রোববার ১ নভেম্বর ২০২০ ১৬ কার্তিক ১৪২৭

বৈষম্যহীন শিক্ষক-শিক্ষা ব্যবস্থা চাই
আলম নূরী কিছমো জাহান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৬:০০ পিএম আপডেট: ২৪.০৯.২০২০ ৭:৪০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আসছে ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।  ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর শিক্ষকদের অসামান্য অবদানকে স্মরণীয় করার জন্য এ দিনটি পালন করা হয়।  যা আমাদের শিক্ষক সমাজের জন্য একটি বৃহত্তর প্রাপ্তি ।

মানুষের  মন-মনন, মানসিক উৎকর্ষ সাধন করে, মানুষের আচার আচরণ, মন ও আত্মার ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ঘটিয়ে, মেজাজ ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের প্রভাব ফেলে এমন কর্ম প্রক্রিয়াকে উস্কে দেয়া, উৎসাহিত করা অনুপ্রেরণা-দানকারী ব্যক্তি, যিনি সভ্যতার অভিভাবক, সমাজের অভিভাবক, সমাজের প্রতিনিধি তিনিই কার্যত শিক্ষক একজন আলোকিত, জ্ঞানী, গুণী ও বুদ্ধিদীপ্ত পন্ডিত ব্যক্তিত্ব  বিবর্তনের অনুঘটকের দায়িত্ব পালন করেন।  যিনি শিক্ষার্থীকে শিখন প্রক্রিয়ায়, জ্ঞান অন্বেষণ ও আহরণে, মেধা বিকাশ ও উন্নয়নে, শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠনে, নৈতিক ও মানসিক গুণাবলী বিকাশে এবং  সুশীল সমাজ তৈরির সহায়তা দানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

লেখক: আলম নূরী কিছমো জাহান

লেখক: আলম নূরী কিছমো জাহান

শিক্ষকদের নিকট তাই সমাজের প্রত্যাশা অনেক।  তেমনি শিক্ষকগণের রাষ্ট্রের প্রতিও প্রত্যাশা বহুল।  সমাজের প্রত্যাশা শতকরা যত ভাগ পূরণ করতে পারবেন সমাজও ন্যূনতম তত ভাগ সম্মান শিক্ষকদের দেবেন।  অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, এখন গিভ এন্ড টেকের সময় যাচ্ছে।   ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ।  বিশ্বব্যাপী শিক্ষার এই জাগরণ জোয়ারে শামিল হতে আমাদের সমগ্র দেশে ও শিক্ষার হাওয়া বইছে "সবার জন্য শিক্ষা"।  গড়ে উঠেছে  সরকারী, এমপিওভুক্ত ও নন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ।  

এখানে শিক্ষকদের একই শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং একই কারিকুলামে পরিচালিত হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের  শিক্ষকদের বেতনে রয়েছে ভিন্নতা, রয়েছে বৈষম্যতা।  আবার সরকারী এবং এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন ভাতায় বৈষম্যতা পরিলক্ষিত হলেও কিন্তু চরম বৈষম্যতার অন্তর্ভুক্ত নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান যেখানে শিক্ষকবৃন্দ বেতনহীন ভাবে অগ্রসর হচ্ছে সমান তালে এই বিশ্বব্যাপী শিক্ষক দিবসে।  যদিও বেতনহীন থাকা বড়ই কষ্টকর এবং দুঃসাধ্যও বটে!! এ প্রজন্মের কাছে নন এমপিওদের পরিচয় বেতনহীন স্বজাতী! তাদের জীর্ণ পোষাক আধুনিক এ রাষ্ট্রের সাথে বড়ই বেমানান!! সমাজের মানুষ তাদের দিকে ভর্ৎসনার দৃষ্টিতে তাকায়।  নন-এমপিও শিক্ষকেরা পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিকভাবে নিগৃহীত।

দশকের পর দশক ধরে এমপিওভুক্তির আশায় নন এমপিও প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকুরী করে অবসরে চলে যাওয়ার মতো দুর্ভাগ্য! জুটতেছে সারাদেশের হাজার হাজার নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দের।  শিক্ষা ব্যবস্থায় এই বৈষম্যতা মেনে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।   বৈষম্যতায়পূর্ণ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর কারনে আজ এমপিওভুক্তি যেন স্রোতের বিপরীতে নৌকা চালিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদজনক সমুদ্র পথ বারমুডা ট্রায়াঙ্গল অতিক্রম করার শামিল।  বিভিন্ন কারনে বৈষম্যের প্রতিফলন দেখা যায় এসব প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তিতে।

২০১০ এমপিও নীতিমালার আলোকে অনেকাংশে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরন হলেও বাদ পড়া অনেক প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে ২০১৮ এর  এমপিও নীতিমালার প্রচুর অসামঞ্জস্যতা বিদ্যমান থাকায় এমপিওভুক্তকরণে আবারও পিছিয়ে পড়ে  পূর্বে যেখানে পরীক্ষার্থীর পাশের হার ২০১০ নীতিমালায়  ৫০%  ছিল এবং ২০১৮ নীতিমালায় ৭০% নির্দিষ্ট করা হয় ফলে অনেক সমৃদ্ধ শীল প্রতিষ্ঠান নন এমপিও থেকে যায় এবং ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়ে।  ১৯৯৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫ বার নীতিমালা পরিবর্তন স্বরূপ বৈষম্যের ভারে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে যায় যায় এই অবস্থা।  এছাড়াও পরীক্ষার্থীর সংখ্যাতেও পার্থক্য দেখা দেয় পূর্বের নীতিমালায় মফস্বল এ ৩০ জন এবং বর্তমান নীতিমালায় তা ৪০ জন, তাছাড়া মাদ্রাসায় যথাক্রমে মফস্বলে ২০ জন ছিল  এবং ২০১৮ নীতিমালায় তা ৩০ জন নির্ধারিত হয় ; এ ব্যবধান হেতু এখানে অনেক নন এমপিও প্রতিষ্ঠান ঝড়ে পড়ে, ফলে শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্যতা  প্রকট আকার ধারণ করে । 
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

যদিও শিক্ষকবৃন্দ ২০১০  ও ২০১৮ নীতিমালায় কলেজের মানবিক, ব্যবসা ও বিজ্ঞান প্রতি বিভাগে যথাক্রমে ২৫, ২৫, ১৫ জন শিক্ষার্থী থাকলে এমপিও আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতেন।  বৈষম্যতার জালে আবদ্ধ নীতিমালা সংশোধন নিমিত্তে কালক্রমে বহু আন্দোলন ও ত্যাগ তিতীক্ষার ফলশ্রুতিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, পাশের হার, কাম্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রস্তাব করে  সংশোধিত গ্রহনযোগ্য নীতিমালা এর কয়েক বৈঠক সংঘটিত হয়েছে।  ন্যায্যতাপূর্ণ, বৈষম্যহীন, সংশোধিত  নীতিমালা হাতে পাওয়া এখন সুদূরপ্রসারি ব্যাপার।

একই সিলেবাস, একই পাঠ্যক্রম, একইপাঠ্যবই, একই ছুটির তালিকা, একই নির্দেশনা, একই বোর্ডের অধীনে একই প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষা, একই সঙ্গে একই দিনে ফলাফল প্রদান, একই সিস্টেমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির নিশ্চয়তা প্রদান, যারা সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিতে চায়; যারা ন্যায্যতা মিটিয়ে দিতে মিছিলে ছোটে, যারা একটি ভালো মানুষ গড়ার জন্য, নিজের ভেতরে যুদ্ধ করে তাঁরা কেন পারিশ্রমিক না পাওয়ায় মাথা ঠুকে দিন যাপন করবে?

শিক্ষা হল মানবাধিকার৷ প্রতিটি শিশুর শিক্ষা গ্রহনের অধিকার রয়েছে৷ বর্তমান ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় অর্থাৎ অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বৈষম্যতা দেখা যায়।  শিক্ষার্থীরা সামগ্রিক সুযোগ সুবিধা প্রাপ্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানভেদে, অঞ্চলভেদে।  শহরের সরকারী, এমপিওভুক্ত ও নন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষা অর্জন করতে পারলেও গ্রামাঞ্চলের, চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীবৃন্দ এ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

বৈষম্যতার কবলে অতীষ্ট হয়ে যে রাষ্ট্রের মুক্তির জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন সে রাষ্ট্রে এখনো বৈষম্যেই বিরাজমান।  সরকারী, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে নন এমপিও প্রতিষ্ঠানের সম্মানীত শিক্ষকবৃন্দের বেতন প্রসঙ্গে ভিন্নতা ও বৈষম্যতা দূরীভুত করতে হবে রাষ্ট্রযন্ত্রের সম্মানিত ও দ্বায়িত্বপ্রাপ্তদের।  দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষকবৃন্দকে একত্রিত করতে হবে  দেশের স্বার্থে, বিশ্বে নিজ দেশকে আলোকিত করতে।

লেখক : আলম নূরী কিছমো জাহান
প্রভাষক-(পদার্থবিজ্ঞান)
সাহাপাড়া পারভীন স্মরনী কারিগরি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ






ডেল্টা টাইমস্/সিআর/জেডএইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], delt[email protected]