শনিবার ৪ জুলাই ২০২০ ২০ আষাঢ় ১৪২৭

শিক্ষক নিবন্ধন: রায়ের কপির জন্য আটকে আছে ৬০ হাজার পরিবারের স্বপ্ন!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০, ৩:৪২ পিএম আপডেট: ০৯.০৬.২০২০ ৯:১১ এএম | অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষক নিবন্ধন: রায়ের কপির জন্য আটকে আছে ৬০ হাজার পরিবারের স্বপ্ন!

শিক্ষক নিবন্ধন: রায়ের কপির জন্য আটকে আছে ৬০ হাজার পরিবারের স্বপ্ন!

সারাদেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে শিক্ষক সংকট চরমে। দেশে এখন এমন কোন প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে কমপক্ষে ৩/৪ জন শিক্ষকের পদ খালি নেই। এ অবস্থায় লেখাপড়ার মান ধরে রাখা তো দুরের কথা স্বাভাবিক গতি নিয়ে চলাটা ও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিগত কয়েক বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়লেও সে হারে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়নি। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে যে প্রতিষ্ঠানে মাত্র দু তিন’শ শিক্ষার্থী ছিল সে জায়গায় এখন হাজারের ওপর । সরকারের বিনামূল্যে বই ও উপবৃত্তি প্রদানের কারণে এমনটি হয়েছে। কিন্তু এর সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল বাড়েনি। উপরন্তু, কমিটির হাত থেকে নিয়োগ এনটিআরসিএর হাতে যাবার পর এখন যেন আরো মারাত্মক শিক্ষক সংকটে ধুকছে এসব প্রতিষ্ঠান । 

শিক্ষক সংকট এবং করোনা পরবর্তী শিক্ষা ব্যবস্থাকে কিভাবে এগিয়ে নেয়া সম্ভব এ প্রসঙ্গে সাবেক শিক্ষা সচিব এন,আই খানের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, শিক্ষক সংকট আমাদের দেশে একটা কমন সমস্যা। আর করোনার কারণে শিক্ষাব্যবস্থার যাচ্ছেতাই অবস্থা। তবে এ করোনা সংকটের দোহায় দিয়ে বসে থাকলে চলবেনা। যেহেতু, অনলাইনের যুগ। তাই এনটিআরসিএর উচিত প্রাপ্ত চাহিদার শিক্ষকগুলোকে এখন-ই নিয়োগ দেয়া। কারণ, করোনা সংকটের পর পরই যদি প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষক পেয়ে যায় তাহলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটি সুফল বয়ে আনবে।    

এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগদানের ক্ষমতা পাবার পর ইতোমধ্যে দুইটি চক্রে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে ও ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থী সুপারিশ করলেও তা ছিল শূন্যপদের তূলনায় অনেক কম। ইতোমধ্যে সারা দেশের সাড়ে ১৯ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। আর এসকল শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ চেয়ে সারা দেশের প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনে চাহিদা দিয়ে সকল কাজ শেষ করে রাখলেও ইচ্ছাকৃতভাবে এনটিআরসিএ গণবিজ্ঞপ্তি আটকে রেখেছে বলে নিবন্ধধারীদের অভিযোগ। 

এ অভিযোগের সত্যতা জানতে, ৪ জুন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মু: আ: আউয়াল হাওলাদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা গত মার্চ মাসেই তৃতীয় চক্রের নিয়োগ প্রক্রিয়ার গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম। তবে মামলা জটিলতার কারণে সেটি হয়ে ওঠেনি। উচ্চ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। যা লিখিতভাবে এনটিআরসিএ’তে আসবে।

তিনি বলেন, করোনার কারণে সুপ্রিমকোর্ট যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে তার কপি আমরা পাইনি। সেজন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি- এই মাসের (জুন) ১৫ তারিখের পর পর্যবেক্ষণের কপি হাতে পাব। পর্যবেক্ষণের লিখিত কপি হাতে পেলেই আমরা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব। 
  
উল্লেখ্য, ১৩ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল নতুন গেজেট পরিপত্রের আলোকে। সেই গেজেট পরিপত্রের আলোকে নিয়োগের দাবিতে ১৩ তম নিবন্ধন উত্তীর্ণরা হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটকারীদের পক্ষে রায় দেন। সেটি চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে এনটিআরসিএ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত ১২ মার্চ সুপ্রিমকোর্ট রায়ের উপর কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। 



ডেল্টা টাইমস্/জাহিদ হাসান/সিআর/জেড এইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]