মঙ্গলবার ১৮ মে ২০২১ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

আফগান সংকট এবং বিশ্ব সম্প্রদায়
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১, ১১:০৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ

আফগান শান্তি আলোচনার বিষয়ে মোট চারটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। এদিকে তুরস্ককে ওই শান্তি আলোচনার আয়োজন করতে অনুরোধ করেছে আমেরিকা।সেইসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জানিয়েছেন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সমস্ত বিকল্প তাদের টেবিলে রয়েছে। সোমবার যালমাই খালিলযাদ দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর কাবুল পৌঁছলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। তালেবানদের সাথে জোট সরকার গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে তিন দিনের কাবুল সফরের সময় যালমাই খালিলযাদ প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি, জাতীয় পুনর্গঠন বিষয়ক উচ্চ পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই, সামরিক ব্যক্তিত্ব আবদুল রশিদ দোস্তাম, কারিমি এবং মোহাক্কেকসহ আরও অনেক রাজনীতিবিদের সাথে সাক্ষাত করেন। জোট সরকার সম্পর্কে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের মতামত জানাতে বলেন।কোনো কোনো বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, খালিলযাদ চাচ্ছেন প্রস্তাবিত সরকারে তালেবানদের অংশগ্রহণ অর্ধেক মানে সমান সমান থাকবে। এ নিয়েই মূলত দর কষাকষি চলছে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। কিন্তু এখনই আফগানিস্তান ছাড়তে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য নতুন করে অজুহাত সামনে এনেছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকার। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন বলেছেন, মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে আফগানিস্তানজুড়ে তালেবানের ব্যাপক সামরিক উত্থান হতে পারে।তালেবান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের করা এক চুক্তি অনুযায়ী আগামী মাসের শেষ নাগাদ সব মার্কিন সৈন্য আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই আফগান প্রেসিডেন্টকে দেওয়া এক চিঠিতে তালেবানের নতুন উত্থানের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ৯/১১ হামলার জবাবে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তখন তালেবানকে উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে তারা হামলা শুরু করে। 

আফগান সংকট এবং বিশ্ব সম্প্রদায়

আফগান সংকট এবং বিশ্ব সম্প্রদায়

সম্প্রতি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটি লেখা ছাপা হয়েছে, তাতে নিশ্চিত করা হয়েছে, আফগানিস্তানে প্রকৃত মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দাপ্তরিকভাবে যা বলা হয় তার চেয়ে বেশি। আর্টিকলটিতে মার্কিন, ইউরোপীয় ও আফগান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, কমপক্ষে এক হাজার বাড়তি মার্কিন সেনা রয়েছে আফগানিস্তানে, এটি ওয়াশিংটনের দেওয়া দাপ্তরিক সংখ্যার চেয়ে বেশি। পেন্টাগন বলেছে, বর্তমানে মাত্র আড়াই হাজার সেনা রয়েছে দেশটিতে; এ পরিসংখ্যানে মিডিয়ায় উল্লিখিত এক হাজার সেনা নেই। কাজেই প্রদত্ত বিবৃতিতে ঘাপলা আছে; খুব সম্ভবত এটি পেন্টাগনের খায়েশ। তারা প্রকৃত সংখ্যাটি কোনো কারণে বাদ দিতে চেয়েছে। কারণটি এখনো অজানা।নিশ্চয় যে সেনাদের হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে তারা স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, তথ্য উহ্য রাখার কারণ হলো কৌশলগত। নিউ ইয়র্ক টাইমসের পরিচয় উল্লেখ না করা সোর্সের মতে, আফগানিস্তানে নিযুক্ত স্পেশাল ইউনিটগুলো গোপন দায়িত্ব পালন করে, যা পেন্টাগন ও সিআইএর পারস্পরিক কাজে লাগে। এর মানে হচ্ছে, দাপ্তরিক তথ্যে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত থাকলেও মার্কিন ইন্টেলিজেন্স খুব ভালোভাবেই আফগানিস্তানে কাজ করছে।বিষয়টি স্পষ্ট, এমন কাজ বা অভিযান হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া যাবে না, বিশেষ করে বিপত্সংকুল একটি এলাকায়, যেখানে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু মিলিশিয়া কাজ করে। যা হোক, এ কথা যদি বিবেচনায় নেওয়া যায় যে আমেরিকানরা তালেবানের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা শুরু করেছে (যারা আফগানিস্তানে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী গ্রুপ), তাহলেও এটি স্পষ্টভাবে ধারণা করা যায় না যে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ড মার্কিন স্পেশাল ফোর্স আফগানিস্তানে করছে।আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিঃশেষিত হওয়া এখনো বহুদূর বাকি। 

মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটানোর একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক তথ্যে প্রকাশ, সেখানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বেশ অ্যালার্মিং; মার্কিন সেনাসংখ্যা যা দাপ্তরিকভাবে বলা হয় তার চেয়ে বেশি। নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তানে মার্কিন নীতি কী হবে সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্তহীন। অবশ্য তাঁর ইন্টারভেনশনিস্ট ভাবমূর্তি এ বিষয়ে কিছু প্রত্যাশার সঞ্চার ঘটাতে পারে।এখনো সেনাদের সংখ্যা বড় একটি সমস্যার একটি ফ্যাক্টর মাত্র; কোন তথ্যটি সঠিক আর কোন গোপন দায়িত্ব মার্কিনরা আফগানিস্তানে পালন করছে—এসব বিবেচনা ছাড়াই এ কথা বলা যায়। সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের সময় ঘনিয়ে আসছে, সময়টি হচ্ছে ১ মে ২০২১ এবং বাইডেনের এ ব্যাপারে ভাবার অনেক অপশন নেই। ট্রাম্প সেনা প্রত্যাহারের সূচনা করেছিলেন পেন্টাগনের বিরুদ্ধে গিয়ে। এতে একটি ন্যূনতম সংখ্যা ঠিক করা হয়েছিল, সেটি হলো আট হাজার ৬০০। মার্কিন স্বার্থকে নিশ্চিত করার জন্য তারা সেখানে থাকবে। বাইডেন ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা কমানোর কথাই বরাবর বলেছেন-তাঁর কথা তখন ফলেনি। এখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দুটি পথের একটি বেছে নিতে পারেন,তাঁর পুরনো ইচ্ছার বাস্তবায়ন করতে পারেন অথবা ইন্টারভেনশনিস্ট পলিসির পথকে কঠোরভাবে আঁকড়ে ধরে তালেবানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারেন।যদি বাইডেন চুক্তি করতে না পারেন, তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থ হন, তাহলে তালেবান পুরো মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাবে। বাইডেন যদি ডেডলাইন সম্পর্কে আবার আলোচনা করতে চান, তাহলে তালেবান তা নাকচ করবে। বাইডেন যদি চুক্তির সংগতি রাখতে না পারেন (যা ট্রাম্প শুরু করে দিয়ে গেছেন) এবং পুরো সেনা প্রত্যাহার করেন, তাহলে মার্কিন সরকার আফগান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সংকট গভীরতর করবে এবং তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের লক্ষ্যে হামলা বাড়াবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আফগান সরকার ওয়াশিংটন ও তালেবানের সরাসরি আলোচনায় ব্যথিত হয়েছে। কারণ তারা শান্তিপ্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে তাদের নিজ চৌহদ্দিতে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন কূটনৈতিক সংকট ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি তিনি একটি বৈঠক আয়োজন করেছিলেন তালেবান নেতৃত্ব ও আফগান সরকারের নেতাদের সঙ্গে; দুই পক্ষই এতে আপত্তি জানিয়েছে। সংক্ষেপে বললে, বাইডেন আসার সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকার বাসনার পরিবর্তন হয়ে যায়নি। ওয়াশিংটন তালেবানের স্ট্যাটাস বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, সংগঠনটিকে তারা ‘ফরমাল বেলিজারেন্ট গ্রুপ’ হিসেবে দেখতে চায়, যারা জাতীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে দেনদরবার করতে সক্ষম।এটি করে আমেরিকা তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠনের লেবেলমুক্ত করতে চায়। কিন্তু তালেবানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত কিছু তথ্য আমেরিকান পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে। এর বিকল্প হচ্ছে, আফগানিস্তানে যে মার্কিন সেনারা দাপ্তরিকভাবে রয়েছে তাদের কাছে ফেরা এবং স্পেশাল এজেন্টদেরও রাখা,যাতে তারা সরকারকে সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু এ ভাবনা বোধ হয় ওয়াশিংটনের নেই। সম্প্রতি তালেবান আফগানিস্তানের হেরাত শহরে হামলা চালিয়েছে। এতে সাতজন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছে। এর আগে তারা ফরিয়াব প্রদেশে হামলা চালিয়েছে এবং আধিপত্য বিস্তার করেছে; লোকাল পুলিশকে সারেন্ডার করিয়েছে এবং জনগণের মধ্যে সন্ত্রাসের আশঙ্কা বিস্তার ঘটিয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, তালেবান তাদের অভ্যাস ত্যাগ করেনি। সন্ত্রাসী আচরণ তাদের মজ্জায় রয়ে গেছে এবং এটি আফগান সরকারের চোখে ওয়াশিংটনকে অস্থির এক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। কার্যত মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরদিনই আফগান সরকার বাধ্য হবে তালেবানের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য বিকল্প অ্যালায়েন্সের সন্ধান করতে। পরিস্থিতি সত্যি অবমাননাকর। এর ফলে নিশ্চিতভাবেই একটা সময়ে আমেরিকান সরকারের সঙ্গে আফগান সরকারের সম্পর্কের ছেদ ঘটবে।

