মঙ্গলবার ১৮ মে ২০২১ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

জরুরি সেবার চার্জ প্রতিবন্ধীদের জন্য মওকুফ করুন
মো: মোশারেফ হোসেন ফাহাদ
প্রকাশ: সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১, ৩:৩৫ পিএম আপডেট: ০৫.০৪.২০২১ ৩:৩৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বয়স, লিঙ্গ, জাতি, সংস্কৃতি বা সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী আর দশজন যে কাজগুলো করতে পারে ইমপেয়ারমেন্টের কারণে সে কাজগুলো প্রাত্যহিক জীবনে করতে না পারার অবস্থাটাই হল ডিসএবিলিটি বা প্রতিবন্ধিতা৷ বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন, ২০০১-এ বলা হয়েছে যে, " প্রতিবন্ধী অর্থ এমন এক ব্যক্তি যিনি জন্মগতভাবে বা রোগাক্রান্ত হয়ে বা দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বা অপচিকিৎসায় বা অন্য কোনো কারণে দৈহিকভাবে বিকলাঙ্গ বা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন এবং উক্তরুপ বৈকল্য বা ভারসাম্যহীনতার ফলে স্থায়ীভাবে আংশিক বা সম্পুর্ণ কর্মক্ষমতাহীন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে অক্ষম"। আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধীরা অবহেলিত ও অসহায়। অনেকে প্রতিবন্ধীদের প্রতি অতিরিক্ত সদয় দেখাতে গিয়ে তাদের বিরক্তির কারণ হয়। এই ব্যপারে আমাদের আরেকটু সচেতনতামূলক আচরন করা দরকার।

জরুরি সেবার চার্জ প্রতিবন্ধীদের জন্য মওকুফ করুন
প্রতিবন্ধীদেরকে পরিবার তাদের বোঝাই মনে করে থাকে। কিন্তু প্রতিবন্ধী মানে তো প্রতিভাবন্ধী নয় কিংবা সৃজনশীলতাবন্ধী নয়। তবুও আমরা যদি লক্ষ করি আমাদের দেশের বেশিরভাগ প্রতিবন্ধীই অসহায় ও কর্মহীন। একটি পরিবার প্রতিবন্ধী মানুষটিকে নিয়ে যখন সমাজের কানাচোখার দায়ে বিপাকে থাকে, তার উপর বেকার প্রতিবন্ধী মানুষটির পিছনে নানান খরচ। এক্ষেত্রে তার চিকিৎসা খরচটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একে তো প্রতিবন্ধী মানুষটি কাজে অক্ষম অন্যদিকে তার পিছনে পরিবারের এতো খরচ, কার্যতই প্রতিবন্ধী মানুষটিকে তার পরিবার বোঝাই মনে করে। 

গত ৮ মার্চ, কেরানীগঞ্জ ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনা- প্রতিবন্ধী নারীকে ভাড়া না দেয়ায় বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। কাজে অক্ষম নারীটি ভাড়া কোথায় থেকে দিবে। আমরা যদি লক্ষ করি, এভাবে অন্যান্য সেবা খাতেও প্রতিবন্ধীদের থেকে সাধারণ মানুষের মতোই চার্জ গ্রহন করা হয়। এমনকি সরকারি বিভিন্ন জরুরি সেবাগুলো পেতেও প্রতিবন্ধীদের চার্জ প্রদান করতে হয়। অন্যদিকে কোনো কর্মের ব্যবস্থা ছাড়া এবং কাজে অক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিটি কোথায় থেকে এসব চার্জ প্রদান করবে?

