বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০২১ ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮

ঈদুল আজহা উদযাপন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জুলাই, ২০২১, ৩:৩৮ পিএম আপডেট: ১৮.০৭.২০২১ ৩:৪৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

 ঈদুল আজহা উদযাপন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ঈদুল আজহা উদযাপন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

তারুণ্যের ঈদ ভাবনা

প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের সময় আবারো এসেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের প্রাণপ্রিয় উৎসব ঈদুল আজহা। এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে সবার মাঝেই জল্পনা-কল্পনা আলােচনার ঝড় বইছে। কেননা এই উৎসবের মধ্য দিয়েই মুসলমানদের আত্মত্যাগ, সেবা, দান এবং মূল্যবােধের প্রতিফলন ঘটে। যদিও করােনায় থমকে আছে সব। ছােট বড় সকলের কাছে বছরের সব থেকে বড় আনন্দ ঈদ উৎসব। দীর্ঘসময় ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ও। এবারের ঈদুল আজহা উদযাপন নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।

দুঃসময়ের ঈদে দুঃখীদের পাশে দাঁড়ান

ঈদ নিতান্তই একটি আবেগপ্রবণ শব্দ। ঈদ মানেই খুশি, ইদ মানেই উল্লাস, ইদ মানেই মোলাকাত, ঈদ মানেই সুখ ভাগাভাগি। এমন অসংখ্য বিশেষণ লুকিয়ে আছে শব্দটির অন্তরালে। তবে, অদৃশ্য মরণঘাতী করোনা মহামারীর কারণে গেলো দুই বছর ধরে ইদের আনন্দ উল্লাস উপভোগ করতে পারেনি বিশ্ববাসী। করোনা ভাইরাসের চলমান ভয়াল থাবায় বিশ্বে আবার চলে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আর পবিত্র ঈদুল আজহায় যেসব মুসলিম পরিবারগুলোর উপর কোরবানি ফরজ তারা তাদের সাধ্যমত কোরবানি করে থাকে। তবে এবারের ঈদে শাটডাউন থাকার ফলে দিনমজুররা ঠিকঠাক মত কাজ করতে পারেনি৷ তাদের পাশে দাঁড়ানোও বিত্তবানদের একটি দায়িত্ব। বিত্তশালীরা যদি এমন দুঃসময়ে দুঃখীদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে সবাই মিলে এবারের ঈদ-উল-আজহা আনন্দে কাটানো যাবে৷

রিদুয়ান ইসলাম 
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ।


এই ঈদে আনন্দের চেয়ে আতঙ্ক বেশি

করোনাকালে মুসলমানদের এই নিয়ে চারটি ঈদ, যা ঈদ উদযাপনের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে। পরপর দুই বছর স্বাভাবিক ঈদ উৎসব থেকে বিরত রয়েছি আমরা। এবারের ঈদ-উল-আযহা উদযাপনের আনন্দের চেয়ে আতঙ্কই যেন বেশি। কারণ করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা আবারো বেড়ে গিয়েছে, সেই সাথে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা ও। আক্রান্তের হার কমানোর জন্য কঠোর শাটডাউন জারি ও টিকা প্রদানের কাজকর্ম চলমান থাকলেও ঈদ উপলক্ষে কিছুদিনের জন্য শিথিল করা হচ্ছে  বিধিনিষেধ। ঈদের এই কয়েকদিনে আক্রান্তের হার আরও বৃদ্ধি পাবে কিনা এমন আশঙ্কা ভেতরে থেকেই যাচ্ছে। কারণ স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দে মেতে উঠতে সবাই হবে ঘরমুখী। একসাথে ঈদের নামাজ আদায় করা, কোরবানির মাংস সকলকে ভাগ করে দেওয়া, পরিবার ও বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া, এগুলো ছাড়া বারবার বিবর্ণ ঈদ উদযাপন করা যেন আসলেই অনেক কষ্টদায়ক। তাই আমরা সকলেই হয়তো চাইবো প্রতিবারের মতো স্বাভাবিকভাবে আনন্দের সাথে ঈদ উদযাপন করতে। কিন্তু এক্ষেত্রে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করতে হবে, যাতে আক্রান্তের হার অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে না যাই কিংবা  করোনার কারণে প্রিয় মানুষকে হারিয়ে বিবর্ণ ঈদ যেন উদযাপন করতে না হয়।

সিদরাতুল মুনতাহা
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।


মুসলিমদের আত্নত্যাগ ঈদুল আজহা

মুসলিমদের প্রধান দুইটি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে অন্যতম ঈদুল আজহা। এই উৎসবের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের আত্মত্যাগ, সেবা, দান এবং মূল্যবােধের প্রতিফলন ঘটে। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পরিবার পরিজনদের সাথে একত্রিত হয়ে আমরা প্রতিবছর ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করি। কুরবানি করা এবং কুরবানির মাংস বণ্টন করার মধ্যেও থাকে অসীম তৃপ্তি। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আমরা সবাই গতবারের মতাে এবছরেও ঘর বন্দী। এবারের ঈদও যেহেতু গতবারের মতাে পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে তাই আমাদের সকলের উচিত পরিবার-পরিজনদের এই মহামারী থেকে সুরক্ষিত রাখতে সকল স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলতে সাহায্য করা। জরুরি প্রয়ােজন ছাড়া আমরা বাড়ির বাইরে যাবাে না। অসহায় এবং দুস্থ প্রতিবেশীদের সাহায্য করার মাধ্যমে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াবাে এবং তাদের সুরক্ষিত রাখতে সচেষ্ট থাকবাে। করােনাময় এই ঈদ হােক সবার জন্য সুখময় হােক শান্তিতে থাকুক সবাই এই দোয়া। সবাইকে ঈদ মোবারক।

