বুধবার ২৫ নভেম্বর ২০২০ ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছেড়েছে মা ইলিশ
মনিরুল ইসলাম মনির, মতলব উত্তর (চাঁদপুর) :
প্রকাশ: শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০, ৫:২২ পিএম আপডেট: ২১.১১.২০২০ ৫:৪৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মাছের রাজা ইলিশ। এর চাহিদাও ব্যাপক। প্রতি বছর প্রজনন মৌসুমে তাই মা ইলিশ রক্ষায় সতর্ক নজরদারি করে আসছে প্রশাসন ও সরকারি সংস্থা কোস্টগার্ড। মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় জেলার নদীগুলোকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সরকার।
রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছেড়েছে মা ইলিশ

রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছেড়েছে মা ইলিশ


চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে চলা ২২ দিনের মা ইলিশ অভয়াশ্রম কার্যক্রমে ৫১.২ পার্সেন্ট মা ইলিশ নদীতে ডিম ছেড়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান।
তিনি জানান, অভয়াশ্রমের সময়টাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অভিযান সফল হওয়ায় এ বছর নদীতে রেকর্ড পরিমাণে ডিম ছেড়েছে মা ইলিশ। আগামী মৌসুমে নতুন করে আরও প্রায় ৩৭ হাজার ৮শ’ কোটি ইলিশের পোনা (জাটকা) নদীতে উৎপন্ন হবে বলে আশা করি। কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে পারলে আগামীতে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী এই ইলিশ গবেষক।

ইলিশ গবেষক জানান, আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমা ও অমাবশ্যাকে কেন্দ্র করে নদীতে ডিম ছাড়ে মা ইলিশ। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময়টাতে নদীতে মাছ ধরা, পরিবহণ, বাজারজাতকরণ সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। মৎস্য বিভাগ প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও পুলিশের সহায়তায় মাছেদের অভয়াশ্র নিশ্চিতে কাজ করেছে। তবুও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক অসাধু জেলে এই সময়ে ইলিশ নিধন করেছে।

ড. আনিস বলেন, ইলিশ মাছ পরিভ্রমণ স্বভাবের। প্রজননের সময়টাতে ইলিশ সাগর ছেড়ে সাগর মোহনা ও নদ-নদীতে ছুটে আসে। প্রজননের মৌসুমে ইলিশের অভয়াশ্রম কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে প্রতি বছর দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছর সঠিক সময় ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করায় এবং নদীতে ভালো অভিযান হওয়ায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার সর্বোচ্চ পরিমাণে ইলিশ ডিম ছেড়েছে।
তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোর দিকে নজর দিলে দেখা যায় প্রতি বছরই মা ইলিশের ডিম ছাড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬ সালে ৪৩.৪৫ ভাগ, ২০১৭ সালে ৪৬.৪৭ ভাগ, ২০১৮ সালে ৪৭.৭৫ ভাগ এবং ২০১৯ সালে ৪৮.৯২ ভাগ ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। এ বছর ৫১.২ ভাগ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২ ভাগেরও বেশি ইলিশ ডিম ছেড়েছে। মৎস্য গবেষকদের ৩টি গ্রুপ যৌথভাবে কাজ করে এই ফলাফল নিশ্চিত করেছেন বলে জানান তিনি।

ড. আনিস বলেন, এ বছর যে পরিমাণে ডিম ছেড়েছে তার ১০ পারসেন্টও টিকানো গেলে আগামী মৌসুমে প্রায় ৩৭ হাজার ৮শ’ কোটি জাটকা পেতে চলছি আমরা। আগামী মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে অভিযান সফল করা গেলে দেশ ইলিশের প্রাচুর্যে ভড়ে উঠবে। এ বছর দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫ লক্ষ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী জানান, ২২ দিনব্যাপী মা ইলিশ অভয়াশ্রম কার্যক্রম সফল করতে জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও পুলিশ বিভাগের সহযোগিতায় আমরা দিন-রাত নদীতে টহল দিয়েছি। তাছাড়া এবারই প্রথম মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে বিমান বাহিনী হেলিকপ্টারযোগে ও র‌্যাব ট্রলারযোগে নদীতে অভিযানে যোগ দিয়েছে। সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে এ বছর অভিযান সফল হয়েছে। তার পরেও কিছু অসাধু জেলে নদীতে ইলিশ ধরেছে।



ডেল্টা টাইমস্/সি আর/এস এ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]