শুক্রবার ৪ ডিসেম্বর ২০২০ ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

১৩ তমদের রায় সব নিবন্ধনধারীদের জন্য আর্শিবাদ
জাহিদ হাসান
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ৫:৫৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

হ্যাঁ।  '১৩ তমদের রায় সব নিবন্ধধারীদের জন্য আর্শিবাদ' লেখার এই শিরোনামের সাথে কেউ কেউ দ্বিমত বা সহমত যেকোনটিই পোষণ করতে পারেন।  তবে, আমার ক্ষেত্রে সহমত পোষণই যেন যথার্থ মনে হয়।  এর কতিপয় যৌক্তিক কারণও রয়েছে।  ব্যাখ্যা পরবর্তী সময়ে হয়ত আমার মত অনেকেই সহমত পোষণ করবেন।  উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে গঠন করা হয়েছিল নন গর্ভনমেন্ট টির্চাস রেজিস্ট্রেশন এন্ড সার্টিফিকেশন অথরিটি (এনটিআরসিএ) ।  যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সনদ প্রদান করার।  যে সনদের মাধ্যমে দেশের বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ম্যানেজিং কমিটিকে সনদ দেখিয়ে পিয়ন, আয়া বা সহকারী শিক্ষক থেকে শুরু করে লেকচারার পর্যন্ত হওয়া যেত।  আর এই সুযোগে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষক নিয়োগের নামে মেতে ওঠেসনদ বিক্রির এক অন্তিম খেলায়।  ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত একটি বিশেষ পরীক্ষাসহ মোট ১৬টি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হয়েছে। ইতিমধ্যে আবার দেওয়া হয়েছে ১৭ তম পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আবেদনের বিজ্ঞপ্তি। 

তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় যে, এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব পরীক্ষা অভিন্ন পদ্ধতিতে এবং অভিন্ন নীতিমালায় অনুষ্ঠিত হয়নি।  কখনো সারা দেশে শূন্য পদ সাপেক্ষে নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল, কখনো বলা হয়েছিল উপজেলাভিত্তিক পদ শূন্য সাপেক্ষে।  ফলে কখনো কম নম্বর পেয়েও কেউ উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, আবার কখনো অনেক নম্বর পেয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি অনেকে।  পরীক্ষা পদ্ধতিতেও ছিল ভিন্নতা এ পর্যন্ত নেয়া ১৬ টি নিবন্ধন পরীক্ষা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কখনো শুধু লিখিত পরীক্ষা হয়েছে।  কখনো প্রাথমিক বাছাই, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ৩ ধাপেও হয়েছে।  কোনো কোনো নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করানো হয়েছে অনেক বেশী সংখ্যক প্রার্থীকে, আবার কখনো পাশ করানো হয়েছে সামান্যই।  কোনো বছর পাসের হার ছিল ৫২ শতাংশ, কোনো বছর ২ শতাংশের কম।  অর্থাৎ, বছর বছর শুধু শুধু নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ বিক্রির অবৈধ খেলায় মেতেছিল তারা।  কিন্তু, চাকরি কত জনের নিশ্চিত হয়েছে এ হিসেবের ধারে কাছেও যায়নি প্রতিষ্ঠানটি। 
১৩ তমদের রায় সব নিবন্ধনধারীদের জন্য আর্শিবাদ

১৩ তমদের রায় সব নিবন্ধনধারীদের জন্য আর্শিবাদ

অবশেষে, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান (এন আই) খান কর্তৃক নতুন গেজেট জারী করা হয়।  সেখানে বলা হয়,প্রতি বছর একটি নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে উপজেলাভিত্তিক শুন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষা নিয়ে সে অনুযায়ী প্রার্থী টিকানো হবে। যেখানে মোট প্রার্থীর সাথে অতিরিক্ত ২০% প্রার্থী টিকানো হবে (মৃত্যু, চাকরি ত্যাগ বা অবসরে যাওয়া হিসেবে। ) সে অনুযায়ী বিশাল সংখ্যক পরীক্ষার্থীদের মাঝ থেকে পিএসসির আদলে তিন ধাপে পরীক্ষা নিয়ে প্রাপ্ত শুন্যপদ অনুযায়ী টিকানো হয় মাত্র ১৭২৫৪ জনকে।  এভাবেই উত্তীর্ণদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এনটিআরসিএ।  এ গেজেট থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, উত্তীর্ণ সকলের চাকরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোন পরীক্ষার আয়োজন করবেনা এনটিআরসিএ।  গেজেট প্রণেতা নজরুল ইসলাম খান (এন আই) খান নিজেও এমনটিই বলেছেন যে এনটিআরসিএকে একটি সাবলীল পদ্ধতিতে আনতেই এই গেজেট প্রণয়ন করা)। 

এরই প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে ১৩ তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়, যা তিন ধাপে তথা প্রিলিমিনারী, রিটেন এবং ভাইভা তিনধাপে পরীক্ষা নিয়ে চুড়ান্তভাবে প্রার্থী উত্তীর্ণ করানো হয়।  তৎকালীন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান (এন আই) খান নিজেই বলেন, এই গেজেট প্রকাশের পর থেকে পরীক্ষায় যারা চুরান্তভাবে উত্তীর্ণ হবে তারা নিয়োগ পাবে কেউ তাদের বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেনা।  কিন্তু, তিন ধাপে উত্তীর্ণ হয়েও ১৩ তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ নিয়ে আবারো তালবাহানায় মাতে এনটিআরসিএ।  এর আগে ১-১২ তমদের যে রায় এসেছিল সেখানে জাতীয় মেধা তালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে বলা হয়েছিল। 

পরে, ১৩ তমে উত্তীর্ণ কিছু সংখ্যক নিবন্ধনধারী ২০১৭ সালে মহামান্য হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করেন।  অন্যদিকে, ১৩ তম বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের গেজেট ও পরিপত্র অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগের নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন।  পরে, এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টে আপিল করেন।  গত ২০২০ সালের ১২ মার্চ আপিলের রায় প্রকাশ হলে, এ রায়েও হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখা হয়েছে।  কিন্তু, এখন আবার বিভিন্ন গনমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে  রিভিউ আবেদন করার কথা বলছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এদিকে সে রিভিউয়ের সময়ও ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। 

কিন্তু,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন বলছে তারা ১-১২ তম রায়ে এবং ১৩ তমদের রায়ে দুই ধরণের নির্দেশনা পাওয়ায় কোনটি মানবে তা নির্ধারণে একটি আবেদন করেছে। যদিও একথাগুলোকে আইন বোদ্ধাদের কাছে হাস্যকর বলেই মনে হয়। কারণ, ১-১২ তমদের গেজেট ভিন্ন আবার ১৩ থেকে তৎপরবর্তীদের গেজেট ভিন্ন তাহলে রায় দুইভাবে হওয়া একদম স্বাভাবিক ঘটনা। আরো সহজ করে বললে বলা যায়, একটি হলো হাইকোর্ট বিভাগের রায় আরেকটি আপিল বিভাগের রায়। আরো সহজ কথা হলো কোন রায়কেই অবজ্ঞা করার কিছু নেই। যার যেমন রায় তাদেরকে সেভাবে নিয়োগ দিলেই মিলবে এর সুস্পষ্ট সমাধান। আর আদালতের যেখানেই আবেদন দাখিল করা হোক না কেন সেখান থেকেও এমন সিদ্ধান্তই আসবে এটিই যুক্তিযুক্ত। 

উক্ত আবেদনটি রিভিউ আবেদন কিনা বা রিভিউ কত দিনের মধ্যে করা যায়? এ নিয়েও নিবন্ধধারীদের মাঝে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আইনপ্রণেতাদের ভাষ্যমতে, সচরাচর রায় প্রকাশের এক মাসের মধ্যে রিভিউ আবেদন হয়ে থাকে। তবে ডিলে আবেদন জমা দিলে যেকোন সময় সেটা করা যায়। তবে, ১৩ তমদের ক্ষেত্রে ঘটনাটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। কারণ, তাদের হাইকোর্টে পাওয়া এ্যাবসলিউট রায়ে ৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগদানের কথা ছিল। আর তাই তাদের ক্ষেত্রে ডিলে আবেদন দিলেও ৬০ দিনের মধ্যেই একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবে কর্তৃপক্ষকে। আর এ সিদ্ধান্ত কিন্তু নিতে হবে গেজেট বাস্তবায়নের নিমিত্তেই। সেক্ষেত্রে ১৩ তম পরবর্তীদের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে কর্তৃপক্ষকে। আর অন্যদিকে ১-১২ তমদেরকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগদানের কথাও আছে তাদের রায়ে। 
 

গত জানুয়ারী মাসের হিসেবে এনটিআরসিএতে শুন্যপদ জমা পড়েছে ৫৭ হাজারের অধিক। আর ফেব্রুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবসর, জাল সনদ, মৃত্যু ইত্যাদিতে আরো কমপক্ষে ৩০ হাজার পদের সৃষ্টি হয়েছে। 

এনটিআরসিএর ওয়েব সাইটে দেয়া জাতীয় মেধা তালিকার দিতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সনদধারী প্রার্থীর সংখ্যা ৬ লক্ষাধিক। সেখান থেকে, কমিটির মাধ্যমে, গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনেকেই চাকরী পেয়েছে।  কেউ কেউ অন্যান্য সরকারী চাকরীতে কর্মরত আছে।  আবার ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালার ভিত্তিতে অনেকের আবেদনের বয়সও শেষ হয়েছে। আবার অনেক নিবন্ধনধারীদের রয়েছে একাধিক সনদ। সে হিসেবে চাকরী প্রার্থী সংখ্যা এখন ১ লাখ ১৫ হাজারের অধিক হবেনা।  সে মোতাবেক দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালত থেকে পাওয়া ১৩ তমদের রায় বাস্তবায়ন করে এবং  ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালানূযায়ী সনদধারীদের চাকরী দিলে চাকরীর বাইরে থাকবে খুবই অল্প সংখ্যক প্রার্থী।  তাদের চাকরী নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আর কোন পরীক্ষা না নিলেই হবে এর সমাধান। আর ১৩ তমদের  (গেজেট), রায়ের মেরিট অনুযায়ী সরল সমাধানের দিকে যেতে বাধ্য হবে প্রতিষ্ঠানটি। অতএব বলা যায়, ১৩ তমদের রায় সকল নিবন্ধনধারীদের জন্য আর্শিবাদ। 

শিক্ষাবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিবন্ধনধারীদের অনুরোধ, যে উদ্দেশ্য নিয়ে এনটিআরসিএ’কে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল আপনি তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিন। এবং আর কোন নিবন্ধনধারী হবু শিক্ষকদের যেন আদালতে দারস্থ না হতে হয় ২০১৫ সালের সর্বশেষ গেজেট বাস্তবায়ন করে সেটা নিশ্চিত করুন। 

মেধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ অর্জন করুন, সেই সনদে ঝামেলাহীনভাবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিন ।  এই স্লোগানকে ধারণ করেই চলুক এনটিআরসিএর পরবর্তী দিনের কার্যক্র। 



লেখক-সাংবাদিক, কলামিস্ট। 


ডেল্টা টাইমস্/জেডএইচ/সিআর

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], delt[email protected]