বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

শিক্ষক সংকট যেন আরেক করোনা মহামারী
জাহিদ হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ২:২৯ পিএম আপডেট: ১৫.১০.২০২১ ৮:০২ এএম | অনলাইন সংস্করণ

বৈশ্বিক মহামারী (কোভিড-১৯) করোনার কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেড় বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছিল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসময়ে করোনার তান্ডবে বাতিল করা হয় প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা। উক্ত পরীক্ষার্থীদেরকে দেয়া হয় অটো প্রমোশন। পাশাপাশি ঘরবন্দি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষাতে চলতে থাকে অনলাইন-টিভি ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ইত্যাদি। করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক  সময়োপযোগী বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমতে থাকে। আর তাই শিক্ষার্থীদের ঘরবন্দি জীবনের অবসান ঘটাতে এ বছরের ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাদরাসা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলতেও চলছে জোর প্রস্তুতি।

গত ২-৩ মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের শিরোনামে চাকরির বাজার থমকে থাকা, বিসিএসেও জট, অনিশ্চয়তা ও চাকরি প্রত্যাশীদের হতাশার কথা উঠে আসে। সংবাদের মোদ্দাকথায়, করোনা মহামারির কারণে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানেই কার্যত জনবল নিয়োগ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল সেই বিষয়টিই উঠে আসে । এর বাইরে নয় সরকারী বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও। অন্যদিকে, করোনার তান্ডব শুরুর পরপরই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন থেকেই শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষাতে নানা ধরণের মত দিয়ে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা। গত দেড় বছরে করোনার থাবাকে মাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখা হয় গার্মেন্টস, ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। সেইসাথে করোনা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক সংকট কাটাতে মহামারির মধ্যেই পিএসসি ৩৯তম বিশেষ বিসিএস এর মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগদান কার্যক্রম শেষ করে।  

শিক্ষক সংকট যেন আরেক করোনা মহামারী

শিক্ষক সংকট যেন আরেক করোনা মহামারী

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক  নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সব বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদারাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের ৫৪ হাজারেরও বেশি পদে শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ করতে এ বছরের ৪ এপ্রিল থেকে অনলাইনে আবেদন নেওয়া শুরু করে এনটিআরসিএ। নিবন্ধধারী প্রার্থীরা যথাসময়ে অনলাইনে আবেদন করলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তাদের নিয়োগ সুপারিশ আটকে যায়। পরে, আইনী সকল ঝামেলা কাটিয়ে এ বছরের ১৫ জুলাই ৩৮ হাজার ২৮৬ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এই ৩৮ হাজার শিক্ষককে নিয়োগ সুপারিশ করার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসা করেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বোদ্ধারা। কিন্তু, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে এ পর্যন্ত কখনো পুলিশ ভেরিফিকেশন না হলেও এই ৩৮ হাজার শিক্ষকের পুলিশ ভেরিফিকেশন করার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষামন্ত্রণালয়। পরে, এ বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও এখনও পুলিশ ভ্যারিফিকেশন শুরু হয়নি এ ৩৮ হাজার শিক্ষকের। যারফলে, শিক্ষক সংকটের বোঝা মাথায় নিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলো চালাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সারাদেশের সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।  গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায় পিএসসি। মৌখিক পরীক্ষা শেষ হবার পর এই ২১’শ প্রার্থীর চলমান পুলিশ ভ্যারিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সাড়ে ৮ মাস অতিবাহিত হলেও আজও প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে পারেনি উক্ত শিক্ষকরা। অপরপক্ষে, সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় প্রতিদিনই অবসর, মৃত্যু এবং পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষকের পদ শূন্য হচ্ছে। এতে শিক্ষক সংকট বাড়ছে। গত দেড় বছরে আরো প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষকের পদ শুন্য হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত সর্বশেষ কারিকুলাম অনুযায়ী মাধ্যমিকে আরো নতুন চারটি বিষয়কে সংযুক্ত করা হয় । বিষয়গুলো হলো-তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), কর্মমুখী শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা। দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি এবং কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষকের সংকট এখনও চলমান রয়েছে।

 ভুক্তভোগী নির্বাচিত এসব শিক্ষকরা বলছেন, করোনার কারণে চলা তাদের অর্থনৈতিক সংকট, নিয়োগ দীর্ঘসূত্রিতায় জীবনকে আরো দূর্বিসহ করে তোলার সাথে সাথে বেকারত্বের জীবনকে দীর্ঘায়িত করে ফেলছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বোদ্ধারা বলছেন, মানুষের জীবন বাঁচানোর তাগিদে করোনাকালীন সময়ে যেভাবে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ডাক্তার এবং নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একইভাবে করোনায় বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে টেনে তুলতে এবং শিক্ষার ক্ষতি পুষাতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হোক। অন্যদিকে, শিক্ষাবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়ে নির্বাচিত শিক্ষকরা  বলছেন উক্ত ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীর মাঝে যদি কোনো প্রার্থী রাষ্ট্রবিরোধী, ফৌজদারি বা অন্য কোন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যদি যথোপযুক্ত প্রমাণ মিলে তাহলে তৎক্ষণাৎ চাকরীচ্যুত করার শর্তে সুপারিশপত্র দিয়ে যোগদানের ব্যবস্থা করুন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি ব্যাংক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের নিয়োগ পদ্ধতির ন্যায় পরে পুলিশ ভ্যারিফিকেশন করুন।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বোদ্ধাদের সাথে সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন, এক মহামারী করোনার তান্ডব যেভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা শৃঙ্খলকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে সেইসাথে শিক্ষক সংকট আরেক দানবীয় রুপ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে লা শিক্ষার ক্ষতি পুষাতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দানের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট কিছুটা লাঘব করে পরবর্তীতে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সরকারের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থদের পাশাপাশি শিক্ষাবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়েছেন তারা।



লেখক: জাহিদ হাসান, সিনিয়র রিপোর্টার: দৈনিক ডেল্টা টাইমস্



ডেল্টা টাইমস্/জাহিদ হাসান/সিআর/জেড এইচ



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]