মঙ্গলবার ১৮ মে ২০২১ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

আপদকালীন সময়ে অর্থনীতির চাকা সচলে কৃষিখাতে উন্নয়ন জরুরি
মোঃ রায়হান আলী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১, ৩:৫৬ পিএম আপডেট: ০৪.০৫.২০২১ ৪:১০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আপদকালীন সময়ে অর্থনীতির চাকা সচলে কৃষিখাতে উন্নয়ন জরুরি

আপদকালীন সময়ে অর্থনীতির চাকা সচলে কৃষিখাতে উন্নয়ন জরুরি

অামাদের এই দেশ কৃষিনির্ভর দেশ। ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটারের এই দেশটি গোটা বিশ্বে উন্নয়ন এবং অগ্রগতির রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। এখনও এ দেশের মানুষ শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আর এই কৃষি খাত থেকে মোট জিডিপির ২২ শতাংশ আসে কৃষি থেকে। এদেশ উন্নয়নে যুগ যুগ ধরে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে এই কৃষি বিভাগ। অর্থনীতির চাকা সবচেয়ে সচল রেখেছে তৈরি পোশাক শিল্প,কৃষি ও রেমিটেন্স । এদেশের আয়ের একটা বড় অংশ আসে এই তিনটি বিভাগ বা শাখা হতে।

এক জরিপে দেখা যায় বাংলাদেশের জিডিপিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১৩.৬৫%,তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান প্রায় ১৬%, রেমিটেন্স খাতের অবদান প্রায় ৪.৯৩%। বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়নে যেহেতু এই তিনটি খাত বড় ভূমিকা রাখে তাই এসব খাতের প্রতি নজর রাখা সরকার ও জনগনের একান্ত জরুরী। বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী চলমান মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রথম ধাপ পেড়িয়ে দ্বিতীয় ধাপের ছোঁবলে বিশ্ববাসী আজ টালমাতাল ও দিশেহারা। দিন দিন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে এ ভাইরাস। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলের সারি,আক্রান্তও হচ্ছে লাখে লাখে। আকাশে-বাতাসে গগণ বিদারী বেদনার করুন সুর বেজে উঠছে। মরণঘাতী মহামারি এ ভাইরাসের নতুন নতুন রুপ-ধরন,প্রকৃতির আক্রমনে মানুষের মনে বাড়িয়ে দিয়েছে এক অদ্ভুদ আতঙ্ক। এই আতঙ্কে থাকাবস্থায় অনেক চেস্টার ফলে করোনার টিকা আবিষ্কার হলেও এখনও আতঙ্কে দিশেহারা বিশ্ববাসী। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯ এর ছোঁবল। এরই মধ্যে বিশ্বে করোনায় মৃত্যের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩১ লাখ এবং আক্রান্ত হয়েছে ১৪ কোটি ৭৭ লাখেরও বেশি মানুষ। আমাদের দেশেও আক্রান্ত ও মৃত্যের হার কম নয়। আক্রান্তের হাত থেকে রেহাই পেতে অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশেও পর্যায়ক্রমে চলছে লকডাউন প্রক্রিয়া। আর এই লকডাউনে বিশ্বের মতো আমাদের দেশেরও অর্থনৈতিক অবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রায় অচল হয়ে পড়েছে অর্থনীতির চাকা। করোনায় কম-বেশি প্রভাব যে কবে নিশ্চিহ্ন হবে সেটা অনেক বিশ্লেষক ধারনা দিলেও তা এক পর্যায়ে ঠিক থাকছেনা। সেজন্য বিশ্লেষকরা চিন্তা করে নানা দিক বিবেচনা করছে যে আপাতত করোনার মধ্যেই জীবন-যাপন কি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেয়া যায় তার একটা সঠিক ধারনা। সে ধারনা থেকেই বলা চলে জীবন থাকলে জীবিকা যেমন অপরীহার্য তেমনি জীবন চলে গেলে জীবিকা মূল্যহীন। কাজেই জীবন বাঁচাতে করোনার বিধি-নিষেধ মেনে বিশ্লেষকদের পরামর্শক্রমে অর্থনৈতিক চাকাকেও সচল রাখার তাগিদ দিয়েছেন এমনটা ধারনা করে প্রগতিশীল সমাজ। সেই সূত্র ধরে আমাদের দেশেও করোনার সংক্রমনের বিধি-নিষেধ মেনে অর্থনৈতিক চাকাকে সমৃদ্ধশালী করাটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত গুলোকে সরকারের পর্যবেক্ষণ করে উন্নতি সাধন করতে হবে। আর এই খাতের মধ্যে কৃষি খাত অন্যতম। করোনাকালীন সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্তরা তো সংসার চালাতে একদম দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সেই সাথে প্রান্তিক চাষীরা নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি মিডিয়াগুলোতে রমজান মাসে তরমুজের দাম নিয়ে সারা দেশে তুলকালামের খবর উঠে এসেছে। 

এটাও জানা যায় প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে একটা তরমুজ ক্রয় করছে ৭০-৮০ টাকা আর সেই তরমুজ ঢাকায় এনে পাইকাররা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করছে তা প্রায় এক একটা ৩০০-৪০০ টাকা। শুধু তরমুজ নয় এমন অনেক কৃষি উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য মূল্য পায় না প্রান্তিক চাষীরা। অনেক কুল-প্রতিকুল বৈরী আবহাওয়া,কীট-পতঙ্গের হাত থেকে উৎপাদিত পন্যকে রক্ষা করে কৃষকরা একটু লাভের আশায়। এ আশা কোন কোন সময় ভেস্তে যায় প্রাকৃতিক দূর্যোগে কিংবা হাত-পা ওয়ালা অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। জিম্মি হয়ে আছে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে ক্রেতা সাধারণ ও প্রান্তিক চাষীরা। এমন অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে প্রশাসন নিতেছে ব্যবস্থা। সত্যিই এটা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ তা না হলে দিন দিন এদের দৌরাত্ম বেড়ে যাবে ফলে প্রান্তিক চাষীরা কৃষি পন্য উৎপাদনে অনিহা প্রকাশ করবে। তাহলে কৃষি খাত থেকে দেশের আয়ের উৎস ধিরে ধিরে কমে যাবে,কমবে জিডিবি'র হার। এখন আমাদের যা করণীয় তা হল সীমিত জমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি পন্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা। প্রান্তিক চাষীদেরকে উৎপাদনে উৎসাহ যোগানো।

একটা কথা বলে রাখি আমাদের দেশ আগের থেকে এখনও কৃষি উৎপাদন সরঞ্জামে অনেকটা আধুনিকায়ন হলেও নানাবিধ জটিলতার কারনে পুরনো দিনের কৃষি উৎপাদন সহায়ক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে।  এমনকি দেশের প্রান্তিক চাষীরা সাধারণত সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকে। অধিকাংশ চাষীরা কৃষিপন্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে গরু দিয়ে লাঙ্গল চাষ,মই ইত্যাদির সরঞ্জামের উপর অনেকটা নির্ভরশীল। তবে কৃষকদের অনেকেই এখন বিভিন্ন আধুনিক কৃষি উৎপাদন সরঞ্জামের ব্যবহারের মাধ্যমে পূর্বের তুলনায় ফলন প্রচুর পরিমানে বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের দেশে ভাত প্রধান খাবার হলেও ধানের পাশাপাশি পাট,তামাক, ভুট্টা,গম,চা,আখ,আলু ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি এদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদিত হচ্ছে। 

