মঙ্গলবার ১৮ মে ২০২১ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

তারুণ্যের ভাবনায় বাংলা নববর্ষ
সবুজ আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১, ১২:৩৪ পিএম আপডেট: ১৫.০৪.২০২১ ১১:২২ এএম | অনলাইন সংস্করণ

দিনপঞ্জিকার পাতায় ১৪২৭ কে বিদায় জানিয়ে ১৪২৮-এর আগমন।কালের খেয়ায় আরেকটি নতুন বছর।নতুন সুর্যের লাল আভায় আলোকিত হোক ব্যক্তি, সমাজ, জাতি একং দেশ। নববর্ষ আমাদের জীবনে আসে নতুন স্বপ্ন নিয়ে, বেঁচে থাকার নবীন আশ্বাস নিয়ে। নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে অতীতের কথা ভুলে গিয়ে আমরা নতুনের আহ্বানে সঞ্জীবিত হয়ে উঠি।কিছু অসত্য, অসুন্দর, অশুভ আর অমঙ্গলজনক সে সবকে ঝেড়ে ফেলে সত্য, সুন্দর, ভালাে আর মঙ্গলের জন্য অপেক্ষমাণ সবাই। দেশের মােট জনসংখ্যার বিরাট একটি অংশ তরুণ। তরুণাই একটি দেশের এগিয়ে যাওয়ার বিশাল শক্তি। নতুন বছরকে কেন্দ্র তরুণ প্রজন্মেরও রয়েছে নানা কল্পনা-পরিকল্পনা আর আশা-প্রত্যাশা। আছে নানা চিন্তা-ভাবনা। তাদের সেই প্রত্যাশা আর ভাবনার কথা জানাচ্ছেন সবুজ আহমেদ

তারুণ্যের ভাবনায় বাংলা নববর্ষ

তারুণ্যের ভাবনায় বাংলা নববর্ষ


নববর্ষ উদযাপিত হোক বাঙালির  অন্তরে  

বাঙালি জাতির সমৃদ্ধ ইতিহাস,গৌরবোজ্জ্বল  ঐতিহ্য ও মনোরম সংস্কৃতিসমূহ বৈচিত্র্যতায় ভরপুর। বাংলাদেশের ষড়ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে নবরূপে সজ্জিত হয় পরিবেশ ও উদযাপিত হয় নতুন নতুন উৎসব। অসংখ্য উৎসবের মধ্যে একটি প্রধান উৎসবের নাম হলো পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। মুঘল সম্রাট আকবরের হাত ধরে ফসলি সন থেকে বঙ্গাব্দ এবং পরে বাংলা বর্ষ নামের এক বাংলা পঞ্জিকার উৎপত্তি হয়।আকবরের আমলে এই বাংলা বর্ষের প্রথম দিনকে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষরূপে উদযাপনের প্রচলন শুরু হয়। বাঙালি জাতির এই দীর্ঘযাত্রায় সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের সাথে প্রতিবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এই পহেলা বৈশাখ। বাঙালি জাতি আবাহমান কাল ধরে সম্মিলিতভাবে এই নববর্ষ উৎসবটি উদযাপন করে আসছে। এই উৎসবে কৃষকের মুখে বিশুদ্ধ হাসির ঝলক দেখা যায়, গ্রাম ও নগরের মানুষের মাঝে দেখা যায় অনন্য সংস্কৃতির পুনর্মিলন। পান্তা ভাত- ইলিশ মাছ, নৌকা বাইচ-বলীখেলা, হালখাতা ও পিঠেপুলিসহ অসংখ্য উৎসবে মেতে ওঠে বাংলাদেশের আমজনতা।নববর্ষের দিনে  ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিশেষ কিছু স্থান গান, নাচ, আবৃত্তি, নাগরদোলা ও অসংখ্য মেলা উদযাপনে প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেছে । এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবটি প্রতিবছর মহাসমারোহে সাড়ম্বরে উদযাপিত হলেও এই বছর করোনা মহামারির কারণে সেভাবে উদযাপন করা অনেকটা অসম্ভব হয়ে গেছে। প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করতেছে।এই সময় স্বাস্থ্য সচেতনতা মেনে চলা অতীব জরুরি। আমাদের নববর্ষ ফিরে আসবে আগামী প্রতিটাবছর কিন্তু ফিরে আসবে না করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষগুলো। তাই এবারের নববর্ষের অধিকাংশ আড়ম্বরপূর্ণ উৎসবগুলো বন্ধ রাখা হোক। দুরত্ব বজায় রেখে সরকারিভাবে আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন করা হোক। চলো এবার সবাই নববর্ষটা হৃদয়ের মনিকোঠায় উদযাপন করি।   

রাপুলু বড়ুয়া  
শিক্ষার্থী,পালি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


তরুণদের হাত ধরে পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে যাক বাঙ্গালির ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখ

‘মেলায় যায়রে’..পহেলা বৈশাখ এলে সবচেয়ে বেশি ভেসে আসে এই সুরটি।আজ থেকে ৩০ বছর আগে ফিডব্যাকের, ‘মেলা’ অ্যালবামে প্রকাশিত হয়।তারপর জনপ্রিয়তার মাত্রা কতটুকু পেয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।পয়লা বৈশাক বা পহেলা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বঙ্গাব্দের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ।বাংলা নবর্ষের ঐতিহ্যবাহী  শুভেচ্ছা বাক্য হল, ‘শুভ নববর্ষ'।  দিনটি বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন লোকউৎসব হিসাবে বিবেচিত।গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বাংলাদেশের প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। এছাড়াও দিনটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির দিন হিসেবে গৃহীত। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা দিনটি নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে বরণ করে নেয়।এই উৎসব শোভাযাত্রা, মেলা, পান্তাভাত খাওয়া, হালখাতা খোলা ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়। নববর্ষের সময় বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ২০১৬ সালে, ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই উৎসব শোভাযাত্রাকে "মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য" হিসেবে ঘোষণা করে।তারই ধারবাহিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিবছর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা এবং আনন্দমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে।ফাউন্ডেশন চত্বরে গ্রামীণ মেলা আয়োজন,নান্দনিক মঙ্গল শোভাযাত্রা,ঝিলের জলে নৌবিলাস,পান্থা ইলিশ খাওয়া থেকে শুরু করে দিনব্যাপী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালিদের প্রাণের এই উৎসবটি উদযাপিত হয়।আর এই উৎসবটি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাবে তরুণদের হাত ধরে।

আয়েশা সিদ্দিকা 
শিক্ষার্থী, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। 


নববর্ষের আনন্দ ছড়িয়ে যাক সবার মাঝে 

ঋতু পরিক্রমায় পুরোনো বছর শেষ হয়ে যায়।সেই সঙ্গে শেষ হয় বিগত দিনের জীর্ণতা ও ক্লান্তি।চৈত্রের শেষে আসে পহেলা বৈশাখ। আসে নববর্ষের শুভক্ষণ আমাদের জাতীয় জীবনে আসে উৎসবের আমেজ।এ উৎসবের মর্মবাণী হলো নতুন বছরে আমার আনন্দটুকু হোক সবার আনন্দ। খ্রিস্টান জগতে পহেলা জানুয়ারি পালিত হয় নববর্ষ। অন্যদিকে বাংলা নববর্ষ বাঙালির জীবনে আসে নানা অনুষ্ঠানের মালা সাজিয়ে। পহেলা বৈশাখ শুভ দিনটিতে বাঙ্গালির ঘরে ঘরে আসে নতুন আনন্দ, নতুন উদ্দীপনায়।ঘরদোর সাজানো হয় নতুন করে।উপহার পাওয়া নতুন পোশাকে সাজে অনেকেই।নববর্ষ দোকানি ও ব্যবসায়ীদের জন্য নিয়ে আসে শুভ হালখাতার অনুষ্ঠান। পারস্পরিক শুভকামনা বিনিময় হয় আলিঙ্গনে।পত্র পত্রিকাগুলোতে ছাপা হয় নববর্ষ সংখ্যা। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব ক্রান্তিময় পরিস্থিতিতে করোনা মহামারী আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করেছে।চারদিকে থেকে ধেয়ে আসছে মৃত্যু।শেষ পর্যন্ত মানুষের জয় হবে- এটাই হলো ইতিহাস।করোনা আমাদের নানাভাবে শিক্ষা দিচ্ছে। আজকে এই ভাইরাসের কারণে পৃথিবীর মানুষ এক হয়ে গেছে। ধনী, গরিব, উঁচু-নীচু, কালো-সাদা সব মানুষ এখন ভেদাভেদ ভুলে এক জায়গায়।বাঙালির এই প্রাণের উৎসব নববর্ষ ও আমাদের অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা বয়ে আনে।সেই মধ্যযুগের  কবি বড়ু চণ্ডীদাস উচ্চারণ করেছিলেন মানব ইতিহাসে,"সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরের নাই"করোনার সময়ে আমাদের জীবনে এসেছে পহেলা বৈশাখ। আমরা বৈশাখ উদযাপন করব, তবে সেটা অবশ্যই নিজের ঘরে বসে। শুভেচ্ছা বিনিময় করব টেলিকনফারেন্সে। সৃজনশীল কোনো আয়োজন হলে সেটা হবে ফেসবুক বা অন্য কোন ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে । এভাবেই আমরা নববর্ষের আনন্দকে ভাগ করে নেব। আমরা এগিয়ে আসব আয়-রোজগারহীন মানুষের পাশে।তাই এবারও পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের আনন্দের সঙ্গে গাওয়া হবে জীবনযুদ্ধ জয়ের গান।তাই আমরা আজ  নিজ নিজ ঘরে বসেই গাইব সেই জয়ের গান।

