বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

খাদ্য অসুস্থ শরীরকে আরোগ্য হতেও সাহায্য করে
ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১, ১১:৩০ এএম আপডেট: ১৬.১০.২০২১ ১১:৫৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ

আজ শনিবার ১৬ ই অক্টোবর 'বিশ্ব খাদ্য দিবস'২০২১,আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত একটি দিবস। "খাদ্য", আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। তদুপরি, বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে, খাদ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সংস্থা, যেমন কৃষি বিকাশ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক তহবিল, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী ইত্যাদির দ্বারা "বিশ্ব খাদ্য দিবস" পালিত হয়। দিনটি সকলের জন্য খাদ্য সুরক্ষা এবং পুষ্টিকর ডায়েটের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করে। এই দিনটির মূল লক্ষ্য হ'ল খাদ্য -এই উপলক্ষে, আমাদের কৃষকদের যারা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য এবং আমাদের জীবনযাপনের জন্য খাদ্য উত্পাদন করে, তাঁদের এবং তাঁদের পরিশ্রমকে সম্মান জানানো,বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন শুরু হয় ১৯৮১ সনে প্রথম আনুষ্ঠানিকতা আর প্রতিপাদ্য নিয়ে। ১৯৪৫ সনের ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাটিপ্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বের মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্যের জোগান, দরিদ্র ও পুষ্টিহীনতা দূর করে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে (খাদ্য ও কৃষি সংস্থা) তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ পৃথিবীর প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে এখন প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন মানুষ খাদ্যের অভাবে দরিদ্রের কষাঘাতে ধুঁকে মরছে। তাইতো  চেষ্টা  চালাচ্ছে ২০১৫  সনের মধ্যে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে, খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি , দরিদ্রতা, অসম খাদ্য বণ্টন ইত্যাদির কারণে এটি ২১৫০ সালের আগে অর্জিত হবে না বলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান জানান।মানুষ এ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে খাদ্যের অধিকার নিয়ে। আর এ অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্বের প্রতিটি দেশ নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা সামনে রেখে তা বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে। 

তবে খাদ্যের সঙ্গে কৃষির সম্পর্কটি  অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত, যদি কৃষিকে বাদ রেখে আমরা খাদ্যের কথা বলি তবে বিষয়টি হবে অযৌক্তিক।। এবারের প্রতিপাদ্য বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। আর প্রতিপাদ্যে সবার জন্য খাদ্য বিষয়টি অন্তর্নিহিত রয়েছে।কৃষি প্রধান এ দেশে ১ কোটির ওপর বসতবাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বসতবাড়িগুলো শুধুই আবাসস্থল নয় বরং একেকটি কৃষি, মৎস্য, পশু, হস্ত ও কুটির শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের দেশের আবাসস্থলগুলোতেই মূলত শাকসবজি, মসলাজাতীয় ফসল, ভেষজ, ঔষধি, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, মৎস্য প্রকৃতি চাষাবাদ হয়ে থাকে। কৃষকদের পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে এসব সম্পদ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমান সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার কার্যক্রম সফল করা সম্ভব যদি কৃষকদের ধ্যান ধারণা চিন্তার কাক্সিক্ষত পরিবর্তন করে এসব বসতভিটা কার্যকরী তথ্য নির্ভর জ্ঞান দ্বারা পরিচর্যা করা যায়। এ কার্যক্রম সফল হলে দেশের পুষ্টি ঘাটতি দূরীকরণ সম্ভব সঙ্গে সঙ্গে কুটির শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে। এতে কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নসহ ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষক পরিবার হবে স্বাবলম্বী। দেশের পতিত জায়গার সুষ্ঠু ব্যবহার করে সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ দেশের কৃষি ক্লাবগুলো জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের দেশে সরকারি বা বেসরকারিভাবে নানা নামে কৃষি ক্লাব গড়ে উঠেছে। কৃষি ক্লাবগুলো মূলত কৃষি সম্প্রসারণ এবং আয়বর্ধনমূলক কাজ করে থাকে। এগুলো গড়ে ওঠার মূল কারণ উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, তথ্য বা সেবা যথাসময়ে সাধারণ জনগণের হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়া এবং তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। তবে তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে বাংলাদেশের কৃষিকে ডিজিটাল কৃষি করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের  কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক পরিচালিত কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র নামে সক্রিয় কৃষি ক্লাব গঠিত  হয়েছে। যেখানে কম্পিউটার, প্রিন্টার, ওয়েব ক্যাম, মোবাইল সেট ও সিম, মডেম ও ইন্টারনেট সিমসহ আরও অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

★বিশ্ব খাদ্য দিবসের ইতিহাস খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদস্য দেশগুলি ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে বিশ তম সাধারণ সম্মেলনে বিশ্ব খাদ্য দিবস প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৯৮১ সালের ১৬ ই অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের আহ্বান জানায়। ১৯৮০ সালের ৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করা হয় এবং সরকার ও আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় সংস্থাগুলিকে বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপনে অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়। ১৯৮১ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্ব খাদ্য দিবস অনুষ্ঠিত হয়।আমরা সবাই জানি, কিছু খাবার / শাকসবজি কাঁচাও খাওয়া হয়। কারণ, কাঁচা অবস্থায় সর্বাধিক পুষ্টি পাওয়া যায়, অনেক সময় ভাজা হওয়ার পরে তার বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ধ্বংস হয়ে যায়।

★খাদ্য  মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেঃ-নিম্নে তা আলোচনা করা হয়েছে...খাদ্য ছাড়া আমাদের জীবন ধারণ অসম্ভব। দৈনন্দিন কাজকর্ম ও চলাফেলা করার জন্য সবল, রোগমুক্ত ও সুস্থ শরীর প্রয়োজন। আর এই সুস্থ শরীর বজায় রাখতে খাবার প্রয়োজন। খাবার শরীর গঠন, বৃদ্ধি সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে; তাপশক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। অসুস্থ শরীরকে আরোগ্য হতেও সাহায্য করে। তবে খাবারের রয়েছে অনেক শ্রেণিভাগ। আর দেহকে সুস্থ রাখতে কোন খাবার কতটুকু প্রয়োজন শরীরের জন্য সেটিও জানা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্য উপাদানের শ্রেণীবিভাগ করলে আমরা এসব উপাদানকে ছয়টি ভাগে ভাগ করতে পারি। এগুলোও আবার বিভক্ত মুখ্য ও গৌন উপাদানে।খাদ্যের মুখ্য উপাদান'-শ্বেতসার বা শর্করা (উৎস-চাল, গম, ভুট্টা, চিড়া, মুড়ি, চিনি, আলু, মূল জাতীয় খাদ্য)
আমিষ (উৎস-মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, সীমের বীচি, কাঁঠালের বীচি, বাদাম ইত্যাদি)
স্নেহ জাতীয় খাদ্য (উৎস্য-তেল, ঘি, মাখন, চর্বি ইত্যাদি)* খাদ্যের গৌন উপাদানঃ-খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন (উৎস-রঙ্গিন শাক-সবজি, ফল, ডিম, দুধ, কলিজা ইত্যাদি)।খনিজ উপাদান (উৎস-ছোট চিংড়ি, ছোট মাছের কাঁটা, ঢেঁড়স, কচুশাক ইত্যাদি)।
নিরাপদ পানি কোন খাদ্য উপাদান দৈনিক কতটুকু খাওয়া প্রয়োজন?শ্বেতসার বা শর্করা : মোট প্রয়োজনীয় খাদ্য শক্তির শতকরা প্রায় ৫০-৬০ ভাগ শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন।আমিষ : শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ গ্রাম (পূর্ণ বয়স্কদের জন্য)। প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য ২-৩ গ্রাম (৪ বছরের শিশুর জন্য)। প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য ১.৭ গ্রাম (৪-১৮ বছরের বয়সের জন্য)। প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য ১.৫ গ্রাম (গর্ভবতী ও প্রসূতির জন্য)।স্নেহ জাতীয় খাবার : প্রায় ৩৫-৪০ গ্রাম (পূর্ণ বয়স্কদের জন্য)। প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য দৈনিক ২-৩ গ্রাম (১ বছর পর্যন্ত শিশুর)ভিটামিন  (তেল বা চর্বিতে দ্রবণীয়):- ভিটামিন-এ:  প্রায় ৫০০০ আইইউ (প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য)। প্রায়  ৬০০০ আইইউ (গর্ভবর্তী মায়ের জন্য )। প্রায় ২০০০-৪৫০০ আইইউ (১-১২ বছর বয়স পর্যন্ত)।

