|
বহুমুখী গুনের অধিকারী জারুল
আফ্রিয়া অলিন:
|
![]() বহুমুখী গুনের অধিকারী জারুল গ্রীষ্মের তাপদাহে যখন জনজীবন হাঁসফাঁস করে তখন বাড়ির আঙ্গিনায় বা রাস্তার ধারে বেড়ে ওঠা জারুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, কাঠগোলাপ, বকুল সহ বিচিত্র সব ফুলের সমাহার মনুষ্য মনে প্রশান্তি নিয়ে আসে। চোখ জুড়ানো এই দৃশ্য মনের খোরাক নিবারণ করে। তবে আজ আমরা জারুল ফুলের রূপ ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবো! বেগুনি রংয়ের ছোট্ট ফুল জারুল। গাছের ডালের উপরি ভাগে অবস্থিত গুচ্ছাকারে থোকায় থোকায় ধরে থাকে বেগুনি রঙের এই অপরূপা ফুল। রিক্ত শীতের রুক্ষতায় পাতা ঝরা গাছটি বেশ বেমানান লাগে। তবে গ্রীষ্ম সেই বেমানান গাছটিতে অপরূপ রং ঢেলে দেয়। যার সৌন্দর্যে বিমোহিত হয় প্রকৃতি ও তার সকল জীবকুল। গ্রীষ্মের দক্ষিণা বাতাসের দোলায় যখন জারুলগাছ দোল খায় তখন তা প্রকৃতির সৌন্দর্যে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। ঝড়ো বাতাসের দোলায় যখন গাছের গোড়া , পিচ ঢালা রাস্তা বা মেঠো পথ বা কোন জলাশয়ের উপরে জারুল ফুল ও তার পাপড়ি বিছানা পেতে পরে থাকে সেই দৃশ্য কি আপনি কল্পনা করতে পারেন ? অপরূপ সেই দৃশ্য মনে স্বর্গীয় সুখ সঞ্চার করে। জারুলের ইংরেজি নাম Giant Crape-myrtle এবং বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa. জারুল বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা ছাড়াও চীন, মালয়েশিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। জারুল কে বলা হয় বাংলার চেরি। চেরি ফুলের দেশ জাপান। প্রতিবছর মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিল মাস জুরে জাপানে নজর কারে চেরি ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য। জাপানে প্রতিবছর চেরি ফুলের উৎসব পালন করা হয়। প্রায় দেড় হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব "হানামি" নামে পরিচিত। চেরি ব্লসমের মতো যদি আমাদের দেশে জারুল ব্লসম হতো, বিষয়টা মন্দ হতো না! ছোট্ট একটা ফুল, স্নিগ্ধ তার পরশ। জারুলের রূপে বিমোহিত হয়ে কবি তার লেখায় খুজে পেয়েছেন ছন্দ। তাইতো কবি আহসান হাবিব স্বদেশ’ কবিতায় লিখেছেন— ‘মনের মধ্যে যখন খুশি/এই ছবিটি আঁকি এক পাশে তার জারুল গাছে/দুটি হলুদ পাখি। জারুল গাছ শুধু রূপ - সৌন্দর্যে প্রশংসনীয় নয়, বরং এর রয়েছে বহুমুখী উপকারী গুণ। এর পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও ঔষধি গুণাবলী একে এক বিশেষ মর্যাদা দেয়। প্রাচীন কাল থেকেই চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহার হয়ে আসছে জারুলের পাতা ও শিকড়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ ব্যাথা দূর করতেঃ বাত রোগের ব্যাথা দূর করতে জারুল গাছের পাতা বেটে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। কাশি হলেঃ এই গাছের শিকড় সিদ্ধ করে সেই পানি মধুর সাথে মিশিয়ে কয়েকদিন খেলে কাশি ভালো হয়ে যায়। অনিদ্রা রোগেঃ জারুল গাছের মূল চূর্ণ করে গরম পানির সাথে রাতের বেলা নিয়মিত খেলে অনিদ্রা কেটে যায় এবং ভালো ঘুম হয়। জ্বর ভালো করেঃ জারুল গাছের শিকড় সিদ্ধ করে সেই পানি সকাল ও বিকেলে সেবন করলে জ্বর ভালো হয়ে যায়। বেগুনি রঙা চমৎকার জারুল ফুলের রূপ ও সৌন্দর্য প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলে। সেই সাথে এর ভেষজ ও অন্যান্য উপকারিতা মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসে। কালের বিবর্তনে প্রকৃতি থেকে বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে জারুল ফুল গাছ। এই বহু গুণান্বিত গাছকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে। লেখক : শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। ডেল্টা টাইমস্/আফ্রিয়া অলিন/সিআর/এমই |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |