বৃহস্পতিবার ২০ জানুয়ারি ২০২২ ৫ মাঘ ১৪২৮

বিজয়ের মাস, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমাদের তারুণ্য হোক উজ্জীবিত
রিয়াদ হোসেন:
প্রকাশ: রোববার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বিজয়ের মাস, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমাদের তারুণ্য হোক উজ্জীবিত

বিজয়ের মাস, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমাদের তারুণ্য হোক উজ্জীবিত

‘হে তারুণ্য, রক্তে মোর আজিকার বিদ্যুৎ-বিদায় আমার প্রাণের কন্ঠে দিয়ে গেল গান ; বক্ষে মোর পৃথিবীর সুর’– কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তার কবিতার পঙক্তিতে যেভাবে সামগ্রিক তরুণের তারুণ্য নিয়ে জয়গান গেয়েছেন ঠিক তেমনি একজন মানুষ রয়েছেন যিনি বাঙালির অনুপ্রেরণার বাতিঘরে আলো জ্বালিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করেছেন এদেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতে। যার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, দেশপ্রেম এবং সাহসিকতার পরিচয়ে আজও মুগ্ধ হয় এদেশের শত শত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। তার দেখানো পথ, আদর্শ আর অনুপ্রেরণা আজও স্বপ্ন দেখায় এদেশের মানুষের মুক্তির। যেখানে সবাই দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবে এ স্বাধীন দেশে। আর তার জন্যেই এই তরুণদেরই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বুকে লালন করতে হবে। গড়তে হবে তার স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা।

বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-ভাবনা ছিল সবসময় তারুণ্যকেন্দ্রীক। তিনি এদেশের তরুণদের নিয়ে ভাবতেন এবং তারুণ্যের শক্তির ওপর ভরসা করতেন। চরম দুর্যোগে, কঠিন পরিস্থিতিতে যে তরুণরাই হাল ধরবে তা তিনি জানতেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলছিলেন, যেখানে অন্যায়, অবিচার সেখানে প্রতিবাদ করো; মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ক্ষমতার এবং স্বার্থের ঘর বড় করে, তাদের প্রতিরোধ করো। তিনি নিজেও তরুণ বয়সে ছিলেন একজন উদ্যামী মানুষ। সেই ছাত্র জীবন থেকে তিনি ছিলেন লড়াকু পথের সৈনিক। যেখানে অন্যায়, অবিচার আর শোষণ বঞ্চনার চিত্র দেখেছেন সেখানেই তিনি নিজের ভালোমন্দ না ভেবেই ঝাপিয়ে পড়েছেন। শোষিত শ্রেণির পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে এই তরুণদের সাথে বঙ্গবন্ধুর ছিলেন গভীর সম্পর্ক। তিনি সবসময় অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদ করতে, অসত্যকে প্রত্যাখ্যান করতে আর শোষণকারী বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উদ্দীপনা জোগাতেন।

তিনি চাইতেন, তার আদর্শ, বাণীকে ভালোবেসে বাঙালি তরুণরা যেন নিজের জীবনে ধারন করে এবং এদেশকে বিশ্বের মানচিত্র অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলে।

জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা নামে যে দুটি বই রয়েছে সেখানে তিনি তরুণদের উপরে বিশ্বাস এবং তাঁর নিজের তরুণ জীবনের সংগ্রামের ইতিহাস অত্যন্ত অন্তরঙ্গভাবে লিখে গেছেন। কারাগারের রোজনামচায় তিনি লিখেছেন, ‘এমনিভাবে দিন শেষ হয়ে এলো। মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা জেলে আছি। তবুও কর্মীরা, ছাত্ররা ও শ্রমিকরা যে আন্দোলন চালাইয়া যাইতেছে, তাদের জন্য ভালোবাসা দেওয়া ছাড়া আমার দেবার কিছুই নেই।’ সুতরাং এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছে এদের মুক্তির জন্য, মানুষের শান্তির জন্য এবং দেশকে রক্ষার জন্য তিনি তরুণদের বড় ভরসার স্থল হিসেবে দেখতেন। একটা নতুন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে যেসব দিকেই দক্ষ-পারদর্শী জনবল লাগবে তা তিনি জানতেন। সেক্ষেত্রে তিনি

শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির দিকেও তরুণদের আকৃষ্ট করেছিলেন। তারই অনুপ্রেরণায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিভিন্ন গান, দেওয়ালচিত্র এদেশের মুক্তিকামী মানুষের মনে আশা জাগিয়েছিল।

এজন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদেরকে লালন করতে হবে। তার ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক এবং সামাজিক জীবনের সবকিছুই আমাদের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার। এজন্য তার বিষয়ে জানতে তার সম্পর্কে রচিত বিভিন্ন লেখকের বই পড়তে হবে। তার নিজের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইটি আমাদের জন্য অনেক বেশি আবেগের একটি জায়গা। কারণ বইটি পড়লে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের যতো বাধা, বিপত্তি, ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতার বিভিন্ন পর্যায় এবং তা উত্তরণের উপায় অনুধাবন করা যায়। তাই এদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও মুক্তির  জন্য বঙ্গবন্ধুকে এদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে ধরা হয়। তাই আমাদের উচিত বঙ্গবন্ধুকে কোন দলের, গোষ্ঠীর না ভেবে তার অসমাপ্ত চিন্তা চেতনা ধারন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তরুণ প্রজন্মকে সম্মিলিতভাবে কাজ করা। আর তার দেখানো অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা যদি ধর্ম, বর্ণ ভেদাভেদ না রেখে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করে যেতে পারি তাহলে খুব দ্রুতই আমরা তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।

লেখক: রিয়াদ হোসেন, শিক্ষার্থী,
সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা।




ডেল্টা টাইমস/সিআর/আর

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]