বৃহস্পতিবার ২০ জানুয়ারি ২০২২ ৫ মাঘ ১৪২৮

স্থানীয়দের হামলায় ইবির ৫ শিক্ষার্থী আহত
ইবি প্রতিনিধি:
প্রকাশ: বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:২১ পিএম আপডেট: ০৮.১২.২০২১ ১২:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

উচ্চ বাচ্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী এলাকার স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী ত্রিবেনী এলাকার রবিউল ইসলাম মেসে এ ঘটনা ঘটে। এতে ১জন গুরুতরসহ ৫জন শিক্ষথী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার দেড় ঘন্টা পর পরিবেশ শান্ত হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে প্রক্টরিয়াল বডির উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আহত শিক্ষার্থীদের বিশ্বদ্যিালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের কামাল উদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সুলতান  মাহমুদ, ভূগোল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জুয়েল রানা, সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাজহারুল ইসলাম নাঈম ও দাওয়াহ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আব্দুর রহমান।

জানা যায়, আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন মেসেরে সাটার ভেঙ্গে হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা শুনে পার্শ্ববর্তী মেসের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা তাদের ওপর চড়াও হয়। এসময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে আসে। এমনকি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা করার প্রস্তুতি নেয়। পরে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনার দেড় ঘন্টা পর শৈলকুপা থানার পুলিশ উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। পাশাপাশি পুলিশ বুধবার (৮ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার আশ্বাস দেন। 

ভূক্তভোগী কামাল উদ্দিন জানায়, রাতে খাওয়া শেষে আমরা রুমে বসে গল্প করার সময় জাহিদ ভাই এসে আমাকে ডাকে। আমি বের হওয়ার পর মেসের সামনে উনি আচমকা আমার উপরে চড়াও হয়। উনি অভিযোগ করেন গত রাতে আমাদের চিল্লাপাল্লায় ওনাদের ঘুম ভেঙ্গে গেছে। আমি তখন বলি গত রাতে তো আমরা তেমন চিল্লাচিল্লি করিনি। তবে যদি হয়েও থাকে আমরা পরবর্তীতে সতর্ক থাকবো। তখন তিনি আবারো রেগে যান। তখন আমার পাশে থাকা এক শিক্ষার্থী বলে আমরা এমন চিল্লাপাল্লা করিনি। তিনি ওই শিক্ষার্থীর উপরেও চড়াও হয়। তিনি বলতে থাকেন বুঝেছি তোমাদের এভাবে বললে হবে না, তোমরা বেশি বেড়ে গেছো। তারপরও আমরা বলি এমন ভুল আর হবে না। উনি হুমকি দিয়ে পাশেই বাসায় চলে যায়। পরে মেস মালিককে জানাই। কিছু পর উনি অনেক লোকজন নিয়ে আসে। শিক্ষার্থীরা সবাই ভীতু হয়ে যায়। আমাকে তারা বের হতে নিষেধ করে। এর মাঝে ওরা ১৫-২০জন এসে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকে। আমি বের হলে সবাই মিলে মারতে শুরু করে।

কামাল আরো বলেন, ‘মারার সময় ওরা কেউ ইট উঠাইছে, কারো হাতে লাঠি। আল্লাহ বাঁচাইছে। ছেলেরা না থাকলে হয়ত আমাকে মেরেই ফেলত। আমাকে বাঁচাতে এসে এরাও কয়েকজন আহত হয়।’

এদিকে এই ঘটনার পর আবারো উত্তেজনা শুরু হয় গ্রামটিতে। এর মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়। তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয়রা আবারো শিক্ষার্থীদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপরে চড়াও হয়। পরে স্থানীয় রেন্টু ও রাজু নামে দুই জন এলাকাবাসীকে ফোন করে ডাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এছাড়া মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে একত্রিত করার হুমকিও দেয় তারা। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজাউলি করিম খানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পরিবেশ শান্ত করে। এর কিছু পরে পুলিশের তিন সদস্যের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয় বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। এদিকে দীর্ঘ এই ঘটনায় যথাসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কেউ উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের একাধিকবার ফোন করলেও তারা উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানায় ভূক্তভোগীরা।

এদিকে ঘটনার কিছু পরে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে তারা উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানায়।

এবিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এসে তাদের উপরে হামলা করেছে এই দায়ভার আমি নিব কি করে ? যে কেউ আমার নাম বলতে পারে। প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'ঘটনা শুনার পরপরই আমি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলি এবং তাদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুরোধ জানাই। পাশাপাশি সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে যেতে বলি।  

তবে সহকারী বলেন ড. শফিকুল ইসলাম যাওয়ার নির্দেশনা পাননি বলেন জানান। তিবি বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর প্রক্টর স্যারের নির্দেশনার অপেক্ষায় ছিলাম। তাই ঘটনাস্থলে যেতে দেরি হয়েছিল।’




ডেল্টা টাইমস্/আর এম রিফাত/সিআর/আরকে



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]