- ভিটামিন-ডি : ২.৫ মাইক্রোগ্রাম (প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষদের জন্য)। ১০ মাইক্রোগ্রাম (গর্ভবতী, প্রসূতি ও শিশুর জন্য)। - ভিটামিন-ই :  প্রায় ৫-১০ মিলিগ্রাম।
* ভিটামিন (পানিতে দ্রবণীয়) :- ভিটামিন-সি : ২০ মিলিগ্রাম (শিশুর জন্য)। ৩০ মিলিগ্রাম (প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য)। ৫০ মিলিগ্রাম (গর্ভবতী ও প্রসূতীর জন্য)।
-ভিটামিন-বি২ : ১.৪ মিলিগ্রাম (পুরুষদের জন্য)।  ১.০  মিলিগ্রাম (মহিলার  জন্য)। ১.১  মিলিগ্রাম (গর্ভবতীর জন্য)। - নায়সিন :  ১৮.২  মিলিগ্রাম(পুরুষদের জন্য)। ১৩.২  মিলিগ্রাম (মহিলার  জন্য)। ১৫.১  মিলিগ্রাম (গর্ভবতীর জন্য)।
- ভিটামিন-বি১২ :  ১.০ মাইক্রোগ্রাম (শিশুর জন্য)।  ২.০  মাইক্রোগ্রাম (প্রাপ্ত বয়স্কদের   জন্য)। ৩.০ মাইক্রোগ্রাম (গর্ভবতীর  জন্য)।

★ খনিজ উপাদান:- * ক্যালসিয়াম : ৪৫০ মিলিগ্রাম (প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য)।*ফসফরাস : ৮০০ মিলিগ্রাম (প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য)* পটাশিয়াম : ২.৫  মিলিগ্রাম (প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য)* আয়রন : ৯   মিলিগ্রাম (প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য)* আয়োডিন : ১৫০ মাইক্রোগ্রাম  প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য *পানি : প্রায় ২-২.৫ লিটার প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য* সুষম খাদ্য : সারা বিশ্বের এখন স্লিম ফিগারের জয়জয়কার। মেদবিহীন ছিপছিপে আকর্ষণীয় দেহের গড়ন সবার প্রিয়। এই প্রত্যাশা পূরণ খুব একটা কঠিন কাজ নয়। পরিমিত সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত শরীর চর্চার মাধ্যমে স্বাভাবিক ওজন আর সুস্থ শরীরের অধিকারী হওয়া সহজেই সম্ভব।
যে খাদ্যের মধ্যে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব খাদ্য উপাদান পরিমাণমতো বর্তমান থাকে, তাকেই এক কথায় সুষম খাদ্য বলা হয়। অর্থাৎ মানবদেহের প্রয়োজনীয় ও পরিমাণমতো ছয়টি উপাদানযুক্ত খাবারকেই সুষম খাদ্য হিসেবে ধরা হয়। সুষম খাদ্য দেহের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারের জোগান দেয়। এ সুষম খাদ্যের মাধ্যমে দেহের ক্ষয়পূরণ, বুদ্ধিসাধন, শক্তি উৎপাদনসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জিত হয়ে থাকে।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নিচে একজন পূর্ণবয়স্ক স্বাভাবিক পরিশ্রমী ব্যক্তির স্থানীয় স্বল্পমূল্যের খাদ্য থেকে সুষম খাদ্যের তালিকা দেওয়া হলো।খাদ্যশস্য (চাল, আটা, ময়দা সুজি) : ২৮৫ গ্রাম/ (২৬০ গ্রাম)
মসুর, মুগ, ছোলা, মটর, খেসারি : ১০০ গ্রাম / ৪০ গ্রামমিষ্টি কুমড়া, আলু : ২০০ গ্রাম / ১২০ গ্রাম
কচু, বিভিন্ন প্রকার সবুজ শাক-সবজি : ১০০ গ্রাম কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম : ২০০ গ্রাম অঙ্কুরিত বীজ : ৪০ গ্রাম,ভোজ্য তেল : ৫০ গ্রাম চিনি/গুড় : ২০ গ্রাম,মৌসুমি ফল : ২৫০ গ্রাম মাংস : ৫০ গ্রাম,দুধ : ২৫০ গ্রাম
টাটকা শাক : ১২০ গ্রাম,ডিম : ২০ গ্রাম

