
মৃত শিশুর জন্ম (Stillbirth) বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা, যা পরিবার এবং সমাজের উপর গভীর আবেগিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে। গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহ পর অথবা জন্মের পূর্বে ভ্রূণের মৃত্যু মৃত শিশুর জন্ম হিসেবে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিশু মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও মৃত শিশুর জন্মহার একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
বাংলাদেশে মৃত শিশুর জন্মহারের বিষয়টি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। জাতিসংঘের আন্তঃসংস্থা শিশু মৃত্যুহার অনুমান দলের (UN Inter-Agency Group for Child Mortality Estimation - UN IGME) এপ্রিল ২০২৫ সালে প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান । এই প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত শিশুর জন্মহার রেকর্ড করে, যেখানে প্রতি বছর ৬৩,০০০ এর বেশি শিশু মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। অর্থাৎ, বাংলাদেশে প্রতি ৪১টি জন্মের মধ্যে একটি শিশু মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়, যা এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি । এই তথ্যটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম এবং ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পূর্বের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ১০০০ জীবিত জন্মের বিপরীতে ২১.৪টি মৃত শিশুর জন্ম হতো । এটিও বাংলাদেশে মৃত শিশুর জন্মহারের উচ্চ প্রবণতা নির্দেশ করে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে পাঁচ বছর বয়সের আগে ১ লাখের বেশি শিশু মারা গিয়েছিল, যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মৃত্যুর ঘটনা জন্মের প্রথম ২৮ দিনের মধ্যে ঘটে । এই তথ্য নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা এবং মৃত শিশুর উচ্চ জন্মহারের মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপন করে। উপরন্তু, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের জন্য বাংলাদেশকে প্রতি বছর অতিরিক্ত ২৮,০০০ নবজাতকের জীবন বাঁচাতে হবে, যা উন্নত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে ।এই তথ্যগুলো সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশে মৃত শিশুর জন্মহারের উচ্চতাকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে এবং এই বিষয়ে জরুরি ও ব্যাপকভিত্তিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
বাংলাদেশে মৃত শিশুর জন্মহার বেশি হওয়ার পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান। উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলোঃ
অপরিণত গর্ভাবস্থা এবং কম বয়সে গর্ভধারণ: অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ মা ও শিশু উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। কৈশোরকালীন গর্ভাবস্থা, যা প্রায়শই বাল্যবিবাহের কারণে ঘটে, বাংলাদেশে মৃত শিশুর জন্মহারের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ । অল্প বয়সে গর্ভবতী হলে মায়ের শরীর গর্ভাবস্থা এবং প্রসবের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত থাকে না, যা গর্ভকালীন জটিলতা যেমন উচ্চ রক্তচাপ, খিঁচুনি (eclampsia), এবং প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায় । তাছাড়া, কিশোরী মায়েদের অপরিণত গর্ভাশয় এবং দুর্বল স্বাস্থ্য গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে, ফলে মৃত শিশুর জন্ম অথবা জন্মের পর নবজাতকের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে । বালিয়াকান্দিতে পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৩-১৫ বছর বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রে মৃত শিশুর জন্মের সম্ভাবনা বয়স্ক মায়েদের তুলনায় ২.২৩ গুণ বেশি এবং ১৬-১৭ বছর বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রে জন্মের প্রথম ৭ দিনের মধ্যে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি ১.৫৭ গুণ বেশি । দেশব্যাপী পরিচালিত অন্য একটি সমীক্ষায়ও কিশোরী মায়েদের মধ্যে মৃত শিশুর জন্মের উচ্চ প্রবণতা দেখা গেছে । বাংলাদেশে এখনও বাল্যবিবাহের প্রচলন রয়েছে, যা কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের অন্যতম প্রধান কারণ । ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, বালিয়াকান্দিতে অর্ধেকের বেশি বিবাহ ১৮ বছর বয়সের আগে মেয়েদের সাথে হয়েছিল । এই সামাজিক প্রথা অপরিণত বয়সে গর্ভধারণকে উৎসাহিত করে, যা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
গর্ভবতী মায়ের অপুষ্টি ও রক্তাল্পতা: গর্ভাবস্থায় মায়ের পর্যাপ্ত পুষ্টি গর্ভস্থ শিশুর সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে অনেক গর্ভবতী নারী অপুষ্টি এবং রক্তাল্পতায় ভোগেন, যা মৃত শিশুর জন্মহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে একজন কম ওজনের এবং প্রতি দু'জনের মধ্যে একজন রক্তাল্পতায় ভুগছেন। গর্ভাবস্থায় নারীদের নিজেদের স্বাস্থ্য এবং গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পুষ্টির প্রয়োজন হয়। অপুষ্টিতে ভোগা মায়েদের শিশুরা মৃত অবস্থায় জন্ম নেওয়া, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া, কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া এবং জন্মের প্রথম মাসের মধ্যে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে । ২০১৯ সালে জন্ম নেওয়া ১ কোটি ৯৮ লক্ষ কম ওজনের শিশুর মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছে । মাতৃ অপুষ্টি শুধু নবজাতকের জন্যই নয়, মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। মায়ের শরীরে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রন শোষণে সহায়ক খাদ্য উপাদানের অভাব বাংলাদেশে অপুষ্টির প্রধান কারণ । গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে রক্তাল্পতার হারও এখানে অনেক বেশি, যা গর্ভকালীন জটিলতা এবং মৃত শিশুর জন্ম উভয়কেই প্রভাবিত করে । একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তাল্পতায় ভোগা মায়েদের নবজাতকদের মধ্যে সময়ের আগে জন্ম এবং জন্মের প্রথম দিকে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে ।
