কমেন্টে লিখেছেন: উপরে নিজেদের লোক বিধায় বরখাস্তটাও এতো সহজে করতে পারে।মানে তলারও খাবে উপরেরও খাবে,,,,!!!
যেখানে টকশোতে সারাবছর ব্যাপী সরকারের সমালোচনা করছে সবাই সেখানে এদের এতটুকু সমালোচনাতেই বরখাস্ত!!!! হায়রে দেশ,,,
যেখানে সবদেশ বিকেন্দ্রীকরণ করছে আর আমরা করছি কেন্দ্রীভূত,,,,
ফলে রাষ্ট্রের ভিত এমন নড়বড়েই থাকবে,,,,

বিমল সরকার নামক একজন কমেন্টে লিখেছেন: ওই দুই শিক্ষকের লেখা থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কোনো কারণ রয়েছে বলে মনে করি না। ঘটনাটি ব্যক্তিগত বিদ্বেষপ্রসূত হতে পারে। ঈশ্বর, কেবল করোনা থেকে নয়, ওইসব ‘জঞ্জাল’ থেকেও আমাদের রক্ষা কর।

দিনা ফারজানা নামক একজন কমেন্টে লিখেছেন: স্যার আপনার এই পোস্ট টা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে,কারণ আমি একজন শিক্ষক! কিন্তু প্রত্যেকটা মনের কথা এখানে আপনি লিখে ফেলেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুল হাসান মামুন ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন  ডেল্টা টাইমসের পাঠকদের জন্য সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো

সরকারি কলেজের দুই শিক্ষককে বরখাস্তের প্রতিবাদে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়

সরকারি কলেজের দুই শিক্ষককে বরখাস্তের প্রতিবাদে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়




করোনাভাইরাস: ফেইসবুকে লিখে দুই শিক্ষক বরখাস্ত:


ময়মনসিংহের গফরগাঁও সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাকিয়া ফেরদৌসী এবং বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক সাহাদাত উল্লাহ কায়সারকে সাময়িক বরখাস্ত করে বুধবার আদেশ জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ

ময়মনসিংহের গফরগাঁও সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাকিয়া ফেরদৌসী ফেইসবুকে লিখেছিলেন, “খা সব খেয়ে ফল (ফেল)। শিক্ষা খেয়েছিস, ছাব্বিশটা ক্যাডার খেয়েছিস, সরকারকে খেয়েছিস, সরকারের সুনাম, অর্জন, স্বপ্ন সব খেয়েছিস। এবার পিপিই খা। সব তোরাই খা। আমাদের লাগবে না। মুখে মাস্ক দিয়ে বসে থাক সব নির্লজ্জ, রাক্ষসের দল। বিপদে পড়লে কোন অরক্ষিত ডাক্তারের কাছে যাবি না, যদি সামান্য লজ্জা থাকে। আর দেশের সবাই মরে গেলে নিজেরা ঝাড়ুদার ক্যাডারে এবজর্বড হয়ে যাস, আর সেল্ফি দিস।”

আর বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক সাহাদাত উল্লাহ কায়সার লিখেছেন "করোনার ভয়ে চাকুরি ছাড়ার সংবাদটা বুলগেরিয়ার। বাংলাদেশের ডাক্তার ভাইয়েরা আপনার নিজের জীবন আগে, তারপর আপনার পরিবার, ছেলে মেয়ে, স্ত্রী তারপর অন্যসব। যে দেশ আপনার পেশার মূল্যায়ন করে না সে দেশের জন্য কাজ করে কী হবে। সেখানে তিন দিনের ইউএনও ৫৫ বছরের একজন প্রফেসর ডাক্তারের নিয়ন্ত্রক থাকে, যে কিনা ডাক্তারির ‘ড’ ও জানে না।”

সরকারি কলেজের শিক্ষকদের উপরের লেখা দুটিতে কোথায় সমস্যা? তারা কি মিথ্যা কথা লিখেছে? তারা কি সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে? বরং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে ওই কর্মকর্তারা যারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। আমাদের অ্যাডমিন ক্যাডারের সমস্যা এটাই। এরা যা ইচ্ছে তা করবে। ধরাকে সরা জ্ঞান করবে কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারবে না। মনে রাখতে হবে যেকোন লেভেলের শিক্ষকরা হলো সত্যজিৎ রায়ের উদয়ন পন্ডিতের মত। এরাই সমাজ ও রাষ্ট্রের ভুলত্রূটি নিয়ে লিখবে বলবে এবং প্রতিবাদ করবে। ডাক্তাররা চচঊ পাবেন কিন্তু সরকারি কর্মকর্তারা এই চচঊ পরবে এবং পরে ছবিও দিবে। সরকারের ভাবমূর্তির ক্ষতি করেছেতো তারা। তাদের বিরুদ্ধে বরং ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কিছুদিন আগে সরকারি এক বড় কর্তার সাথে আলাপ হচ্ছিল। আলাপে আলাপে সে যে কত ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ তার ফিরিস্তি দিচ্ছিল। বলছিল তার অধীনে এতজন ডাক্তার, এতজন ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি কাজ করে। আমি ঢাকায় চলে ওদের বেতন ফেতন নিয়ে সমস্যা হবে। এই হলো অবস্থা। এরা সরকারি কলেজের শিক্ষক ডাক্তার পুলিশ ইঞ্জিনিয়ারদের তাদের অধীনস্ত ভাবে। এইসব আলতু ফালতু ভাবতে ভাবতেই দিন কাটিয়ে দেয়। সারাদিন ব্যস্ত থাকে কে কি বলল আর কার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। ফলে দেশের উন্নয়নের প্রতি নজর দিতে সময় পায় না।

দেখুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থা? করোনা ভাইরাস আক্রমণ আসার আগে আমরা প্রায় ৩ মাস সময় পেলাম। তারা কি করেছে এই কয়দিনে? ডাক্তারদের জন্য পর্যাপ্ত সার্জিকাল মাস্ক পর্যন্ত আনতে পারেনি। পারেনি ডাক্তারদের জন্য প্রটেকশন গিয়ার আনতে। এমনকি বিদেশ ফেরতদের জন্য কোয়ারান্টিনের সুব্যবস্থা পর্যন্ত করতে পারেনি। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার যেই কমিটি করেছে সেখানে সত্যিকারের গবেষকদের সদস্য না করে করেছে আমলাদের। ওই শিক্ষকদের একজন যে বলেছে এরা সব খেয়েছে একদম সঠিক। এদের ব্যর্থতার জন্যই করোনা মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতা, এদের ব্যর্থতার জন্যই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে এত ব্যর্থতা। এদের সফলতা কোথায়?



ডেল্টা টাইমস্/সিআর/জেড এইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]