সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

সিন্ডিকেট বন্ধে প্রয়োজন কার্যকরী উদ্যোগ
আমজাদ হোসেন হৃদয়
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম যেন কমছেই না বরং বেড়েই চলছে। কখনো পেঁয়াজের মূল্য, কখনো চিনির মূল্য, কখনো আদা-রসুনের মূল্য কখনোবা ধান-চালের মূল্য ইত্যাদি যেন যোগসাজসে পালাক্রমে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধ সিন্ডিকেটের খপ্পরে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে, দেশের দরিদ্র মানুষরা হয় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিটা খেতে সিন্ডিকেটের আস্ফালন লক্ষণীয়। কিন্তু এর শেষ কোথায়?

করোনাকালীন সময়ে মাস্ক এবং স্বাস্থ্যখাতে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট তৎপর থাকতে দেখা গেছে। বর্তমান সময়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে পেঁয়াজ নিয়ে। দেশে আবারও পেঁয়াজের বাজার অস্থির হতে শুরু করছে। ভারত হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম বেড়েই চলছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল ভারত। সে সময় রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এবারও এমন নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছে অনেকেই।

লেখক: আমজাদ হোসেন হৃদয়

লেখক: আমজাদ হোসেন হৃদয়

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ আছে বলা সত্ত্বেও কেন পেঁয়াজের বাজারে এই অস্থিরতা? ক্রেতা এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা এর কারণ হিসেবে দেখছে অবৈধ সিন্ডিকেটকে। তাদের দাবি পেঁয়াজের অবৈধ মজুত বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্য বাড়ার চেষ্টা করছে একটি সিন্ডিকেট। আরেকটি ব্যাপার লক্ষণীয়, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। এই পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে আমাদের ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। অতিরিক্ত ভারত নির্ভরতা এবং আমদানি নির্ভরতা থাকলে দেশে পেঁয়াজের বাজারে এই অস্থিরতা কাটানো প্রায় অসম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন দেশে প্রচুর পরিমানে পেঁয়াজ উৎপাদন এবং ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের আরও কয়েকটি পেঁয়াজের বাজার আমাদের হাতে রাখা।

অবৈধ সিন্ডিকেট ও মজুদদারি রোধে সরকার ও  প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও তা বাস্তবায়ন হয় না। বাস্তবায়ন না হওয়ার পিছনে সরকার ও প্রশাসনের কেউ কেউ জড়িত থাকার কারণে হয় না বলে মনে করেন অনেকে। যদিও বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট জব্দ করতে পেরেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তাদের জরিমানাও করা হয়েছে বড় অঙ্কের। এমন কিছু জরিমানা হলেও অবৈধ সিন্ডিকেটের ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নিতে দেখা যায় না প্রশাসনকে। যার ফলে বন্ধ হয় না দেশের অবৈধ সিন্ডিকেট ব্যবসা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং সেল এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। দেশ থেকে যেন সিন্ডিকেট সমূলে বিদায় নিতে বাধ্য হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হলেও এখনো দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কম নয়, যারা সীমিত আয়ের মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। এ সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে জীবন নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। ব্যবসার মাধ্যমে আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড না থাকলেও মানুষকে জিম্মি করে এবং সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে অর্থ উপার্জন করা সঠিক কাজ নয়। ক্রেতা সন্তুষ্টির মাধ্যমে যেকোনো মূল্যে পণ্য ক্রয় করলেও বিক্রেতারা যদি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি করে অর্থ উপার্জন করে তা নিঃসন্দেহে অবৈধ কাজের অংশ। শুধু ভোগ্যপণ্য নয়, যেকোনো মাধ্যমেই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য লক্ষ করা যায় বাংলাদেশে।

কোনোভাবেই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে যাতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে না যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যাতে কেউ নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এ ব্যাপারে তদন্ত করা এবং জড়িতদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত। যাতে তারা অবৈধ সিন্ডিকেট ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সর্বোপরি অবৈধ সিন্ডিকেট প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া সময়ের দাবি।     [মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন]


আমজাদ হোসেন হৃদয়
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল থেকে (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]