মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
মো: আরাফাত রহমান
প্রকাশ: রোববার, ১১ জুলাই, ২০২১, ১২:৩৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর গভর্নিং কাউন্সিল বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস চালু করে। দিবসটির লক্ষ্য পরিবার পরিকল্পনা, লিঙ্গ সাম্যতা, দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের মতো বিভিন্ন জনসংখ্যার বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। দিনটির পরামর্শ দিয়েছিলেন ডাঃ কে সি জাকারিয়া, যেখানে তিনি বিশ্বব্যাংকে সিনিয়র ডেমোগ্রাফার হিসাবে কাজ করার সময় বিশ্বের জনসংখ্যা পাঁচ বিলিয়নে পৌঁছেছিল। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনুমান করা হয় প্রায় ১৫৮ মিলিয়ন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১.৫৬৬%। এর আগে ১৯৯১ সালের আদমশুমারিতে এই জনসংখ্যা ছিল ১১১.৫ মিলিয়ন যা ২০০১ সালে দাঁড়ায় ১৩০.৫ মিলিয়নে। ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৬০ মিলিয়ন এবং ২০১০ সালে ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রেফারেন্স- এর ভাষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬৪ মিলিয়ন। কিন্তু দ্যা পপুলেশন অ্যান্ড হাউসিং সেনসাস প্রিলিমিনারি রেসাল্টস ২০১১ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৪২ মিলিয়ন। বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলির অন্যতম। ২০৫০ সালে দেশের জনসংখ্যা ২০০১ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হবে বলে অনুমান করা হয়। 

২০০১ সালে দেশে পরিবারের সংখ্যা ছিল ২৫.৩১ মিলিয়ন, যার মধ্যে ১৯.৪৫ মিলিয়ন গ্রামীণ এলাকায় এবং ৫.৮৬ মিলিয়ন ছিল নগর এলাকায়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল গড়ে ৪.৯ জন। এ সময় পুরুষ-মহিলার অনুপাত ছিল ১০৬.৬, শিশু-নারী অনুপাত ছিল ৫২৬ এবং পোষ্যতার অনুপাত ছিল ৮৩। জনসংখ্যার ক্ষেত্রে পাঁচ বছর বা তারচেয়ে বেশি বয়সীদের স্বাক্ষরতার হার ২০০১-এ ছিল ৪২.৫%, এর মধ্যে পুরুষ স্বাক্ষরতার হার ৪৭.৫% ও নারীর হার ৩৮.৩%। এ সময় ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরতার হার ছিল ৪৭.৫ %। অর্থনৈতিক সক্রিয়তার হার ২০০১ ও ১৯৯১ সালে যথাক্রমে ছিল ৩৭.৬ ও ৪৩.১। ২০০১ সালে পরিবারের আয়ের চারটি প্রধান উৎস ছিল কৃষি/বনভূমি/পশুপালন (২৯.২%), কৃষি শ্রম (২০.৬%), ব্যবসা (১৪.৭%) এবং বেতন/মজুরি (১০.৯%)। 

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-প্রেক্ষিত বাংলাদেশ


অষ্টাদশ শতকের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল ছিল। কারণ তখন জন্ম-মৃত্যুহার ছিল প্রায় সমান। ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিক থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাত ধীরগতিতে বাড়তে থাকে। এই সময়ে দুর্ভিক্ষ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়সহ নানা ধরনের দুর্যোগের প্রাদুর্ভাবের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের উচ্চ বিস্তারকে এর কারণ বলে মনে করা হয়। ১৯২১ সালের পর থেকে মৃত্যুহার হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি প্রজনন হার বেড়ে যাওয়ায় জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি থেকে প্রজনন হার কমতে শুরু করলেও তা রয়ে গেছে উচ্চ পর্যায়েই। প্রজননের উচ্চ হার এবং জনসংখ্যার বিপুল অংশ যুবাবয়স্ক হওয়ার ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে প্রতিস্থাপনযোগ্য প্রজনন হার অর্জিত হলেও আগামী পঞ্চাশ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। 
১৮০১ সাল থেকে পরবর্তী ১০০ বছরে এ অঞ্চলের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ১৯০১ সালে ২৮.৯ মিলিয়নে উপনীত হয়। এ সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ০.৬৭ শতাংশে স্থির ছিল। ১৯৩১ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মন্থর ছিল। সে বছর জনসংখ্যা ৩৫.৩ মিলিয়নে পৌঁছে। তবে পরবর্তী  ৪০ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। জনসংখ্যার ভয়াবহ চাপ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারাকে স্থবির করে তুলেছে যদিও বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে কমছে। ১৯৭৪ সালে এ হার ২.৪৮ শতাংশ ছিল, ২০০১ সালে তা কমে প্রায় ১.৫৯ শতাংশ হয় এবং ২০০৬ সালে দাঁড়ায় ১.৪১ শতাংশে। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখনও অনেক বেশি। এমনকি শীঘ্রই যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রতিস্থাপনযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়, অর্থাৎ জন্মহার ও মৃত্যুহার সমান হয়, তবুও বর্ধিত জনসংখ্যার চাপ আগামী ৫০ বছর এ দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে বহাল থাকবে। 

জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান দুটি উপাদান হলো প্রজনন বা গর্ভধারণ হার ও মৃত্যুহার। ১৯৭০ এর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে স্থূল জন্ম হার ছিল অনেক বেশি, প্রতি হাজারে ৫০। তবে এরপর এ হার হ্রাস পেয়ে ১৯৯৪ সালে দাঁড়ায় প্রতি হাজারে ২৭.৮। স্থূল মৃত্যু হার হ্রাস পাওয়া শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকে। প্রাক্কলিত স্থুল মৃত্যু হার ছিল প্রতি হাজারে ৪০-এরও বেশি এবং ১৯৩১-১৯৪১ সালের মধ্যে তা প্রথমবারের মতো ৪০-এর নিচে নেমে আসে। সর্বোচ্চ স্থূল মৃত্যুর হার ছিল ১৯১১ থেকে ১৯২১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে প্রতি হাজারে প্রায় ৪৭.৩। এর একটা অন্যতম কারণ ছিল ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর কারণে ১৯১৮ সালে প্রায় ৪ লাখ লোকের মৃত্যু। ২০১১ সালে মৃত্যুর হার হ্রাস পেযয়ে দাঁড়ায় প্রতি হাজারে প্রায় ৫.৭৫। ২০১১ সালে বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৯৬৪ জন যা ২০০১ সালে ছিল ৮৩৯ জন। ১৯০১ সালে জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৯৬ জন এবং নিয়মিতভাবে এ হার বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৫১ সালে ২৯৯, ১৯৮১ সালে ৬০৯ এবং ২০০১ সালে ৮৩৯ জনে উপনীত হয়।
জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধির এ পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, সাম্প্রতিক দশকগুলিতে ঘনত্ব বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেলেও মোট জনসংখ্যা প্রতি দশকে বিপুল হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৮১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সময়ে প্রতি বর্গ কিলোমিটার এলাকায় গড়ে অতিরিক্ত ২৭২ জন লোক বসবাস শুরু করে, যা ১৯৩১ থেকে ১৯৪১ পর্যন্ত সময়ের মোট জনসংখ্যা ঘনত্বের প্রায় সমান। জনসংখ্যা ঘনত্ব বৃদ্ধির হার ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সময়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১৯ জন ছিল। প্রতি বছর বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০১ সালে বাংলাদেশে ৫ বছরের কমবয়সী পুরুষ ও মহিলা ছিল যথাক্রমে ১৩.১% এবং ১২.৯%। ১৯৯১ সালে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৬.১ শতাংশ ও ১৬.৮ শতাংশ। এ সময় ১৫ বছরের কমবয়সী লোকসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের সামান্য কিছু কম, যা ২০০১ সালে কমে দাঁড়ায় ৩৯.৩ শতাংশে। সূচকটি দেশের জনসংখ্যার যুবাবয়সী জনসংখ্যার আধিক্য নির্দেশক। 

১৯৬১ সাল থেকে বাংলাদেশে নগরায়ণের প্রক্রিয়া দ্রুততর হতে থাকে। ১৯০১ সালের আদমশুমারির পরিসংখ্যানে শহর এলাকায় ০.৭ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে বলে রেকর্ড করা হয়, তবে তা ধীরগতিতে বেড়ে ডসয়ে ১৯৬১ সালে দাঁড়ায় ২.৬ মিলিয়নে। নগরবাসী জনসংখ্যা ১৯০১ সালের ২.৪% থেকে বেড়ে গিয়ে ১৯৬১ সালে ৫.২% দাঁড়ায়। তবে ১৯৬১ সাল থেকে শহরের জনসংখ্যার শতকরা হার দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে শহরের জনসংখ্যা ছিল ৬.২৭ মিলিয়ন এবং পরে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে তা বেড়ে গিয়ে যথাক্রমে ২০.৮৭ ও ২৮.৬০ মিলিয়নে দাঁড়ায়। ১৯০১ সালে শহরের জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ২.৪৩% ছিল এবং ২০০১ সালে তা দ্রুত বেড়ে গিয়ে ২৩.১ % দাঁড়ায়। বর্তমানে মোট জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ শহরাঞ্চলে বসবাস করে। ১৯৯১-২০০১ দশকে শহুরে জনসংখ্যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ৩.১৫ %। যা ২০০৫-২০১০ সালের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩.৫%। 

প্রাথমিকভাবে পরিবার পবিকল্পনা কর্মীরা দীর্ঘমেয়াদী উপকরণ যেমন বন্ধ্যাকরণ এবং আইইউডি বা জরায়ুর অভ্যন্তরে স্থাপনযোগ্য পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য উদ্ধুদ্ধ করতেন, তবে ১৯৯০ দশকের শুরু থেকে পদ্ধতি ব্যবহারে এক ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারকারী খাবার বড়ি এবং ইনজেকশন জাতীয় স্বল্পমেয়াদী প্রত্যাহারযোগ্য পদ্ধতি পছন্দ করেন। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের পরিপূরক হিসেবে তরুণী মেয়েদের মধ্যে বয়সের পূর্বে বিয়ে না করার প্রবণতা বৃদ্ধি, স্বাক্ষরতার হার ও বিদ্যালয়ে অবস্থানকাল বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ প্রভৃতি উপাদান গর্ভধারণ হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালে মোট গর্ভধারণ হার ছিল ৬.৩, যা ১৯৯৯-২০০০ সালে এ হার হ্রাস পেযয়ে ৩.৩ এবং ২০০৭ সালে ২.৭ হয়। এ নিয়ন্ত্রিত গর্ভধারণ হার হ্রাস নির্দেশ করে যে, বিগত ২৫ বছরে সন্তান জন্মদানে সক্ষম প্রত্যেক মহিলা গড়ে তিনটির অধিক সন্তান জন্মদান এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। 

গর্ভনিরোধক দ্রব্যাদির লভ্যতা ১৯৭৫ সালে ৭.৭% থেকে ১৯৯৯-২০০০ সালে ৫৪% এবং ২০০৭ সালে ৫৫.৮% বৃদ্ধিকে গর্ভধারণ হার হ্রাসের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গর্ভনিরোধক দ্রব্যাদির লভ্যতা বৃদ্ধি মানব উন্নয়ন অবস্থার কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছাড়াই ঘটেছে। এখানে গর্ভধারণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশ জোরালো কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে গর্ভনিরোধক দ্রব্যাদির চাহিদা সৃষ্টি করা হয়েছিল। ২০০৭ সালে  ৪৭.৪৫ শতাংশ বিবাহিত নারী যেকোনো আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করছে। সর্বাধিক জনপ্রিয় পদ্ধতি ছিল খাবার বড়ি (২৮.৫%), ইনজেকশন জাতীয় সামগ্রী (৭%) এবং মহিলাদের স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ (৫%)। এর পাশাপশি স্বল্প পরিসরে পুরুষদের ভ্যাসেকটমিও চালু আছে। 

১৯৫৩ সালে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি একটি কর্মসূচি চালু করে। সরকারি এবং বিদেশি দাতা সংস্থাসমূহের সহায়তায় এ সমিতি হাসপাতালের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি প্রয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৯৬০-৬৫ সময়ে সরকার সমন্বিত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এর সাফল্য ছিল খুবই সীমিত। ১৯৬৫-৭০ সময়ে  গণযোগাযোগ কর্মসূচি ও দূরবর্তী এলাকায় হাসপাতালের সহায়তায় সেবা পৌঁছানোর মাধ্যমে ব্যাপক পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সময়ে প্রণীত নীতিসমূহের ভিত্তিতে জনসংখ্যা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে জনসংখ্যা সমস্যাকে উচ্চ প্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে সেবা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য পরিবার কল্যাণ সহকারী নিয়োগ করা হয়। পরবর্তী পাঁচসালা পরিকল্পনাগুলিতেও সরকার জনসংখ্যা বিভাগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। নতুন নতুন উপাদান ও কর্মপন্থা অন্তর্ভুক্ত করে এ কর্মসূচি বিভিন্ন দিকে সম্প্রসারণ করা হয়, যেমন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ, ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক স্থাপন, স্থানীয় উদ্যোগে কার্যক্রম গ্রহণ, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন, প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইত্যাদি। এ কর্মসূচি সম্প্রসারণে বেসরকারি সংস্থাসমূহের অগ্রণী ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। 

১৯৯৮-২০০৩ সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং অন্যান্য কয়েকটি দাতা সংস্থার সাহায্যে চতুর্থ জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের অনুবৃত্তি হিসেবে স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা খাত কার্যক্রম প্রণয়ন করা হয়েছে। চতুর্থ জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করার সময় কতিপয় বিশেষ দিক চিহ্নিত করা হয়। এগুলির মধ্যে রয়েছে সরকারি সেবাসমূহের অপূর্ণ ব্যবহার, এসব সেবায় ব্যয়ের কার্যকারিতা, কার্যক্রমসমূহের স্থায়িত্ব এবং সেবার উৎকর্ষ। চতুর্থ জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে যে সুপারিশগুলি বেরিয়ে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে সেবা বিতরণ পদ্ধতির পুনর্গঠন, যোগ্যতা উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার উৎকর্ষ সাধন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, তথ্য ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবস্থাপনা, নতুন ও আদর্শ প্রকল্প থেকে লব্ধ শিক্ষা বাস্তবায়ন, পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার একত্রীকরণ, ব্যয়ের কার্যকারিতা, কার্যক্রমের স্থায়িত্ব ও সেবার গুণগত মান সংরক্ষণ। 

বাংলাদেশে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সেবাসমষ্টি প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিভাগের সংস্কার করাই হচ্ছে স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা খাতে কার্যক্রমের প্রধান উদ্দেশ্য। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা খাতে কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে গর্ভধারণ ও মৃত্যুহার কমানোর প্রচেষ্টার গতি অব্যাহত রাখা, মাতৃমৃত্যু হার ও রোগব্যাধি হ্রাসকরণ এবং ছোঁয়াচে রোগের প্রকোপ হ্রাসকরণ। সেবাসমষ্টির অপরিহার্য উপাদানগুলি হচ্ছে মৌলিক প্রজনন ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, নির্দিষ্ট কিছু ছোঁয়াচে রোগ নিয়ন্ত্রণ, সীমিত প্রতিষেধক সেবা এবং স্বভাব পরিবর্তন বিষয়ক গণযোগাযোগ। আশা করা যায় যে, পাড়া, ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা পদ্ধতির মাধ্যমে অপরিহার্য সেবাসমষ্টি প্রদান করা যাবে। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা খাতের কার্যক্রম দ্বারে দ্বারে সেবা প্রদানের পরিবর্তে এক ব্যক্তির এক কেন্দ্রে উপস্থিতিতে সেবাপ্রদান পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে।
কলাম লেখক, সহকারি কর্মকর্তা, ক্যারিয়ার এন্ড 
প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস বিভাগ,
সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়।




ডেল্টা টাইমস্/মো: আরাফাত রহমান/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]