রোববার ১ নভেম্বর ২০২০ ১৬ কার্তিক ১৪২৭

হ্যাঁ,আমি ধর্ষিত পুরুষ
সৈয়দ সাদ্দাম হোসাইন
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১:০৬ পিএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২০ ১:১৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

হ্যা আমি ধর্ষিত পুরুষ। আজ আমি তোমাদের কাছে বিচার চাইতে এসেছি।  আমি তখন নাদুসনুদুস এক সাদাসিধে বালক , সময়টা ছিলো ২০১২ সাল ।  আমি সবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছি ।  জীবনে কোনদিন নারীর গন্ধ পাইনি ।  কারণ আমার স্কুল কলেজের জীবনে ছেলে মেয়েদের আলাদা রুমে ক্লাস হতো ।  যার কারণে নারীদের সম্পর্কে আমার ধারণা কম ছিলো , আর আমি নারীদের ব্যাপারে অনেকটা ভীতু ছিলাম ।  কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমার অভিজ্ঞতার ধরন পাল্টে গেলো, এখানে ছেলে মেয়েরা একই রুমে , একই বেঞ্চে বসে ।  একদম লেগে লেগে বসে ।  ক্লাসের প্রথম দিনেই অপরূপ হাসি নিয়ে আমার পাশে বসে এক ফুটফুটে মেয়ে, এক দম লেগে লেগে বসে । আসলে মেয়েটি ইচ্ছে করে বসেনি ৪ জনের বেঞ্চে ৭ জন বসলে যা হয়। ক্লাসে জায়গা ছিলো না। তাই বাধ্য হয়ে বসেছে । 
লেখক : সৈয়দ সাদ্দাম হোসাইন

লেখক : সৈয়দ সাদ্দাম হোসাইন

সে বসতেই আমার কি যে ভয় করছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আমার কেমন যেন একটা ভালো লাগছিলো, কারণ মেয়েটি জায়গার স্বল্পতায় আমার শরীরে অনেকটাই ভর দিচ্ছিলো ।  এই প্রথম নারীদেহের সাথে বসা, তার নরম শরীরের উত্তাপ আমার যেমন ভালো লাগছিলো তেমনি লজ্জাও লাগছিলো । যাই হোক ক্লাস শেষ হলো সবাই সবার সাথে পরিচয় হলাম , কিছুক্ষণ পর পাশে বসা সেই মেয়েটি আমাকে বললো' ," হায় আমি বৃষ্টি , তুমি ?  আমি তো বেশ অবাক, একটি কিউট মেয়ে আমার নাম জিজ্ঞেস করেছে। যাই হোক ক্লাসের বান্ধবী, আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব হয়ে গেলো , তার সাথে গ্রুপ স্টাডি শুরু করলাম, সে আমার সাথে ঢাকা শহরের সুন্দর সুন্দর জায়গাগুলো ঘুরতে চাইলো । আমিও বেশ ইনজয় করছিলাম তার সঙ্গ । একদিন খুব ভোরে সে আমাকে বললো তার হলের সামনে যেতে, আমি তার কথায় গেলাম তার হলের সামনে, গিয়ে দেখি লাল টুকটুকে মেয়েটি লাল শাড়ি পড়ে, লাল গোলাপ হাতে নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে, আমি তো অবাক সে আমার কাছে এসেই বলে " I love you" আমি তখন চুপ , মেয়েমানুষ আমাকে আই লাভ ইউ বলেছে , ব্যপারটা বেশ রোমান্টিক । আমি প্রথমে না করেছিলাম পরে তার পীড়াপীড়ীতে হ্যা বললাম । শুর হয়ে গেল প্রেম, সে আমাকে নতুন নতুন স্বপ্ন দেখাতে থাকলো, হানিমুনে যাবার স্বপ্ন, বাচ্চার আব্বু বানানোর স্বপ্ন, শশুর বাড়ীতে মুরগি খাওয়ানোর স্বপ্ন , আরো কতো কতো স্বপ্ন। 

আস্তে আস্তে সে আমার হাত ধরে, আমার কপালে, এখানে , সেখানে  চুমু খায়, আমিও খাই, সে বলে আমার চুমু খেতে তার যেমন ভালো লাগে, আমাকে চুমু দিতে তার তারচেয়ে বেশি ভালো লাগে । এভাবে তার চাহিদা বাড়তে লাগলো, আমি তাকে জামা গিফট করি, এটা সেটা কিনে দেই, বাবা আমাকে যতো টাকা দিতো তার বেশিরভাগই তার পিছনে আমার খরচ করা লাগতো, কি করবো বলুন আমাদের সমাজে প্রচলিত হলো ছেলেরা প্রেমিকাকে ঘুরতে নিয়ে গেলে রিকশা ভাড়া ছেলেরা দেবে, রেস্টুরেন্টের বিল ছেলেরা দেবে, সব ক্ষেত্রে" লেডিস ফার্স্ট  " বাট বিল দেবার ক্ষেত্রে, রিকশা ভাড়ার ক্ষেত্রে লেডিস লাস্ট । যাই হোক  একদিন সে তার আন্টির বাসায় গেলো, তার আন্টি একা বাসায় তাকে  রেখে অফিসের কাজে এক দিনের জন্য  শহরের বাইরে চলে গেল। খালি বাসা , সে আমাকে বললো তার একা ভালো লাগছে না। আমাকে তার দরকার, আমিও তার কথায় বাসায় গেলাম, যাবার পরেই একা আমাকে পেয়ে সে পাগল হয়ে গেলো, কি ভয়ংকর নারীর রূপ আমি ঐই দিন দেখলাম। ঐই দিন আমার পুরুষ বার্জিনিটি তার দ্বারা নষ্ট হলো। সে আমাকে বললো আমার আদর পেয়ে, এবং আমাকে আদর করতে পেরে সে অনেক মজা পেয়েছে । 

আসলেই সেক্সের বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা হলো এসব কাজে, নারী যেমন উপভোগ করে, তেমনি পুরুষও উপভোগ করে । এভাবে আমাদের দিন যেতে লাগলো, কদিন পর দেখি আমাকে তার ভালো লাগেনা , তার এক চাকুরীজীবি আত্বিয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হয় , এখন আমাকে সে চায় না,  এতো দিন সে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে ইউজ করেছে, আমার সাথে টাইম পাস করেছে । আমার টাকা পয়সা শেষ করেছে। আমি এখন তাকে তাকে হারিয়ে দেবদাস, অনেকবার আত্ত্বহত্যা  করতে চেয়েছি । আমি যে তাকে চাই, অবশেষে তাকে পাবার জন্য গেলাম থানায় , ওখানে গিয়ে বললাম আমাকে এক মেয়ে এতো দিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইউজ করেছে, আমার কুমারত্ব নষ্ট করেছে, আমার আবেগে কষ্ট দিয়েছে, আপনারা এই মেয়ের নামে কেইস লেখুন , ওমা পুলিশ তো আমাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করলো, বললো এ দেশে নাকি পুরুষ ধর্ষণ নামে কোনো কেইস নেবার বিধান নেই, পুরুষের মন ভাঙার কোন বিচার নেই, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পুরুষ ধর্ষিতার আইনের আশ্রয় লাভের কোনো সুযোগ নেই । অথচ কদিন আগেই আমার রুমমেটের জেল হয়েছে, তিন বছরের রিলেশন ছিলো তার, ভালোবাসার দাবিতে তারা লিটনের ফ্ল্যাট অনেক বার হারিয়ে গিয়েছিল । 

কিন্তু মেয়েটার চরিত্রে সমস্যা ছিলো, আবার মেয়েটি ঝগড়াটে ছিলো তাই আমার বন্ধু বিয়ে করতে চাইনি, চাকরীজীবী বন্ধু আমার সবে চাকরিটা পেয়েছে । কিন্তু সেই মেয়ে তার বিরুদ্ধে কেইস করেছে, ধর্ষণের মামলা দিয়েছে, আহারে বন্ধু আমার এখন সে জেলে, সকল মিডিয়াতে আমার নিরিহ বন্ধুর ছবি ছাপিয়েছে । যাই হোক আমিও তো মানুষ, আমারো কষ্ট আছে , আবেগ আছে । আমার শরীর এতো দিন আমার প্রেমিকা ইউজ করেছে , আমি কেনো পারবো না নারীর নামে ধর্ষণ মামলা দিতে। আমার মতো অনেক ছেলে আছে যারা প্রতিদিন আত্ত্বহত্যা করছে, পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে । একজন নারী যেমন মানুষ , আমিও তেমন মানুষ, আমারো ইজ্জত আছে । আইনের আশ্রয় লাভের এই বৈষম্যের জন্য হাজারো পুরুষের জীবন নষ্ট হচ্ছে । 
মহান সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন আবেগ অনুভূতি দিয়ে। আপনি পুরুষ হোন কিংবা নারী , মানুষ হিসেবে সবাই সমান। 

একজন নারী যেমন মানুষ , তেমনি পুরুষও মানুষ। আবেগ অনুভূতি, সুখ - দুঃখ, হাসি- কান্না , রাগ অভিমান, অভিযোগ পুরুষের যেমন আছে, তেমনি নারীরো আছে। আপনারা তো সারাদিন চিল্লাচ্ছেন নারী পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে । ঠিক ই বলেছেন নারী পুরুষ সমান । নারীরা আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী, পুলিশ, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, নোবেলজয়ী, কোনো দিক থেকে নারীরা পুরুষদের দিক থেকে পিছিয়ে নেই, আমি তিন বার বিসিএস দিয়ে ফেইল । অথচ আমার নারী বান্ধবীরা প্রথমবার বিসিএস দিয়ে পুলিশ ক্যাডার । তার মানে আমার মতো পুরুষের থেকে অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন নারী রয়েছে যারা শারীরিক দিক থেকে, মানসিক দিক থেকে, যোগ্যতার দিক থেকে, অর্থনৈতিক দিক থেকে আমার থেকে অনেক বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন । অথচ আইনের আশ্রয়ের ক্ষেত্রে পুরুষ ধর্ষিতার কোনো বিচার নেই। পুরুষের মন ভাঙার কোনো বিচার নেই। আর আমরা এক নারীর হাত ধরলেই ধর্ষণ মামলা খাই ।  এটি কেমন বিচার ?
 সুতরাং আসুন আমরা সকল পুরুষ এক হয়ে  কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলি, নারীরা যেমন প্রতারিত হয়ে মামলা করতে পারে ঠিক তেমনি পুরুষদেরও অধিকার দিতে হবে পুরুষ ধর্ষক নারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেবার । 

 ( লেখাটি লেখকের ফেসবুক য়াল থেকে নেয়া )    
লেখক : সৈয়দ সাদ্দাম হোসাইন
                         দর্শন বিভাগ
                    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


ডেল্টা টাইমস/জেডএইচ/সিআর

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]