আফগানিস্তানে মার্কিন প্রশাসনের নয়া পরিকল্পনা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আফগান রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে গণতন্ত্রপন্থি সকল পক্ষকে একত্রিত করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও প্রতিনিধিত্বও থাকা প্রয়োজন।যাতে বিশ্ব সমাজে বৈঠকটি বৈধতা পায়।কিন্তু আফগানিস্তানে বাইডেনের এই পরিকল্পনার অনেক বিরোধী রয়েছে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ গনির সরকারই অন্তর্বর্তীকালীন কিংবা তথাকথিত অংশগ্রহণমূলক সরকার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধী। আশরাফ গণি বারবার এই পদক্ষেপকে সরকারের 'ক্ষমতাচ্যুতির পরিকল্পনা' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন:জীবন থাকতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের অনুমতি দেবেন না।এমনকি তালেবানদেরও উচ্চ পদস্থ কেউ কেউ খালিলযাদের পরিকল্পনার বিরোধী। তারা বলছেন: জোট সরকার কিংবা অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আফগান জনগণের। আমেরিকানদের ইচ্ছা আফগানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। মজার ব্যাপার হলো দোহা চুক্তি অনুযায়ী আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময় যখন ঘনিয়ে এসেছে তখন খালিলযাদ বাইডেনের নয়া পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছেন। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তালেবানদের সাথে একটি চুক্তির মাধ্যমে ২০২১ সালের মে মাসে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে মনে হচ্ছে বাইডেন সরকার এখন এই চুক্তির প্রতিশ্রুতি গুলো মানবে না। তারা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিজেরাই ভঙ্গ করে উল্টো আশরাফ গনি সরকারকে মার্কিন সরকারের পরিকল্পনা মেনে নিতে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।যেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গত বিশ বছরে হাজার হাজার আফগান জনগণ প্রাণ দিয়েছে সেই গণতন্ত্রের স্বপ্ন এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। জনগণের ভোটাধিকার উপেক্ষা করে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে গেলে ওই পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে-এটাই স্বাভাবিক বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারনা। 


লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট






ডেল্টা টাইমস্/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]