রোববার ১১ এপ্রিল ২০২১ ২৭ চৈত্র ১৪২৭

নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার না হলে সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১, ৬:২১ পিএম আপডেট: ০২.০৩.২০২১ ৬:২৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার না হলে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। আজও এ কথার পুনরাবৃত্তি করতে চাই—নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংস্কার না হলে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট সব মহলের ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার না হলে এখন যে ধরনের নির্বাচন হচ্ছে, তার মান আরও নিম্নগামী হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

মঙ্গলবার (২ মার্চ) জাতীয় ভোটার দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে নির্বাচন কমিশনের মিলনায়তনে আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে, চট্টগ্রামের রাউজান পৌর নির্বাচনে মেয়র ও ১২ জন কাউন্সিলের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া। ফলে রাউজান থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তখন তুলে নেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার না হলে সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়

নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার না হলে সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়

তিনি বলেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারি রাউজানে সকলেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এটাকে নির্বাচন না বলে মনোনয়ন বলাই সম্ভবত অধিকতর সঙ্গত। সারা দেশে যদি এই মডেলে সবাই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধি হতে পারেন, তাহলে নির্বাচনের আর্থিক সাশ্রয় হয় এবং সহিংসতা ও হানাহানি থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এতে নির্বাচন কমিশনের দায়-দায়িত্ব তেমন থাকবে না। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের আর প্রয়োজন হবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘একসময় আমি বিভিন্ন কারণে ইভিএম বা ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের বিরোধী ছিলাম। কোনো প্রস্তুতি ব্যতিরেকে ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতি ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আপত্তি করেছি। বর্তমানে প্রধানত দুটি কারণে আমি ইভিএমে ভোট গ্রহণে আগ্রহী। প্রথমত, ইভিএমে ভোট হলে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ সম্ভব হয় না। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন কেন্দ্রে শতভাগ ভোট কাস্ট হওয়ার বিড়ম্বনা থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২১৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে আমরা যা দেখেছি।’

‘ইভিএমে ভোট হলে ভোটারের উপস্থিতি ও ভোটের পরিসংখ্যান আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। বিগত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ২৫.৩৪ শতাংশ ও ২৯.০৭ শতাংশ। সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট পড়েছে সাড়ে ২২ ভাগ মাত্র। এত কম ভোটে আমরা রাজধানী ঢাকার দুজন ও চট্টগ্রামের একজন নগরপিতাকে নির্বাচিত করেছি, যার নজির নিতান্ত বিরল,’ বলেন মাহবুব তালুকদার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহার করে আমরা সর্বত্র ভোট জালিয়াতি, কারচুপি, কেন্দ্র দখল ইত্যাদি অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়েছি, এমন দাবি আমি অন্তত করি না। কিন্তু ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নিরসন করার উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। নির্বাচনবিষয়ক অনিয়ম ও অভিযোগ যথাযথভাবে আমলে না নেওয়ায় আমরা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারি। ভবিষ্যতে ব্যালট ও ইভিএম উভয় পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ, একই নির্বাচনে দুটি পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে ভোট দেওয়ার হারে অনেক তারতম্য হয়। ভোট গ্রহণে এ ধরনের বৈষম্য কাম্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘এ কথা ধ্রুব সত্য যে, নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রে উত্তরণের একমাত্র পথ। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশীদারমূলক ও গ্রহণযোগ্য না হলে ক্ষমতার হস্তান্তর স্বাভাবিক হতে পারে না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য না হলে দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক অস্থিরতা ও ব্যক্তির নৈরাশ্য বৃদ্ধি পায়। এর ফলে নৈরাশ্য থেকে নৈরাজ্য সৃষ্টি হওয়ায় আশঙ্কা আছে। নৈরাজ্যপ্রবণতা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের জন্য মোটেই কাম্য নয়। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নির্বাচন কমিশনের ওপর সাংবিধানিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারলে আমরা গণতন্ত্র অস্তাচলে পাঠানোর দায়ে অভিযুক্ত হব।’

‘বর্তমানে আমরা দেশব্যাপী পৌরসভা নির্বাচনের প্রায় শেষ পর্যায়ে আছি। এপ্রিল মাস থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে। স্থানীয় নির্বাচনগুলোর গতিপ্রকৃতি দেখে আমার ধারণা হচ্ছে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনে যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও ভারসাম্য রক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল, তা হচ্ছে না। এককেন্দ্রিক নির্বাচনে স্থানীয় নির্বাচনের তেমন গুরুত্ব নেই। নির্বাচনে মনোনয়ন লাভই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় নির্বাচনেও হানাহানি, মারামারি, কেন্দ্র দখল, ইভিএম ভাঙচুর ইত্যাদি মিলে এখন একটা অনিয়মের মডেল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা হলেও অসংখ্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা দুর্ঘটনা মিলে এক ধরনের অবিচ্ছিন্নতা তৈরী হয়, যা নির্বাচনের অনুসঙ্গ হিসেবে রূপ লাভ করে।’

ভোটার দিবস বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ভোটার দিবস উপযাপন একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবীন ভোটারদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি এই দিবসটিকে গৌরবান্বিত করেছে। আমি নতুন ভোটারদের অভিনন্দন জানাই।’





ডেল্টা টাইমস্/সিআর/জেড এইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]