শনিবার ৪ জুলাই ২০২০ ২০ আষাঢ় ১৪২৭

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দঃ প্রণোদনা চায় না, চায় বকেয়া পাওনা
মোঃ আবদুস সালাম
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে, ২০২০, ৯:৫৮ এএম আপডেট: ২৭.০৫.২০২০ ১০:৪৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দঃ প্রণোদনা চায় না, চায় বকেয়া পাওনা

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দঃ প্রণোদনা চায় না, চায় বকেয়া পাওনা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপেষু

সারা বিশ্বে চলছে করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব। আঘাত হানছে মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর। উলটপালট করে দিচ্ছে আমাদের এই চিরচেনা পৃথিবী। আর এই উলটপালটের খেলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্চে মানুষ। এতোমধ্যে আক্রান্ত করেছে অর্ধ কোটি মানুষকে। কেড়ে নিয়েছে তিন লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ। এক অজানা গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে মানুষ যার পিছনে ঘুরছে হন্যে হয়ে সেই অর্থনীতিকে। বাংলাদেশে করোনা আক্রমণের শুরুতেই অর্থনীতি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে সরকার। ঘোষণা করছে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ। দেশের গার্মেন্টস খাতে দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ। বিভিন্ন খাতে এই পর্যন্ত লক্ষাধিক কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। জাতির এই ক্রান্তিলঘ্নে সীমিত সামর্থ নিয়ে সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছ বাংলাদেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ।  মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই খাতে কর্মরত ১০ (দশ) সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর  ত্রাণ তহবিলে জমা দিয়েছে তাঁদের একদিনের বেতনের টাকা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট কোন প্রকারের প্রণোদনা চান না তাঁরা। বরং তাঁরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট তাঁদের বকেয়া পাওনা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড স্কেল চায়। যা তাঁরা ২০১৩ ও ২০১৪ সালে পাওনা হয়েছেন।   

আজ প্রায় ৬/৭ বছর যাবত ঝুলে আছে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণের বকেয়া পাওনা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড সমস্যা। যেখানে চাকরি ( বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর অনুচ্ছেদ ৪ এ স্পষ্টই বলা হয়েছে, “ তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক সময় সময় জারীকৃত আদেশ অনুযায়ী যিনি এই আদেশ সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখের পূর্বদিন পর্যন্ত ( অর্থাৎ ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫ পর্যন্ত ) উচ্চতর স্কেল ( টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড স্কেল) পাইবার অধিকারী, তিনি চাকরি ( বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০০৯ এর আদেশের অনুচ্ছেদ ৬ ও ৭ এর বিধান ও শর্ত সাপেক্ষে, উহা প্রাপ্য হইবেন।”   

১৯৭৫ সালে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ০২/০৫/৭৫ তারিখের আদেশের মাধ্যমে দ্বিতীয় শ্রেণির বেতন স্কেলভুক্ত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের  দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদ মর্যাদা প্রদান করেছিলেন যা ১.৭.১৯৭৩ থেকে কার্যকর বলে সরকারি আদেশে উল্লেখ আছে। কিন্তু জাতির জনকের শাহাদৎ বরণের পর দ্বিতীয় শ্রেণির বেতনস্কেলভুক্ত হওয়া স্বত্বেও গেজেটেড মর্যাদা প্রদানের সেই আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি। সেই ঘটনার প্রায় ৩৮ বছর পর মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বদান্যতা ও অনুগ্রহে ২০১২ সালরে ১৫ মে বেতনস্কেল অপরিবর্তিত রেখে সরকারি মাধ্যমকি বিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার ৫০০ সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাকে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদ মর্যাদা প্রদানের সেই আদেশ বাস্তবায়িত হয়। উল্লেখ্য ২০১২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদা প্রদানের পূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের বেতনস্কেল যাচাইয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরণ করে। ২৯/০৬/২০১০ তারিখে উক্ত পত্রের জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায় যে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের পদ পূর্ব থেকেই দ্বিতীয় শ্রেণির বেতনস্কেলভূক্ত।       

