|
নারী নিরাপত্তায় ন্যায়বিচারের আহ্বান
আফিফা জাহান পুষ্প:
|
![]() নারী নিরাপত্তায় ন্যায়বিচারের আহ্বান নারীদের প্রতি মরাল পুলিশিং ও যৌন হয়রানি: এক কঠিন বাস্তবতা সমাজে নারীদের "মায়ের জাত" বলে সম্মান দেখানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে তারা প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি ও অপমানের শিকার হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা রাস্তাঘাট—কোনো জায়গাই নারীদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ নয়। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের মতো খাতে কর্মরত নারীরা সহকর্মীদের অশোভন আচরণ ও হয়রানির সম্মুখীন হন, যা তাদের কাজের পরিবেশকে দুর্বিষহ করে তোলে। এর চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যখন নারীরা যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের শিকার হন, তখন অনেকেই তাদেরই দোষারোপ করেন। তাদের পোশাক, চলাফেরা, সময় কিংবা পেশা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এই প্রবণতাকে বলা হয় "মরাল পুলিশিং", যেখানে অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। ফলে অনেক নারী বিচার চাইতে ভয় পান, কারণ তারা জানেন যে সমাজের বিদ্রূপ ও প্রশ্নবাণ তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বাংলাদেশের চিত্র উন্নত দেশগুলোতে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। অনেক দেশে যৌন অপরাধীদের নাম বিশেষ রেজিস্ট্রিতে রাখা হয়, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়ে নতুন করে অপরাধ করতে না পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। যৌন হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্তদের বেশিরভাগই শাস্তি এড়িয়ে যান। ভুক্তভোগীরা বিচার চাইতে ভয় পান, কারণ তাদের নানাভাবে হেয় করা হয়। অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পাওয়ায় যৌন সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শক্ত আইন ও প্রযুক্তির প্রয়োগ জরুরি নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করতে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল চালু করে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা দরকার। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা, নারীদের অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। পাশাপাশি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যৌন হয়রানি ও মরাল পুলিশিং বন্ধে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। নারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব গড়ে তুলতে হবে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ নারীর প্রতি সহিংসতা মুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমানাধিকারের সমাজ গঠনের পথে এগিয়ে যেতে পারবে। নারী নিরাপত্তায় ন্যায়বিচারের আহ্বান নারীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যাদের অবদান পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও অর্থনীতিতে অপরিহার্য। বিশেষ করে বাংলাদেশে পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নারীদের ভূমিকা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখছে। তবে আজও নারীরা বৈষম্য, হয়রানি ও মরাল পুলিশিংয়ের শিকার হচ্ছেন, যা তাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। নারীদের প্রতি মরাল পুলিশিং ও যৌন হয়রানি: এক কঠিন বাস্তবতা সমাজে নারীদের "মায়ের জাত" বলে সম্মান দেখানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে তারা প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি ও অপমানের শিকার হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা রাস্তাঘাট—কোনো জায়গাই নারীদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ নয়। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের মতো খাতে কর্মরত নারীরা সহকর্মীদের অশোভন আচরণ ও হয়রানির সম্মুখীন হন, যা তাদের কাজের পরিবেশকে দুর্বিষহ করে তোলে। এর চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যখন নারীরা যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের শিকার হন, তখন অনেকেই তাদেরই দোষারোপ করেন। তাদের পোশাক, চলাফেরা, সময় কিংবা পেশা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এই প্রবণতাকে বলা হয় "মরাল পুলিশিং", যেখানে অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। ফলে অনেক নারী বিচার চাইতে ভয় পান, কারণ তারা জানেন যে সমাজের বিদ্রূপ ও প্রশ্নবাণ তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বাংলাদেশের চিত্র উন্নত দেশগুলোতে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। অনেক দেশে যৌন অপরাধীদের নাম বিশেষ রেজিস্ট্রিতে রাখা হয়, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়ে নতুন করে অপরাধ করতে না পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। যৌন হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্তদের বেশিরভাগই শাস্তি এড়িয়ে যান। ভুক্তভোগীরা বিচার চাইতে ভয় পান, কারণ তাদের নানাভাবে হেয় করা হয়। অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পাওয়ায় যৌন সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শক্ত আইন ও প্রযুক্তির প্রয়োগ জরুরি নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করতে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল চালু করে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা দরকার। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা, নারীদের অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। পাশাপাশি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যৌন হয়রানি ও মরাল পুলিশিং বন্ধে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। নারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব গড়ে তুলতে হবে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ নারীর প্রতি সহিংসতা মুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমানাধিকারের সমাজ গঠনের পথে এগিয়ে যেতে পারবে। লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ডেল্টা টাইমস/আফিফা জাহান পুষ্প/সিআর/এমই |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |