বৃহস্পতিবার ৪ জুন ২০২০ ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

আমারে বিয়া করবো কইয়া, খালি টেহা নিছে
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৩৮ পিএম আপডেট: ০৫.০৪.২০২০ ১:১২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আমারে বিয়া করবো কইয়া, খালি টেহা নিছে

আমারে বিয়া করবো কইয়া, খালি টেহা নিছে

আমারে বিয়া করবো কইয়া, খালি টেহা নিছে, বললেন অসহায় নাজমা। নাজমার বাড়ি গাজীপুর কালিয়াকৈর থানার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের জাথালিয়া গ্রামের নছের আলীর মেয়ে। নাজমার বাবা কোন কাজ করতে পারেনা ।নাজমার মা রূপজান মাটি কেটে সংসার চালায় ।নাজমার বিয়ে হয়েছে ময়মনসিংহ। তার এক ছেলে এক মেয়ে আছে কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস, নাজমার স্বামী আরেকটা বিয়ে করেন। ফলে নাজমা তার বাবার বাড়িতে থাকেন, এখনো ডিভোর্স হয়নি। নাজমাও তার মায়ের সাথে মাটি কাটতেন। মা মেয়ে মাটি কেটেও সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাই কারণ সব সময় তো আর মাটিকাটার কাজ থাকে না।

 তাই গত আনুমানিক ৪-৫  মাস পূর্বে সেজু মিয়া (ইটের ভাটার সরদার) পিতা: বাছের মিয়া( বয়রা )গ্রাম: জাথালিয়া, থানা: কালিয়াকৈর, জেলাঃ গাজীপুর নাজমাকে ইটের ভাটায় রান্নার কাজ করার জন্য প্রস্তাব দেই ।ইটের ভাটা টাংগাইল মির্জাপুর থানার লতিফপুর চাঁনপুর এলাকায় অবস্থিত ।পরে নাজমা ইটের ভাটায় কাজ করার জন্য রাজি হয়ে যায় এবং কাজ করার জন্য ইটের ভাটায় চলে যান। সেজু মিয়া নাজমাকে বলেন সপ্তাহে ১৮০০- ২০০০ টাকা করে দেব, জানালেন নাজমা। নাজমা ইটের ভাটায় যাওয়ার পর পর পরিচয় হয় লিটন নামের এক ব্যক্তির সাথে। লিটনও ইটের ভাটায় শ্রমিকের কাজ করে। লিটনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল বংখুরী গ্রামের মোহাম্মদ সাইফুল মিয়ার ছেলে। জানা যায়, লিটনের এক ছেলে এক মেয়ে আছে। 

ইটের ভাটায় লিটনের সাথে নাজমার পরিচয় হলেই গড়ে ওঠে প্রেম এবং বিয়ে করতে চাই নাজমাকে ।নাজমা বিয়েতে রাজি না হলে কাজ করতে দেবে না বলে হুমকিও দেন লিটন। পরে রাজি হয়ে যান নাজমা। কাজের এক সপ্তাহ হয়ে গেলে নাজমাকে কাজের বিল দেয় না সেজু ,নাজমা সেজুর কাছে বিল চাইলে পরে দেবো বলেন। পরবর্তীতে নাজমা জানতে পারে যে, বিল লিটনের কাছে, লিটন বিল তুলছে। নাজমা লিটনের কাছে বিল চাইলে লিটন বলেন, সোনা আমি তো তোমাকে বিয়ে করবো, তুমি এমন করো কেন, আমার টাকার খুব প্রয়োজন ছিল বলে আমি নিয়েছি। এরকম করে লিটন ৫ মাসের টাকা নিয়ে নিছে, কেঁদে কেঁদে বললেন ভুক্তভোগী নাজমা ।নাজমা বাসায় থাকতে চাইলে রাজি হয় না লিটন, বলেন আমরা এখানেই একসাথে থাকব। পরে নাজমা ও লিটন ইটের ভাটায় একত্রেই থাকতেন, বললেন নাজমা ।নাজমা বলেন, আমি থাকতে চাই নাই কিন্তু আমারে ভয়-ভীতি দেখাইছে, কাজের টাকা দিব না বলছে, আবার বিয়ের কথা তো প্রতিদিনই বলতো কিন্তু লিটন বিয়ে করেছে এ কথা কখনো নাজমা কে বলে নাই,জানালেন নাজমা ।