মাহরুমা আক্তার শিফা
শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ।


বর্ণহীন মলিন ঈদ

করোনাকালীন সময়ে আবারো আগমন হতে চলেছে ঈদুল আজহার। ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই উৎসব। মহা ধুমধামে প্রিয়জনের সাথে থেকে নানা ধরনের আনন্দ আয়োজন উপভোগ করার মানেই হচ্ছে ঈদ। নানা ধরনের মিষ্টান্ন আর বিশেষ করে ঈদুল আযাহার কোরবানীকৃত গরুর মাংস খাওয়ার মাধ্যমেই যেন এই ঈদের আনন্দ আয়োজন আরো বহুগুণে বেড়ে যায়। কিন্তুু আমরা যদি শহরাঞ্চলের ঈদের দিকে তাকাই তাহলে আমরা দেখতে পাই যে গ্রামের তুলনায় শহরাঞ্চলের ঈদের দিনটা একটু বেশি বর্ণহীন, মলিন আর ফ্যাকাশেময় হয়ে থাকে। এই শহর অঞ্চলের ঈদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ঘর কোনে আবদ্ধ হয়ে ঈদ উদযাপন করা। কিন্তুু এটি আসলে যদি কেউ গ্রামে যেতে না পেরে শহরের বদ্ধ পরিবেশে, সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক্টিভ থেকে ঈদের অভিবাদন জানিয়েই ঈদের দিনটিকে অতিবাহিত করে তাহলে তো সেটা অবশ্যই মলিন আর বর্নহীন একটা ঈদ হিসাবেই স্মৃতির পাতায় জমা থাকবে। 

সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি
শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।


সচেতনতাই পারে ঈদের আমেজ ফিরিয়ে দিতে

কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ আক্রমণের পর থেকেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ দুই উৎসব ঈদ উল আজহা এবং ঈদ উল ফিরতে যেনো বাঁধ পড়ে গেলো।
দুই বছর হতে চলল আমরা আমাদের সেই ব্যস্তময়, পরিচিত জগত থেকে ছিটকে পরে আছি। আগে ঈদ আসবে ছুটি দিবে বাড়ি যাব এর মধ্যে যে কি পরিমাণ আনন্দ সেটা এই কটা বছরে ভুলতেই বসেছি প্রায়। এই কয়েকটা বছর যাবত অলস সময় পালিত হচ্ছে। ছুটি আর ছুটি, তাই আর আগের মতো ঈদের সেই আমেজটা নেই, ফিকে হয়ে গেছে ঈদের সেই সাজসাজ রব। ঈদে নতুন কাপড়, ঘুরতে যাওয়া, ঈদের নামাজ সব আজ সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ। সেই মার্চ ২০২০ থেকে যেমনি ঘরে বসে কাটিয়েছেন ঠিক ঈদ টাও ঘরে বসেই কাটাতে হবে। করোনার মহামারীর কথা চিন্তা করে আমাদের এখনো সচেতন থাকতে হবে। আমাদের সচেতনতাই পারবে পরবর্তী ঈদের আমেজ আমাদের ফিরিয়ে দিতে। আমাদের এই ঈদে বর্জন করতে হবে আমাদের সাময়িক আনন্দ, গ্রহণ করে নিতে হবে করোনা দূরীকরণের শপথ। এই ঈদ যেনো শেষ ঈদ হয় করোনার প্রকোপের হাত থেকে এই বিশ্বাসের সহিত আমাদের গত বারের ঈদের মতো এবারের ও ঈদ পালনে রাখতে হবে সীমাবদ্ধতা।

সাদিয়া আফরিন মৌরী
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ।


ত্যাগের মহিমায় ঈদ আনন্দ

ত্যাগের মাঝেই যে প্রকৃত সুখ নিহিত থাকে তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো মুসলিম ধর্মালম্বীদের  সবচেয়ে বড় উৎসবের একটি ঈদ-উল-আযহা। এই উৎসবকে ঈদুজ্জোহা বা ত্যাগের উৎসবও বলা হয়। কারন ঈদ-উল-আযহা আসলে মুসলমানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মহান আল্লাহর নামে পশু কুরবানি করে৷ আর এই পশু কুরবানির মাধ্যমে নিজের ভিতরের অহংকারকে ত্যাগ করে নিজেকে মহান আল্লাহর দরবারে স্থাপন করে। তাছাড়া এই ঈদের কুরবানিকৃত পশুর কিছু অংশ আত্মীয়স্বজন এবং গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দিতে হয় যার ফলে দরিদ্রদের প্রতি ধনীরা দায়িত্ব পালনের একটি সুযোগ পায় এবং একই সঙ্গে আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এভাবেই সকল ভেদাভেদ ভুলে মিলিত হই ঐক্যের বন্ধনে, উপভোগ্য হয়ে ওঠে ঈদ আনন্দ।

শেখ শাহরিয়ার হোসেন
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ।




ডেল্টা টাইমস্/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]