বৃহস্পতিবার ২০ জানুয়ারি ২০২২ ৫ মাঘ ১৪২৮

স্বদেশপ্রেমের এক অনন্য উদাহরণ বঙ্গবন্ধু
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:২৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

যুগে যুগে অনেক বরেণ্য ব্যক্তি দেশ ও জাতির কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করে স্বদেশপ্রেমের উজ্জ্বল। দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। সারা বিশ্বের মানুষ তাদের স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালােবাসায়। তাঁদের দৃষ্টান্ত বর্তমান ও অনাগত কালের মানুষের জন্যে হয়ে থাকবে চিরন্তন প্রেরণার উৎস।স্বদেশের প্রতি ভালােবাসা মানবহৃদয়ে সর্বদাই বহমান। মনের গভীর অনুরাগ থেকে জন্ম নেয়া স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পায় বিশেষ সময়ে বিশেষ পরিস্থিতিতে বিচিত্র কার্যকলাপের মাধ্যমে। বিশেষত দেশ ও জাতির দুর্দিনেই স্বদেশপ্রেমের পূর্ণ প্রকাশ ঘটে। 
দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধনের মাধ্যমেই দেশের প্রতি ভালােবাসার উৎসারণ ঘটে। বিশাল পৃথিবীর যে সুনির্দিষ্ট ভৌগােলিক অংশে মানুষ জন্মগ্রহণ করে তাই তার স্বদেশ, তার মাতৃভূমি মানুষ তার স্বভাবজাত গুণে অনিবার্যভাবে স্বদেশের মাটি, পানি, বায়ু অর্থাৎ সবকিছুর সাথে অনুভব করে নাড়ির টান, স্বদেশ হয়ে ওঠে তার কাছে সবচেয়ে পবিত্রভূমি এবং স্বদেশের প্রতি মনে জাগে অনন্য ভালােবাসা। দেশমাতৃকার প্রতি মানুষের এ অনুভব ও ভালােবাসাই হলাে স্বদেশপ্রেম। মা,মাটি, দেশ-এ তিনের সাথে মানবমনের রয়েছে অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। এ তিনকে নিবিড়ভাবে ভালােবাসার মধ্যেই নিহিত আছে দেশপ্রেম। জন্মভূমির প্রতি মানৰ্মনের আবেগময় অনুরাগ মানুষের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। জন্মভূমির আলাে-বাতাস, পানি, ফসল মানুষকে মায়ের মমতা দিয়ে বড় করে তােলে। তার ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এককথায় স্বদেশের নানা উপাদান মানবমনের বিকাশের মাধ্যমে করে তােলে পরিপুষ্ট। তাই স্বদেশ ও স্বজাতির প্রতি মানুষের মনে জন্ম নেয় আত্মার গভীর টান এবং চিরায়ত অকৃত্রিম ভালােবাসা। যে অনুভূতি, যে ভালােবাসা দেশের কল্যাণে প্রয়ােজনে আত্মবিসর্জনে উদ্বুদ্ধ করে। দেশের প্রতি গভীর অনুরাগ মানুষের হৃদয়ে জন্মদাত্রী আর জন্মভূমিকে এক করে ভাবতে শেখায়। এ তীব্র অনুরাগই স্বদেশপ্রেম। 

একজন দেশপ্রেমিকের কাছে তার দেশ চির পবিত্র, চির অরাধ্য এবং স্বর্গের চেয়েও গরীয়ান। তাই দেশ ক্ষুদ্র কিংবা দরিদ্র হােক, তাতে দেশপ্রেমিকের কিছু যায় আসে না। কেননা দেশ যেমনই হােক তা দেশপ্রেমিকের কাছে অমূল্য, অতুল্য। ফলে দেশকে রক্ষা করার জন্যে সে নির্দ্বিধায় করতে পারে জীবনদান। সেই সত্যটির অধিকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে যুক্তফ্রন্টের হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ছয় দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ও একাত্তরের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামসহ মৃত্যু অবধি অসংখ্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন, বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির জীবনে শুভ প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলেই মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে স্বাধীনতা অর্জন সম্ভবপর হয়েছিল। শেখ মুজিব অজস্র স্বাধীনতা সংগঠকের দীক্ষাগুরু ছিলেন, ছিলেন নয়নের মণি, আত্মার আত্মীয় ও পথ প্রদর্শক। স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাকমূহুর্তে তাঁর অঙ্গুলি নির্দেশেই পূর্ব পাকিস্তান পরিচালিত হতো। অসাধারণ বাগ্মি, দূরদৃষ্টি, শত্রুকে আপন করে নেওয়ার অপার মানসিকতা, রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি সুমহান স্নেহ ও অগাধ ভালবাসা ব্যক্তি শেখ মুজিবকে অনন্য উচ্চতায় স্থান দিয়েছিল। শেখ মুজিবের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছেন: আমি হিমালয় দেখিনি তবে মুজিবকে দেখেছি। স্বাধীন বাংলাদেশের আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনন্য মাইলফলক। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর অনন্য ভূমিকাই এই মাইলফলক তৈরির অন্যতম নিয়ামক। তার এই অবদানের কথা বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন প্রতিধ্বনিত হবে। উপনিবেশ-উত্তর আমলে বাংলাদেশই একমাত্র ভূখণ্ড যেখানকার মানুষ নৃতাত্ত্বিক-ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করেছে। 