নাইমা সুলতানা 
শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় । 


আগামীর দিনগুলো মঙ্গলময় হোক

পৃথিবীতে যখন বৃষ্টি পতিত হয় তখন আকাশে মেঘের ঘনঘটা বিরাজমান থাকে। তখনকার সূর্য বা চাঁদ দুটোই মেঘ দ্বারা আবৃত হয়ে যায়, তেমনি পুরাতন, জীর্ণ বছর ১৪২৭ ও পুরো বর্ষের আবেগ-ভালোবাসা-আনন্দ আমাদের কাছে তেমনি আবৃত ছিল করোনা নামক আধারের আড়ালে। সম্পূর্ণ সালটাই ঘরে বসে কাটিয়ে দেয়া হয়েছে। হয়নি ১৪২৭ এর নববর্ষ পালনও। হবে না এবারও কারণ নববর্ষের দিন থেকেই কঠোর লকডাউন। তবে গতসনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে ভ্যাক্সিন প্রাপ্তি ও এখনও আমরা যারা সুস্থ আছি।বিগত বর্ষে যেমন আমরা সবাই ঘরে বসে নানা আয়োজন উপভোগ করেছি এবারও তেমনই করা উচিত। আমরা যারা তরুণ তারা অনেক 'নববর্ষ' উদযাপন করেছি এবং সুস্থ থাকলে করবও। রোগমুক্ত স্বাভাবিক সন যখন থাকে তখন আমরা নানা জায়গায় বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ঘুরে বেড়াই, এবার না হয় তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে পরিবারের সঙ্গে কাটাই। দিনটিতে ঘরে বসে নানা আয়োজন করি। আশেপাশে যারা বসবাস করে তাদের সাথে চাইলে নতুন বছরের দিনটা কাটাতে পারি। নতুন জামাকাপড় না কিনে হতদরিদ্র যারা তাদের মধ্যে বণ্টন করি এবং যারা সারাবছর এই মহামারির সময়ে বাসা-বাড়িতে খন্ডকালীন কাজ করেছেন বা বাড়ির নিরাপত্তা দিয়েছেন যেসব দারোয়ান তাদের মধ্যে অর্থ বিতরণ করতে পারি। যখন এই দরিদ্র মানুষের মধ্যে এসব বিতরণ করবেন তখন যে আনন্দটা পাবেন সেটা নিজের জামা-কাপড় ক্রয় অপেক্ষাও বেশি।যারা গ্রামে-গঞ্জে আছেন তারা ফসল উত্তোলন থেকে শুরু করে যা কাজ আছে তা সম্পন্ন করার মাধ্যমে এবং কৃষকেরা যাতে ফসল বিক্রির মাধ্যমে আনন্দোৎসব করতে পারেন সে ব্যবস্থা হয়ে গেলেই সবদিক মিমাংসা হয়ে যাবে। পরিশেষে, আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রাথনা করি যে ১৪২৭ এর মতো ১৪২৮ টাও যাতে না কাটাতে হয় এবং সবার জন্য নির্মল পরিবেশ ও রোগমুক্ত ধরা বয়ে নিয়ে আসুক। আমরা সবাই ঘরে থাকি, করোনা প্রতিরোধে নিয়মাবলি মেনে চলি। 

রিপন চন্দ্র পাল
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।






ডেল্টা টাইমস্/সিআর/আরকে





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]