★ওজন কমানোর ক্ষেত্রে দৈনিক কতটুকু ক্যালরি পোড়ানো উচিত?ওজন কমাতে হলে একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের ও মহিলার ৫০০ ক্যালরি কম খেতে হবে। যেমন : একজন পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ যদি ২২০০ ক্যালরি খান (দৈনিক ক্যালরির চাহিদা অনুযায়ী) সেক্ষেত্রে ২২০০-৫০০ = ১৭০০ ক্যালরি খেতে হবে। একজন পূর্ণ বয়স্ক মহিলা যদি ১৭০০ ক্যালরি খান (দৈনিক ক্যালরির চাহিদা অনুযায়ী) সেক্ষেত্রে ১৭০০-৫০০ = ১২০০ ক্যালরি খেতে হবে। এই ৫০০ ক্যালরি কম খাওয়া হবে ব্যায়ামের ক্যালরি ও খাবারের ক্যালরি মিলিয়ে। এর কম খেলে মেটাবলিসম কমে যেতে পারে, শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ৫০০ গুণ ৭ = ৩৫০০ ক্যালরি কম খেলে ওজন কমবে সপ্তাহে এক পাউন্ড বা আধা কেজি। এই ৫০০ ক্যালরি কম খাওয়া হতে পারে প্রতিদিন ২৫০ ক্যালরি ব্যায়ামে বার্ন করা + প্রতিদিন ২৫০ ক্যালোরি কম খাওয়া। যেমন : একজন ব্যক্তি, যিনি প্রতিদিন ২২০০ ক্যালরি খান, তিনি যদি ব্যায়ামে ২৫০ ক্যালরি পোড়ান, তাহলে তিনি ওজন কমাতে ২৫০ ক্যালরি কম খাবেন। এটাই ওজন কমানোর সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পথ। অনেকেই কম খাবার খান, তারা মনে করেন সে কম খাবার খেলে ওজন তাড়াতাড়ি কমবে।এটা ভুল ধারণা বরং প্রতিদিন ৫০০ ক্যালরি কম খেলেই ওজন ঠিক মতো কমবে। একমাত্র অনেক বেশি ওজন যাদের তারা ওজন অনেক দ্রুত বা সপ্তাহে এক পাউন্ডের চেয়ে বেশি কমাতে (ডাক্তার/পুষ্টিবিদের পরামর্শ মতে চলতে হবে।আর খাবার খাওয়া খুব না কমিয়ে বরং আপনার দৈনন্দিন কাজ কর্ম বা ব্যায়ামের পরিমাণ একটু বাড়াতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনার যে ওজন কমবে,তা পরবর্তীকালে ধরে রাখতে পারবেন।

★ ইসলামের দৃষ্টিতে খাদ্য মজুদ করা ভয়াবহ অপরাধ:-
খাদ্যদ্রব্য মজুদ করা অথবা তা বাজার থেকে তুলে নিয়ে দাম বাড়ানো এবং অধিক মুনাফার প্রত্যাশা করাকে ইসলাম অবৈধ করেছে। হানাফি মাজহাব মতে তা মাকরূহে তাহরিমি (হারাম সমতুল্য) হলেও অন্যান্য মাজহাব মতে এটি হারাম। এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং অনেক মানুষ দুর্গতির মধ্যে পতিত হয়। এ ধরনের কাজ মানুষের কষ্টকে বাড়িয়ে দেয়। তাই ইসলাম এ প্রকার কাজকে হারাম ঘোষণা করেছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, 'যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যশস্য মজুদ রাখে, আল্লাহপাক তার ওপর দরিদ্রতা চাপিয়ে দেন।' (আবু দাউদ : ৫৫)ব্যবসায়িক পণ্য বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বর্ধিত মুনাফা আদায়ের প্রচেষ্টা একটি সামাজিক অপরাধ। রাসুল (সা.) বলেছেন, 'যে খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অভিশপ্ত।' (ইবনে মাজাহ) তিনি আরো বলেন, 'যে ব্যক্তি ৪০ দিনের খাবার মজুদ রাখে, সে আল্লাহর জিম্মা থেকে বেরিয়ে যায়।' (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ২০৩৯৬) অন্য হাদিসে এসেছে : 'যে ব্যক্তি খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অপরাধী।' (আল মু'জামুল কাবির : ১০৮৬)তবে গুদামজাত পণ্য যদি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু না হয় কিংবা মানুষ এর মুখাপেক্ষী না হয় অথবা এসব পণ্য চাহিদার অতিরিক্ত হয় বা গুদামজাতকারী বর্ধিত মুনাফা অর্জনের অভিলাষী না হয়, তাহলে এসব অবস্থায় পণ্য মজুদ রাখা অবৈধ নয়।আর সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে খাদ্য মজুদ করা ইসলামের দৃষ্টিতে ভয়াবহ অপরাধ। এ ধরনের কুিসত চিন্তার মানুষকে রসুল (সা.) সত্য-সুন্দরের ধর্ম ইসলামের বহির্ভূত বলে ঘোষণা করেছেন। হজরত মামার (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘জনগণের জীবিকা সংকীর্ণ করে যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করবে সে বড় অপরাধী। আর জেনে রাখ! সে পাপী হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে।(মুসলিম : ১৬০৫, তিরমিজি : ১২৬৭। ) হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘গুদামজাতকারী কতই না ঘৃণিত মানুষ। আল্লাহতায়ালা দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দিলে সে চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর বাড়িয়ে দিলে সে আনন্দিত হয়। (সুয়াবুল ইমান : ১০৪৪৫, মেশকাত : ২৭৭১। ) হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিন খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে রাখবে, (এর দ্বারা মানুষকে কষ্ট দেবে), সে এ সম্পদ দান করে দিলেও তার গুনাহ মাফের জন্য যথেষ্ট হবে না। (মেশকাত : ২৭৭২।) খাদ্যদ্রব্য গুদামজাতকারী সম্পর্কে রসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমদানি করবে সে রিজিকপ্রাপ্ত হবে। আর যে গুদামজাত করবে, সে অভিশপ্ত হবে। (ইবনে মাজাহ : ২১৪৪, সুনান দারেমি : ২৪৬৪। )ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য। শহরের মানুষ দুবেলা ভাত খেলেও গ্রামের মানুষের তিন বেলাই ভাত চাই। ভাত হয় চাল থেকে। চাল আসে ধান থেকে। ধান আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। আল্লাহর মেহেরবাণীতে চাষাবাদের জন্য এ দেশের জমিনের উর্বরতা ঈর্ষণীয় তো বটেই, সঙ্গে উপমাযোগ্যও। তাই তো এ দেশের মানুষ খুব দুর্ভিক্ষ ছাড়া কখনো ভাতের অভাবে পড়েনি।না খেয়ে মরেনি। ভাত আর ভাতের মাড় খেয়ে সহজে এ দেশের মানুষ জীবন ধারণ করত হাসিমুখে। আজ থেকে পনেরো বছর আগেও এমন দৃশ্য ছিল ঘরে ঘরে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে বদলেছে জীবনযাত্রার মান, খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু ভাতের স্থান আছে আগের জায়গায়ই।নিত্য প্রয়োজনীয় এ খাদ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই চালের বাজারে গুজব উঠেছে, বন্যার কারণে ধান উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, তাই চালের সংকট দেখা দিয়েছে। কেজি প্রতি চালের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। নিত্য এ খাদ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এক কেজি মোটা চাল ৫০ টাকায় কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্তদেরও। এককথায় চরম অস্থির অবস্থা চলছে চালের বাজারে।এই যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এর জন্য বন্যা নয়, দায়ী অন্য কিছু। একদল অসাধু ব্যবসায়ী বন্যার অজুহাতে চাল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে।পাইকারি ও খুচরা বাজারে পড়েছে এর বাজে প্রভাব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযোগে মিলেছে এর সত্যতা। কয়েকটি জেলায় পাওয়া গেছে চালের বিশাল মজুদ। প্রমাণ হয়েছে,আজকের করোনা মহামারী সময় বাজারের অস্থিরতার নেপথ্যে অসাধু মজুদদারদের কারসাজিই বড় ভূমিকা পালন করছে। ধর্ম ও মানবিকতা কোনো দিক থেকেই মজুদদাররা সমর্থনযোগ্য নয়।