নাজমা বলেন, কাজের কিছুদিন যাওয়ার পর লিটন আমারে আগামীকাল বিয়ে করব এমন কথা কইয়া ৩০ হাজার টাকা নিছে।পরেরদিন আমারে নিয়া লিটন টাঙ্গাইল যাইবো উকিলের কাছে বিয়ে করতে কিন্তু পরেরদিন লিটন নানা তালবাহানা দেয়, বললেন নাজমা ।নাজমাকে ভুল বুঝিয়ে আবার কাছে যাই লিটন, কেঁদে কেঁদে বললেন ভুক্তভোগী নাজমা।

 ভুক্তভোগী নাজমা আরো বলেন, আবার কিছুদিন পরে বিয়ে করবে কাজী অফিসে, এ কথা বলে ১৫ হাজার টাকা চাই লিটন, কি আর করুম আমি, লিটনরে বিয়ে করুম মাথায় চিন্তা একটাই, তাই আমি সুদ বাবদ ১৫ হাজার টাকা এনে লিটনকে দেই। আবারো তালবাহানা করে লিটন।

 পরে আবার একদিন লিটন নাজমাকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং নাজমার কাছ থেকে স্বর্ণের কানের দুল, গলার মালা, নাকফুল মোট ২ ভরি স্বর্ণ নেন লিটন, বিয়ে করবে বলে, সেদিনও করেনি বিয়ে, নাজমাকে কালিয়াকৈর রেখে ভুল বুঝিয়ে চলে যায় লিটন। নিঃস্ব হয়ে পড়ে নাজমা ।

নাজমা আরো জানান, লিটন ইয়াবা, গাঁজা, মদ খাওয়ার জন্য ভয়-ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে মাঝে মাঝে টাকা নিত বলতো, তোমারে আমি টাকা দিয়ে দিমুনি বেতন পাইলে আর তোমারে তো আমি বিয়া করুম, তোমার টাকা তো আমারি টাকা। আজ পর্যন্ত লিটন আমারে কোন টাকা পয়সা দেয় নাই, বিয়ে করে নাই। লিটনরে এখন ফোন দিলে ধরে না। নাজমা কেঁদে কেঁদে সাংবাদিকদের জানান, আমার কাছ থেকে লিটন দুই আড়াই লক্ষ টাকার মতো নিয়েছে বিয়ের প্রলোভন সহ বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখিয়ে। আমি এখন কি করুম খুইজা পাই না, মাঝে মাঝে মইরা যাইবার মন চাই, এই মুখ আমি কারে দেহামু। তিনি আরো বলেন, আমি এখন লিটনরে চাই, তারে না পেলে আমি মইরা যামু গা।

 এই বিষয়ে নাজমার মা রূপজান বেগম বলেন, আমি আমার টেহা ফেরত চাই আর আমি নাজমার জীবন নষ্ট করার বিচার চাই। এ বিষয়ে ইটভাটার সর্দার সেজুর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। এই বিষয়ে প্রতারক লিটনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে দেখা করার কথা বললে লিটন নানান ব্যস্ততা দেখান,পরবর্তীতে ফোন দিলে ধরেন না।

 গোপন সূত্রে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন , লিটন নেশায় আসক্ত এবং ও খুব বেয়াদব কাউকে মানতে চায় না। কোথাও অভিযোগ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমা বলেন, অভিযোগ কেমনে করুম, কোনে করুম, যামু কেমনে, খামু ওই টেহাই ত নাই। আর আমরা গরীব মানুষ, আমরা অভিযোগ করলে হুনব কেরা, আর আমরা তো হাছা বিচার পামু না।সর্বশেষ নাজমা ও তার পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন।



ডেল্টা টাইমস্/মাসুদ পারভেজ/সিআর/জেড এইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]