বুধবার ৩ মার্চ ২০২১ ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

জৈষ্ঠ্য নয় পৌষ মাসেই মধুফল
বগুড়ার শেরপুরে বারোমাসি আম চাষে শিক্ষিত তিন বন্ধুর ভাগ্য বদল
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১, ৫:৪৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

জৈষ্ঠ্যের মধু মাসের মধুফল আম যদি পৌষের শিশিরে ভেজা মৌসুমে থাকে আর শীতের সকালে থোকা থোকা কাঁচা আম গাছে ঝুলতে দেখা যায় তাহলে কপালে তো একটু ভাজ পরবেই। এমন খবরে চোখ কপালে উঠলেও এটাই সত্য যে, বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বারোমাসি আম চাষ শুরু হয়েছে। ৩ বন্ধু মিলে প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে ৯ হাজারের মত বারোমাসি আমের চারা লাগিয়ে ফল পেতে শুরু করেছেন। এই বারোমাসি আমে চাষ করেই ভাগ্য বদলাতে চান তিন বন্ধু। চলমান তীব্র শীতেও আম পাওয়ায় ওই বাগানে বারোমাসি আম দেখতে ভীড় করছে সাধারণ মানুষ।
বগুড়ার শেরপুরে বারোমাসি আম চাষে শিক্ষিত তিন বন্ধুর ভাগ্য বদল

বগুড়ার শেরপুরে বারোমাসি আম চাষে শিক্ষিত তিন বন্ধুর ভাগ্য বদল

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের মাগুড়ারতাইর গ্রামে প্রায় ৪০ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে একটি মিশ্র ফলের বাগান। এরমধ্যে ১৮ বিঘা জমিতে বারোমাসি আমের চারা লাগানো হয়েছে। বাগানে প্রায় ৯ হাজার আমের গাছ রয়েছে। সেসব গাছে গাছে এখন শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল । আবার কোন কোন গাছে ঝুলছে আম। বারোমাসি এই আম বাগানটি গড়ে তুলেছে তিন বন্ধু মামুন রশিদ, সোহেল রেজা ও শহিদুল। এদের মধ্যে মামুন ও সোহেল মাস্টার্স এবং শহিদুল এইচএসসি পাশ করেছেন।

ফলচাষী ওই তিন বন্ধু জানান, বিগত ২০০৫ সালে ছোট পরিসরে নিজেদের ৫ বিঘা জমির উপর বাগানটি গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতের আরো ২০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বাগানের পরিসর বাড়ানো হয়। ওই বাগানে প্রায় ১৫ হাজার রকমারী ফলের গাছ রয়েছে। এর মেধ্য বারোমাসি আম কার্টমনও বারি-১১, মাল্টা, পিয়ারা ও কুল বড়ই রয়েছে। অন্যান্য ফলের উৎপাদন ভাল হলেও বারোমাসি আম বিক্রিতে ব্যস্ত রয়েছে তারা। অসময়ে পাওয়া এই ফলের চাহিদাও বাজারে অনেক বেশী। তাই বগুড়া জেলা ছাড়াও আশেপাশের জেলাগুলোতেও পাইকারী ৫০০ টাকা দরে এই আম বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান শহিদুল ।

ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই লাখ টাকার আম বিক্রি করা হয়েছে। আরো অনেক আম এখনো বাগানে রয়েছে। সবমিলে ভালই লাভ হচ্ছে এবং দ্বিতীয় দফার বড় বন্যা না হলে এই বাগান থেকে বড় অংকের টাকা আয় করা যেত বলেও জানান সোহেল।

উদ্যেক্তাদের একজন মামুনুর রশিদ বলেন, আমি একজন কৃষকের সন্তান। তাই ছোট বেলা থেকেই কৃষি কাজের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল ব্যাপক। কৃষি সম্প্রসারণের পক্ষ থেকে দেশ সেরা কৃষক হিসেবে নির্বাচিত করে আমাকে থাইল্যান্ডে ফুড প্রডাকশন ও ম্যানেজমেন্টের উপর প্রশিক্ষন নিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে দেশে আসি। সোহেল রেজাও বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি থেকে বারোমাসি আম চাষের উপর প্রশিক্ষন নেয়। আর শহিদুল জীবিকার তাগিদে মালেশিয়ায় গেলেও ২০০১ সালে দেশে ফেরে। পরবর্তীতে আমরা তিন বন্ধু বিভিন্ন নার্সারী থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজেদের ৫ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলি। এরপর আরো জমি লিজ নিয়ে এ পর্যন্ত এসেছি। এখন আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবেনা বলে আশা করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন আক্তার বলেন, বারোমাসি আম চাষীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। বারোমাসি আম চাষ করে যেমনিভাবে বেকারত্ব ঘোচানো সম্ভব, আবার এর দ্বারা অনেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীও হয়েছেন। আমাদের দপ্তর থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। যদি অন্য কেউ বানিজ্যিকভাবে মিশ্র ফলের চাষ করতে চায় তাদেরকেও একইভাবে সহযোগিতা করা হবে। শিক্ষিত তিন বন্ধুর এই মিশ্র ফলের বাগানটি দেশের মডেল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।





ডেল্টা টাইমস্/শহিদুল ইসলাম শাওন/সিআর/জেডএইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]