যেহেতু আপদকালীন সময়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা জরুরী তাই কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে আরো উৎসাহী করতে হবে। এছাড়াও কৃষি শিক্ষার প্রতি তেমন উন্নত প্রশিক্ষণ চাষীদের নেই। যদিও সরকার এ বিষয়টাও সামনে এগিয়ে নেওয়ার নানা প্রায়াস চালাচ্ছে,তবুও এ ব্যবস্থার দ্রুততম উন্নতি সাধন একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ইতোঃমধ্যে সংবাদ মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সরকার ২২ এপ্রিল,২০২১ তারিখে সরকারের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির ভার্চুয়াল সভার এক সিদ্ধান্তে বলা হয় চলতি বছরে সরকার ১৮ লাখ টন ধান-চাল কিনবে। চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মোট ১৮ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার। এর মধ্যে মিলারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৩৯ টাকা কেজি দরে দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে সাড়ে ৬ লাখ টন ধান কেনা হবে। এবার বোরোতে চালের আকারে ১৫ লাখ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হবে। যদিও খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ১৪ লাখ টন সংগ্রহের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু খাদ্য মজুত বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও এক লাখ টন বেশি সংগ্রহ করতে বলা হয়। গত বছর বোরো মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান, ৩৬ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল ও ৩৫ টাকা কেজি দরে আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে বাজারে চালের দাম বেশি থাকায় গত বোরো ও আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান-চাল কিনতে পারেনি সরকার। (তথ্যসূত্রঃ সংবাদমাধ্যম)। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি প্রান্তিক কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পায় তাহলে উৎপাদন ক্ষমতা আগামীতে আরো বৃদ্ধি করবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা। এছাড়াও কৃষিজ যন্ত্রপাতিতে আধুনিকায়ন,অল্প জমিতে অধিক ফসল ফলানোর কলা-কৌশলের ট্রেনিং,উৎপাদিত ফসলের সঠিক বাজারজাত করণ ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষিখাতে অভূতপূর্ব কিছু সাফল্যের জন্য বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ বারবার আলোচিত হয়েছে। ২০১৯-২০২০ মৌসুমে ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে অবস্থান অর্জন করছে। প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের এক গর্বিত সন্তান বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম আবিষ্কার করেছেন পাটের জিনোম সিকুয়েন্সিং। সারা বিশ্বে আজ পর্যন্ত মাত্র ১৭ টি উদ্ভিদের জিনোম সিকুয়েন্সিং হয়েছে, তার মধ্যে ৩টি করেছেন বিজ্ঞানী ড. মাকসুদ। তাঁর এই অনন্য অর্জন গোটা ১৬ কোটি বাংলাদেশীদের করেছে গর্বিত। দেশকে করেছে সম্মানিত। এদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় কৃষির ওপর জোর দিয়ে বলেছেন যে, দেশের আবাদযোগ্য এক ইঞ্চি জমিও যেন বাদ না থাকে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরবর্তী সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে দেশের জনগণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকারের গৃহীত সকল পদক্ষেপ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে। আর এই সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে দেশের সকল কৃষিবিদ ও কৃষকগণ। কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি হলে এদেশের সামগ্রিক আর্থ সামাজিক অবকাঠামোর চিত্র উজ্জ্বল হবে। তখন হাসবে এদেশের কৃষক,জ্বলবে উন্নয়নের বাতি। কৃষক হাসলে এদেশের জনগণ হাসবে,আর জনগণ হাসলে এদেশের অর্থনীতির চাকা সচল হবে। এদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুও কৃষিনির্ভর এদেশের উন্নয়নে কৃষকের অধিকার,ন্যায্য দাবি পুরণে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করে গেছেন।

