সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ২ কার্তিক ১৪২৮

উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে হবে
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:২৭ পিএম আপডেট: ২৭.০৯.২০২১ ১২:২৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনা মহামারিতে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় সবগুলো দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির নতুন পরাশক্তি চীন করোনার প্রভাব কাটিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রেখে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অথচ প্রভাবশালী অনেক দেশ এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

তবে করোনার মধ্যেও অর্থনৈতিক উন্নতির দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত এবং পাকিস্তানকে টপকে সামনে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই।সাউথ এশিয়ান ইকোনমিকস বাউন্স ব্যাক বাট ফেস ফ্রাজিল রিকভারি’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি বলছে, চলতি ২০২১ অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এরপরে ২০২২ অর্থবছরে একটু কমে গড় প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশ জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত হয় ১৯৭৫ সালে। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের অন্তর্ভুক্ত হতে তিনটি শর্ত রয়েছে। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ তিনটি শর্তই পূরণ করে। পরে ২০২১ সালেও তিনটি শর্ত পূরণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী, কোনো দেশ পর পর দুটি ত্রি-বার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদন্ড পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়। বাংলাদেশ সেই সুপারিশ পেয়েছে। জাতিসংঘের তিনটি শর্তের প্রথমটি হচ্ছে, মাথাপিছু আয়, অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন।শুরুতে কৃষিখাত বড়ো ভূমিকা রাখলেও ৮০’র দশক থেকে মূল ভূমিকা রাখতে শুরু করে শিল্পখাত। কৃষিনির্ভরতার পাশাপাশি দেশ এখন শিল্পনির্ভরতার দিকে এগোচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারের সহায়তায় বেসরকারি খাতের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
জিডিপিতে শিল্পের অবদান প্রতিনিয়তই বাড়ছে। 

বাংলাদেশ আজ এশিয়ার সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ। পরপর তিনটি অর্থবছরে ৭ শতাংশের বেশি হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৮ দশমিক এক-পাঁচ শতাংশ। দেশের জনগণের মাথাপিছু আয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয়, শিল্পসমৃদ্ধ দেশ গঠনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন হবে বলে, আশা করা যায়। করোনাভাইরাস মহামারি সত্ত্বেও সামনের বছরগুলিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জোরালো প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে।চীন যে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে, সেটাকে সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু সিইবিআর বলছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর হয়েছে। আগে যা ধারণা করা হয়েছিল, তার থেকে ৫ বছর আগেই ২০২৮ সালে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে।চীনের মতোই একইভাবে বাংলাদেশও যেহেতু করোনা ভাইরাসের মধ্যেও কিছুটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে, তাই সামনের বছরগুলোতে বাংলাদেশে ধারাবাহিক এবং জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশা করছি সিইবিআর।সিইবিআর তাদের রিপোর্টে বলছে, কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর আগের বছরগুলোতে বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল বেশ ভালো। এবং এটা ঘটেছে দেশটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও। গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়ছে গড়ে ১ শতাংশ হারে।বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় কোভিড-১৯ যেভাবে ছড়িয়েছে, সে তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণ অনেক সীমিত রাখা গেছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মারা গেছে ৭ হাজার ৫২ জন। প্রতি এক লাখে মাত্র ৪ জন। যদিও এই মহামারির কারণে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ছিল সীমিত, তা সত্ত্বেও অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে এটি। কারণ মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে চাহিদা গিয়েছিল কমে আর আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

তবে অন্য অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলেও বাংলাদেশ তা এড়াতে পেরেছে। করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় দেশে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প এবং মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সে মোতাবেক রাজধানীর মধ্যেই নয়, ঢাকার বাইরেও শিল্প বিকাশে মনোযোগী সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বেসরকারি খাতের বিকাশে দেশের শিল্পখাতে ঘটছে বিপ্লব। ক্ষুদ্র, ছোটো, মাঝারি, বৃহৎ, এমনকি ভারি শিল্পের বিকাশ ঘটছে বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও গড়ে উঠছে ক্লাস্টারভিত্তিক ছোটো ছোটো শিল্পকারখানা। স্বাধীনতার পর সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উল্লেখ করার মতো একমাত্র শিল্প ছিল পাটশিল্প। এরপর পর্যায়ক্রমে গড়ে উঠেছে তৈরি পোশাকশিল্প, যা এখনো মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। এখাতে সরাসরি অন্তত ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আর ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজসহ প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান এখাতের ওপর নির্ভরশীল, যার পুরোটাই বেসরকারি খাতের ওপর দাঁড়িয়ে। আর কৃষিভিত্তিক শিল্প, রড, সিমেন্ট, বিভিন্ন ধরনের রং, রাসায়নিক, ওষুধ, জাহাজভাঙা ও জাহাজ নির্মাণশিল্পসহ বহু শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে সময়ের ব্যবধানে। গত এক দশকে শিল্পায়নে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বেড়েছে কয়েক গুণ। বেড়েছে কর্মসংস্থান। ফলে আমূল পরিবর্তন এসেছে রপ্তানি খাতে। গত এক দশকে রপ্তানি আয় বেড়েছে কয়েক গুণ। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির তত্ত্বাবধানে সারাদেশে গড়ে উঠছে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল। শুধু চট্টগ্রামের মিরেরসরাই, সীতাকুন্ড ও ফেনীর সোনাগাজী জুড়ে ৩০ হাজার একর জায়গায় গড়ে উঠছে সুপরিকল্পিত বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী। ২০২০ সালে বাংলা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। সিইবিআর এর পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২০২১ সাল হতে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ঘটবে গড়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হারে। সিইবিআর বলছে, ২০২০ হতে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির সূচকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। 

