মঙ্গলবার ১৫ জুন ২০২১ ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

ফিলিস্তিনীদের স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বনাম অবৈধ ইসরায়েলী আগ্রাসন
মো: আরাফাত রহমান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১, ১২:৩৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ বর্বরতায় গত এক সপ্তাহে নারী ও শিশুসহ প্রায় ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনীর প্রাণহানি হয়েছে। মানবতার বুলি আওড়ানো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও ভারতসহ বেশ কিছু দেশের মদদপুষ্ট হয়ে ও নির্লজ্জ সমর্থনে ইসরায়েল যেন এক অপ্রতিরোদ্ধ দানবে পরিণত হয়েছে যাকে থামানোর কেউ নেই। নিজেদের প্রতিরক্ষার নামে নিরীহ ফিলিস্তিনীদের উপর দখলদার ইসরায়েলের এই সন্ত্রাস চলছে যুগের পর যুগ ধরে। মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত নেতৃত্ব দানকারী রাষ্ট্র ও সংস্থাগুলোর কর্মকান্ডও কোন এক অজানা কারণে শুধুমাত্র দায়সারা নিন্দা জ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের সংঘাত ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শুরু হয়।

বিভিন্ন স্তরে এই দ্বন্দ্ব আজও অব্যাহত রয়েছে। দুইটি আলাদা জাতি করার জন্য অনেক পরিকল্পনাই করা হয়েছে। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েলের পাশে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রও গঠিত হতো। দুই দেশের অধিকাংশ মানুষই এই সংঘাত নিরসনে অন্য যেকোন পরিকল্পনার তুলনায় দুই-জাতি পরিকল্পনাকে বেশি সমর্থন করে। অধিকাংশ ফিলিস্তিনি মনে করে, তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র হওয়া উচিত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকাকে কেন্দ্র করে। অধিকাংশ ইসরায়েলীও এই ধারণা সমর্থন করে। হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন সবকিছু বাদ দিয়ে একটিমাত্র রাষ্ট্র গঠনকে সমর্থন করে। তাদের মতে, সমগ্র ইসরায়েল, পশ্চিম তীর ও গাজা মিলে একটি দ্বি-জাতীয় রাষ্ট্র গঠিত হওয়া উচিত যেখানে সবার সমান অধিকার থাকবে। কিন্তু এ নিয়ে কোন স্থির সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি। কারণ প্রত্যেকেই অন্যের কোন না কোন প্রস্তাবে অসম্মতি জ্ঞাপন করছে।
ফিলিস্তিনীদের স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বনাম অবৈধ ইসরায়েলী আগ্রাসন

ফিলিস্তিনীদের স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বনাম অবৈধ ইসরায়েলী আগ্রাসন


এই দ্বন্দ্বের মূলটি উনিশ শতকের শেষভাগে জিওনিজম এবং আরব জাতীয়তাবাদ সহ জাতীয় আন্দোলনের উত্থানের সাথে শুরু হয়। যদিও জিয়নে ফিরে আসার ইহুদি আকাঙ্ক্ষা হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ইহুদিদের ধর্মীয় চিন্তার অংশ ছিল, তবে ইউরোপের ইহুদি জনগোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ভূমিতে ফিরে যাওয়ার জন্য আরও সক্রিয়ভাবে আলোচনা শুরু করে। ইহুদি জনগণের জন্য একটি স্বদেশভূমি গঠনের জন্য জিয়নিস্ট আন্দোলন ১৮৯৭ সালে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিন অঞ্চলে আরব নেতারা ইহুদিবাদী এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ক্রমবর্ধমান একটি হুমকি হিসাবে চিহ্নিত করে। ইহুদি বসতি স্থাপনের জন্য আরব মালিকদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ, ভাড়াটে কৃষক হিসাবে যে সব জমি চাষ এবং সেখান থেকে আরবদের উচ্ছেদ করা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলে। এছাড়া ১৯ এবং ২০ শতকের গোড়ার দিকে রাশিয়াতে ইহুদি-বিরোধী দাঙ্গা এবং ইউরোপে অভিবাসনবিরোধী আইন কার্যকর করায় অভিবাসন প্রত্যাশি রাষ্ট্র বিহীন ইহুদিরা দলে দলে ফিলিস্তিনে আগমন শুরু করে।

বিভিন্ন জায়নবাদী উদ্যোগ যে পরিমাণে স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছিল তার ফলস্বরূপ ফিলিস্তিন অঞ্চলে আরব জনগণ ইহুদি জনগণের দ্বারা জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। ১৮৯২ সালে অটোমান কর্তৃপক্ষ বিদেশীদের কাছে জমি বিক্রয় নিষিদ্ধ করে। ১৯১৪ সালের মধ্যে প্যালেস্টাইনে ইহুদি জনসংখ্যা বেড়ে ছয় লক্ষেরও বেশি হয়ে যায়, যাদের মধ্যে প্রায় তেত্রিশ হাজার ছিল সাম্প্রতিক বসতি স্থাপনকারী। তবে, ১৯১৭ সালে বেলফোর ঘোষণাপত্রে ইহুদি জনগণের জন্য ফিলিস্তিনে একটি স্থান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়, কিন্তু ফিলিস্তিনে বিদ্যমান অ-ইহুদি সম্প্রদায়ের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকারকে ক্ষুন্ন করে নয়। বেলফোর ঘোষণাকে ইহুদি জাতীয়তাবাদীরা জর্ডান নদীর দুপাশে ভবিষ্যতের ইহুদি স্বদেশের ভিত্তি হিসাবে দেখেছিল, তবে তা ফিলিস্তিন অঞ্চলে আরব জনগণের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলে। ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অভিবাসন ফিলিস্তিনের ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের সময়কালে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে মূলত ইউরোপে ইহুদীবাদবিরোধীতা বৃদ্ধির কারণে।

১৯১৯ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যে নব্বই হাজার ইহুদী অভিবাসী ফিলিস্তিনে আসে। এর মধ্যে কিছু অভিবাসী অনুপস্থিত জমির মালিকদের কাছ থেকে জিয়নিস্ট এজেন্সিগুলির মাধ্যমে আইনতভাবে ক্রয় করে জমিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, অনুপস্থিত ভূস্বামীদের কাছ থেকে জমিগুলির বৃহত আকারে অধিগ্রহণ এবং ইউরোপীয় ইহুদি জনবসতিদের সাথে প্রতিস্থাপনের ফলে ফিলিস্তিনি আরবদের মনে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। জার্মানিতে নাৎসিদের ক্ষমতায় আসার পরে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফিলিস্তিনের আরবরা ইহুদি জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিরোধিতা করে নতুন অভিবাসীদের জমি ইজারা বা বিক্রি করতে বা তাদের ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
১৯২০ এর দশকে ইহুদি ও আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কেও চরম অবনতি ঘটে এবং দুটি গ্রুপের মধ্যে বৈরিতা আরও তীব্র হয়। ১৯৩৭ সালের পিল কমিশনই প্রথম এই দ্বন্দ্বের দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রস্তাব করে, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে দুটি রাজ্যে বিভক্ত করা হবে: একটি আরব রাষ্ট্র এবং একটি ইহুদি রাষ্ট্র। ইহুদি রাষ্ট্র উপকূলীয় সমভূমি, যিয্রিয়েল উপত্যকা, বিট শিয়ান এবং গ্যালিলিকে অন্তর্ভুক্ত করবে অপরদিকে আরব রাষ্ট্রটিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে  ট্রান্সজরডান, জুডিয়া এবং সামেরিয়া, জর্দান উপত্যকা এবং নেগেভ। দুই প্রধান ইহুদি নেতা চেইম ওয়াইজমান এবং ডেভিড বেন-গুরিয়ন আলোচনার ভিত্তিতে পিল কমিশনের সুপারিশকে অনুমোদনের জন্য জিয়নিস্ট কংগ্রেসকে রাজি করান।

ফিলিস্তিনের আরব নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে এবং ফিলিস্তিনের কোন ভূমি ইহুদি জনগোষ্ঠীর সাথে ভাগ করে নিতে অস্বীকার করে। আরবদের পিল কমিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ফলে উডহেড কমিশন প্রতিষ্ঠা পায়। উডহেড কমিশন তিনটি পৃথক পরিকল্পনা বিবেচনা করে, যার মধ্যে একটি পিল কমিশনের পরিকল্পনার ভিত্তিতে ছিল। ১৯৩৯ সালের মে মাসে ব্রিটিশ সরকার একটি নতুন নীতিমালা প্রকাশ করে ফিলিস্তিনে এক-রাষ্ট্রীয় সমাধান কার্যকর করতে চেয়েছিল। ইহুদি অভিবাসনের জন্য কোটা স্থাপন করায় ইহুদি অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় যা ছিল ব্রিটিশ সরকার দ্বারা নির্ধারিত ও স্বল্পমেয়াদী এবং যা আরব নেতৃত্ব দ্বারা দীর্ঘমেয়াদে নির্ধারণ করা হবে।
ভূমধ্যসাগরের পূর্বে ১০,৪২৯ বর্গমাইলব্যাপী ফিলিস্তিন দেশটি ছিল উসমানীয় খেলাফতের অধীন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যারা ছিল বৃটেন বিরোধী জোটে। তখন যুদ্ধ জয়ে ফিলিস্তিনীদের সহযোগিতা পাওয়ার আশায় ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড বেলফোর যুদ্ধে জয়ী হলে এই ভূমিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে বলে আশ্বাস দেন যা ইতিহাসে বেলফোর ঘোষণা হিসেবে পরিচিত। যেহেতু আরবরা ছিল ইহুদিদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি, সেহেতু ঘোষণাটি তাদের অনুকূল বলেই তারা ধরে নেয়। কিন্তু এর মাঝে যে মহা ধোকাটি লুকিয়ে ছিল তা তারা বুঝতে পারেনি। ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বৃটেনের প্রয়োজনে দুর্লভ বোমা তৈরির উপকরণ কৃত্রিম ফসফরাস তৈরি করতে সক্ষম হন ইহুদি বিজ্ঞানী ড. হেইস বাইজম্যান। ফলে আনন্দিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলেন কি ধরনের পুরস্কার তিনি চান। উত্তর ছিল অর্থ নয় আমার স্বজাতির জন্য এক টুকরো ভূমি আর তা হবে ফিলিস্তিন। ফলে ফিলিস্তিন ভূখন্ডটি ইহুদিদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয় বৃটেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ জয়ের পর বৃটেন স্বাধীনতা দেয়ার অঙ্গীকারে ১৯১৮ সাল থেকে ৩০ বছর দেশটিকে নিজেদের অধীন রাখে। মূলত এই সময়টিই ফিলিস্তিনকে আরব শূন্য করার জন্য ভালোভাবে কাজে লাগায় ইহুদি বলয় দ্বারা প্রভাবিত ইঙ্গ-মার্কিন শক্তি। ব্রিটিশরা একদিকে ইহুদিদের জন্য খুলে দেয় ফিলিস্তিনের দরজা, অন্যদিকে ব্রিটিশ বাহিনীর সহযোগিতায় ইহুদিরা ফিলিস্তিনীদের বিতাড়িত করে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য গড়ে তোলে অনেক প্রশিক্ষিত গোপন সন্ত্রাসী সংগঠন। তার মধ্যে তিনটি প্রধান সংগঠন ছিল হাগানাহ , ইরগুন ও স্টার্ন গ্যাং যারা হত্যা, সন্ত্রাস, ধর্ষণ আর ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টির মাধ্যমে নিরীহ ফিলিস্তিনীদের বাধ্য করে নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যেতে। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর গণহত্যার কথা যখন আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারিত হচ্ছিল তখন পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য গুপ্ত সংগঠন হাগানাহ বেছে নেয় আত্মহনন পন্থা।

১৯৪০ সালে এসএস প্যাটৃয়া নামক একটি জাহাজকে হাইফা বন্দরে তারা উড়িয়ে দিয়ে ২৭৬ জন ইহুদিকে হত্যা করে। ১৯৪২ সালে আরেকটি জাহাজকে উড়িয়ে দিয়ে হত্যা করে ৭৬৯ জন ইহুদিকে। উভয় জাহাজে করে ইহুদিরা ফিলিস্তিনে আসছিল আর ব্রিটিশরা সামরিক কৌশলগত কারণে জাহাজ দুটিকে ফিলিস্তিনের নৌ-বন্দরে ভিড়তে দিচ্ছিল না। হাগানাহ এভাবে ইহুদিদের হত্যা করে বিশ্ব জনমতকে নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা করে। পাশাপাশি ইহুদিদের বসতি স্থাপন ও আরবদের উচ্ছেদকরণ চলতে থাকে খুব দ্রততার সাথে। এর ফলে ২০ লাখ বসতির মধ্যে বহিরাগত ইহুদির সংখ্যা দাড়ালো ৫ লাখ ৪০ হাজার। এ সময়ই ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইঙ্গ-মার্কিন চাপে জাতিসংঘে ভোট গ্রহণ হয় যাতে ৩৩টি রাষ্ট্র পক্ষে, ১৩টি বিরুদ্ধে এবং ১০টি ভোট দানে বিরত থাকে। প্রস্তাব অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার মাত্র এক-চতুর্থাংশ হয়েও ইহুদিরা পেল ভূমির ৫৭% আর ফিলিস্তিনীরা পেল ৪৩%।

তবে প্রস্তাবিত ইহুদি রাষ্ট্রটির উত্তর-পশ্চিম সীমানা ছিল অনির্ধারিত যাতে ভবিষ্যতে ইহুদিরা সীমানা বাড়াতে পারে। ফলে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা চূড়ান্ত হলেও উপেক্ষিত থেকে যায় ফিলিস্তিন। জাতিসংঘের মাধ্যমে পাস হয়ে যায় একটি অবৈধ ও অযৌক্তিক প্রস্তাব। প্রহসনের নাটকে জিতে গিয়ে ইহুদিরা হয়ে ওঠে আরো হিংস্র। তারা হত্যা সন্ত্রাসের পাশাপাশি ফিলিস্তিনদের উচ্ছেদ করার উদ্দেশে রাতে তাদের ফোন লাইন, বিদ্যুৎ লাইন কাটা, বাড়ি-ঘরে হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, জোর করে জমি দখল এবং বিভিন্নভাবে নারী নির্যাতন করে মৃত্যু বিভীষিকা সৃষ্টি করতে লাগলো। ফলে লাখ লাখ আরব দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হলো। এরপরই ১৯৪৮ সালের ১২ মে রাত ১২টা এক মিনিটে ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণা করলো ইহুদিরা। ১০ মিনিটের ভেতর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল। অতঃপর সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বৃটেনও স্বীকৃতি দিল।

২০০৬ সালের পর থেকে ফিলিস্তিনি অংশ দুটি প্রধান দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে: ফাতাহ এবং হামাস। এর মধ্যে ফাতাহ-ই বর্তমানে সবচেয়ে বড় দল। এর ফলে দেশের কেন্দ্রীয় অন্তর্বতীকালীন সরকার কর্তৃক শাসিত মূল ভূমি ব্যবহারিক অর্থে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে: পশ্চিম তীরে ফাতাহ এবং গাজা উপত্যকায় হামাস প্রভাব বিস্তার করেছে। এতে সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ অনেকগুলো দেশই হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে। ২০০৬ এর নির্বাচনে হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলেও তাদেরকে কোন আন্তর্জাতিক সমঝোতা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেয়া হবে না। তবে অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন হামাস যেহেতু ইসরায়েলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তাই ইসরায়েলের সমর্থকগোষ্ঠী ইচছাকৃতভাবে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দেয়।


লেখক : গবেষক, কলাম লেখক,
সহকারি কর্মকর্তা, ক্যারিয়ার এন্ড প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস বিভাগ,
সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়।




ডেল্টা টাইমস্/মো: আরাফাত রহমান/সিআর/জেড এইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]