মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ৩ মাঘ ১৪২৮

প্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ এ পাঁচ দশক
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪:২৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ দশক অতিক্রম করে আজ বাংলাদেশ যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে সেটা কোনো অংশেই কম গৌরবের নয়। স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন, যখন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায় সন্তোষজনক পর্যায়ে উত্তীর্ণ যখন জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সদস্যপদ অর্জন বাংলাদেশকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে তখন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ভয়ংকর ধাক্কা সামলানো বাংলাদেশের জন্য এক অসম্ভব ব্যাপার ছিল বৈকি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বিনা উসকানিতে প্রথমে বিভিন্ন ব্যারাকে সশস্ত্র বাহিনী, ইপিআর, পুলিশ বাহিনীর ঘুমন্ত বাঙালি সৈনিক তারপর সারা দেশের নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও গণহত্যার মাধ্যমে যে যুদ্ধের সূচনা, তা মোকাবিলায় আক্রান্ত বাঙালি তাৎক্ষণিক প্রতিরোধযুদ্ধ শুরু করে এবং মধ্য এপ্রিল ১৯৭১ সালের মধ্যে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের একটি আদল ও কাঠামো গঠিত হয় এবং প্রতিরোধযুদ্ধ রূপান্তরিত হয় সর্বাত্মক জনযুদ্ধে। সৈন্যবল, অস্ত্রবল, প্রশিক্ষণ সব অর্থেই এটি ছিল একটি অসম যুদ্ধ। কিন্তু ন্যায়নীতি ও নৈতিকতার বিচারে এ যুদ্ধ ছিল ঘোরতর অন্যায়-অবিচার ও চূড়ান্ত বর্বরতার বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তির এক ন্যায়যুদ্ধ। আজ বাংলাদেশ ও স্বাধীন জাতীয় রাষ্ট্র হিসেবে ৫০ বছর পূর্তির দ্বারপ্রান্তে। তাই পেছন ফিরে তাকালে আমাদের স্বস্তির অনেক কারণ পাওয়া যায়। অন্তত এ ৫০ বছরে আমাদের অর্জন খুব একটা কম নয়। হয়তো অর্জন আরও বেশি হতে পারত। তবে যা হয়েছে তা খুব সামান্যও নয়, এককথায় অসামান্য। এখন বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক দেশ ও রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আমাদের আরও অনেক বিষয়ে আরও গভীর মনোযোগ দিতে হবে। 

উনিশ'শ সত্তর থেকে দুই হাজার একুশ, বাংলাদেশের এ ৫০ বছরকে নানা সূচকে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বাংলাদেশ অনেক দুর এগিয়ে গেছে।যাইহোক এত ঘাত-প্রতিঘাত থাকা সত্ত্বেও যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, তা প্রশংসনীয়। কিন্তু উচ্চ প্রবৃদ্ধি সুশাসনের বিকল্প নয়। প্রবৃদ্ধি ও সুশাসন পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে চলতে হবে। এ যোগসূত্র দুটোকেই বেগবান ও টেকসই করবে, ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এখানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রয়োজন হবে।৫০ বছরের পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সূচকের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য দর্পণে দেখারও সুযোগ আছে। তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের বর্তমান অপূর্ণতার কিছু বিষয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে আমাদের যে উন্নয়ন, তার মধ্যে ‘সুশাসন’-এর অভাব প্রকট। সুশাসন না থাকা সত্ত্বেও যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, তা প্রশংসনীয়। কিন্তু উচ্চ প্রবৃদ্ধি সুশাসনের বিকল্প নয়। প্রবৃদ্ধি ও সুশাসন পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে চলতে হবে। এ যোগসূত্র দুটোকেই বেগবান ও টেকসই করবে, ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এখানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রয়োজন হবে। পদ্মা ব্রিজ, রূপপুর পারমাণবিক প্ল্যান্ট, বঙ্গবন্ধু ট্যানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, উড়ালসেতু প্রভৃতি বড় বড় কাঠামোর কারণে জাতীয় প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার বজায় থাকলেও শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সুশাসন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সূচক গুলোতে আমাদের অবস্থান সম্মানজনক বলা যায় না।