এখন বাংলা দেশের অর্থনীতি আছে ৪১ নম্বরে। কিন্তু ২০৩৫ সালে বাংলাদেশ হবে ২৫তম অর্থনৈতিক শক্তি।২০২০ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৩৯ ডলার। এই হিসেবটা পিপিপি বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটিকে হিসেবে নিয়ে করা। বাংলাদেশকে এখন একটি নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ বলে গণ্য করা হয়।সিইবিআর এর সূচক অনুযায়ী বিশ্ব অর্থনীতিতে এখনো এক নম্বর শক্তি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে চীন এবং জাপান। প্রথম দশটি দেশের তালিকায় এরপর ক্রমান্বয়ে আছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা এবং কোরিয়া।২০৩৫ সাল নাগাদ এই প্রথম দশটি দেশের তালিকা থেকে ঝরে যাবে ইতালি, কানাডা এবং কোরিয়া। তাদের স্থলে প্রথম দশটি দেশের তালিকায় ঢুকবে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল এবং রাশিয়া।২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রথম ২৫টি দেশের তালিকায় যুক্ত হবে তিনটি নতুন দেশ: ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং বাংলাদেশ।এর মধ্যে বাংলাদেশের উত্থানকেই সবচেয়ে নাটকীয় বলতে হবে। বর্তমান র‍্যাংকিং ৪১ থেকে বহু দেশকে টপকে বাংলাদেশ পৌঁছাবে ২৫ নম্বরে।বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৪১। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ৩৪। এর পাঁচ বছর পর ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে ২৮তম বৃহৎ অর্থনীতি। ২০৩৫ সালে ঢুকবে প্রথম ২৫টি দেশের তালিকায়। যেসব অর্থনীতিকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যাবে তার মধ্যে আছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ডেনমার্ক, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা, ইসরায়েল, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নাইজেরিয়া, বেলজিয়াম, সুইডেন, ইরান এবং তাইওয়ান। বর্তমান বিশ্ব সূচকে এই দেশগুলো বাংলাদেশের উপরে, কারণ তাদের অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে বড়।তবে মনে রাখতে হবে, এই সূচক তৈরি করা হয় কেবলমাত্র কোন দেশের অর্থনীতির জিডিপির আকার দিয়ে। মানুষের মাথাপিছু আয় বা জীবনমান এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়। আর বাংলাদেশ যেহেতু খুবই জনবহুল একটি দেশ এবং ২০৩৫ সাল নাগাদ জনসংখ্যা আরও বাড়বে, তাই পেছন ফেলে যাওয়া দেশগুলোর তুলনায় অনেক দিক থেকেই বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানে তখনো অনেক পার্থক্য থাকবে। 

অবশ্য চলতি বছরের মধ্যেই অন্তত ২০টি দেশি-বিদেশি কোম্পানি উৎপাদনে যেতে কারখানা স্থাপনের কাজ করছে অবিরাম। একসময়ের কৃষিপ্রধান দেশ হতে যাচ্ছে শিল্পসমৃদ্ধ। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের মতে, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বড়ো ভূমিকা রাখবে অর্থনৈতিক অঞ্চল। বড়ো বড়ো উদ্যোক্তারা এখানে বিনিয়োগ করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর হবে দেশের সবচেয়ে সুন্দর শিল্পশহর। বৈচিত্র্যময়, আধুনিক ও সবুজ এ শিল্পনগরে নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসবেন উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী ২০০০-০১ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে শিল্পখাতের অবদান ছিল ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপিতে এ খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ।দেশের কর্মক্ষম সাড়ে ৮ কোটি মানুষের অন্তত ৮০-৮৫ শতাংশেরই জীবিকা জড়িত বেসরকারি খাতের সঙ্গে। ফলে বেসরকারি খাতই হয়ে উঠেছে শিল্পের চালিকাশক্তি। দেশে শিল্পের সংখ্যা ৭৮ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এসব শিল্পের সঙ্গে জড়িত অন্তত আড়াই কোটি মানুষ। এর পুরোটাই বেসরকারি খাতের হাত ধরে প্রসারিত হয়েছে। ওয়ার্ল্ড এসএমই ফোরামের তথ্যানুসারে, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের হাত ধরে ৭৮ লাখ শিল্পের মধ্যে ৬০ লাখ ৮০ হাজারই কুটিরশিল্প। এ ছাড়া ক্ষুদ্র শিল্প ১ লাখ ১০ হাজার, ছোটো শিল্প ৮ লাখ ৫০ হাজার, মাঝারি শিল্প ৭১ হাজার আর বৃহৎ শিল্প রয়েছে ৫২ হাজার। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পঞ্চম স্থানে থাকা বাংলাদেশ এসএমই শিল্পসংখ্যায় বিশ্বে সপ্তম স্থানে রয়েছে। এখন দেশে এসএমই খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৭৩ লাখ। চট্টগ্রামের মিরেরসরাই, সীতাকুন্ড ও ফেনীর সোনাগাজী জুড়ে ৩০ হাজার একরের বেশি জমিতে হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী। বৃহত্তম এ শিল্পনগরীতে ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। এখানে ৬২টি কোম্পানিকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পোশাক খাতের ৪১টি এবং এর বাইরে আরো ১০টি কোম্পানির সঙ্গে জমি ইজারা চুক্তি হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন জমি ভরাটসহ প্রাথমিক কাজ করছে। এসব জায়গায় এবছর আরো ২০টি শিল্প নির্মাণের কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে। এখানেই অন্তত ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে, আশা করা হচ্ছে। 

এছাড়াও শিল্পনগরীতে বড়ো বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে চীনের জিয়াংসু ইয়াবাং, জিহং মেডিকেল প্রোডাক্টস (বিডি), সিসিইসিসি বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার এইচএ টেক, ভারতের রামকি এনভার সার্ভিস, জার্মান ও ভারতের যৌথ অংশিদারিত্বে ফরটিস গ্রুপ, নেদার- ল্যান্ডসের লাইজার্ড স্পোটর্স, সিঙ্গাপুরের ইন্টার এশিয়া গ্রুপসহ বিভিন্ন কোম্পানি। দেশি কোম্পানির মধ্যে মেট্রো স্পিনিং, ম্যাকসন্স স্পিনিং ও টেক্সটাইল, সামুদা ফুড, উত্তরা মোটরস, বিজিএমইএ, সায়মান বিচ রিসোর্ট, ম্যাফ সুজ, বিজিএপিএমইএ, এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক, ইফাদ অটোস, রানার মোটর, সাইফ পাওয়ার, ডেল্টা ফার্মা, এশিয়া কম্পোজিট মিলসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। আর এর সবই বিস্তৃত হবে সরকারি সহায়তায় বেসরকারি খাতের হাত ধরে। এদিকে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরীতে পোশাকপল্লিতে যাচ্ছে ৪১ কোম্পানি। এসব কোম্পানির ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে।২০২০ সালের সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।সিইবিআর বলছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনেক ওলট-পালট ঘটে গেছে।ইউরোপ- আমেরিকার বেশিরভাগ বড় অর্থনীতির দেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর বিপরীতে চীন খুব কৌশলে করোনাভাইরাস দ্রুত এবং কঠোরভাবে মোকাবেলার কারণে সামনের বছরগুলোতে পৌঁছে যাবে বেশ সুবিধেজনক অবস্থানে। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনোমিক্স এন্ড বিজনেস রিসার্চ তাদের সর্বশেষ এক রিপোর্টে এই পূর্বাভাস দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবল ২০২১ নামের এই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়। এতে মূলত সামনের বছর এবং আগামী ১৫ বছরে বিশ্বের কোন দেশের অর্থনীতি কী হারে বাড়বে, তারই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী আর মাত্র ৭ বছর পর পরেই চীন হবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। ২০৩০ সালে ভারত হবে তৃতীয়। আর ২০৩৫ সাল নাগাদ ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বহু ধাপ উপরে উঠে পৌঁছে যাবে ২৫ নম্বরে।বাংলাদেশের অর্থনীতির চমকপ্রদ সাফল্যের পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে সিইবিআর এর এই রিপোর্টে বাংলাদেশ এখন যে ধরণের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি। 
লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট 




ডেল্টা টাইমস/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]