বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মান রাজনীতি
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৩৭ পিএম আপডেট: ১৬.১০.২০২১ ১২:৫৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার অপরাধের কথা অস্বীকার করে না জার্মানি৷ বরং অকপটে সেই অন্ধকার অতীতকে স্বীকার করে, প্রয়োজনের জায়গায় ক্ষতিপূরণ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে দেশটি৷ ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মূলত দুইভাগে ভাগ হয়ে যাওয়া জার্মানি আবারো নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে, একত্রিত হয়েছে৷ ধ্বংসস্তুপ থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতে বড় ভুমিকা রেখেছেন যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশটির দায়িত্ব নেয়া জার্মান রাজনীতিবিদরা৷ জার্মানিতে আসার পর গত এক দশকে তিনটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে৷ জার্মান রাজনীতির যে তিনটি দিক রয়েছে, যেমন;দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি দেশ আবার বিশ্বের বুকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ দেশটির আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন রাজনীতবিদরা৷ একথা সত্য, জার্মানির এক ভয়াবহ অতীত রয়েছে৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য অনেকটাই দায়ী এই দেশ৷ সে সময় ইহুদি ধর্মের মানুষদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিলেন জার্মানির তৎকালীন শাসক এডল্ফ হিটলার, যিনি যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে আগে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে আত্মহত্যা করেছিলেন৷ যাইহোক, জার্মান সংবিধান অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলকে সংসদে যেতে হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ভোটারের কমপক্ষে ৫ শতাংশের সমর্থন পেতে হবে। এই ৫ শতাংশের বেড়াজালের কারণে এবারের (সদ্য সাবেক) সংসদে মাত্র ৬টি দল অংশ নিতে পেরেছিল। এবারেও ৪২টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।প্রতিটি ভোটার যথারীতি দুটি করে ব্যালট নিয়ে একটি তার পছন্দের প্রার্থীকে এবং অন্যটিতে পছন্দের দলকে ভোট দিয়ে থাকেন। রাজনৈতিক দলগুলো প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী সংসদ সদস্য মনোনীত করে সংসদে পাঠাতে পারবে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগেই এই প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে রাখে। 


তবে প্রাপ্ত ভোট বিশ্লেষণ করে ঐ তালিকার ক্রম অনুযায়ী রাজনৈতিক দল সংসদ সদস্য চূড়ান্ত করে পার্লামেন্টে পাঠায়। পার্লামেন্ট আসনের অর্ধেক আসে রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে আর বাকি অর্ধেক আসে সরাসরি ভোটারের ভোট প্রদানের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে অন্যান্য অসুবিধার পাশাপাশি সংসদের আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট রাখা সম্ভব হয় না।কোনো দলের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত হয় দলীয়ভাবে মনোনীত সংসদ সদস্যরা। দলীয়ভাবে মনোনীত সদস্যের সংখ্যা কত হবে তা বলা যায় কেবল প্রদত্ত ভোট বিশ্লেষণের পর। সে কারণে পার্লামেন্টে কতটা আসন থাকবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। ২৯৯ টি সংসদীয় আসনে এবারও সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ২৯৯ জনের সাথে যুক্ত হবেন দলীয়ভাবে আসা সংসদ সদস্যগণ। এভাবেই জার্মানিতে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দল সমভাবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে পলিটিকো এবারের নির্বাচনের আগে জোটগত সমঝোতা না হওয়ায় জার্মান প্রেসিডেন্ট হতাশা ব্যক্ত করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর জার্মান জাতি বিভক্ত হয়েছিল, নাকি বিভক্ত করা হয়েছিল, ইতিহাসে সেই আলোচনা এখনো সরব। তবে যুদ্ধাপরাধের দায় মেনে নিয়ে, ১৯৪৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিভক্ত হয়ে ছিল, সেটিই ঐতিহাসিক সত্য। ৪১ বছর বিভক্ত থাকার পর ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর জার্মান জাতি আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। এই পুনঃ ঐক্যের ৩১ বছর পূর্তির ঠিক এক সপ্তাহ আগে জার্মানিতে ২০তম জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বড় দল, আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন কম ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে, আর জোট শরিক জার্মান সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রথম স্থানে রয়েছে। জার্মানির বড় এই দুই দলই এখন নির্বাচনে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা, পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি ও ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে পরবর্তী চার বছরের জন্য সরকার গঠনের আলোচনা চালাচ্ছে। 

তবে নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে সবকিছুই নির্ভর করছে, জোটবদ্ধ হতে ইচ্ছুক দলগুলোর রাজনৈতিক মতাদর্শিক ঐক্যর ওপর। তবে শিগগির জার্মানিতে জোট সরকার গঠিত হবে না। জোট গঠনে ইচ্ছুক দলগুলো পরস্পরের সঙ্গে খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করে একটি রূপরেখা তৈরির পর সরকার গঠিত হবে। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান ও সম্ভাব্য চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ এ সপ্তাহে জানিয়েছেন, সরকার গঠন করতে আগামী ডিসেম্বরের বড়দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত বর্তমান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ক্ষমতায় বহাল থাকবেন।জার্মানির আইনসভা বা বুন্ডেশটাগে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার কারণে ঐতিহ্য অনুযায়ী এবারও জোট সরকার গঠিত হবে। তবে চ্যান্সেলর হওয়ার দাবিদার তারই বেশি, যে দল সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে। সে হিসাবে ওলাফ শলৎজ আগামী দিনের সম্ভাব্য জার্মান চ্যান্সেলর। জার্মানির রাজনীতিকদের মধ্যে এই জোটবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক সরকার চালানোর প্রবণতা এসেছে, অতীত ইতিহাসের শিক্ষা থেকে। উল্লেখ্য, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জার্মানি এগিয়ে গেলেও একটি অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ৩১ বছরেও জার্মানির রাজনীতির পিছু ছাড়েনি। আর তা হলো, জার্মানির পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের মধ্য মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। ৩১ বছর আগে পূর্ব জার্মানির জনসাধারণ সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে অধিক গণতন্ত্রের দাবিতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চল বা পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ছিল। তবে এখন সেখানকার জনগণের কিছু অংশের নানান অগণতান্ত্রিক আচরণ, পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে। অ্যাঙ্গেলা মার্কেল তার দল, দেশ ও জনগণের কাছে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। নারী ভোটার তো বটেই পুরুষ ভোটাদের কাছেও সমান জনপ্রিয়। স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে বলেছেন, নুতন কেউ আসুক। দল ও দেশকে নেতৃত্ব দিক। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আরও এগিয়ে নিক। 

একত্রিশ বছর আগে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্য পুনরেকত্রী- করণ ঘটলেও দুই অঞ্চলের মধ্য কিছু বিভেদ রয়েছে। সাবেক পশ্চিম জার্মানি বা জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে সেই ১৯৪৯ সাল থেকেই একধরনের সামাজিক অর্থনৈতিক বাজারকাঠামো ছিল, যা এখনো বজায় রয়েছে।সমাজতান্ত্রিক দেশ না হয়েও মানুষের মৌলিক চাহিদা যেমন আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এসব সেবার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা বজায় ছিল। এখনো রয়েছে। আর সাবেক পূর্ব জার্মানি বা পূর্বাঞ্চল ছিল সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী কাঠামোর রাষ্ট্র। গত ৩১ বছরে পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতি-আইন, প্রশাসন, রাস্তাঘাট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা, সবকিছুর আমূল পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। আর এসব করতে পশ্চিমের নাগরিকদের দীর্ঘ ৩১ বছর সংহতি ভ্যাট প্রদান করতে হচ্ছে। আদতে ১৬০ লাখ মানুষ-অধ্যুষিত পূর্ব জার্মানিকে নতুন ধাঁচে গড়ে তোলার বিষয়টি খুব সহজ ছিল না। জার্মান জাতির পুনঃ ঐক্যের ৩১ বছর পূর্তির প্রাক্কালে অর্থনৈতিক বিষয়ক নানা পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দুই অঞ্চলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবু দশ বছরের বেশি সময় ধরে জার্মানির অর্থনীতি ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। সাবেক পূর্ব জার্মানির পুনর্বাসন ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে এই অর্জন বিস্ময়কর।এ বছর জার্মান পুনরেকত্রীকরণ উৎসব পালিত হচ্ছে, পূর্বাঞ্চলের সালে নদীর তীরে অবস্থিত বিখ্যাত হালে শহরে। জার্মান ঐক্যের ৩১ বছর পূর্তিতে ‘ঐক্যবদ্ধ ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নানান প্রতিকূলতা থাকলেও ঐক্যবদ্ধ জার্মানির ৩১ বছর পূর্তিতে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, জার্মান জাতি অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর জার্মান জাতি ইউরোপ তথা বিশ্বে একঘরে হয়ে পড়ে। ১৯৩৯ সালে বীভৎস আর বিধ্বংসী এই যুদ্ধের শুরু করেছিল জার্মানি, নেতৃত্বে ছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। 