একইভাবে টিআই প্রণীত দুর্নীতির ধারণা সূচকে আমরা গত ২০ বছরের তুলনায় ভালো করেছি বলা যায়। একসময় দুর্নীতিগ্রস্ততায় পরপর চারবার ১ নম্বরে (২০০১-২০০৪) থাকার পর যেহেতু দেশের সংখ্যা বেড়েছে, তাই স্কোরের বড় উন্নয়ন না করেও আমাদের অবস্থান ওপরে উঠে আসে। ২০২০-এর প্রতিবেদনে ১৮০ দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান নিচের দিক থেকে ১৪ তম। তবে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আটটি দেশের মধ্যে আমরা শুধু আফগানিস্তানের ওপরে আছি। 

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সর্বসাম্প্রতিক কালের গ্লোবাল কমপিটিভনেস ইনডেক্স ও আমাদের অবস্থানের অবনতি ঘটেছে, ১৪১টি দেশের মধ্যে ১০৫-এ নেমে এসেছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার পর আমাদের অবস্থান। পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক প্ল্যান্ট, বঙ্গবন্ধু ট্যানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, উড়ালসেতু প্রভৃতি বড় বড় কাঠামোর কারণে জাতীয় প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার বজায় থাকলেও শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ঘাটতি রয়েগেছে।এমনকি সুশাসন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সূচক গুলোতে আমাদের অবস্থান মাথায় রেখে আরও মনোযোগী হতে হবে।দীর্ঘ ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে বীর বাঙালি বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর। বিজয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের ৫০ বছর পেরিয়ে আসার পথে আমরা। বছর ঘুরে আবার এলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। স্বাধীনতাকামী বাঙালির হৃদয়ে মাসটি মহা আনন্দের, মহা গৌরবের, অপার্থিব সৌরভের। স্বজন হারানোর বেদনায় এই মাস একইসঙ্গে শোকেরও।১৯শ একাত্তর সালের একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও বাঙালির স্বাধীনতার রক্তলাল সূর্যোদয়ের ভিত্তি সূচিত হয়েছিল বেশ আগেই। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্দীপ্ত বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জনের দৃঢ় শপথ নিয়েছিল। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্মম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বাংলার দামাল ছেলেরা রুখে দাঁড়িয়ে ছিল শোষণের বিরুদ্ধে। এরপর টানা ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর আত্মদানের মাধ্যমে আসে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।একাত্তর সালের ডিসেম্বর মাসের প্রতিটি দিনই ছিল ঘটনাবহুল।স্বাধীনতাকামী বাঙালির হৃদয়ে বিজয়ের বৈজয়ন্তী উড়িয়ে আসা সেই দিনগুলো ছিল গৌরবের, শিহরণের, পরম আরাধ্যের। পাকিস্তানকে পর্যুদস্ত করে অর্জিত সে বিজয় ছিল আনন্দের-প্রিয়জন হারানো শোকেরও বটে।সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে এবং বিজয়ের সেই আনন্দকে বুকে ধারণ করে বিগত ৫০ বছরে একটু একটু করে বদলে গেছে আমাদের স্বপ্ন স্বদেশভূমি। 

আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে এখন আমরা পৌঁছে গেছি উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তরুণ প্রজন্ম নতুন উদ্দীপনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে।১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বাঙালি বীর সন্তানদের সঙ্গে যুদ্ধে একের পর এক পরাজিত হতে থাকে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী। ক্রমাগত পরাজয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এবং একপর্যায়ে বাংলাদেশ দ্রুত মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যায়। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পথ বেয়ে আসে পরম কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের মাথায় এসে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের সুপারিশ অর্জন করা বাংলাদেশের জন্য সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা এবং রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে শক্তিশালী করাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও তরুণদের অনেকে। যদিও সরকারের তরফ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করা হচ্ছে কিন্তু গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুপস্থিতি ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েই মূলত স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। যদিও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র চর্চা ও সুশাসনের অভাব, দুর্নীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে সমালোচনাও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাই বাংলাদেশের জন্য আগামী ৫০ বছরের বড় চ্যালেঞ্জটাই হবে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ তৈরি করা।এখন যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাতে অনেক কিছুর অভাব আছে। অনেক কিছু একপাক্ষিক হয়ে গেছে। শক্তিশালী একটা বিরোধী দল বা পার্লামেন্টে যা যা ঘাটতি তা অনুধাবন করে একযোগে এগিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা এখনো চর্চা হচ্ছেনা। সব মিলিয়ে দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ, সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা-এটাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাংলাদেশের জন্য।

