স্বাস্থ্যখাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
|
![]() স্বাস্থ্যখাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা। সিআইপিআরবির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইপিআরবির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাজহারুল হক। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ চিফ অব হেলথ ড. ভিভাভেন্দ্রা রঘুভাংশী, ডব্লিউএইচও’র ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. রাজেশ নাওয়াল, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. সায়েবা আক্তার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল ফয়েজ, সিআইপিআরবির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. একেএম ফজলুর রহমান ও উপ-নির্বাহী পরিচালক ডা. আমিনুর রহমান, আইসিডিডিআরবি’র প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক মো. জিয়াউল ইসলাম, কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ অ্যাসিসটেন্স ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. এএম জাকির হোসেন, হেলথ সিস্টেম রিসার্চ ডিভিশনের পরিচালক ডা. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ। সভায় জানানো হয়, ২০০৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত সিআইপিআরবি জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শুরুতে ইনজুরি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গবেষণা কার্যক্রম চালানো হলেও, গত দুই দশকে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, এবং সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগসহ নানা জনস্বাস্থ্য বিষয়ে অবদান রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। সিআইপিআরবি এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটির ২১৯টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়ে ১০টি স্বাস্থ্য বিষয়ক পলিসি, গাইডলাইন ও স্ট্যাটেজি তৈরিতে অবদান রেখেছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, সিআইপিআরবি’র ৬ হাজারেরও বেশি নিবেদিত কর্মী একযোগে জাতীয় স্বাস্থ্য কৌশলে সক্রিয় অবদান রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় জনগণকে ক্ষমতায়িত এবং প্রশিক্ষিত করে চলছে। তিনি সকলের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে গবেষণালব্ধ ফলাফলগুলো জীবনের কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। ড. ভিভাভেন্দ্রা রঘুভাংশী বলেন, সিআইপিআরবি’র গবেষণায় ইউএনএফপিএ গর্বিত সহযোগী। প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্যসহ নানা সামাজিক ট্যাবু নিয়ে সমাজের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গত ২০ বছরে লাখো মানুষের জীবন বাঁচানোসহ মানসম্মত জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ড. রাজেশ নাওয়াল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি ‘ন্যাশনাল হেলথ রিসার্চ স্ট্র্যাটেজি’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের কমপক্ষে ২০% গবেষণায় ব্যয় করার পরামর্শ দেন। অধ্যাপক ড. সায়েবা আক্তার বলেন, সিআইপিআরবি অনেক অবহেলিত জনস্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে গবেষণা করেছে এবং ফলপ্রসূ সমাধান নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফিস্টুলা ও প্রসব পরবর্তী মৃত্যু কমাতে সিআইপিআরবির ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। ডেল্টা টাইমস/সিআর
|
« পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |