শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২০ ১৪ কার্তিক ১৪২৭

কৃষি অর্থনীতির প্রাণ হলেও অবহেলিত কৃষি ও কৃষক
মোসা: হাবিবা খাতুন
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ৪:০০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

কৃষিপ্রধান এদেশের শতকরা ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এদেশের কৃষকসমাজ অবহেলিত, দরিদ্র্য,অসহায়, দিশেহারা।  দিনরাত পরিশ্রম করেও তারা ন্যায্য মূল্য পায় না।  কৃষি কাজ করে তাই তারা কৃষক কিংবা দিনমজুর  নামে পরিচিত।  এদেশের বেশিরভাগ কৃষকই ভূমিহীন।  তাদের নিজস্ব জমি না থাকায় তারা অন্যের জমিতে বর্গাচাষী, ফলে উৎপাদিত ফসলের বেশিরভাগ জমির মালিককে দিয়ে যে ফসল অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।  দু'বেলা দু মুঠো খাবার জোগাড় করা তাদের কাছে দুষ্কর হয়ে পড়ে। তাই তারা দিনের পর দিন দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হতে থাকে,মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হয়।  সারাদিন পরিশ্রম করে,রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে,জমিকে সন্তানের মতো আগলে রেখে ফসল ফলায় আর ফসলের বেশিরভাগ অংশ জমির মালিককে দিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে কৃষক।  ঋণ নিয়ে অন্যের জমি চাষ করাই ফসল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করে, এরই ফলে জীবিকা নির্বাহের কিছুই অবশিষ্ট না থাকায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে কৃষক। 
মোসা: হাবিবা খাতুন

মোসা: হাবিবা খাতুন

কৃষি প্রধান এদেশের কৃষি আদিমতম পেশা।এদেশের মানুষের শেকড় কোনো না কোনো ভাবে কৃষি ও কৃষকের সাথে সম্পর্কিত।কৃষিখাতের মাধ্যমে ৪৮.১% মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে।  মূলত এই কৃষিখাতেই সবচেয়ে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান অথচ এই খাতটিই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।  কৃষকের পরিশ্রম বাদ দিয়েও প্রতি মণ ধান বীজতলা থেকে ঘরে তুলতে প্রায় হাজার টাকার উপরে খরচ হয়।কিন্তু বিক্রি করতে হয় অর্ধেক দামে।সরকার দাম নির্ধারণ করতে অনেক দেরি করে।  কিন্তু কৃষকের তো সরকারি দাম নির্ধারণের  অপেক্ষা করলে চলেনা।  কারণ পুরো পরিবার তার উপর নির্ভরশীল।  তার এই ফসল বিক্রি করেই সংসার চলে,সন্তানদের পড়াশোনা চলে।ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে।  আর যখন সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয় তখন ফসল কৃষকের হাত থেকে  চলে আসে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের হাতে।  আবার অনেক সময় দাম নির্ধারণ করলেও সঠিক সময়ে পদক্ষেপের অভাবে কৃষকের কাছ থেকে ফসল না কিনে মহাজনের কাছ থেকে কিনে যার ফলশ্রুতিতে কৃষক তার পরিশ্রমের দাম পায় না,তার লাভের অংশ ভোগ করে মজুদদার,মহাজন ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা।  অনেক সময় কৃষক রাগে দুঃখে নিজের পাকা ফসলের জমিতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।  কৃষি প্রধান এদেশে কৃষকের এই অবস্থা কেন? মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যারা দিনরাত পরিশ্রম করে আমাদের মুখে খাবার তুলে দেয় তাদের এই অসহায় অবস্থার কি কোনোদিন উন্নতি হবে না? প্রশ্নগুলো রয়েই যায়।

এদেশের জনগণ ও অর্থনীতি কৃষি ও কৃষকের উপর নির্ভরশীল।  তাদের এই অবস্থার উন্নতি না হলে দেশের উন্নতি অসম্ভব।  তাদের ক্ষতি মানে দেশের অর্থনীতির চরম বিপর্যয়।  তাই কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে হবে,তাদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য দিতে হবে,কৃষিখাতের উন্নয়নে বাজেটে বেশি অর্থ বরাদ্দ করতে হবে,সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ফসল কিনে কৃষককে লাভবান করতে হবে,জাতীয় মনিটরিং কমিটি গঠন করে কৃষকের দুঃখ-দুর্দশা  লাঘবে পদক্ষেপ নিতে হবে,মহাজন,মজুদদার, মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের হাত থেকে বাজারকে মুক্ত করে বাজার কৃষকবান্ধব করে তুলতে হবে,অল্প সুদে ঋণ প্রদান করতে হবে,সার ও কৃষিজাত উপকরণ সহজপ্রাপ্য করতে হবে,সেচ সমস্যা দূর করতে হবে,সরকারকে সময়মতো কৃষি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে,কুচক্রী মহলের হাত থেকে সরকারকে বেরিয়ে এসে এদেশের কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে তৎপর হতে হবে।  তবেই বাঁচবে কৃষি, বাঁচবে কৃষক।  কমবে বেকারত্ব, মোড় ঘুরবে দেশের অর্থনীতির।   [মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন]

মোসা:হাবিবা খাতুন
ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 



ডেল্টা টাইমস্/মোসা:হাবিবা খাতুন/সিআর/জেড এইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], delt[email protected]