ওদিকে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের নানা দিক, বিশেষজ্ঞদের মতে ইতোমধ্যেই এগুলো প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে দেশের বিরাট অঞ্চলের মানুষের ওপর।আগামী ৫০ বছরে এটি আরও অনেক ইস্যু হয়ে আসবে বাংলাদেশের সামনে।দেশ কিভাবে এগিয়ে যাবে সেই কাঠামোর মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে উন্নয়ন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি পরিবেশকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের অস্তিত্বের লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। প্রাকৃতিক যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশে তা থেকে উত্তরণটা হবে আরও বড় চ্যালেঞ্জ।এদিকে সরকারি ভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্থাৎ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য উপাত্ত দেয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রযুক্তির বিকাশকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উৎসে রূপান্তরের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের মৌলিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করাই হবে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ।যদিও সরকারি ভাবে বলা হচ্ছে এসব খাতেই এমন অগ্রগতি হবে যে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে যাবে বাংলাদেশ। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিক্স এন্ড বিজনেস রিসার্চ তাদের সর্বশেষ এক রিপোর্টে ধারণা দিয়ে বলেছে বাংলাদেশ এখন যে ধরণের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি হবে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ব্যাপক দুর্নীতি এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা ও জীবন মানের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বরাবরই উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক সামাজিক বিশ্লেষকরা। এছাড়া অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে বাংলাদেশকে।কিভাবে বৈষম্য দুর করা যায়, যথেষ্ট কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দুর করা ও প্রতিষ্ঠান গুলোকে শক্তিশালী করা যায়-এসব বিষয় বাংলাদেশের সামনে আগামী দিনগুলোতে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। 

বাংলাদেশ যে গতিময়তার সাথে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে তার সুফল সবাইকে দিতে হলে সেই প্রবৃদ্ধি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। একই সাথে সামাজিক সাম্যতার পাশাপাশি প্রয়োজন হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র।জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যাও অনেক বড় হয়ে আসবে এবং সেজন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সোচ্চার ভূমিকাও রাখতে হবে।আর এসব চ্যালেঞ্জে সফল হতে হলে সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চার পাশাপাশি দেশের প্রতিষ্ঠান গুলোকে দক্ষ ও কার্যকর করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।গণতন্ত্রের সুফল ও অর্থনৈতিক সমতা কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থার জের ধরে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বাংলাদেশের সামনে।ভূ-কৌশলগত অবস্থানের কারণে অনেক সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সেটি দেখা যাচ্ছে। এ গুরুত্বের জায়গা কিভাবে ডিল করা হবে সেটিও সামনে আসবে। ভূমিকম্প বা বজ্রপাত বেড়ে যাচ্ছে-এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আছেই। আর যে সোনার বাংলা মিথ নিয়ে বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করেছি তার মূলে ছিলো ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক রাষ্ট্র তৈরি করা।স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ এক অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) গত ১৫ মার্চ এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ তিনটি সূচকের যে কোনো দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকের মানদণ্ডেই উন্নীত হয়েছে।জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) মানদণ্ড অনুযায়ী এক্ষেত্রে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় তার থেকে অনেক বেশি অর্থাৎ ১৬১০ মার্কিন ডলার। 

অপরদিকে মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম যেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভাগ।যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ- যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের এটি একটি বড় অর্জন। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে।বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট






ডেল্টা টাইমস্/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]