এর আগে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার কোথাও এ ধরনের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়নি। আমাদের স্মরণীয় সাফল্য এই যে, আমরা মাত্র ২৪ বছরের মধ্যে পাকিস্তানের উপনিবেশ থেকে মুক্ত হতে পেরেছিলাম।জনগণের মন ও চাহিদা বুঝতে পারা এবং বুঝে উপযুক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে আসাই হচ্ছে নেতৃত্বের যোগ্যতা। সেই যোগ্যতায় শেখ মুজিবুর রহমান কোনোদিন ব্যর্থ হননি। নেতৃত্বের গুণে তিনি মহান নেতায় রূপান্তরিত হয়েছেন। তিনি নিজেকে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছেন স্বমহিমায়।

এ কারণে সময়ের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামের দৃঢ়চেতা, একাগ্রতা, একনিষ্ঠ নেতৃত্বগুণের ‘মুজিব ভাই’ একটি সাধারণ সম্মোধন থেকে অনন্য সাধারণ বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে মহানায়ক, মহানায়ক থেকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়েছেন। বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্রীয় সত্তার প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু। সেই হিসেবে তিনি মহানায়ক, মহান রাষ্ট্রনায়কও। একটি স্বাধীন ভূ-খণ্ডের মানবগোষ্ঠীকে তার স্বাধীন সত্তায় প্রতিষ্ঠিত করতে একজন রাষ্ট্রনায়কের যে গুণাবলী প্রয়োজন তার সব গুণই বঙ্গবন্ধুর মধ্যে ছিল। এই ভারতীয় উপমহাদেশটাই ছিল ব্রিটিশের উপনিবেশ। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য অনেকেই লড়াই করেছেন। পরাধীনতার মুক্তি আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছেন। সেই প্রক্রিয়ায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা সবাই একটি সাধারণ নেতৃত্বের পর্যায় থেকে একেবারে মহান নেতার পর্যায়ে পৌঁছেছেন। বঙ্গবন্ধুও তা-ই। স্বাধীন জাতিসত্তার দাবি আদায়ে দীর্ঘ কারাবাসের মুখে দৃঢ় মনোবল বঙ্গবন্ধুকে করে তুলেছিল জীবন্ত কিংবদন্তিতে।বঙ্গবন্ধু আসলেই বাংলার সাধারণ মানুষের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনা এবং তাদের যে দুঃখ, কষ্ট, দুর্দশা- তা থেকে মুক্ত করার আকঙ্ক্ষা থেকে সাহস করে মানুষকে আন্দোলনের পথে উদ্বেলিত করেন, আন্দোলিত করেন। 

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রদের মিটিং চলছে, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হবে কি না তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। শেখ মুজিবুর রহমান তখন হাসপাতালে কারারুদ্ধ। ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে সিদ্ধান্ত নেয় ১৪৪ ধারা ভাঙার। কিন্তু যে রাজনৈতিক নেতারা এই আন্দোলনের জন্য সর্বদলীয় ভাষাসংগ্রাম পরিষদ করেছিলেন, তারা ওই রাতে আবার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু জেলখানা থেকে শেখ মুজিবুর রহমান হাসপাতালে থাকা অবস্থায় অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। হয়তো শেখ মুজিবের ভাবনা ছিল, জনগণ যদি কোনো আন্দোলনে এগিয়ে যায়, তখন কোনো নেতা যদি সেখান থেকে পিছিয়ে পড়েন বা থেমে যান, তাহলে তিনি কিন্তু জনগণের আস্থা হারান এবং নেতৃত্বে থাকেন না। শেখ মুজিবুর রহমান জীবনে কোনোদিন এই ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দেননি।১৯৬০-এর দশকের প্রথম থেকেই বঙ্গবন্ধুসহ কিছু তরুণ রাজনৈতিক নেতাকর্মী পাকিস্তান থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা শুরু করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার দাবি পূর্ব বাংলাকে প্রায় স্বাধীন করার দাবি। ছয় দফা আন্দোলনের সময় প্রথম শ্রমিক শ্রেণি এবং শহরের বস্তিবাসীকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে নামতে অংশ নেন। সারাদেশে এই আন্দোলনের পেছনে ব্যাপক জনসমর্থন দেখে পাকিস্তান সরকার বুঝে ফেলেছিল যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে কারাবন্দী করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেওয়া হয়। এই কারণেই ১৯৬৯ সালের ছাত্র আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে। ছাত্র আন্দোলন ১১ দফা দাবি উত্থাপন করে। সারাদেশে গণআন্দোলনের মুখে পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।১৯৭১ সালের মার্চ মাসজুড়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালিদের নজিরবিহীন ঐক্য গড়ে ওঠে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যখন অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন, তখন সারাদেশের মানুষ, এমনকি সরকারি কর্মচারীরাও সে ডাকে সাড়া দেন। 

১৯৬৯-৭০ সালের নির্বাচনি প্রচারণার মাধ্যমে তিনি এই স্বাধীনতার স্বপ্ন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। স্বাধীনতার বীজমন্ত্র বাংলার আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত করতে পেরেছিলেন। তাই  ‘এক নেতা এক দেশ, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্লোগানের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে বাঙালির আলাদা রাষ্ট্র ও জাতিসত্তা গঠনের প্রত্যয় শপথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জনগণের আস্থা ছিল বলেই আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অভূতপূর্ব ম্যান্ডেট পায়। এই অভূতপূর্ব জনসমর্থনের জন্যই তিনি ১৯৭১ সালে শান্তিপূর্ণভাবে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাত থেকে নিজের হাতে ক্ষমতা গ্রহণ করতে পেরেছিলেন। লাখ লাখ বাঙালি তার আদেশের অপেক্ষায় ছিল এবং একমাত্র তার নির্দেশই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল। তাই স্বাধীনতার ঘোষণা বঙ্গবন্ধুর নামেই ঘোষিত হয়েছিল। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধও হয়েছিল তার অবর্তমানেই।বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনি বিজয় ও বিপুল জনসমর্থন তার নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে বৈধতা দেয়। আমরা জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছি ১৯৭১ সালে। লাখ লাখ মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছিল, মা-বোনদের উপর পাশবিক নির্যাতনের আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়েছিল। কিন্তু সমগ্র জাতি স্বাধীনতার লক্ষ্যে ছিল অবিচল। আর অসম্ভবকে বাস্তব রূপ দিয়েছিলেন ইতিহাসের রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা তার রাজনৈতিক জীবনে প্রায় ৫ হাজার দিন কারাভোগ করেছেন। কিন্তু মানুষের অধিকার ও দেশের স্বাধিকার আন্দোলনে এবং দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে কখনই পিছু হটা তো দূরের কথা বিন্দুমাত্র ভয়ও পাননি। এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় নির্জন সেলের সামনে কবর খুঁড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভয় পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু অসীম সাহসী বাঙালির নেতা শেখ মুজিব ভয় পাননি। বরং পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, আমি বাঙালি, আমি মুসলমান, আমি মানুষ। মানুষ একবার মরে, বারবার মরে না। আমি কখনই আত্মসমর্পণ করব না। যদি তোমরা আমাকে মেরে ফেল, মৃত্যুর পর, আমার লাশটা আমার দেশে আমার মানুষদের কাছে পৌঁছাইয়া দিও। 

বঙ্গবন্ধুর এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য তার আপসহীন মনোভাব, অসীম দেশপ্রেমের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের অকুতোভয় মৃত্যুঞ্জয়ী মহান বীরের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাঙালি জাতির জন্য রেখে গেছেন। বিরল নেতৃত্ব, বিশ্বনেতা; হাজারও গুণে গুণান্বিত জাতির পিতা তাই বঙ্গবন্ধু আমাদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। বাংলার খোকা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ ডিঙিয়ে কলকাতা ও ঢাকা ছাপিয়ে সমগ্র বিশ্বের বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের হৃদয়ে আসন করে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন বিশ্বের মানবতাবাদী ও শান্তিকামী মানুষের আদর্শ। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাধারণ ও তার নেতৃত্বে মন্ত্রমুগ্ধের মতো জাদুকরি শক্তি ছিল। সে কারণেই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে একটুও ভাবেননি। নেতৃত্বের উচ্চতায় ও চরিত্রের দৃঢ়তায় রাষ্ট্রনায়ক জননেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আর কারও তুলনা করা যায় না বলেই আমি মনে করি। বঙ্গবন্ধু এমন একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব; যিনি ত্যাগের মহিমা ও দেশপ্রেমের কঠিন পরীক্ষায় সম্পূর্ণরূপে উত্তীর্ণ।জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা হিসেবে হাজারও বাধা অতিক্রম করে, ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে তার দূরদৃষ্টি ও বিচক্ষণতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। স্বদেশপ্রেম মানুষের অন্যতম মহৎ গুণ। মানুষকে সকল প্রকার ক্ষুদ্রতা, সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত করে বৃহৎ ও মহত্বের সন্ধান দেয় স্বদেশপ্রেম । তা মানুষের মানবিক মূল্যবােধের বিকাশ ঘটায়। প্রয়ােজনে দেশ ও জাতির কল্যাণে জীবন বিসর্জন দিতে শেখায়। তাই দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করতে হলে, বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে স্বদেশপ্রেমের চেতনা অপরিহার্য। দেশগঠনের জন্যে সে মানবতাবাদী দেশপ্রেমিক প্রয়ােজন যিনি এডউইন আর্নল্ডের মতাে মুক্তকণ্ঠে ঘােষণা-জীবনকে ভালােবাসি সত্য, কিন্তু দেশের চেয়ে বেশি না।
লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট





ডেল্টা টাইমস্/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]