|
যদি কুরাইশরা হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ না করত..!
ডা. সাঈদ এনাম:
|
![]() যদি কুরাইশরা হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ না করত..! এই স্বপ্নের ব্যাখ্যায় রাসুল (সা.) ও সাহাবিরা ইহরাম পরে উমরাহ পালনের আশায় মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু হুদায়বিয়া নামক স্থানে তাদের পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল কুরাইশরা। যুদ্ধ এড়াতে শান্তির উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে (৬ হিজরি) ১০ বছরের একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এটাই হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তি নামে পরিচিত। ১০ বছরের জন্য যুদ্ধবিরতির এই চুক্তিতে মুসলমানদের কিছু আপত্তিকর শর্ত চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল যেমন, মুসলমানদের মক্কায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া এবং তাদের যে কেউ মক্কা থেকে মদিনায় চলে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত তাদের কাছে কষ্টকর ছিল। কিন্তু শান্তিপূর্ণ ভাবে ইসলামের প্রচার উদ্দেশ্যে রাসুল এই চুক্তিকে মেনে নিয়েছিলেন। হুদাইবিয়া সন্ধির চুক্তি মাত্র ২ বছর পর ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে, কুরাইশরা চুক্তি ভঙ করে তাদের মিত্র গোষ্ঠী বানু বকরকে মুসলিমদের মিত্র গোষ্ঠী বানু খুজায়ার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে সহযোগিতা করে এবং খুজায়া গোত্রের অনেককে হত্যা করে। এ ঘটনায় কুরাইশদের অস্ত্র ও সেনা দিয়ে সাহায্যের প্রমাণ পাওয়া যায়, যা ছিলো চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া আরও কিছু বিষয় ছিলো, যেমন কুরাইশরা বনী খুজায়ার নিরাপত্তা দিতো না এবং মুসলমানদের প্রতি সর্বদা আক্রমণাত্মক মনোভাব পোষণ করতো। হুদাইবিয়া সন্ধির ভঙ্গের পর, রাসুলুল্লাহ (সা.) ১০,০০০ সাহাবি নিয়ে মক্কা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিনা রক্তপাতে মক্কা দখল করেন। মক্কা বিজয়ের পর, রাসুল (সা.) কতিপয় ঘোরতর যুদ্ধাপরাধী পুরুষ ও মহিলা ছাড়া বাকি সকল কুরাইশদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। যুদ্ধাপরাধীদের কাউকে হত্যা করা হয়, আবার অনেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এখানে একটি বিষয়, অসম হুদাইবিয়া সন্ধি ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে (৬ হিজরি) স্বাক্ষরিত হয়, যা ৬৩৮ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছরের জন্য নির্ধারিত ছিলো। কিন্তু দেখা যায় মাত্র এক বছরের মাথায়, ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে, কুরাইশরা নিজেরাই বিশ্বাসঘাতকতা করে সন্ধি চুক্তি ভঙ করে ও চুক্তি বাতিল করে। এর প্রতিক্রিয়ায় রাসুল (সা.) ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে (৮ হিজরি) মক্কা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন। আর এর দু'বছর, ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে (১০ হিজরি) তিনি তাঁর জীবনের একমাত্র হজ্ব 'বিদায় হজ পালন করেন' এবং ইন্তেকাল করেন। ১০ বছর মেয়াদি সন্ধি চুক্তি যদি কুরাইশরা এক বছ্রের মাথায় ভঙ্গ না করতো, তবে কি হতো? এটা আল্লাহ পাক রাব্বুল আ'লামীন ভালো জানেন। তবে বলা যায়, কুরাইশরা চুক্তি ভঙ্গ না করলে মক্কা বিজয় বিলম্বিত হতো, ইসলামের প্রচার কূটনৈতিকভাবে আরও কিছু সময় চলতে পারতো, তবে চুক্তি ভঙ্গের পর ইসলাম বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিল এবং মক্কা বিজয় দ্রুত সম্ভব হয়েছিল। আরেকটি কথা, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভবিষ্যত জানলে তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধি ১০ বছরের জন্যে করতেন না, করতেন ৪ বছরের জন্যে। কারণ রাসুল হুদায়বিয়া সন্ধির চুক্তি স্বাক্ষর করেন ৬২৮; খৃষ্টাব্দে আর তাঁর ওফাত হয় তার মাত্র ৪ বছর ৬৩২ খৃষ্টাব্দে অথচ বর্তমান সমাজে অনেক ভন্ডপীর আছে যারা নিজেরা ভবিষ্যত জানার দাবী করেন। কিন্তু এ ঘটনায় আমরা বুঝতে পারি, স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু নিজেই ভবিষ্যত জানতেন না। লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, সাইকিয়াট্রি, সিলেট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। ডেল্টা টাইমস/ডা. সাঈদ এনাম/সিআর/এমই |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |