মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

ঈদ আসে ঈদ যায় নন এমপিওরা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায়
মোঃ মোকারম হোসেন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১, ৪:৩৭ পিএম আপডেট: ১৬.০৭.২০২১ ৫:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঈদুল আযহার চাঁদ দেখা গিয়েছে। আগামী ২১শে' জুলাই মহাআনন্দে এই দিনটি, সারা বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় পালন করবে এবং বিশ্বের অনেক অনেক দেশে পালন করা হবে। আজকের এই ঈদের খুশি ও আনন্দের যেমন একটা ইতিহাস রয়েছে।
তেমনি একজন নন এমপিওর পরিবারেও এমন অনেক শিক্ষক হয়তো ইতিহাস হয়ে আছে।
কিছু মানুষ আছে স্বল্প আয়ের মধ্য দিয়েই সৃষ্টিকর্তার নিয়মবিধি মেনে,  ছিন্নমূলে বসবাস করে। এদের মধ্যে অনেকেই নিরুপায় হয়ে সমাজের উঁচুতলার মানুষদের দিকে হাত পেতে দেয়।এদের মধ্যে কেহ কেহ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, আবার কেহ কেহ তাচ্ছিল্য করে ফিরিয়ে দেয়। তবুও ওরা সবকিছু নিরবে সয়ে নিয়ে আরেকজনের দ্বারস্থ হয়।এরকম করেই দিন কেটে যায় তাদের জীবন। আজ প্রায় দু'বছর অতিবাহিত হতে চলছে কোভিড-১৯ করোনার আক্রমণ। ভেবে দেখুন এই আক্রমণে স্বল্প আয়ের মানুষগুলো কিভাবে ধুকে ধুকে মরছে।

ঈদ আসে ঈদ যায় নন এমপিওরা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায়

ঈদ আসে ঈদ যায় নন এমপিওরা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায়


আমরা সবাই জানি করোনার আক্রমন বড়ো ভয়াবহ! কিন্তু তার চেয়ে পেটের ক্ষুধার আক্রমণ যে আরও ভয়াবহ। তাই আমরা সবাই কোনো না কোনো কর্ম করে পেটের ক্ষুধা নিবারণ করি। 
কিন্তু নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কর্ম করেও কেনো আজ তাদের জীবন নিষ্পেষিত, শোষিত, লাঞ্চিত,অবমানিত নির্যাতিত বঞ্চিত, উপেক্ষিত? কর্ম করে সবাই সল্প হলেও আয় করে কিন্তু বিনা বেতনে দেশের জন্য দাসত্ব করে যায় নন এমপিও নামক দুঃখি অশহায় শিক্ষকগুলো।
কথায় আছেনা গোয়ালের পাশের ঘাস গরুতে খায়না ঠিক তেমনি দেশের দাসত্ব করে মরে গেলেও এ দেশের সরকার তাদের দেখবে না। হ্যাঁ এই রাষ্ট্রের, রাষ্ট্র ব্যবস্থার নির্মম নির্যাতনের, নিষ্পেষনের,উপেক্ষার শিকার হলো শিক্ষক সমাজের একটি অংশ।যারা রাষ্ট্র আর সমাজের প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে,রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি অনুযায়ী,শিক্ষকতার মত মহান পেশায় যোগ দেন।এবং তাদেরই নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা দান ও পরিচর্যায় আজকে অনেক স্টুডেন্টরা নামিদামি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, এমপি, মন্ত্রী, হিসেবে তৈরী হয়েছে।
অথচ নন এমপিও সেই হতভাগা শিক্ষকেরা আজও তাদের ন্যায্য অধিকার,পাওনা বেতনটুকুও পাচ্ছেন না। দিবো দিচ্ছি করে বছরের পর বছর কেটে যায়! অনেকে বিনা বেতনে অবসরেও চলে গেলো,আবার কেউ কেউ ক্ষুধার জ্বালা আর আত্ম সম্মানের চিন্তা করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার উপর অভিমান নিয়ে, পরপারে পারি জমিয়েছেন।

তারপরেও সরকারের কর্তা ব্যাক্তিগন এই সকল শিক্ষকদের নিয়ে একের পর এক, তাচ্ছিল্যের নাটক করেই চলছেন।একবারও ভাবলোনা যে বেতন ওদের ন্যায্য পাওনা। ওরা জাতিগড়ার কারিগর ওদের সন্মান আছে ওরা ধুকে ধুকে মরে যাবে,ছিন্নবস্ত্র পরে লজ্জা নিবারণ করবে, আর রাতের আধারে মোট বইবে, কুলিগিড়ি করবে, রিক্সা, অটো,ঠেলাগাড়ি চালিয়ে সংসারের নুন্যতম চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করবে। তবুও কারোকাছে হাত পাতবেনা প্রয়োজনে আত্মাহুতি দিবে (কেননা তারা শিক্ষক)।
এমনই পরিস্থিতিতে কি এই সকল শিক্ষকের পরিবার করোনা মোকাবেলা করবে নাকি ঈদ উৎসব পালন করবে?

আজ রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তি,সুশীল সমাজ,বুদ্ধিজীবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশেষ ব্যাক্তিবর্গ, এবং সমাজ পতিদের কাছে, এই নন এমপিও শিক্ষকেরা জানতে চায়, জবাব চায়, বেতন যদি নাই দিবে তাহলে কেনইবা এদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়েছিলো।
নন এমপিওরা বর্তমানে খুবই ক্লান্ত রুগ্ন,জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় পরে আছে। অর্থের অভাব আর পরিবারের চাপ মানুষিক বিপর্যয় দূর্বল করে মৃত্যুর বার্তা নিয়ে আসতে পারে। তখন কে নেবে এদের পরিবারের দায়িত্ব? কোথায় গিয়ে দাড়াবে এদের ভবিষ্যত?
আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে নাকি অন্ধকার জগতে চলে যাবে, এদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জীবন ধারা!!!!
পরিশেষে বলতে চাই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নন এমপিও শিক্ষকদের আপনার নিকট আর কিছু চাইবার নাই তারা শুধু চায় আপনার ওয়াদার মধ্যে দিয়ে একটি ওয়াদার বাস্তবায়ন করুন। সেটা হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে নন এমপিও শিক্ষকদের সাক্ষাৎ। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেলে নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারীরা,আপনাকে আজীবন হৃদয়ের মণিকোঠায় রাখবে।আশাকরি আপনি নন এমপিওদের এই আবদারটুকু রাখবেন।দুঃখে ভরা নন এমপিওদের জীবনে একটু সুখের পথ তৈরি করে দিবেন।

লেখক : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন, কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকা।





ডেল্টা টাইমস্/মোঃ মোকারম হোসেন/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]