রোববার ৯ আগস্ট ২০২০ ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

কেমন যাবে নন এমপিওদের ঈদ?
মোকারম হোসেন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০, ১১:৩৩ এএম আপডেট: ২৮.০৭.২০২০ ১১:৫৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ

আগামী পহেলা  আগষ্ট মুসলমানের খুশির একটি বড় দিন ঈদ, ঈদুল আযহা।প্রতি বছরই এই ঈদ আসে আবার চলেও যায়।শুধু রেখে যায় একঝলক হাসি আর নিশ্চুপ কান্না।বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশার মানুষ আছেন বিভিন্ন উৎসাহ উদ্দীপনায় ঈদকে সামনে রেখে,অনেকে অনেক রকম পরিকল্পনা করে নিয়েছে।
মোকারম হোসেন

মোকারম হোসেন

আজ আমি সেদিকে যাচ্ছিনা, ননএমপিও শিক্ষকদের নিয়ে একটুখানি কথা বলবো।বাংলাদেশের শিক্ষকরা মূলত তিন পর্যায়ের হয় ১/ সরকারি, ২/বেসরকারি(এমপিওভুক্ত) ৩/ বেসরকারী নন এমপিও। সরকারিদের দায়িত্ব সরকারের।তবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২৫% উৎসব বোনাস দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের! যা কিনা বর্তমানে সমালোচনায় মুখরিত। তাহলে এবার দেখা যাক, নন এমপিও শিক্ষকদের পরিস্থিতি কি? অধিকাংশ নন এমপিও শিক্ষক ঈদ প্রসঙ্গ আসলেই এড়িয়ে যেতে চান।কেননা একজন নন এমপিও শিক্ষকের পরিবারে বৃদ্ধ মা,বাবা ,স্ত্রী, সন্তান আছে।দীর্ঘদিন বেতনের আশায় বাপের পাওয়া সম্পত্তিটুকুও রাখতে পারেননি।সে কারণে লজ্জার মাথা খেয়ে অনেকেই শিক্ষকতার পাশাপাশি রাতের আঁধারে কুলি মজুর আর শ্রমিকেের কাজ করে।আবার কেউ কেউ ফেরিওয়ালাসহ অন্য পেশায় নিজেকে জড়িয়ে নিয়ে, কোনরকমে জীবিকা নির্বাহ করে দিনগুলো অতিক্রম করে যাচ্ছেন।বর্তমানে বৈশ্বিক করোনায় জীবন আরও দুর্বিষহ  হয়ে উঠেছে,না পারছে ঠিকমত আয় রোজগার করতে,আর না পারছে কারোকাছে কিছু চাইতে।
আর আজ ঈদের এমনি এক মুহুর্তে,ঈদের পদধ্বনিতে আতংকে আছে নন এমপিও শিক্ষকেরা।বৃদ্ধ মা বাবার ঔষধ নাই, ছেলে মেয়েদের নতুন জামা চাই,পাশের বাড়িতে লাল গরু কিনেছে কোরবানী দিবে বলে,নন এমপিও শিক্ষকদের ছেলে মেয়েদের আবদার তাদেরও চাই ঈদের দিনে নতুন জামাকাপড়।ঘরে হালুয়া রুটি আর গোস্ত নিয়ে নানার বাড়িতে বেড়াতে যাবে বলে,এমন সব আবদার শুনে অভাগা ননএমপিও শিক্ষকেরা সকাল বেলায় ঘর থেকে বের হয় আর সাঁঝের বেলায় ফিরে আসে খালি হাতে।
এদিকে তার সহধর্মিণী নীরবে মুখ লুকিয়ে অঝোরে চোখের পাতা ভেজায়, আর জায়নামাজে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে,হায় আল্লাহ তুমিতো সবকিছুর মালিক,কেনো আজকে দীর্ঘ দীন ধরে বিনা বেতনে রেখেছো।কেনই বা তুমি ওনাদের
জীবনেঅভিশপ্ত নন এমপিওর শিক্ষকতা এই কপালে লেপন করেছো।
আজকে এই শিক্ষকরাই সমাজের একটি অংশের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়ে শিক্ষিত করে তুলছে,অথচ তাঁরা নিজ পরিবারের জন্য,ন্যূনতম  চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। আজকে ননএমপিও শিক্ষকদের সামাজিকতা ভুলন্ঠিত হতে চলছে,ধীরে ধীরে প্রিয় মানুষগুলো প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে,দূরে সরে যাচ্ছে নিকট আত্বীয় স্বজনরাও,এ কেমন তোমার বিচার!রাষ্ট্র দায়িত্ব নিতে তাদের  এত অনিহা কেনো,কোথায় যাবো আমরা,কে আমাদের দেবে ঠাঁই হে আল্লাহ্ হয় তুমি সব ধ্বংস করে দাও নতুবা আমাদের সম্মান ফিরিয়ে দাও।প্রতি রাতে মা বাবা স্ত্রী এমনি করেই অঝোরে  কেঁদে কেঁদে চোখের জল ফেলে।দিন যায় আসে রাত,রাত যায় দিন আসে,শুধু এমপিওই থেকে যায় ফাঁকে।
এমনি করে একসময় ঘনিয়ে আসবে ঈদের দিন কেনা হবে না নতুন জামা মা বাবার ঔষধ,কোরবানীর পশুটাও কেনা হবে না। শুধু মুখ ঘুরিয়ে বলবো বাজান সবকিছুতেই করোনা লেগেছে তাই কিছুই কিনিনি।একটু অপেক্ষা করো,করোনা চলে গেলে সবাই মিলে বাজার গিয়ে আনন্দ করে যার যেটা প্রয়োজন কিনে নিবো,বুঝতে পারবেনা হয়তো পরিবারের ছোটোরা,কিন্তু বড়রা ঠিকই বুঝে নিয়েছে এমপিও নামক সোনার হরিণটা হয়তো আসবেনা,একদিন বৈশ্বিক করোনা চলে যাবে। কিন্তু নন এমপিওর করোনা অধিকতর শক্তিশালী হবে।হয়তো ঈদ উৎসব কোনোদিনও নন এমপিওর পরিবারে আসবেনা।

একটা গল্প বলে শেষ করবো একদেশের এক রাজার বিবাহ যোগ্য কন্যা ছিল,অনেক পাত্র এসেছিলো কিন্ত কাউকে পছন্দ না  হওয়ায় রাজার কন্যার বিয়ে হচ্ছিল না। তখন ছিলো প্রচন্ড শীত! একদিন রাজা রাজসভায় মন্ত্রীর পরামর্শে ঘোষণা দিলো যে! রাজার বাড়ির সামনের পুকুরটিতে স্বল্প বস্ত্র পরিধান করে,প্রথম সন্ধ্যা থেকে সূর্য ওঠার মুহুর্ত পর্যন্ত এক কোমর পানিতে যে থাকতে পারবে। তার সাথেই রাজকন্যার বিয়ে হবে। সঙ্গে পাবে অর্ধেক রাজত্ব।যেমনি বলা তেমনি কাজ,শুরু হলো রাজ কন্যা ও রাজ্য জয়ের প্রতিযোগিতা,না কোন রাজপুত্র বা স্বনামধন্য কেউ এই প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না।পরিশেষে একজন অতি সহজ সরল একটি ছেলে আসলো, রাজপ্রাসাদের সকলের তুচ্ছ তাচ্ছিল্যকে হাসিমুখে গায়ে মেখে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলো।পরদিন সকালে রাজা মাশাই পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখেন ছেলেটি তখনও জলে দাড়িয়ে।রাজামশাই হতবাক! এই ছেলেটি হবে রাজ পরিবারের জামাই!
রাজা দরবার বসালেন! ছেলেটিকে সেখানে আনা হলো সবাই হতভম্ব হয়ে এক দৃষ্টিতে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলেটিকে মন্ত্রী প্রশ্ন করলো, এই শীতের সময় ঠান্ডা পানিতে সারারাত কেমন করে কাটালে? ছেলেটি সহজ ভাবে উত্তর দিলো রাজপ্রাসাদের পাশে পুকুরের দিকে একটি বাতি জ্বলছিলো আর সেই সাথে রাজকন্যার রুমটিও দেখা যাচ্ছিলো আমি সারারাত সেই বাতিটির দিকে তাকিয়েছিলাম আর কল্পনা করছিলাম রাত পোহালেই আমি রাজকন্যা আর রাজত্ব পাবো। এ সব শুনে সভাসদগন ধন্য ধন্য বলে অভিবাদন জানাচ্ছে, ঠিক সেই মুহুর্তে মন্ত্রী বলে উঠলো না এ হবেনা! তুমি সেই বাতি থেকে তাপ সংগ্রহ করেছো এবং পানিতে থাকতে পেরেছো। সঙ্গে সঙ্গে সেই ছেলেটিকে শর্ত ভঙ্গ করার দায়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হলো। সেদিনের সভা শেষ হলে পন্ডিত গোপাল ভাড় ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাড়ি ফিরে গেল। পরদিন যথারীতি রাজদরবার বসলে,অতিরিক্ত এক ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হলেও পন্ডিত গোপাল ভাঁড়ের অনুপস্থিতি সবাইকে ভাবিয়ে তুলল।সিদ্ধান্ত মতে সকলে গিয়ে উপস্থিত হলো গোপালের বাড়ি।দেখতে পেল গোপাল তাঁর খোলানে বসে একটা ল্যাম্প জালিয়ে রাখলো,মন্ত্রী প্রশ্ন করলো গোপাল কি করছো? আমরা
ভাবলাম তুমি অসুস্থ তাই দেখতে আসলাম। কিন্তু এটা কি করছ গোপাল বললো আমি ঠিকই আছি। কিন্তু সকাল থেকে ভাত রান্না করছি,কিন্ত চাল তো ফুটছেই না। তার এমন কথা শুনে,সকলেই তাকে তিরস্কার করলো, গোপাল বললো,আমি ঐ বাতি আর পুকুরে দূরত্ব মেপে দেখেছি তার থেকেও আমার ভাতের হাড়ি আগুনের অনেক কাছে।ছেলেটি যদি পুকুর থেকে তাপ সংগ্রহ করে শীত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলে আমার চাল কেনো ফুটবে না!
হ্যাঁ এমনই একজন সাহসী বুদ্ধিমান গোপালভারের উদয় হলেই হয়তো নন এমপিওরা,এমপিও নামক সোনার হরিণটা নিয়ে,আগামীতে স্বাচ্ছন্দে ঈদ উদযাপন করতে পারবে।নয়তো শিক্ষকদের শেষ পরিণতি এমনই হবে। [মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন]

মোকারম হোসেন
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন
কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকা।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]