সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ৪ মাঘ ১৪২৭

মানবাধিকার এবং বিদ্বেষ ও বৈষম্য
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২১, ৫:১০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত প্রসঙ্গ মানবাধিকার। স্মরণাতীত কাল থেকে এ অধিকারের মীমাংসায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সর্বত্র মানুষ আন্দোলন, লড়াই, আত্মোৎসর্গ করেছে। ত্রয়োদশ শতাব্দীর ম্যাগনাকার্টা থেকে শুরু করে ফরাসি বিপ্লব।এবং আমেরিকার পথ ধরে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ সনদে এসে একটা মোটামুটি পরিণতিতে পৌঁছেছে এ লড়াই মানুষ পেয়েছে তার আত্মমর্যাদা, মৌলিক মানবিক অধিকারের একটা চলনসই স্বীকৃতি।এর পরেও ষাটের দশক হয়ে সত্তরের দশক পর্যন্ত এ সনদেও হয়েছে অনেক সংযোজন। কিন্তু বর্তমান সভ্যতার চিত্র অন্য রকম। এখন তো রাজনীতিবিদরা দেশের শাসক হতে শুধু এগিয়েই আসেন না, ক্ষমতা পেতে বৈধ-অবৈধ সব কৌশল অবলম্বন করেন। আর এমন কৌশলে একবার নয়, বারবার ক্ষমতায় আসতে চান। ফলে প্রশ্ন জাগে, ক্ষমতা কার জন্য, কিসের জন্য? আমাদের উপমহাদেশে রাজনীতির রূপটা একসময় বেশ উজ্জ্বল ছিল। মানুষ তখন বিশ্বাস করতো, নেতারা দেশের স্বাধীনতার জন্য, গণমানুষের মুক্তির জন্য কাজ করছেন। ক্রমেই সেই বিশ্বাস দুর্বল হতে লাগলো। মানুষ এখন রাজনীতিবিদদের বক্তব্যক কথামালা হিসেবে অবজ্ঞা করে থাকে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সুশাসনের আকাক্সক্ষায় অনেকেই পাশ্চাত্যের উদাহরণ টেনে কথা বলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সেই পাশ্চাত্যের রূপটাই বা কেমন? মানুষ তো অনেক দিন ধরেই পাশ্চাত্যের দ্বৈতনীতি লক্ষ্য করে আসছে। কিন্তু তার ফলাফলে কোন ভিন্নতা আজও পুরণ হয়নি মানবাধিকারের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত।

মানবাধিকারের অন্যতম অংশ ভোটাধিকার এবং স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথাও তাতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের নিজের নির্বাচন এবার যেভাবে বিতর্কিত হচ্ছে, তাতে অন্য দেশের সমালোচনা ভবিষ্যতে কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বস্তুত, মানবাধিকারের অনেক বিষয়ে ওবামা প্রশাসনের নেওয়া কিছু সংস্কার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্টে দিয়েছেন। ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর অভিষেকের সময় বিশ্বের নানা প্রান্তে সিআইএর অঘোষিত গোপন বন্দিশালাগুলো বন্ধ করা ও হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওয়াটারবোর্ডিংয়ের মতো নিষ্ঠুর নির্যাতন নিষিদ্ধ করেছিলেন। তিনি গুয়ানতানামোর বন্দিশিবির তাঁর মেয়াদকালেই বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁর আট বছরের শাসনকালে গুয়ানতানামো বন্ধ হয়নি, কিন্তু গোপন বন্দিশালা ও নিষ্ঠুর নির্যাতন বন্ধ হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াটারবোর্ডিং আবারও ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন, তবে কতটা পেরেছেন তা স্পষ্ট নয়। বৈষম্যমূলক নানা পদক্ষেপ নিয়ে, বিদ্বেষ ও ঘৃণার প্রসারে উৎসাহ দিয়ে তিনি নতুন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। যেমন কয়েকটি মুসলিম দেশের ভ্রমণ কারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধকরা, অভিবাসনকামীদের প্রতি কড়াকড়ি, অভিবাসীদের সন্তানদের মা-বাবাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা,ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনকারীদের দমনে বাড়াবাড়ি রকমের শক্তি প্রয়োগ ইত্যাদি। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের দিকে যখন সবার নজর, ঠিক তখনই ১১০টি দেশের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জাতিসংঘ ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যালোচনায় অনেক অস্বস্তিকর পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।
 রায়হান আহমেদ তপাদার

রায়হান আহমেদ তপাদার


চলতি বছরের নয় নভেম্বর জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে দেশটির এই সর্বজনীন পর্যালোচনা বা ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে বর্ণের ভিত্তিতে কাঠামোগত বৈষম্যের বিষয়টি। বর্ণ, ধর্ম এবং নারী-পুরুষভেদে বৈষম্য, বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী বক্তব্য প্রচার, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, সহিংসতা এবং অভিবাসীদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, বিক্ষোভ দমনে পুলিশের শক্তি প্রয়োগ এবং সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকি তৈরির বিষয়গুলোও বাদ যায়নি। এই ফোরামে জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা কথিত সন্ত্রাসবিরোধী বৈশ্বিক লড়াইয়ের সময়ে মানবাধিকার ও মানবিক আইনগুলো লঙ্ঘনের প্রশ্নে দায়মুক্তির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মুসলিমপ্রধান ও মুসলমান সংখ্যালঘু দেশগুলোতে যা ঘটছে, তাতে মুসলিম-আমেরিকানদের অনুভূতি বাইডেন অনুভব করেন জানিয়ে এতে বলা হয়েছে যে চীনের শিনজিয়াংয়ে বন্দিশিবিরগুলোতে যাঁরা আটক আছেন, তাঁদের বিষয়ে তিনি কথা বলবেন। যেসব কোম্পানি এসব উইঘুর মুসলমানদের নিপীড়নের সহযোগী তাদের বিরুদ্ধেও তিনি ব্যবস্থা নেবেন। মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুর নিপীড়ন এবং পদ্ধতিগত বৈষম্যকে জঘন্য অভিহিত করে তিনি বলেছেন এগুলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে। নির্বাচনের আগে ও পরে বিজয়ী জো বাইডেন এসব বিষয়ে পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেছেন।

জো বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম ভ্রমণকারীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং অভিবাসী সন্তানদের মা-বাবার সঙ্গে মিলিত হওয়ার ব্যবস্থা নেবেন। তাঁর নির্বাচনী ঘোষণায় আলাদা করে ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলার কথা আছে। মুসলিম-আমেরিকান সম্প্রদায়ের জন্য জো বাইডেনের অ্যাজেন্ডা শীর্ষক রচনায় তিনি মুসলিম আমেরিকানদের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার গুলো সুরক্ষার কথা বলেছেন। বলেছেন, তিনি এমন আইন করতে আহ্বান জানাবেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রশাসন এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিতে না পারে। বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সব সম্পর্কের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে আবারও স্থান দেওয়া হবে ঘোষণা করে এই কর্মসূচিতে তিনি তাঁর মেয়াদের প্রথম বছরেই গণতন্ত্রবিষয়ক এক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের কথা বলেছেন। প্রতিটি দেশে তাদের মানবাধিকারের সংজ্ঞা এক রকম, আর বিদেশে অন্যরকম। আর তাদের মননে যে এখনো বর্ণবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বহমান রয়েছে, তাতো অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রকাশিত ঘটনাবলীই তার বড় প্রমাণ। পাশ্চাত্যের মুখোশও ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়ে পড়ছে। কিছুদিন আগে আমরা বৃটেনের রাজনীতিতে টালমাটাল চিত্র লক্ষ্য করেছি, আর এখন দেখার মতো বিষয় হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের নাগরিকদের মানবাধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্যোগ নেয়। সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম জাতিসঙ্ঘ। বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রই জাতিসঙ্ঘের সদস্য।

মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের যে সব দলিল রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ১৯৪৮ সালে ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকার দলিল। এ দলিলে ৩০টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।এ দলিলে যে সব অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে প্রতিপালনে নিশ্চয়তা দিতে বলা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো-ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য না করার অধিকার; জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তি নিরাপত্তার অধিকার; দাসত্বের শিকল থেকে মুক্তির অধিকার। এমনকি সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার; পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতার অধিকার এবং কোনো প্রকার বৈষম্যভেদে সমকাজের জন্য সমমজুরির অধিকার; নিজ স্বার্থ সংরক্ষণে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যোগদানের অধিকার; অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবন ধারণের মৌলিক উপকরণগুলোর অধিকার প্রভৃতি। কিন্তু বর্তমানেে তার বাস্তবতা ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার অনেক দিনের চাহিদা বলেও এতে বলা হয়েছে। দেশে-বিদেশে সৌদি আরবের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত মেনে নেওয়ার’ সমালোচনা করে বাইডেন মিত্র এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সবার সঙ্গে মানবাধিকারের বিষয়ে কঠোর হওয়ার কথা বলেছেন। ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধের কথাও আছে তাঁর এই ঘোষণায়। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আবারও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে উদ্যোগী হবেন জানিয়ে বাইডেন ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ এবং পশ্চিম তীর দখলে নেওয়ার বিরোধিতার কথা বলেছেন।

এছাড়া পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট সেবা আবারও শুরু করা এবং আবারও ফিলিস্তিনিদের সাহায্য চালু করার অঙ্গীকার করেছেন। ভারত সরকারের কাশ্মীরে সব মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া উচিত উল্লেখ করে বাইডেন বলেছেন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে না দেওয়া, ভিন্নমত প্রকাশে বাধা দেওয়া এবং ইন্টারনেট বন্ধ রাখা বা তার গতি কমিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। আসামে নাগরিকদের জন্য জাতীয় রেজিস্ট্রার বাস্তবায়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং নাগরিকত্ব আইন সংশোধনে বাইডেন হতাশ হয়েছেন। এবং তিনি বলেছেন,বহু জাতিগোষ্ঠী এবং বহু ধর্মীয় গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা এবং দেশটির ধর্মনিরপেক্ষতার দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে এসব পদক্ষেপ সংগতিপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে যেসব পরিবর্তনের কথা তিনি মুসলিম-আমেরিকানদের উদ্দেশে ঘোষণা করেছেন, প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী যাঁদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই, তাঁদের বৈধতা দেওয়া এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বছরেই বৈধভাবে সোয়া লাখ অভিবাসনকামীকে অভিবাসনের সুযোগ দেওয়া। এসব পরিবর্তনের কতটা তিনি কার্যকর করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। বিশেষত, ওবামা প্রশাসনের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে তিনি এগুলোর জন্য কতটা ভূমিকা রেখেছেন, সেই রেকর্ডও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। তবে এবার তিনিই মূল ভূমিকায়। সুতরাং অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হলে তার দায় তাঁকেই নিতে হবে।

(প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, ডেল্টা টাইমস্ কর্তৃপক্ষের নয়।  লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার ডেল্টা টাইমস্ কর্তৃপক্ষ নেবে না। )


লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট
[email protected]





ডেল্টা টাইমস্/রায়হান আহমেদ তপাদার

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]