রোববার ১ নভেম্বর ২০২০ ১৬ কার্তিক ১৪২৭

শিক্ষক দিবস হোক, ননএমপিওদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার দিবস
মোকারম হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:৫০ এএম | অনলাইন সংস্করণ

নিজেদের শ্রমের মূল্য দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে, দুবেলা খাবার খেতে এবং মানবেতর জীবন থেকে রক্ষা পেতেই, ননএমপিও শিক্ষকেরা ১৫ অক্টোবর'২০১৯  রাষ্ট্র মায়ের কাছে অশ্রু বিসর্জন দিতে প্রেসক্লাবে জমায়েত হয়েছিলো।

শিক্ষকেরা বারবার আশাহত হয়ে, শেষ বারের মত যখন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ১৭ অক্টোবর'২০১৯ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা করেন, তখনই পুলিশ বাহিনী নাটকীয়ভাবে সেই পদযাত্রা কদম ফোয়ারায়  আঁটকে দিলে শিক্ষকরা সেখানেই অবস্থান নেন। যখন শিক্ষকদের তীব্র আন্দোলন আরো গভীরভাবে তীব্রতর হতে চললো তখন ২০ অক্টোবর'২০১৯ শিক্ষকদের জমায়েতে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত হন। 
লেখক : মোকারম হোসেন

লেখক : মোকারম হোসেন

২২ অক্টোবর`২০১৯ শিক্ষক নেতাদের সাথে রুদ্ধদার বৈঠক করেন। শিক্ষকদের মূল দাবি ছিলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত! তিনি এমপিও তালিকা প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে শিক্ষকদের সাক্ষাত করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু, আজ একটি বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও, প্রধানমন্ত্রীর সাথে শিক্ষকদের সাক্ষাৎ মেলেনি। তাই অতীতের ধারণা থেকে শিক্ষকরা ধরেই নিয়েছে আর বুঝি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পাবো না। ইতিপুর্বে  শিক্ষকরা দীর্ঘ একযুগ অতিক্রম করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ এবং স্বীকৃতি প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে। আন্দোলনকালীন সময়ে সরকারের অনেক দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিকট থেকে বিভিন্ন আশ্বাস পেলেও, তা কোনোদিনও বাস্তবে পরিণত হয়নি। সঙ্গত কারণেই তাদেরকে বারবার দাবি নিয়ে রাজপথে আসতে হয়েছে। হয়তোবা রাজপথে আবারও আসতে হবে!

শিক্ষকদের হতাশার কারণ হিসেবে কয়েকটি ব্যাপক আলোচিত প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হলো:

১- ২০১২ সালের ১ই অক্টোবর থেকে ৪ই অক্টোবর পর্যন্ত, জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকায় লাগাতার অবস্থান, সেই সংগে বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয় এবং সে সময় শিক্ষকরা পিপার স্প্রে, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেলের মাধ্যমে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। এমন পরিস্থিতিতে সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ জনাব সাইফুজ্জামান শিখর মুঠোফোনে সভাপতি ও সম্পাদককে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক এর প্রস্তাব দিলে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। যা বিটিভিসহ সকল গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। ৬ ডিসেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব-১ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত
১৩.৩৬.১৬.০০.০০.০৬.২০১২-৪৯৮ নং স্মারকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ১১ডিসেম্বর`২০১২ সাক্ষাতের সম্মতিপত্র দেন।

২- ২০১৫ সালের ২৬শে অক্টোবর হতে ২২শে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ও জাতীয় প্রেসক্লাবে, শিক্ষকরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। সে সময় ২৮ দিনের দিন মহাজোটের শরিকদল বি,এন,এফ, এর প্রধান এস এম আবুল কালাম আজাদ (এমপি) জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষকদের আন্দোলনরত অবস্থায় প্রেসক্লাবে শিক্ষকদের কাছে আসেন। এবং তিনি আল্লাহকে হাজির নাজির সাক্ষী রেখে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে, পরবর্তী ২০১৬ শিক্ষা বর্ষের শুরু থেকে স্বীকৃতি প্রাপ্ত সকল প্রতিষ্ঠান সুনির্দিষ্ট এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন। যা সকল মিডিয়ার মাধ্যমেও দেশবাসী জেনেছিলো।

৩- ২০১৮ সালের ১জানুয়ারি হতে ৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষকেরা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত ও এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন করেন। ৫ জানুয়ারি তৎকালীন  শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন,প্র ধানমন্ত্রীর ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান, ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া অনশন স্থলে উপস্থিত হয়ে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। সেই আলোচিত প্রতিশ্রুতি কোনোভাবেই বাস্তবায়ন  করা হয়নি।  শিক্ষকরা আজও জানেনা কেনো? কি কারণে? প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ থেকে তারা বারবার এভাবে বঞ্চিত হচ্ছে? পাশাপাশি ২২ অক্টোবর'২০১৮ তারিখের  প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দীর্ঘ দশমাস ধরে নীতিমালা সংশোধনের জন্য  টেবিল বৈঠকসহ ১২ টি বৈঠক হয়েছে। কিন্ত, নীতিমালা সংশোধনের কাজটি কবে সমাপ্ত হবে এবং তাতে শিক্ষকদের দাবীর প্রতিফলন ঘটবে কিনা, তা নিয়ে শিক্ষকরা উদ্বিগ্ন! 

শিক্ষকরা মনে করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দুরবস্থার কথা  জানেন না। যার ফলে সমস্যা দিন দিন ঘনিভুত হচ্ছে। ইতিমধ্যে  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনাকালীন সময়ে নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের প্রণোদনা দিয়ে অভিনন্দিত হয়েছেন। সেকারণে নন এমপিও শিক্ষকদের ধারণা দৃঢ় থেকে দৃঢ় হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি  নন এমপিও শিক্ষকদের নিকট বাস্তবতার কথাগুলো শুনেন! তাহলে তিনি মুজিব শত বর্ষেই বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, নন এমপিও থেকে সকলকে মুক্তি দেওয়ার কাজটিই বাস্তবায়ন করে আরও একটি ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। 

সে কারণেই শিক্ষকদের প্রাণের আঁকুতি, দাবী, প্রত্যাশা, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃদিপু মণি আগামী ৫ অক্টোবর ২০২০ শিক্ষক দিবসে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সকল শিক্ষকদের মুখে হাসি ফোটাবেন।

লেখক : মোকারম হোসেন 
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক 
নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 
শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন 
কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকা।



ডেল্টা টাইমস্/সিআর/জেডএইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]