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে। এবং সে সময় বিভিন্ন কর্মসূচি ও লক্ষ্য স্থির করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, প্রতিবন্ধীদের প্রতি সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার পূরণ। আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত। প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তকরণ। সরকার সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করলেও এখনো সমাজে প্রতিবন্ধীদের সামাজিক উন্নয়নের অগ্রগতি হয় নি। আমরা যদি লক্ষ্য করি এই সমাজের কিছু মানুষ এতোটাই নিকৃষ্ট যে শুধু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিটিকেই উপহাস করে ক্ষান্ত হয় না, তার পরিবারেকেও উপহাস করে থাকে। 

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে যথাযথ চিকিৎসার অভাব। ২০১৩ সালের প্রণীত প্রতিবন্ধী আইনে স্বাস্থ সুরক্ষা ও অধিকারের বিষয়টি স্পষ্টত উল্লেখ আছে। কিন্তু প্রতিবন্ধীদের শিশুদের সহায়ক উপকরণ, যাবতীয় ওষুধ ও থেরাপি এসব সেবা গুলো জেলা, উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত নয়। সরকারকে প্রতিবন্ধীদের সকল প্রকার চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনা খরচের আয়তায় আনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। এবং জেলা পর্যায়ের হসপিটাল গুলোতে প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা ইউনিট তৈরি করতে হবে। ২০১১ সাল থেকে সরকার স্কুল ফর চিল্ড্রেন উইথ অটিজম নামে প্রতিবন্ধীদের জন্য স্পেশাল স্কুল চালু করলেও তা বিভাগীয় শহর গুলোর বাহিরে খুবই নগন্য। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের এই স্পেশাল স্কুল চালু করতে হবে। এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য শিক্ষা ও শিক্ষা উপকরণসমূহ সম্পূর্ণ বিনা খরচে প্রদান করতে হবে। গণপরিবহন গুলোতে প্রতিবন্ধী মানুষেরা সর্বদা অবহেলার স্বীকার হয়। বিশেষ করে যানবাহনে প্রতিবন্ধীদের ভাড়া মওকুফ করার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। যানবহনে উঠা নামার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের প্রতি যাতে সদয় দৃষ্টি প্রদান করতে যানবাহন সংলিষ্টদের বাধ্য করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে এই ব্যাপারে অধিক সচেতন থাকা অত্যাবশকীয়। দেশের সকল অফিস আদালতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াত সহজ করা ও অফিস আদালতের জরুরী সেবাগুলো প্রতিবন্ধীদের জন্য ফ্রী করে দেয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি। বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে তাদের জন্য বিশেষ কর্মের ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। যা খুবই প্রশংসনীয়। কিন্তু তা খুবই সীমিত। এ ব্যাপারে সরকারের আরো সুদৃঢ় দৃষ্টি প্রদান করতে হবে। যাতে করে গ্রাম থেকে শহর সবখানে প্রতিবন্ধীরা কর্মের সাথে লিপ্ত হয়ে সমাজের বোঝা না হয়ে নিজেদের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ প্রতিবন্ধী। তাই বিশাল এই অংশকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন কখনো সম্ভবপর হয়ে উঠবে না। প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি ব্যাংক গুলোতে আলাদা ইউনিট তৈরি করে তাদের কে বিনা সুদে ঋণ প্রদান করতে হবে। ঋণের টাকা দিয়ে তাদের বিভিন্ন ব্যবসায় সুযোগ প্রদান করে দিয়ে তাদের সক্ষমতা অর্জনে সাহায্য করতে হবে। সরকারি বিভিন্ন চাকরি ক্ষেত্রে যেসব পোস্ট গুলোতে প্রতিন্ধীরা চাকরি করার সক্ষমতা রাখে। সেসব পোস্ট গুলোতে প্রতিবন্ধীদের জন্য অগ্রাধিকার প্রদান করা জরুরি। 

আইন মানুষকে বাহ্যিকভাবে দমন করেলেও কার্যত মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারে না। তাই আইন গঠন করে সমাজে প্রতিবন্ধীদের উপর যে অবহেলা তা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমাজের সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি। এক্ষেত্রে সংবাদপত্র, টিভি মিডিয়া, নাটক ইত্যাদি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবে। বর্তমানে প্রতিবন্ধীদের প্রতি করুণা না দেখিয়ে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।


লেখক : শিক্ষার্থী, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়




ডেল্টা টাইমস্/মো: মোশারেফ হোসেন ফাহাদ/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]