প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবার অভাব বা দেরিতে শুরু করা: গর্ভধারণের শুরু থেকে নিয়মিত প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা (Antenatal Care - ANC) গ্রহণ করা মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে অনেক গর্ভবতী নারী পর্যাপ্ত প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা পান না অথবা দেরিতে শুরু করেন, যা মৃত শিশুর জন্মহারের অন্যতম কারণ । প্রসবপূর্ব সেবার মাধ্যমে গর্ভকালীন জটিলতাগুলো যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, সংক্রমণ ইত্যাদি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হয়। নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে এসব জটিলতা মারাত্মক রূপ নিতে পারে এবং মৃত শিশুর জন্ম হতে পারে । ২০১১ সালের বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (BDHS) এর তথ্য অনুযায়ী, প্রসবের পূর্বে কমপক্ষে তিনটি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী নারীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম । গ্রামীণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই হার আরও কম দেখা যায় । কক্সবাজারের মতো গ্রামীন অঞ্চলে, অর্ধেকের বেশি নারী গর্ভাবস্থায় কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যান না এবং মাত্র ৩৬ শতাংশ নারী প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণ করেন । প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবার অভাব অথবা দেরিতে শুরু করার কারণে অনেক গর্ভবতী নারী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হন, যা গর্ভকালীন জটিলতা এবং মৃত শিশুর ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সুযোগ-সুবিধার অভাব: বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষ করে ধাত্রী (midwife) এবং দক্ষ নার্সদের অভাব রয়েছে, যা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার গুণমানকে প্রভাবিত করে । গ্রামীণ অঞ্চলে এই অভাব আরও প্রকট। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে অনেক প্রসব বাড়িতেই সম্পন্ন হয়, যেখানে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না । বাংলাদেশে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রসব বাড়িতে হয়ে থাকে এবং এর মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর তত্ত্বাবধানে হয় । তাছাড়া, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সরঞ্জাম এবং সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে । ছোট এবং অসুস্থ নবজাতকদের জন্য বিশেষায়িত যত্নের অভাব অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় । উপজেলা পর্যায়ে ২৪/৭ গুণগত স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রসব পরবর্তী যত্নের অভাবও নবজাতক এবং মায়ের জন্য ঝুঁকি বাড়ায় । দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যত্ন প্রদান করা সম্ভব হয় না ।
গর্ভকালীন জটিলতা: গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা যেমন উচ্চ রক্তচাপ (hypertension, pre-eclampsia, eclampsia), ডায়াবেটিস (diabetes, gestational diabetes), এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ (infections) মৃত শিশুর জন্মহারের অন্যতম প্রধান কারণ । গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ মায়ের শরীরে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা গর্ভস্থ শিশুর অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং এর ফলে মৃত শিশুর জন্ম হতে পারে । একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের কারণে ১৫.২ শতাংশ মৃত শিশুর জন্ম হয় । ডায়াবেটিসও গর্ভকালীন জটিলতা সৃষ্টি করে এবং মৃত শিশুর ঝুঁকি বাড়ায় । তাছাড়া, সিফিলিস, ম্যালেরিয়া এবং মূত্রনালীর সংক্রমণের মতো রোগও গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং মৃত শিশুর জন্ম দিতে পারে । বাংলাদেশে গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে এসব জটিলতার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি, যার কারণে মৃত শিশুর জন্মহারও বেশি দেখা যায়।
দারিদ্র্য এবং শিক্ষার অভাব: দারিদ্র্য এবং শিক্ষার অভাব প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৃত শিশুর জন্মহারকে প্রভাবিত করে । দরিদ্র পরিবারগুলোতে গর্ভবতী মায়ের পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব থাকে এবং তারা প্রায়শই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যেতে পারেন না অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে । শিক্ষার অভাবের কারণে অনেক নারী গর্ভকালীন স্বাস্থ্যবিধি, প্রসবপূর্ব ও প্রসব পরবর্তী যত্ন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে সে সম্পর্কে অবগত থাকেন না । একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিরক্ষর মহিলাদের মধ্যে মৃত শিশুর জন্মের সম্ভাবনা শিক্ষিত মহিলাদের তুলনায় ১.৬ গুণ বেশি । নিম্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থার নারীরা স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে থাকেন, যা গর্ভকালীন জটিলতা এবং মৃত শিশুর ঝুঁকি বাড়ায়।
পরিবেশগত কারণ: পরিবেশগত দূষণ, বিশেষ করে পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি, বাংলাদেশে মৃত শিশুর জন্মহারের একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে । গ্রামীণ বাংলাদেশে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পানিতে উচ্চ মাত্রার আর্সেনিকের দূষণ মৃত শিশুর জন্মের ঝুঁকি বাড়াতে পারে । যেসকল এলাকায় পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা ৫০ µg/l বা তার বেশি, সেখানে মৃত শিশুর জন্মের সম্ভাবনা কম মাত্রার এলাকার তুলনায় ১.৮০ গুণ বেশি । আর্সেনিক ছাড়াও অন্যান্য ভারী ধাতুর দূষণও গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্য এবং গর্ভস্থ শিশুর বিকাশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে । ফরিদপুরে পরিচালিত একটি গবেষণায় গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে ভারী ধাতুর প্রভাব এবং মৃত শিশুর জন্মের মধ্যে সম্পর্ক অনুসন্ধানের কাজ চলছে । পরিবেশগত কারণগুলো সরাসরি গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য এবং গর্ভস্থ শিশুর উপর প্রভাব ফেলে মৃত শিশুর জন্ম দিতে পারে।
বাংলাদেশে মৃত শিশুর জন্মহার কমানোর জন্য সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:মেটারনাল হেলথ ভাউচার স্কিম (MHVS): সরকার কর্তৃক ২০০৬-২০০৭ সালে চালু করা এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল দরিদ্র গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের হার বাড়ানো । এই প্রকল্পের মাধ্যমে গর্ভবতী মহিলারা সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ভাউচারের মাধ্যমে বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে সেবা নিতে পারতেন। যদিও এই কর্মসূচি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রসবের হার বাড়াতে সহায়ক হয়েছে, তবে মৃত শিশু, নবজাতক এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেনি।
জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য কৌশল ২০১৯-২০৩০: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করেছে । এই কৌশল মাতৃস্বাস্থ্য, মাতৃ অসুস্থতা ও মৃত্যুহার কমানো এবং সামগ্রিকভাবে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য উদ্যোগ: ইউএনএফপিএ, ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুহার ও অসুস্থতা কমানো । ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের ফলে প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব এবং প্রসব পরবর্তী সেবার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড মরটালিটি প্রিভেনশন সার্ভিলেন্স (CHAMPS) প্রকল্প: এই আন্তর্জাতিক প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যু এবং মৃত শিশুদের জন্মের কারণ অনুসন্ধানের জন্য কাজ করা হচ্ছে । এর মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রম: ব্র্যাকের মানসী প্রকল্প, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ইউএনএফপিএ, ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও এবং হোপ ফাউন্ডেশনের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলো বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । তারা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের উন্নতি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারকরণ: সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার উপর জোর দিচ্ছে এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ।
স্বাস্থ্যকর্মী কৌশল ২০২৪: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করেছে ।
এই পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সহায়ক হলেও, মৃত শিশুর জন্মহার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। তাই, এই সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন।
বিশ্বের কিছু দেশ মৃত শিশুর জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে। তাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান শিক্ষা হতে পারে।
নেদারল্যান্ডস: এই দেশটি প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি এবং মহিলাদের স্বাস্থ্যের উপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে মৃত শিশুর জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে । তারা পেরিনেটাল মৃত্যুর জাতীয় পর্যায়ের নিরীক্ষা (national perinatal audit) পরিচালনা করে, যার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় ।
যুক্তরাজ্য: যুক্তরাজ্য "Saving Babies Lives Care Bundle" নামক একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে, যা গর্ভাবস্থায় ধূমপান কমানো, গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রসবের সময় কার্যকর পর্যবেক্ষণ এর উপর জোর দেয় । এই কর্মসূচির ফলে মৃত শিশুর জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে ।
অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়া "National Stillbirth Action and Implementation Plan" এর মাধ্যমে মৃত শিশুর জন্মহার কমানোর জন্য জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে । এই পরিকল্পনায় গর্ভবতী মহিলাদের ঘুমের অবস্থান, গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে যোগাযোগ, ধূমপান ত্যাগ এবং গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নরওয়ে: নরওয়েতে গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মৃত শিশুর জন্মহার কমানোর ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া গেছে ।
শ্রীলঙ্কা: দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শ্রীলঙ্কার মৃত শিশুর জন্মহার তুলনামূলকভাবে কম। এর প্রধান কারণ হলো দেশটির শক্তিশালী মাতৃস্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে সেবা প্রদানের হার অনেক বেশি । দেশটির মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিতভাবে গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা প্রদান করেন।
এই দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মৃত শিশুর জন্মহার কমানোর জন্য একটি সমন্বিত এবং প্রমাণ-ভিত্তিক কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন, যা প্রসবপূর্ব সেবা থেকে শুরু করে প্রসবকালীন এবং প্রসব পরবর্তী যত্ন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মৃত শিশুর জন্মহার কমানোর জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে:প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও সহজলভ্যতা বৃদ্ধি:বাংলাদেশে প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা এবং তা সকলের জন্য সহজলভ্য করা জরুরি। এর জন্য গর্ভবতী মহিলাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে এবং গর্ভাবস্থার প্রথম দিকেই এই সেবা শুরু করা নিশ্চিত করতে হবে। প্রসবপূর্ব সেবার মধ্যে গর্ভকালীন ঝুঁকির মূল্যায়ন, জটিলতাগুলোর স্ক্রিনিং এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। গ্রামীণ এবং দুর্গম অঞ্চলে প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের জন্য কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচি এবং মোবাইল ক্লিনিক স্থাপন করা যেতে পারে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমেও অনেক মহিলার কাছে স্বাস্থ্য তথ্য ও সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব।
গর্ভবতী মা ও কিশোরীদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ:গর্ভবতী মা এবং কিশোরীদের অপুষ্টি ও রক্তাল্পতা দূর করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সরবরাহ এবং মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্টেশন কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে। কিশোরী মেয়েদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত, যাতে তারা গর্ভধারণের আগে থেকেই সুস্থ থাকে।
প্রশিক্ষিত ধাত্রী ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়ন:বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত ধাত্রী এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামীণ অঞ্চলে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীদের পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি প্রসূতি সেবার (Emergency Obstetric Care) উপর বিশেষ জোর দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা উচিত। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যসেবার স্তর অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস (task-shifting) করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি:সকল স্তরের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, যেমন কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জেলা হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, সরঞ্জাম এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি প্রসূতি সেবা এবং নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট স্থাপন ও আধুনিকীকরণ জরুরি। প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র এবং সরঞ্জামের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জটিল পরিস্থিতিতে দ্রুত উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রেরণের জন্য কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা:বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাপকভিত্তিক প্রচারণা চালানো উচিত। এর ক্ষতিকর প্রভাব, বিশেষ করে মৃত শিশুর জন্ম এবং মাতৃস্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্রয়োজনে আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা উচিত। মেয়েদের শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমেও বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব।
পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির প্রচার ও ব্যবহার বৃদ্ধি:পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ, বিশেষ করে কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ কমানো সম্ভব। বিভিন্ন ধরনের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে মহিলাদের সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে এবং তাদের পছন্দের ভিত্তিতে পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক বাধা দূর করার জন্য কমিউনিটির সাথে আলোচনা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।
গর্ভকালীন জটিলতাগুলো দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা:গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং সংক্রমণের মতো জটিলতাগুলো দ্রুত শনাক্ত করার জন্য প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবার সময় নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব জটিলতার কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য স্পষ্ট প্রোটোকল এবং রেফারেল পথ তৈরি করতে হবে। গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে জরুরি প্রসূতি সেবা কেন্দ্রে দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করা:গর্ভবতী মহিলা, তাদের পরিবার এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসবপূর্ব যত্ন, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে প্রসব, গর্ভাবস্থায় বিপদ সংকেত এবং প্রসব পরবর্তী যত্ন সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ এবং কোনো পরিবর্তন দেখলে দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে যোগাযোগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষিত করতে হবে।
বাংলাদেশে মৃত শিশুর উচ্চ জন্মহার একটি জটিল সমস্যা, যার সমাধানে বহুবিধ কারণ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অপরিহার্য। এই সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক সহযোগী এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবেই বাংলাদেশে মৃত শিশুর জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে।
লেখক : শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
ডেল্টা টাইমস/হেনা শিকদার/সিআর/এমই