মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

বৈশ্বিক গেম প্লে এবং ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১, ৭:৪৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই ইউরোপের ১০টি দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা মিলে গঠন করে নর্থ আটল্যান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা নেটো। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে প্রতিরোধ করা। কিন্ত স্নায়ু যুদ্ধের শুরুর দিকে এ ধরণের রাজনৈতিক ও সামরিক জোট গঠনের উদ্দেশ্য ছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সমন্বিত সুরক্ষা দেয়া।একাত্তর বছর পরে এসে,একটি পরিবর্তিত বিশ্ব যেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের সুরক্ষার অগ্রাধিকার রয়েছে সেখানে কি এটি এখনো প্রাসঙ্গিক? গত ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে উপস্থিতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো জোটের সেনাবাহিনী।আফগানিস্তান থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো জোট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন এর মাধ্যমে একটি অন্তহীন যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল।সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখের পর্যন্ত সেনা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলবে।যদিও এমন এক সময়ে সেনা প্রত্যাহার শুরু হল যখন দেশটিতে নতুন করে সংঘর্ষ বাড়তে শুরু করেছে।গত বছর সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তালিবানদের এক চুক্তি অনুযায়ী এ বছর মে মাসের এক তারিখের মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সেনাদের উপরে হামলা বন্ধ রাখতে হবে তালিবান বাহিনীকে।তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত মাসে এই সময়সীমা পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ পর্যন্ত আফগানিস্তানে সেনা উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন।

আফগানিস্তানে দেশটির সরকারি বাহিনী এবং তালিবান যোদ্ধাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পটভূমিতে মার্কিন ও নেটো সেনা প্রত্যাহার শুরু হল।সেনা প্রত্যাহার যুক্তিসঙ্গত উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, পশ্চিমের দেশগুলোতে হামলা চালানোর ষড়যন্ত্রের করার জন্য জিহাদি গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানকে যাতে ঘাটি হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে মার্কিন বাহিনী তা নিশ্চিত করেছে।

একই সাথে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি বলেছেন বিচ্ছিন্নতা বাদীদের যেকোনো হামলা প্রতিহত করে সরকারি বাহিনী সম্পূর্ণ সক্ষম।মার্কিন ও নেটো সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার অর্থ হবে তালিবানদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আর কোন কারণ থাকবে না।তালিবান বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,আপনারা কাদের হত্যা করছেন? কি ধ্বংস করছেন? বিদেশিদের উপর হামলার অজুহাত এখন শেষ হয়ে গেছে।কিন্তু সবাই এত ইতিবাচক মনোভাব রাখতে পারছেন না।সম্প্রতি নেটোর ভেতরকার পরিস্থিতিই আর আগের মতো নেই। খোদ সংস্থাটি কিংবা এর সদস্যভূক্ত অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং তুরস্ক।কিন্ত দাপ্তরিকভাবে নেটো গঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে "উত্তর আটল্যান্টিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ" নিশ্চিত করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর 'স্বাধীনতা, অভিন্ন ঐতিহ্য এবং সভ্যতার' রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করা।চুক্তি অনুযায়ী, নেটো ভুক্ত যে কোনো দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটি জোটভুক্ত সব দেশের উপর হামলা বলেই গণ্য হবে এবং সব দেশ একে অন্যের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মাঝে অনেক বিষয় নিয়ে মতবিরোধ। যেমন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ওয়াইপিজিকে সহায়তা যাদের তুরস্ক টেরোরিস্ট আখ্যা দিয়েছে।ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যা নিয়ে মতবিরোধ, তুরস্কের স্টেট ব্যাংক নিয়ে ওয়াশিংটনের অভিযোগ,এস ৪০০ ক্রয়সহ দীর্ঘ ফিরিস্তি।তুর্কিদের ধারায় ইউরো এশিয়ান বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-ঐতিহাসিক চরিত্র মিশে আছে।

