রোববার ৯ আগস্ট ২০২০ ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

আপত্তির পরও করোনা তহবিলের নামে টাকা সংগ্রহ ভিকারুননিসায়, ফেরত চেয়েছেন শিক্ষকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০, ২:৪৮ পিএম আপডেট: ০৩.০৮.২০২০ ১০:৫৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ

অবৈধভাবে উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগের পর করোনাকালীন তহবিল সংগ্রহের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের উঠেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৯ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে টাকা ফেরত চেয়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন জানানো হয়।  আবেদনের কপি দেওয়া হয় গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে।

জানতে চাইলে গভর্নিং বডির সভাপতি ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষকরা নিজেদের উদ্যোগে করোনাকালীন সাহায্যের জন্য টাকা তুলেছেন ফান্ড করার জন্য। কিছু শিক্ষকের আপত্তি ছিলো। আপত্তির বিষয়টি জানার পর আমি বলেছি সহয়তা তহবিল ম্যান্ডেটরি কিছু হবে না। যারা দিতে চায় দেবে, যারা বলেবে দেবো না তারা ফেরত নিয়ে যাক। ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষকরা মিলে সাহায্যের জন্য তহবিল করলে সেটি গভর্নিং বডির বিষয় নয়। তবে কারো কাছ থেকে চাপ দিয়ে টাকা নেওয়া যাবে না।’
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি


জানা গেছে, অধ্যক্ষ ফওজিয়া গত ১২ জুন ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে শিক্ষক ও প্রদর্শকদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে তা উঠানোর দায়িত্ব দেন শাখা প্রধান ও কলেজ কো-অর্ডিনেটরদের। এই টাকার মধ্যে শিক্ষকপ্রতি ২ হাজার টাকা করোনাকালীন দরিদ্র তহবিল এবং ৫০০ টাকা উত্তোলন করা হয় একজন শিক্ষককের চিকিৎসার বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য।  এই টাকা উত্তোলন করে ২০ জুনের মধ্যে অধ্যক্ষের পিএ কাছে জমা দিতে বলেন অধ্যক্ষ। অফিসিয়াল নোটিশ ছাড়া মৌখিক নির্দেশে টাকা উত্তোলন করে ফান্ড গঠন করা নিয়ে শুরু থেকেই শিক্ষকদের আপত্তি ছিলো।

এছাড়া শিক্ষক ও প্রদর্শকদের পদ এক না হলেও একই সমান অর্থ আদায় করা হয়। একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ তার কাছ থেকেও আড়াই হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এসব নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে এই ফান্ড গঠনে আপত্তি জানায়। 
গত ২৫ জুলাই থেকে ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিলো কিন্তু টাকা ফেরত না পেয়ে বুধবার (২৯ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে। 

শিক্ষকদের দাবি,বিষয়টি গভর্নিং বডির সভাপতি জানার পর যাদের আপত্তি রয়েছে তাদের টাকা ফেরতের নির্দেশ দেন । তবে ডেল্টা টাইমস এর কাছে টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেননি বলে জানিয়েছেন গভর্নিং বডির সভাপতি ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

অভিযোগে জানা গেছে, মূল ক্যম্পাসের অনেক শিক্ষক টাকা ফেরত নিয়েছেন। তবে বেশিরভাগ শিক্ষকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। আর শাখা প্রধানদের কাছ থেকে শিক্ষকরা টাকা চেয়েও পাননি। শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ফেরত না দেওয়ার জন্য শাখা প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয় মূল ক্যম্পাস থেকে। শিক্ষকরা শাখা প্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাইলে অধ্যক্ষর অফিস থেকে টাকা নিতে বলা হয়েছে। ফলে শিক্ষকরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তবে ১০ থেকে ১৫ জনের টাকা  বুধবার পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষকরা জানান। 
কিছুদিন আগে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধভাবে উপাধক্ষ্য নিয়োগের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। গভর্নিং বড়িতে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে সভাপতি তা না করে দেন। ফলে উপাধ্যক্ষ নিয়োগের প্রচেষ্টা  ব্যর্থ হয়। 

জানতে চাইলে গভর্নিং বডির সভাপতি বলেন, ‘ইন্টারমিডিয়েট কলেজে উপাধ্যক্ষ পদ নেই।  আমরা এটা গ্রহণ করিনি।’

এসব বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া  সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন ধরেননি।

ডেল্টা টাইমস /জেড এইচ /সিআর  

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : de[email protected], [email protected]