মঙ্গলবার ১৮ মে ২০২১ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

করোনায় শ্রমিকদের করুণ অবস্থা
সাবিনা আক্তার মুন্নী
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১, ৯:১০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

কোন প্রতিষ্ঠান বা কার্যসম্পাদনের জন্য কিছু সংখ্যক লোক তাদের শ্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে থাকেন তারাক শ্রমিক। আজ পহেলা মে 'আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস'। মহান মে দিবস শ্রমজীবি মানুষের অধিকার আদায়ের এক জ্বলন্ত প্রতীক। শোষণ, নির্যাতনসহ শ্রম ঘণ্টার বিভাজনের ভিত্তিতে অনেক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৮ ঘণ্টা শ্রম, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম, ৮ ঘণ্টা বিনোদনের প্রত্যাশা নিয়ে মে দিবসের সূচনা হয়েছিল। দেশকালের গন্ডি পেরিয়ে এই নৃশংস বর্বরতার খবর পৌছায় দুনিয়ার সব মেহনতি মানুষের কানে। ১৮৮৯ সালে জুলাই মাসে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তজার্তিক  সম্মেলনের প্রথমদিনের অধিবেশনেই সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয় যে ১৮৯০ সালের পহেলা মে থেকে প্রতিবছর শ্রমিক শ্রেণির আন্তর্জাতিক  সংহতি, সৌভ্রাতৃত্ব ও সংগ্রামের দিন হিসেবে এই দিনটি পালিত হবে। আর এই ধারাবাহিকতায় দেশে দেশে শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বব্যাপী যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালিত হচ্ছে।
   সাবিনা আক্তার মুন্নী

সাবিনা আক্তার মুন্নী


বাংলাদেশে শ্রমিকরা অনেক ধরনের শ্রম পেশায় নিয়োজিত। যারা দিনমজুর রয়েছে তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করে আমাদেরকে আরাম আয়েশের সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে ওনারা যদি কায়িক পরিশ্রম না করতেন তাহলে হয়তো আমরা অট্টালিকায়  থাকতে পারতাম না, বাংলাদেশে কোনো শিল্পকারখানা গড়ে ওঠতো না।  গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্যই বাংলাদেশ আজকে  উন্নত দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি করে অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ হচ্ছে। তাছাড়া দিনমজুররা ধানের ফসল করে আমাদেরকে  খাদ্যের যোগান দিচ্ছে। তারা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদেরকে আরাম আয়েশের সুযোগ দিচ্ছে। তাদের পরিশ্রমের তুলনায় হয়তো বেতন ও কম দেয় যার কারণে শিল্প কারখানায় ওভারটাইম করেও তাদের মাসিক বেতন কমই হয়। যা দিয়ে একটা পরিবার ভালোভাবে চলতে পারছে না। কিন্তু আমরা তাদের পরিশ্রমকে মূল্যায়নই করি না। অনেকেই মনে করেন যে তারা নিচু জাতের লোক। তাদেরকে কেউ উপযুক্ত সম্মানও দেয় না। তারা তারা তাদের পরিশ্রমের ন্যায্য মজুরি তো পাচ্ছেই না বরং তাদের সাথে মালিকদের কোনো সুসম্পর্ক নাই। মালিকদের  সাথে শ্রমিকদের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে হবে। ইসলামেও বলা আছে যে শ্রমিকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলার আগেই তাদের প্রাপ্য মজুরি দিয়ে দিতে হবে। এতে করে শ্রমিকরা উৎসাহিত হয়ে আরো বেশি পরিমাণ কাজ করবে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি যেন দিনমজুরের প্রত্যেকটি মানুষের সাথে লড়াই করে যাচ্ছে।  লকডাউনের প্রত্যেকটি দিন কর্মহীনের সাথে যাচ্ছে। মাস শেষে প্রত্যেকটি দিনমজুর পরিশ্রম করার বিনিময়ে যে উপার্জন করতো সেইটা দিয়ে  পরিবার চলতো। কিন্তু এখন এই করোনা পরিস্থতিতে কর্মহীন অবস্থায় তাদের পরিবার কেমন চলছে সেটা একমাত্র তারাই জানে।  গতবছর ও এরকম কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে তাদের ভবিষ্যৎ আজ সম্পূর্ণই অনিশ্চিত।  তাদের জীবন থেকে যদি কলকারখানা, হাতুড়ি পেটানোর আওয়াজ চলে যায়, তাহলে মে দিবস পালনের ওই মুষ্টিবদ্ধ  হাত আর কখনো ওপরে উপরে ওঠবে না। এই ভয়াবহ পরিস্থতি থেকে কবে মুক্তি পাবে তার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে দেশের প্রতিটি মানুষ। আল্লাহ হয়তো একদিন সবকিছু ঠিক করে দিবেন। এই পরিস্থিতি কেটে গেলে সরকার যেন এই সব মানুষদের কথা একটু ভাবে সেইটাই প্রার্থনা করি।  আর যে সব মানুষদের কাছে এই মানুষ গুলো কাজ করছিলেন তাঁরাও যেন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যথাসম্ভব মানবিকতার হাত বাড়িয়ে সাহায্য করেন। এমনকি প্রত্যেক মালিকদের উচিত শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া। আমরা প্রত্যেকেই বর্তমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমরা সমাজে যারা ভালো অবস্থানে আছি তারা প্রত্যেকে যদি তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করি তাহলে তাদের দৈনন্দিন  কষ্ট হয়তো কিছুটা কমবে। তবেই এই মানুষগুলো দাঁড়াতে পারবে। সার্থক হবে শ্রম দিবসের লড়াই। মুষ্টিবদ্ধ  হাত আবার ওপরে উঠবে।


সাবিনা আক্তার  মুন্নী
সমাজবিজ্ঞান  বিভাগ
শিক্ষার্থী,  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়




ডেল্টা টাইমস্/সাবিনা আক্তার মুন্নী/সিআর/জেড এইচ


    



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]