যোগদান থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির বেতন স্কেলভুক্ত ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০১, ২০০২, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে নিয়োগ পাওয়া ২৮৪০ জন  সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা যোগদান থেকে চাকরিকাল গণনা করে ৪, ৮ ও ১২ বছর পূর্তিতে  দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় সিলেকশন গ্রেড স্কেল ও টাইম স্কেলের জন্য ২০১৩ ও ২০১৪ সালে আবেদন করেন। ২০০৯, ২০১০, ২০১১ সালে যোগদানকারী আরো প্রায় ৩০০০ সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা সিলেকশন গ্রেড স্কেল প্রাপ্য হয়েছেন। আবেদনকারী সহকারী শিক্ষক/ শিক্ষিকাদের সিলেকশন গ্রেড স্কেল ও টাইম স্কেলের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই পর্যন্ত  মোট ৩ (তিন) বার ডিপিসি মিটিং হয়। প্রথম ডিপিসি সভায় উপস্থিত প্রায় সকল সদস্য শিক্ষকগণের সিলেকশন গ্রেড স্কেল ও টাইম স্কেল প্রদানের পক্ষে মত দিলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি শিক্ষকগণের চাকরি যোগদান থেকে গণনা না করে ১৫-০৫- ২০১২ সাল থেকে গণনা করার কথা বলেন। তার মতে শিক্ষকগণ ১৫-০৫- ২০১২ সালে গেজেটেড কর্মকর্তা হয়েছেন তাই তাঁদের চাকরি যোগদান থেকে নয় ১৫-০৫- ২০১২  সাল থেকে নতুন করে গণনা করতে হবে। সভায় মতভেদ দেখা দেওয়ায় সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রথম ডিপিসি সভার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রনালয়ের কাছে আবেদনকারী সহকারী শিক্ষক/ শিক্ষিকাদের টাইমস্কেল ও সিলেকশনগ্রেড স্কেল প্রদানের বিষয়ে মতামত চায়। অর্থ মন্ত্রণালয়  ১৯/০৬/২০১৭ তারিখে প্রদত্ত পত্রে মতামত প্রদান করে। মতামতে অর্থ মন্ত্রণালয় জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ এর ৭(২) ও ৭(৯) ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ করে। উল্লেখ্য যে, চাকরি ( বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০০৯ এর আদেশের অনুচ্ছেদ  ৭ এ টাইমস্কেল ও সিলেকশনগ্রেড স্কেল সম্পর্কিত ১০ টি উপঅনুচ্ছেদ আছে। যার মধ্য হতে  সুস্পষ্ট করে ২ টি অনুচ্ছেদ যথা ৭(২) ও ৭(৯) মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে মতামত প্রদান করা হয়।  

চাকরি ( বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০০৯ এর অনুচ্ছেদ  ৭(২) এ বলা হয়েছে যে, “দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাগণ তাঁহাদের একই অথবা সমপর্যায়ের সমস্কেলে পরস্পর বদলীযোগ্য পদে  ৮ ও ১২ বৎসর চাকরি পূর্তির পর এবং তাঁহাদের চাকরির সন্তোষজনক রেকর্ডের ভিত্তিতে এতদসংক্রান্ত প্রচলিত শর্তাদি পূরণ সাপেক্ষে ১ম ও ২য় পরবর্তী উচ্চতর বেতনস্কেল, উচ্চতর স্কেলে (টাইমস্কেল) হিসাবে প্রাপ্য হইবেন।  এই সুবিধা ১ জুলাই, ২০০৯ তারিখ থেকে প্রাপ্য হইবে; 

তবে,  ১ জুলাই, ২০০৯ তারিখের পূর্বের চাকরির মেয়াদ শুধু মাত্র বেতন নির্ধারণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে এবং এই বাবদ কোন বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হইবেন না।”   চাকরি ( বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০০৯ এর অনুচ্ছেদ  ৭(৯) এ বলা হয়েছে যে, 
“সকল ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা ৪ বৎসর চাকরি পূর্তি, সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এতদসংক্রান্ত প্রচলিত শর্তাদি পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী উচ্চতর স্কেলে ৫০% সিলেকশন গ্রেড প্রদানের পরিবর্তে জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯, অনুযায়ী ১ জুলাই, ২০০৯ থেকে ১০০% সিলেকশন গ্রেড প্রদেয় হইবে।”  

এই অনুচ্ছেদ দুটিতে যে সব বিষয় বিবেচ্য, সেগুলো হল; 

১. “দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাগণঃ 
 ২য় শ্রেণি বলতে গেজেটেড, নন-গেজেটেড সকল ২য় শ্রেণির কর্মকর্তাদের বুঝানো হয়েছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা এর পদটি দেশ স্বাধীনের পুর্ব থেকেই ২য় শ্রেণি। যেমন ২০১২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদা প্রদানের পূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের বেতনস্কেল যাচাইয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরণ করে। ২৯/০৬/২০১০ তারিখে উক্ত পত্রের জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায় যে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের পদ পূর্ব থেকেই দ্বিতীয় শ্রেণির বেতনস্কেলভূক্ত।  ১৫-০৫- ২০১২ তারিখ গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে মাত্র। সুতরাং কিছুতে চাকরি ১৫-০৫- ২০১২ তারিখ থেকে নতুন করে গণনার সুযোগ নাই।  

২. তাঁহাদের একই অথবা সমপর্যায়ের সমস্কেলেঃ 

চাকরি ( বেতন ও ভাতাদি) আদেশ  মোতাবেক টাইম স্কেল পাওয়ার প্রাধন শর্ত হলো একই স্কেলে অথবা সমপর্যায়ের স্কেলে চাকরি ৮ ও ১২ বছর পূর্ণ করতে হবে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ ২০১২ সালের পূর্বে ও পরে একই স্কেলে চাকরি করছে্ন।  
৩. তাঁহাদের একই অথবা পরস্পর বদলীযোগ্য পদেঃ  

চাকরি ( বেতন ও ভাতাদি) আদেশ  মোতাবেক টাইম স্কেল পাওয়ার অন্যতম আরেকটি শর্ত হলো তাঁহাদের একই অথবা পরস্পর বদলীযোগ্য পদে চাকরি করতে হবে।  সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ ২০১২ সালের পূর্বে ও পরে একই পদে চাকরি করছেন।  
৪. তাঁহাদের চাকরির সন্তোষজনক রেকর্ডের ভিত্তিতেঃ 

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণের চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক হিসাবে আবেদনের সাথে কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন রয়েছে। 

৫. সকল ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা ৪ বৎসর চাকরি পূর্তিঃ 

এখানে চাকরি ৪ বৎসর পূর্তির কথা বলা হয়েছে। গেজেটেড কর্মকর্তা হিসাবে ৪ বৎসর পূর্তির কথা বলা হয় নি। তাই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণের চাকরির ৪ বৎসর পূর্তিতে সিলেকশন গ্রেড স্কেল প্রাপ্য হয়েছেন।  
চাকরি ( বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০০৯ এর অনুচ্ছেদ  ৭ এ সরকারি চাকরিজীবীদের উচ্চতর স্কেল, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড স্ক্বেল সম্পর্কিত ১০টি উপ অনুচ্ছেদ আছে। তারমধ্যে অনুচ্ছেদ ৭(১) হলো ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারদের টাইম স্কেলের জন্য। অনুচ্ছেদ ৭(২) ও ৭(৯) হলো ২য় শ্রেণির কর্মকর্তাদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড স্কেলের জন্য। অনুচ্ছেদ ৭(৩), ৭(৪), ৭(৫), ৭(৬), ৭(৭) ও ৭(৮) ১ম শ্রেণির ক্যাডার, নন-ক্যাডার, গ্যাজেটেড-ননগেজেটেড ও বিভিন্ন গ্রেডের বিসিএস কর্মকর্তাদের উচ্চতর স্কেল, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড স্কেলের জন্য।   

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাহিত মতামতের উত্তরে অর্থ মন্ত্রণালয় ১০ টি অনুচ্ছেদের মধ্যে শুধু মাত্র ২য় শ্রেণির জন্য উল্লেখিত ২ টি অনুচ্ছেদ যথা ৭(২) ও ৭(৯) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মতামত দিয়েছে। সেই বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামতে এই ভাবে তুলে ধরা হয়;  
(বিষয়ঃ বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের টাইমস্কেল/ সিলেকশন গ্রেড জটিলতা নিরসন। সূত্রঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৫.০০১.১৬.-১৩১, তারিখঃ ০১.০২.২০১৭)  
“উপর্যুক্ত বিষয় ও সুত্রের বরাতে নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫ কার্যকর হওয়ার পূর্বে  টাইমস্কেল/ সিলেকশন গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০০৯ এর অনুচ্ছেদ ৭(২) ও ৭(৯) এ   বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে বিধায় সে মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে”। 

বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ টাইমস্কেল/ সিলেকশন গ্রেড কীভাবে পাবে, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড স্কেল প্রাপ্তগণের বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে ও কীভাবে বকেয়া পাবে ইত্যাদি বিষয় বিস্তারিত ভাবে অনুচ্ছেদ ৭(২) ও ৭(৯) এ  বর্ণিত আছে বিধায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামতে বিস্তারিত না উল্লেখ করে অনুচ্ছেদ ৭(২) ও ৭(৯) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।     

সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুসারেই নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। যেমন এক সময় সরকারি চাকরিজীবীগণ অবসরে গেলে সম্পূর্ণ পেনশন উত্তোলনের আদেশ দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। সেই অনুসারে সরকারি চাকরিজীবীগণ অবসরে গেলে সম্পূর্ণ পেনশন উত্তোলন করতে পারতেন। ২০১৬ সাল থেকে নতুন আদেশ দ্বারা তা বাতিল করা হয়। এখন সরকারি চাকরিজীবীগণ অবসরে গেলে অর্ধেক পেনশন উত্তোলন করতে পারে। আবার কখনও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ পেনশন উত্তোলন করার সুযোগ দিয়ে আদেশ জারি করলে তখন তাই কার্যকর হবে। 

যেহেতু অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের টাইমস্কেল/ সিলেকশন গ্রেড জটিলতা জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ এর অনুচ্ছেদ ৭(২) ও ৭(৯) অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে মতামত দিয়েছে তাই সেই অনুসারে শিক্ষকগণের সমস্যা সমাধান করে তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড স্কেল প্রদান করা জরুরি। এখানে উল্লেখ্য যে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের  ১.১২.১৯৮৪ তারিখের অম/অবি(বা)-৩-আর-জি-১-৮৪(অংশ-২)-১৫৫  সংখ্যক স্মারকে বলা হয়েছে যে, যে সকল অফিসে নিম্নপদ ও উচ্চপদের বেতন স্কেল এক সে সব ক্ষেত্রে উভয় পদের চাকরির সমষ্টির ভিত্তিতে উচ্চতর (টাইম) স্কেল প্রদান করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ২২.৩.১৯৯৫ অম/অবি(বাস্তঃ-৪)-চট্টঃ বন্দর-৪০/৯১-১-(৫০০) সংখ্যক স্মারকেও একই কথা বলা আছে।  

 কিন্তু ১৯/০৬/২০১৭ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার পর ০৬/০৭/২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত ডিপিসি মিটিংয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত ও সকল বিধিবিধানকে অগ্রাহ্য করে আবারও শিক্ষকগণের চাকরি যোগদান থেকে গণনা না করে ১৫-০৫-২০১২ তারিখ থেকে গণনা করার মত দিয়ে অন্য সদস্যদের বিপক্ষে মত দেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মতামতের কারণে শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ ৬/৭ বছর যাবত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড স্কেল জটিলতায় ভোগছে।   

এমতাবস্তায় ভূক্তভোগী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ বকেয়া  সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল প্রাপ্তির জন্য ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় ও জটিলতা নিরসনে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্টে তিনটি রীট পিটিশন দাখিল করেন (নং৩৫৪৫/২০১৮, ৩৮৪৮/২০১৮ ও ৩৯২৫/২০১৮)। গত ০২/০৫/২০১৯ তারিখ উক্ত রীট পিটিশনগুলোর রায় প্রদান করা হয়। হাই কোর্টের রায়েও জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ এর ৭(২) ও ৭(৯) ধারা মোতাবেক পিটিশনারদের সিলেকশগ্রেড ও টাইমস্কেল প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন। ২৪/০৮/২০১৯ তারিখে উক্ত রীট পিটিশিনগুলোর হাই কোর্টের রায়ের সার্টিফাইড কপি মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা  দেওয়া হয়েছে। রায়ের কপি হাতে পৌছানোর ৩ (তিন) মাসের মধ্যে রায় বাস্তবায়নে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও অদ্যাবদি এই রায় বাস্তবায়নের কোন ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি। উল্লেখ্য হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করার নির্ধারিত সময় সীমা বহু আগেই অতিবাহিত হয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল এর কার্যালয়ের সিএজি/পদ্ধতি-১/বেতন নির্ধারণ/মতামত/৫৪৫/ ১০৪ সংখ্যক স্মারকের ১৩.০৯.২০১৭ তারিখের পত্র মোতাবেক শর্ত সাপেক্ষে সরকারি মাধ্যমকি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণের সিলেকশন গ্রেড স্কেল ও টাইম স্কেল মঞ্জুর করা যায়। 

এখানে উল্লেখ্য যে, ১৫-০৫-২০১২ তারিখে  সরকারি মাধ্যমকি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাকে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদ মর্যাদা প্রদানের আদেশ জারি করলেও সম/সওব্য/টিম-৩(২)২০০৩-৪৫ নং স্মারকে ১৩-০৭-২০০৪ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অম/অবি/ব্যঃনিঃ-৩/শিক্ষা-২/২০০৫/৩৮২ স্মারকে ২০-০৭-২০০৫ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি প্রদান করে। তার পূর্বে স্মারক নং এঃ মঃ (বাঃ সেঃ)খ-২/৭০/৭৪৭ এর আদেশের মাধ্যমে ২/৫/৭৫ তারিখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি মাধ্যমকি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাকে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদ মর্যাদা প্রদান করেন । প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রথম আদেশ জারির তারিখ থেকে কার্যকারিতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যেমন ০৩-০৩-২০২০ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জনাব গোপাল চন্দ্র দাস সাক্ষরিত ৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৫.০০২.১২-৩৮২ স্মারকে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলাধীন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি ০৯.০৯.২০১২ তারিখ থেকে কার্যকারিতা দিয়ে নিয়মিতকরণ করা হয়।  তাই ১৫-০৫.২০১২ তারিখের আদেশ ০১-০৭-১৯৭৩ বা  ১৩-০৭-২০০৪ তারিখ থেকে কার্যকারিতা দিয়ে একই স্মারক ও তারিখ ঠিক রেখে আদেশ জারি করলে শিক্ষক/শিক্ষিকাগণের সিলেকশন গ্রেড স্কেল ও টাইম স্কেল পাওয়ার পথে আর কোন জটিলতা থাকেনা।     

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,   
আপনি শুধু একজন দক্ষ সরকার প্রধানই নন। একজন মানবিক সরকার প্রধানও। আপনার মানবিকতার দৃষ্টান্ত বিশ্বে আজ উজ্জ্বল হয়ে আছে। ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলো যখন আলজেরীয় শরণার্থী সমস্যায় নিজেদের দেশগুলোর সীমানা সীল করে দিয়েছিল তখন নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে মানবিকতার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশ্বের সরকার প্রধানগণ যখন করোনা রোগী চিকিৎসায় হিমশিম খাচ্ছে তখন সফলভাবে মহামারি মোকাবেলা করে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের মোবাইলে মোবাইলে সফলভাবে আর্থিক সাহায্য পৌছে দেওয়া কেবল আপনার মত দেশপ্রেমিক সাহসি মানবিক সরকার প্রধানের পক্ষেই সম্ভব। বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় অনেক দেশের সরকার প্রধান চাকরিজীবীদের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত বা বেতন সংকোচন করার নীতি গ্রহণ করছে, সেই সময়ে দেশের বিরাট সংখ্যক নন-এমপিও শিক্ষকদের দশ মাসের বেতন ও তিনটি বোনাসসহ এমপিও প্রদান করার মত সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ আপনার মহান হৃদয়ের পরিচয় বহন করে। দেশের অন্যান্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের চেয়ে অনেক উচ্চ বেতন ভোগ করা বেসিক ব্যাংকের ২১০০ কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতন না কমানো আপনার মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সরকারি মাধ্যমকি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণও আপনার মহান হৃদয়ের দয়া, অনুগ্রহ ও মানবিক বিবেচনা হতে বঞ্চিত হবে না বলে আমাদের বিশ্বাস।  
          
অতএব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,  সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের বকেয়া (২০১৫ সালের পে স্কেল ঘোষণার পূর্বের) টাইমস্কেল ও সিলেকশনগ্রেড মঞ্জুরী আদেশ দানে আপনার পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করলে এইটা হবে ভুক্তভোগী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণের  জন্য মুজিব বর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার।    

মোঃ আবদুস সালাম
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) 
আহবায়ক
বকেয়া সিলেকশন গ্রেড স্কেল ও টাইম স্কেল বাস্তবায়ন উপকমিটি 
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস)


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]