সার্বিক কৃষিকে কীভাবে বঙ্গবন্ধু দেখতেন এবং এর সমৃদ্ধির জন্য তার মনোভাব কেমন ছিল এ কথার জবাবে বলা যায় ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার স্বপ্নে গড়া সোনার বাংলায় তিনি দেখতে চেয়েছিলেন দেশের কৃষকের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি ও স্বনির্ভরতা। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এখন আমাদের সবার উপর। কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সুদৃঢ় করাই হোক আমাদের চলমান অঙ্গীকার। সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি কৃষিই হচ্ছে আমাদের এ অঙ্গীকার পূরণের প্রধান বাহন। ১৯৭৩ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে বঙ্গবন্ধু বিশেষ ভাষণ দিয়েছিলেন। সে ভাষণে তিনি কৃষি বিপ্লবের কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন গ্রামের দিকে নজর দিতে হবে। কেননা গ্রামই সব উন্নয়নের মূল কেন্দ্র। গ্রামের উন্নয়ন আর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যখন বেগবান হবে তখন গোটা বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সম্মুখপানে। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কৃষি শিক্ষায় আকৃষ্ট করে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মানসে জাতির পিতা এসময় কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদা প্রদান করেন। তাঁর অদম্য ইচ্ছা ছিল যে কোনো উপায়ে কৃষকের স্বার্থরক্ষা করা। কেননা কৃষকই এ দেশের আসল নায়ক যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের সবার অন্ন জোগায়। আমাদের অনেকের মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন জাগতে পারে যে কৃষি উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অর্থ বরাদ্দ কেমন ছিল? ১৯৭২-৭৩ সালে ৫০০ কোটি টাকা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল এর মধ্যে ১০১ কোটি টাকা শুধু কৃষি উন্নয়নের জন্য রাখা হয়েছিল। এতে তখন থেকেই কৃষির প্রতি, কৃষি সম্প্রসারণের প্রতি, কৃষি উন্নয়নের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন উৎসবে ১৩ ফেব্রুয়ারি ৭৩ তারিখে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন-খাদ্য বলতে শুধু ধান, চাল, আটা, ময়দা আর ভুট্টাকে বুঝায় না বরং মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি এসবকে বুঝায়। সুতরাং কৃষির উন্নতি করতে হলে এসব খাদ্যশস্যের উৎপাদন উন্নতি করতে হবে। বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ভাবতেন সবার আগে দরকার খাদ্যের। খাদ্যের নিশ্চয়তা না দিতে পারলে সব উন্নয়ন কার্যক্রম বিফলে যাবে। সুতরাং নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে হবে। সবুজ বিপ্লবের কথাও বঙ্গবন্ধু বলতেন। কিন্তু তিনি এও বলতেন, সবুজ বিপ্লবের কথা শুধু মুখে বললেই চলবে না। এর সাথে যেসব সমস্যা আছে সেগুলোকে যাচাই-বাছাই করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। তবেই সবুজ বিপ্লব সফল হবে। 

বর্তমানে দেশে করোনাকলীন আপদকালে দ্রুত দেশকে অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা করার সব পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়নে সরকার ও জনগণকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে। কৃষি পন্য ধান,পাট,তুলা,আখ,ফুল ও রেশমগুটির চাষসহ বাগান সম্প্রসারণ,মাছ চাষ,সবজি, পশুসম্পদ উন্নয়ন, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি,বীজ উন্নয়ন ও বিতরণ ইত্যাদি বিষয়সমূহ এ দেশের কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের কর্মকাণ্ডের আরো সুদুর প্রসারী করতে হবে। কৃষকদের কৃষি পন্য উৎপাদনে আগ্রহ বাঁড়াতে হবে। সেজন্য চাই উন্নত পরিকল্পনা। গ্রামভিত্তিক বাংলার উন্নতি মানে দেশের উন্নতি। কেননা গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের দিকে আমাদের সবার ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কৃষক বাঁচাতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে, তা নাহলে এ আপদকালীন সময় সামাল দেওয়া খুব অসাধ্য হয়ে পড়বে। 


লেখকঃ শিক্ষানবিশ আইনজীবী,জজ কোর্ট,খুলনা।






ডেল্টা টাইমস্/মোঃ রায়হান আলী/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]