ঐতিহাসিকরা বলে থাকেন, তুর্কিদের মাতৃভূমি মধ্য এশিয়ায়। অবলুপ্ত আরো অনেক ছোট ছোট তুর্কি জনগোষ্ঠী রয়েছে, যারা বড় জাতিগোষ্ঠীর সাথে মিশে গেছে। ঐতিহাসিকরা আরো বলেন, তুর্কিরা মধ্য এশিয়া থেকে সাইবেরিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় বসবাস করেছে, এদের বড় এক অংশ চীনেও বসবাস করেছে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলো ছাড়াও ক্রিমিয়া, ইউক্রেন, চীন, উত্তর ইরাক, ইরান, ইসরাইল, রাশিয়া, আফগানিস্তান, সাইপ্রাস, বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ায়ও এরা বসবাসরত। লিথুয়ানিয়া, পূর্ব পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ডে 
   রায়হান আহমেদ তপাদার

রায়হান আহমেদ তপাদার

কিন্ত তুরস্কের জন্য বড় প্রশ্ন হলো-কিভাবে সেনারা দায়িত্ব পালন করবে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিধান করবে, দূতাবাস দেখভাল করবে, আরো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নজরদারি করবে, কোনো সামরিক প্যাট্রোলিং ছাড়া তা সম্ভব নয়। কেননা, বর্ণিত বিষয়গুলো সামরিক প্যাট্রোলিং ও কমব্যাট টাস্ক। ন্যাটো জোটের একমাত্র মুসলিম দেশ, তুরস্ক হওয়ায় তালেবানরা তুরস্কের ব্যাপারে নমনীয়। পুরনো বন্ধুত্ব এবং ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা তুরস্ককে আফগানিস্তানে অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা এনে দিয়েছে। তুর্কি সেনারা যেখানেই গেছে সেখানে ভালো সমাদর পেয়েছে। ওয়াশিংটনের সাথে তুরস্ক সম্পর্কের জন্য ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহার করতে চায়। এরদোগানের এই উচ্চাভিলাষী মিশন সাবধানতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিচালনা করা না গেলে মাঝপথে পীড়াদায়ক দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। আঙ্কারার দুটি বিষয় সাবধানতার সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে সেটি হলো-আফগান ইস্যুতে অন্যান্য দৃশ্যমান ও নেপথ্যের নায়কদের সঠিকভাবে বিশ্লেষণে রাখা। এর মধ্যে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ, আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে, পাকিস্তানে থাকা পশতুন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আফগান ভূমিতে থাকা পশতুনের চেয়ে বেশি। তালেবানদের ‘মৌলপন্থী’রা পশতুন। তারা মিলে স্বাধীন পশতুনিস্তান বানাতে চায়, এটি তাদের দু’দশকের লালিত ইচ্ছা। পাকিস্তান নিজেদের পশতুনকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করছে। এদের অঞ্চলটি সীমান্তের দিকে অবস্থিত। আফগানিস্তানের পশতুন বন্ধুরা সহজে সীমান্তে মিলিত হয়ে প্রীতির বন্ধন গড়ে তুলেছে। এরাও কৌশলগত সুযোগের অপেক্ষায়। কাবুলের সাথে পাকিস্তানের চলমান পানি বিরোধও বড় এক সমস্যা। পানিবিরোধের কারণে কাবুলের ভারতমুখিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তুরস্কের বিমানবন্দর পাহারায় পাকিস্তান কতটুকু কাজে আসবে সেটি ভবিষ্যৎ জানান দেবে। এর পর আসছে ইরান। ইরানপন্থী বিদ্রোহী যোদ্ধারা আফগানিস্তানে খুব তৎপর। এরা তালেবানদের প্রতি অনুরক্ত। ইরান তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে। 

এদিকে রাশিয়া পজিটিভ না হলেও তুরস্ক আফগানিস্তানে দক্ষতার সাথে কাজ করুক চীন তা কামনা করে; বেল্ট ও রোড প্রকল্পে প্রচুর বিনিযোগ রয়েছে চীনের।এদিকে তালেবানদের উৎখাত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট যে হামলা শুরু করেছিল আজ তারা নিজেরাই তাতে উৎখাত হয়ে রাতের আঁধারে বাগরাম বিমানবন্দর ত্যাগ করেছে গত ১লা জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রত্যাহারের পর থেকে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিধান ও পরিচালনার প্রস্তাব আঙ্কারা দিয়েছে মে মাসে ন্যাটোর সভায়। যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়। সমালোচকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটন-আঙ্কারা সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করবে।আফগানিস্তানে তুরস্কের ৫ শতাধিক সেনা এয়ারপোর্ট অপারেশনের কাজ পরিচালনা করছে। তালেবানরা বলছে, ন্যাটো বাহিনীর সাথে তুরস্কের কোনো পার্থক্য নেই, তাদেরও আফগানিস্তান ছাড়তে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেনা প্রত্যাহারের এই চরম সময়ে কাবুল বিমানবন্দরের সুরক্ষার জন্য তুরস্কের পক্ষেই কাজটি সহজ। মনে রাখা প্রয়োজন, যদি কাবুল বিমানবন্দর নিরাপত্তার কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয় তবে বিমানবন্দরটি যুক্তরাষ্ট্রের সাপোর্ট মিশনের হাতেই যাবে। তখন শতভাগ সেনা প্রত্যাহার প্রশ্নের মুখে পড়বে। বিমানবন্দর পাহারার জন্য কমপক্ষে এক হাজার সেনা সদস্য দরকার। নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ছাড়া বিমানবন্দরে অপারেশন করা অসম্ভব। তালেবানদের এরকম হাইটেক লোকজন নেই। যুদ্ধ করা ও বিমানবন্দর অপারেট করা দুটি ভিন্ন বিষয়। যদি দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, সেখানে বিমানবন্দরও মুখ্য ভূমিকায় থাকবে। এখন তুরস্ক কাবুলের এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে, পরে কাবুল-প্রশাসনের হাতে এর দায়ভার তুলে দিতে পারে। কাবুল-আঙ্কারা সুমধুর সম্পর্ক সেই ১৯৮২ সাল থেকে। যদি এভাবে পথচলা না হয় তবে পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব আজিজ আহমদের মতে, কাবুলে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। অপরদিকে কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি যত না মানুষ পরিবহন করে, তার চেয়ে ঢের বেশি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়। বাইরের পৃথিবী মনে করে কাবুল বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ মানে, আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ। 

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দেখা যাবে, তুরস্ক আফগানদের স্বার্থ দেখে আসছে এবং তাদের সাথে ভালো সম্পর্কও রেখেছে। ন্যাটো জোটের সদস্য হলেও তুরস্ক তালেবানদের বা আফগানিস্তানের কোনো ক্ষতি চায়নি এবং এমন কোনো কাজের সাথে জড়িত নয়। তালেবানরা ইতঃপূর্বে শাসন করার সময় তৈরি করা সংবিধানকে আরো পরিমার্জিত করে এবার উপস্থাপন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। তুরস্ক এসব কিছুতে জড়াতে চাইছে না এবং রাজনীতিতেও হস্তক্ষেপ করতে চাইছে না। আফগানিস্তানে স্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের সাথে তুরস্ককে ‘ব্যালান্স’ করে চলতে হবে; কোনো ভুল করা যাবে না।গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো-ন্যাটো সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পরই তুরস্কের গুরুত্ব। আফগানিস্তানে তুরস্ক থেকে যাওয়া মানে, ন্যাটো থেকে যাওয়া। সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অফারটি এক ধরনের হট কেক। তুরস্ক এই কাজে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নতুন লেভেলে পৌঁছবে এবং বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। বৈশ্বিক গেম প্লে করার জন্য তুরস্কের এবং এরদোগানের নিজের জন্য লেভেলটি এখন প্রয়োজন।আফগানিস্তানে কিছু ভেতরের সমস্যা কাজ করছে। সেটি পপি চাষ ও ড্রাগ চোরাচালান করা। বিভিন্ন জিনিস ক্রসবর্ডার চোরাচালানের জন্য আফগান সীমান্তগুলো ‘বিখ্যাত হয়ে আছে। হাজার হাজার দরিদ্র পরিবার এই ব্যবসা করে সংসার চালায়। এসব রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তালেবানের আগমনে নারীসমাজ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। উত্তর আফগানিস্তানে নারীবাদীরা অস্ত্র নিয়ে তালেবানবিরোধী যুদ্ধে নেমে পড়েছে মর্মে ভারতীয় একটি সংস্থা খবর দিয়েছে। তালেবানরা শক্তি দিয়ে দেশ শাসন করতে চাইলে গৃহযুদ্ধ অনিবার্য। তখন গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সেনাদের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মতে, আফগান সেনাবাহিনী অনেক দক্ষ ও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী। ৭৫ হাজার তালেবান সেনার চাইতে অনেক বড় আকারের। তিন লাখের উপর আফগান বাহিনী, যারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এখন আফগান সেনা ও তালেবানদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে তুমুল লড়াই চলছে। প্রকৃত অর্থে এটাই গৃহযুদ্ধ।

ন্যাটোর ৭০ বছর পূর্তির মুখে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের স্নায়ুযুদ্ধের সময় ন্যাটোর কার্যকারিতা ছিল পুঁজিবাদী বিশ্বে। স্নায়ুযুদ্ধের অবসান, প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ারশ জোটের বিলোপ, ফলে এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভব, পরবর্তী সময় বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের উত্থান, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ন্যাটোর নেতৃত্বে লড়াই, এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা পাল্টে দিয়ে বহুকেন্দ্রিক হওয়ার চেষ্টা, ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া, ন্যাটো সদস্যের কারও কারও বহুকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় শরিক হওয়ার ইচ্ছা, সব মিলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এখন আলোচনার খোরাক।বিশ্বে একধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই অর্থেই। চরিত্রের দিক থেকে একদিকে লোকরঞ্জনবাদীদের উত্থান ঘটছে। দেশে দেশে ছদ্ম ফ্যাসিবাদ গেড়ে বসছে। আবার তামাম দুনিয়ায় মানুষ পথে নামছে। লেবানন থেকে চিলি, হংকং থেকে ইরাক–ইরান, আলজেরিয়াসহ সর্বত্র শাসন কাঠামো, অথনৈতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে বিক্ষোভ হয়েছে। শাসক ও শোষিতের চিরন্তর লড়াই আরও একবার খুব নিকটবর্তী না হলেও আসন্ন, এটা অনুমান করা যায়। কাঠামোগত দিক থেকে বহু মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মোদ্দা কথা হচ্ছে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন বিশ্বে জোটগত রাজনীতিতেও পরিবর্তন আনবে।নয়া বিশ্বব্যবস্থায় ন্যাটোর ভূমিকা কী হবে, গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা কতটুকু থাকবে, এসব নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। তাহলে নেটোর ভবিষ্যত কী হবে?এই প্রশ্নের সবচেয়ে ভাল উত্তর রয়েছে রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে।নেটোর উদ্বেগের একটি বড় বিষয় ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া।যত দিন রাশিয়ার আগ্রাসী মনোভাব থাকবে ততদিন নেটো দরকার হবে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা এবং প্রতিরোধের জন্য, ২০১৯ সালের শুরুর দিকে এনপিআর রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেছিলেন নেটোর সাবেক উপ-মহাসচিব আলেক্সান্ডার ভার্শবো।তাই আমার মনে হয়, আরো অন্তত কয়েক দশক ন্যাটো টিকে থাকতে পারে। তাহলে বলাই যাচ্ছে, এ ধরায় বৈশ্বিক প্লে গেম বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও খুবই ক্ষীণ।


লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট





ডেল্টা টাইমস্/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর/জেড এইচ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]