★রাসূল (সা.)-এর যুগে ব্যবসায়িক কার্যক্রম:-
ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা ও চর্চা এবং দ্বীনি দাওয়াত এবং আল্লাহর ইবাদতের জন্য রাসূল (সা.) মদিনায় মসজিদ নির্মাণ করেন। পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মদিনায় তিনি ইসলামী বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। 
তিনি নিজেই বনু কায়নুকার বাজারটি পরিচালনার দায়িত্বভার নিয়েছিলেন। এ বাজারটির বৈশিষ্ট্য ছিল, এখানে কোনো রকম ধোঁকা-প্রতারণা, ঠকবাজি, মাপে কম-বেশি করার বা পণ্যদ্রব্য মজুদ অথবা আটক করে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণকে কষ্ট দেওয়ার সুযোগই ছিল না।আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) একদিন এক বিক্রেতার খাদ্যের স্তূপের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তার হাত ওই খাদ্যের স্তূপে প্রবেশ করান, এতে তার হাত ভিজে গেল এবং অনুপযুক্ত খাদ্যের সন্ধান পেলেন। তখন রাসূল (সা.) ইরশাদ করলেন, ‘হে খাদ্য বিক্রেতা! এগুলো কী?’ তখন সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! খাদ্যগুলো বৃষ্টিতে ভিজে গেছে।রাসূল (সা.) ইরশাদ করলেন, ‘তুমি এই ভিজা খাদ্যগুলো ওপরে রাখনি কেন, যাতে সবাই তা দেখে নিতে পারে? যে ব্যক্তি কাউকে ধোঁকা দেবে সে আমার উম্মত নয়। ’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১০২)নবী করিম (সা.) একদিন নামাজের জন্য বের হয়ে দেখেন, লোকজন কেনাবেচা করছে।তখন তিনি তাদের ডেকে বলেন, ‘হে ব্যবসায়ী লোকেরা! কিয়ামতের দিন কিছু ব্যবসায়ী মহা পাপীরূপে উঠবে; তবে তারা নয়, যারা আল্লাহকে ভয় করে, সততা, বিশ্বস্ততা সহকারে ব্যবসা করে। ’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ১২১০)

অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হে ব্যবসায়ীরা! তোমরা মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কারবার থেকে অবশ্যই দূরে থাকবে।’ (তিবরানি)রাসূল (সা.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সাহাবায়ে কেরামের সততা ও ন্যায়-নিষ্ঠার কারণে মদিনার বাজার ছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাজার। যেখানে জগদ্বিখ্যাত সাহাবি ও ব্যবসায়ী উসমান ইবনে আফফান (রা.) ও আবু আউয়ুব আনসারিসহ (রা.) আরো অন্যান্য সাহাবিরা ব্যবসা করতেন। যারা নৈতিকতা ও নিষ্ঠাপূর্ণ ব্যবসার পাশাপাশি ইবাদত-বন্দেগি ও দান-সেবার ক্ষেত্রেও ছিলেন সর্বাগ্রে।ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত হালাল রিজিক। যারা পণ্য মজুদের মাধ্যমে হারাম পথের অর্জিত সম্পদ কুক্ষিগত করছে, তারা ইবাদত-বন্দেগি যতটুকু করছেন, হারাম উপার্জনের কারণে তা কি বিফলে যাচ্ছে না? ব্যবসা করতে নিষেধ নেই। তবে তা সীমার মধ্যে হতে হবে। সততার সঙ্গে হতে হবে। অন্যথায় পরকালে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন ব্যবসায়ীরা মহা অপরাধী হিসেবে উত্থিত হবে। তবে যারা আল্লাহকে ভয় করবে, নেকভাবে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা করবে তারা ব্যতীত।’ (তিরমিজি : ১২১০)। তাই যাদের কারণে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি হয় তারা সত্বর সুপথে ফিরবেন এটাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা।পরিশেষে আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব ব্যবসায়ী কিংবা বিত্তশালীদের খাদ্য মজুদ করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। গরিব-অসহায় ও নিম্নবিত্তদের দান-সাদকা করে সম্পদ ও হায়াতে বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। গুজব ছড়ানোর মতো হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। কুরআন-বিধানগুলো যথাযথ মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক স্বাস্থ্য তথ্য 
প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ রোগী কল্যাণ সোসাইটি। 





ডেল্টা টাইমস্/ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]