১৯৩৩ সালে এই নাৎসি হিটলারের ক্ষমতায়ন হয়েছিল, সে সময়ের রাজনীতিকদের অনৈক্যের কারণে। পৃথিবীর আর সব দেশে বাম ঐক্যের ব্যর্থতার মতো বাম রাজনীতির জন্মভূমি জার্মানিতেও সে সময় ভ্রাতৃযুদ্ধ বাদ যায়নি। জার্মান ইতিহাসবিদদের একটা বিরাট অংশ এখনো মনে করে, মধ্য ও বামপন্থীদের মধ্যে আপস না হওয়াই ফ্যাসিবাদ বা হিটলারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার পথ খুলে দিয়েছিল।বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মান রাজনীতিক দের মধ্যে সুশৃঙ্খল হওয়ার প্রবণতা তথা যুক্ত ইউরোপ গড়ার আন্তরিক প্রচেষ্টা একসময়ের নাৎসি ও যুদ্ধবাজ জার্মান জাতি সম্পর্কে পুরোনো ভাবনা পাল্টে দিতে অনেকটা সহায়ক হয়েছে। যুদ্ধপরবর্তী ১৯৪৯ সাল থেকে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির বিভেদের প্রতীক বার্লিন প্রাচীর পতনের পর ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর জার্মান জাতির পুনরেকত্রীকরণ ঘটে। সম্প্রতি একটি নির্বাচনী প্রচারে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, ‘জার্মানির পূর্ব ও পশ্চিম, উভয় অংশের জনগণের মধ্যে কিছু ক্ষোভ ও বঞ্চনা রয়েছে। তবু আমাদের আরও প্রত্যয়ী ও সাহসী হয়ে একত্রে কাজ করতে হবে। পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যগুলো কাটিয়ে উঠতে আমাদের উভয় অংশের সমাজের আরও সংহতির প্রয়োজন। জার্মানির বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে রাজনীতির যে ফাঁকফোকড় গলিয়ে হিটলার দেশটির শাসক হয়েছিলেন, সেসব ফাঁকফোকড় এখন আর নেই৷ বরং রাজ্য এবং জাতীয় নির্বাচন থেকে চ্যান্সেলর পদে নির্বাচন অবধি পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল করা হয়েছে, যেখানে জনগণের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন কয়েক ধাপে করা হয়৷ আর বলাই বাহুল্য, এদেশের নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাধীন৷ সেগুলোর উপর সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই৷  এই দেশে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের কথা আমি কখনো শুনিনি৷ বরং নির্বাচনের ফলাফল যা হয় তাই মেনে নিয়েই পরবর্তী পরিকল্পনা সাজায় দলগুলো৷ সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগে ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতি জার্মান সমাজের একাংশকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল৷ 

নতুন সরকার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি শরণার্থীদের প্রতি থাকা তাঁর উদার মানসিকতা থেকে কিছুটা সরে আসেন তিনি৷ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হওয়া শরণার্থীদের ধরে ধরে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়৷ নতুন করে শরণার্থী নেয়ার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াও জটিল করা হয়েছে৷ এমনকি, ম্যার্কেল এমন একজনকে নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন, যিনি শরণার্থী এবং মুসলমানদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর মানসিকতার রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ের সাথে তুলনা করেছেন। সমঝোতার উপায়গুলো নিয়ে আবারো ভাবতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করেছেন। ১৯৪৫ সালে মিত্রশক্তি যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন জার্মানিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত করে। মিত্র দেশগুলো দেশটিকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করে। ব্রিটিশ, ফরাসি, মার্কিন ও সোভিয়েত সেনারা একেকটি অঞ্চলের দায়িত্বে ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিমা শক্তিগুলির মধ্যকার মিত্রতা ১৯৪০-এর দশকের শেষে ভেঙে গেলে সোভিয়েত অঞ্চলটি জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র তথা পূর্ব জার্মানিতে পরিণত হয়। পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত বাকি তিন অঞ্চল একত্রিত হয়ে পশ্চিম জার্মানি গঠন করে। সেই জার্মান এখন বিশ্বের একটি প্রধান শিল্পোন্নত দেশ। এটির অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , চীন ও জাপানের পরে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম। জার্মানি লোহা, ইস্পাত, যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম এবং মোটরগাড়ি রপ্তানি করে। জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি।ইউরোপীয় ঐক্য ধরে রাখা, ইউরো'র প্রসার ও বাজার ধরে রাখতে মার্কেল বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে তার নিজের দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন পরিবেশ বান্ধব পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। যদিও জার্মানের ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সমভাবে বণ্টিত হচ্ছে না। আবারও কোনো কোয়ালিশন জার্মান ক্ষমতায় আসবে এবং মার্কেলের আশাবাদ অনুযায়ী দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। 

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট 




ডেল্টা টাইমস্/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর/আরকে


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]