|
শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন: সময়ের দাবি
সাদিয়া সুলতানা রিমি
|
![]() শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন: সময়ের দাবি বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই এখনো মুখস্থনির্ভর ও পরীক্ষামুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা কিংবা সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে পারে না। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে গবেষণাভিত্তিক, অনুসন্ধানমুখী এবং প্রয়োগযোগ্য জ্ঞানে সমৃদ্ধ। প্রজেক্ট-ভিত্তিক শিক্ষা, STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) ভিত্তিক পাঠদান এবং ডিজিটাল টুলস ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়, চিন্তা-ভাবনায় স্বনির্ভর হয়। শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাও হওয়া উচিত এই ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু ডিগ্রি নয়, প্রয়োজন দক্ষতা। দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হলো—দক্ষতা অর্জনের সুযোগের ঘাটতি। তাই কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা, সফট স্কিল এবং আইটি প্রশিক্ষণকে শিক্ষার মূলধারায় আনতে হবে। স্কুল থেকেই শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার, প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক ডিজাইন বা ভিডিও সম্পাদনার মতো বাস্তবমুখী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এতে তারা নিজের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী পেশা নির্বাচন করতে পারবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে। একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন শিক্ষক। কিন্তু শিক্ষকেরা যদি নিজেরাই সময়োপযোগী দক্ষতা না রাখেন, তবে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই দরকার শিক্ষক প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণ। ক্লাসরুম ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য বোঝা, বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান—এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। শিক্ষককে শুধু জ্ঞানদাতা নয়, বরং অনুপ্রেরণাদায়ী ও নেতৃত্বদাতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অনলাইন শিক্ষা ও ভার্চুয়াল ক্লাসের গুরুত্ব। স্মার্ট বোর্ড, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন লাইব্রেরি ও অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষাকে আরও প্রাণবন্ত ও সময়োপযোগী করা সম্ভব। তবে এর জন্য চাই নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ শিক্ষক এবং এই প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব। বর্তমানে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন চূড়ান্ত পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল। এতে করে শেখার প্রকৃত আনন্দ ও উদ্দেশ্য হারিয়ে যায়। আধুনিক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, শ্রেণি কার্যক্রম, প্রজেক্ট উপস্থাপনা, দলগত কাজ এবং আত্মমূল্যায়নের উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এতে শিক্ষার্থীরা হয়ে ওঠে আত্মবিশ্বাসী ও অংশগ্রহণমূলক। শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন একটি চলমান ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পর্যাপ্ত বাজেট, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থী সবার সম্মিলিত মানসিক প্রস্তুতি। যদি সময়োপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করা না যায়, তবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে আমরা পিছিয়ে পড়ব। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড—এই চিরন্তন সত্যকে সামনে রেখেই আমাদের এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। আধুনিক, মানবিক ও দক্ষতা-কেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলেই গড়ে উঠবে একটি প্রগতিশীল বাংলাদেশ। লেখক : শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ডেল্টা টাইমস/সাদিয়া সুলতানা রিমি/সিআর |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |