রোববার ১ নভেম্বর ২০২০ ১৬ কার্তিক ১৪২৭

এমপিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে
অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের তিনদিনের অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৪৫ পিএম আপডেট: ২৬.০৯.২০২০ ৫:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সংশোধনাধীন জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮তে বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের করতে তিনদিনের অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২  অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ডেল্টা টাইমসে পাঠানো সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির বিষয়টি জানানো হয়।
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের গ্রামের দরিদ্র ও গরীব শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ২৮ বছর ধরে এসব শিক্ষকরা শুধুমাত্র জনবল কাঠামোতে না থাকার কারণে এমপিওভুক্তির বাইরে রয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জনবল কাঠামো সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। উক্ত সংশোধনীর প্রথম সভায় অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে সরকারের পলিসির বিষয় উল্লেখ করে অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের নীতিমালার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন সংশোধনী কমিটি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বেসরকারি কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয় ১৯৯৩ সাল থেকে কিন্তু এই শিক্ষকদের জন্য আজ পর্যন্ত কোন সরকারি নীতিমালা তৈরি করা হয়নি। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পাঠদানের অনুমতি, সিলেবাস প্রণয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ফলাফল প্রকাশসহ সকল কার্যক্রম তদারকি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।  কিন্তু বেতন/এমপিও বেলায় সরকারি সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। বহু দেন দরবারের পরে এসব শিক্ষকদের বেতন ভাতা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচলিত স্কেলে শতভাগ প্রদানের আদেশ জারি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।  কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফান্ড না থাকার কারণ দেখিয়ে উক্ত আদেশ না মেনে কলেজভেদে ০২ থেকে ১০ হাজার টাকা বেতন প্রদান করা হয় ।  আবার অনেক কলেজে সেই টাকাও দেওয়া হয় না।  শিক্ষকদের উক্ত বেতনে বর্তমান বাজারে পরিবারের ভরণপোষণ ও দিনাতিপাত করা একেবারেই অসম্ভব।  শিক্ষকদের যে ন্যূনতম বেতন দেওয়া হত সেটাও বর্তমানে করোনা মহামারীতে প্রায় ৫/৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

এসব শিক্ষকের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিগত দিনে তিনটি নির্দেশনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রদান করা হয়।  যা আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি।  শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দুটি সুপারিশ ও শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুজন মহাপরিচালকের দুটি সুপারিশ থাকার পরেও অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একই সিলেবাসে পাঠদান করিয়ে পূর্বে ৪৫টি জাতীয়করণকৃত কলেজের অনার্স-মাষ্টার্স শিক্ষকেরা ক্যাডারভুক্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে ২৭৫ টি কলেজের অনার্স মাষ্টার্স শিক্ষকেরা নন-ক্যাডার হিসাবে আত্নীকরণ হতে যাচ্ছে।  আবার একই এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ইন্টারমিডিয়েট ও ডিগ্রি কোর্সের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত এবং মাদ্রাসা পর্যায়ে ফাজিল ও কামিল শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হতে পারলেও  আমরা কলেজ পর্যায়ে অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষকরা আজও এমপিওভুক্ত হতে পারেনি যা অত্যন্ত দুঃখজনক।  উল্লেখ্য, আমাদের যৌক্তিক দাবীর স্বপক্ষে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও পত্রিকার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃটি আকর্ষণ করে আসছি।  কিন্তু  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ দাবি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেননি। 

সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘শুধুমাত্র জনবল কাঠামোর অজুহাতে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আমাদেরকে কেন সরকারি সুযোগ-সুবিধার (এমপিও) বাইরে রাখা হয়েছে তা বোধগম্য নয়।  তাই মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ ও পেশাগত দাবি আদায়ের জন্য আমরা অহিংস ও শাান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।  আমরা প্রবলভাবে বিশ্বাস করি যে, হাজার বছরের সর্বশেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের মানবিক দাবি মেনে নিবেন’।

সংগঠনের সদস্য সচিব মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন,‘ উচ্চ শিক্ষায় নিয়োজিত ৫০০০ হাজার শিক্ষকের বেতন ভাতার যৌক্তিক দাবিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “মানববন্ধন ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান” কর্মসূচি পালন করব’। তিনি সারাদেশের সকল অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানান।

    

ডেল্টা টাইমস্/সিআর/জেডএইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]